মেডিকেলে অনেক পরীক্ষা।প্রায় প্রতিদিন ই কোন না কোন ভাইভা থাকিত। তাই এই নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়া কোন ধরনের শীর পীড়ায় ভুগিতে থাকা মাহবুব আলীর সমিচিন মনে হইল না। অতএব সিদ্ধান্ত হইল এই যে, কপালে যাহা থাকে তাহা হইবেক।
একদিন সে যথারীতি কোন প্রস্তুতি না নিয়াই গেল কম মেড পরীক্ষা দিতে।এই নৈমিত্তিক পরীক্ষা নিতে শিক্ষক বৃন্দও কিঞ্চিৎ বিরক্তি বোধ করিতেন। তাই একে একে ভাইভা না লইয়া এক সাথে ৫ জন এর পরীক্ষা লইতেন।
যথাসময়ে মাহবুব আলী অ্যান্ড গং এর ডাক আসিল। মাহবুব আলীর প্রানের বন্ধু ইয়াজ এবং সাথে আরও তিন সুন্দরী প্রবেশ করিলেন স্যার এর রুমে। মাহবুব আলীর মনে ক্ষীণ আশা হয়ত এই তিন আঁতেল সুন্দরীদের সাথে পরীক্ষা দিলে সেও পার পাইয়া যাইবে।লুল স্যার হয়ত সুন্দরীদের নিয়াই ব্যাস্ত থাকিবেন।
এখানে বোধকরি উল্লেখ করার প্রয়োজন নাই যে , পৃথিবীতে লুল স্যার দের সংখ্যা উপেক্ষা করিবার মত নহে।।
কিন্তুক হায়, পরীক্ষা দিতে গিয়া মাহবুব আলী আবিষ্কার করিল, আজ যিনি পরীক্ষা লইতেছেন তিনি লুল তো দুরের কথা বরঞ্চ নারী বিদ্বেষী।।
এখন উপায়???
যথা সময়ে পরীক্ষা শুরু হইলেও, পাশার দান গেল আজ উলটে।
অন্যদিন স্যার যেমন আঁতেল রানীদের দিয়ে পরীক্ষার প্রশ্ন বান শুরু করেন, এবং তাহাদের নিয়া বেস্ত থাকেন, আজ যেন তাহার বেতিক্রম ঘটিল। প্রশ্ন শুরু হইল ইয়াজ ভাই কে দিয়া।।
মাহবুব আলী মনে মনে প্রমাদ গুনিল।
প্রথম প্রশ্ন, পাবলিক হেলথ এর সংজ্ঞা কি?? ( প্রায় বিশ লাইনের এক সংজ্ঞা )
স্বাভাবিক ভাবেই ইয়াজ ভাইর নিকট হইতে বাউন্স খাইয়া মাহবুব আলীর কোর্টে পড়িল। মাহবুব আলী শূন্য দৃষ্টি নিয়া মাটির দিকে তাকাইয়া রহিল।
এভাবে কিছুক্ষন অতিবাহিত হইবার পর স্যার যেই মাত্র ১ম সুন্দরীর দিকে তাকাইলেন, তৎক্ষণাৎ একসঙ্গে তিনদিক হইতে তিন খানা তীর নিক্ষিপ্ত হইল। এবং মাহবুব আলী বুজিতে পারিল , আজ এই তীরেই সে বধ হইবেক।
পরবর্তী প্রতিটা প্রশ্ন স্যার ইয়াজ কে দিয়া শুরু করিলেন এবং প্রতিবার ই তিন খানা তীরের ঘা মাহবুব আলী খাইতে লাগিল এবং মনে মনে তিন সুন্দরিকে ঘৃণা করিতে লাগিল।
মাহবুব আলীর মনে হইল সে যেন অনন্ত কাল ধরিয়া পরীক্ষা দিতেছে। অবশেষে যখন পরীক্ষা শেষ হইল, সে যেন হাফ ছাড়িয়া বাঁচিল। খেয়াল করিল স্যার তাহার এবং ইয়াজ এর নামের পাসে বড় করিয়া "ফেইল" লিখিয়াছেন।তাহাতে কি আসে যায়?? পরীক্ষা শেষ হইবার আনন্দে সে তখন আত্মহারা।
কিচির মিচির করিয়া তিন সুন্দরী যখন বাহির হইতেছিল, তখন স্যার মাহবুব আলীকে এবং ইয়াজ কে ডাকিলেন এবং বলিলেন,
"বাপু, দরজা খানা বন্ধ কর।"
মাহবুব আলী এবং ইয়াজ উদ্দিনের কলিজা থেকে পানি সাহার মরুভুমির ন্যায় শুকাইয়া গেল। দরজা বন্ধ করিয়া যখন তাহার বসিল, তখন তাহাদের হাত পা কাঁপিতেছে।
কিন্তু তাহাদেরকে অবাক করিয়া দিয়া স্যার কেমন যেন আবেগআপ্লুত হইয়া গেলেন এবং বলিতে শুরু করিলেন,
"বাপু, তোমাদের কি এতটুকু ও আত্ম সম্মান, এতটুকু ও লজ্জা নাই?? আজ তোমরা যেই ভাবে সম্পূর্ণ পুরুষ জাতির মাণ ডুবাইয়া দিলে তাহাতে লজ্জায় আমার মাথা হেঁট হইয়া যাইতেছে।ওই মুখস্ত জ্ঞান সর্বস্ব তিন মেয়ে যে ভাবে প্রশ্নের উত্তর দিল, তাহাতে তোমরা লজ্জা অনুভব কর নাই?? ওরা কি তোমাদের চাইতে কোন অংশে ভালো?? পারে শুধু একটাই কাজ, মুখস্ত করিতে। আর যদি কখনো খারাপ প্রস্তুতি থাকে তাহলে , খবরদার মেয়েদের সাথে পরীক্ষা দিতে আসিবা না। খবরদার।মেয়েদের সামনে ছেলেরা অপমানিত হোক ইহা আমি চাই না ।"
মাহবুব আলী আর দেরি করিল না , ইয়াজ কে নিয়া দ্রুত কক্ষ ত্যাগ করিল, যাওয়ার আগে চি চি করিয়া স্যার কে বলিয়া গেল, " আর অমন হবে না স্যার, আপনি আমাদের জন্য দোয়া করিবেন।।"
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



