somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজ দরবারে গোলযোগ

১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নন্দনপুরের মহারাজার মেজাজ আজ অত্যধিক গরম। রাজদরবারের সকলে ভীত হইয়া আছেন। প্রধানমন্ত্রী,কোটাল,সেনাপতি সকলেই ভয়ে কম্পমান। রাজামশাইয়ের ক্রোধের কার্যকারন বোধগম্য করিবার চেষ্টা করিতেছেন তাহারা। রাজ জ্যোতিষী তার গণনা ফেলিয়া কম্পমান হাঁটু স্থির রাখিবার আপ্রাণ চেষ্টা করিয়া যাইতেছেন। রাজ পেয়াদারা টু শব্দটি করিতে সাহস পাইতেছে না। রাজামশাই কোনদিন এমন রাগিয়া যান না। কি হইলো আজ। এই শীতেও কোটাল মশাইয়ের দু'কপাল বাইয়া ঘাম ঝড়িতে লাগিলো। গেলো হপ্তায় দক্ষিনপারার রমিজের নিকট হইতে শ'খানেক স্বর্ণমূদ্রার বিনিময়ে তাহার কুকীর্তির বিচার হইতে তাহাকে নিস্তার দিয়াছিলেন। তবে কি রাজামশাই ব্যাপারটা টের পাইয়া গেলেন।

সেনাপতি মশায়ের সমস্যা হইলো কঠিন কঠিন সব সময়ে তাহার বাথরুম পাইয়া যায়। গেলো বছর দ্বন্দপুরের যুদ্ধে দ্বন্দপুরের সেনাপতিকে দুইটা মোক্ষম প্যাঁচ দিয়া যখনই তাকে প্রায় পরাস্ত করিয়া ফালাইয়াছেন, তখনই তাহার বাথরুম পাইয়া গেলো। আজ এই ভয়াবহ সময়েও একই সমস্যা। তবে কি রাজামশাই তার আফিমের নেশার কথাটা টের পাইয়া গেলেন।জানিয়া গেলে আফিমখোর সেনাপতিকে কি তিনি আর তাহার সেনাবাহিনীতে রাখিবেন।

রাজ জ্যোতিষীর অনেক চেষ্টা করিয়াও এমতাবস্তায় নিজের ভবিষ্যতটা বাহির করিতে পারিলেন না। পারিবেনই বা কিভাবে। জ্যোতিষ শাস্ত্রের 'জ' ও তো তাহার জানা নাই। এতোদিন কখনো এইটা কখনো ওইটা বলিয়া কাজ চালাইয়া গিয়াছেন। তবে কি রাজামশাই বুঝিয়া গিয়াছেন যে তিনি আসলে জ্যোতিষ শাস্ত্র জানেন না।

"গন্ধ কিসের?" রাজা মশাই রাজ হুঙ্কার ছাড়িলেন।
গন্ধ? কই গন্ধ? সবাই নাক আগাইয়া দিয়ে গন্ধটা বোঝার চেষ্টা করিতে লাগিলো। কোটাল মশাই খুব সুন্দর একখানা ফুলের গন্ধ টের পাইলেন। মনে হয় আসার সময় বেশ করিয়া মাখিয়া আসা আতরের কারনে। প্রধান মন্ত্রী তিন দিন ধরিয়া স্নানাদি করেন না। তিনি নিজের উৎকট ঘামের গন্ধ ছাড়া আর কিছুই পাইলেন না। রাজ জ্যোতিষী কেবলই ধূপের গন্ধ পাইতে লাগিলেন।

"গন্ধ কিসের?" রাজা মশাই আবারো হুঙ্কার ছাড়িলেন।
"হুজুর কিসের গন্ধ?"সেনাপতি মশাই মিনমিন করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন।
"তোমাদের মধ্যে কে রাজ দরবারে বায়ু ত্যাগ করিয়াছো" রাজা মশাই আরো জোরে হুঙ্কার দিয়া বসিলেন।

মন্ত্রী,সেনাপতি,কোটাল সবাই একজন আর একজনের দিকে চাওয়া চাওয়ি করিতে লাগিলো। কি সর্বনাশ। রাজদরবারে বায়ু ত্যাগ। তাইতো বলি, কখন হইতেই কেমন বিদঘুটে গন্ধ পাওয়া যাইতেছে। সকলে সকলের দিকে সন্দেহের চোখে তাকাইতে লাগিলো। কোটাল মশাই চশমার ফাঁক দিয়া সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকাইলেন প্রধানমন্ত্রীর দিকে। প্রধানমন্ত্রী কোমরে গোঁজা তরবারিটার হাতলে হাত বুলাইতে বুলাইতে তাকাইলেন সেনাপতির দিকে, ভাবটা এমন যেন এখনই এই কান্ড যে করিয়াছে, তার গর্দান নিয়া নিবেন। সেনাপতি মহাশয় একটু সংশয়ে পরিয়া গেলেন। গতরাতে অম্ল ব্যাঞ্জন খাইয়াছিলেন পেট পুরিয়া। সকালে বাথরুম হয় নাই অদ্যবধি। রাজামশাইয়ের রুদ্ররুপ দেখিয়া পেটে তাই বেজায় চাপ পরিয়াছিলো। তবে কি তিনিই অচেতন ভাবে রাজ দরবার সুবাতাসে ভরিয়া দিলেন। তবে সে সংশয় তো আর প্রকাশ করা চলে না। তাই তিনি সন্দেহের চোখে তাকাইলেন রাজ জ্যোতিষীর দিকে। রাজ জ্যোতিষী ততক্ষনে বহুবিধ পেটের পীড়া কার কার কোষ্ঠিতে লেখা আছে, তাহার ভূয়া গণনা শুরু করিয়া দিয়াছেন। পুরো রাজ দরবারে গুঞ্জন শুরু হইলো কাহার এতো শ্পর্ধা এহেন কাজ করিয়াছে।

"কে রাজ প্রসাদে বায়ু ত্যাগ করিয়াছো?" রাজামশাই আবারো হুঙ্কার ছাড়িলেন।

কেহই বলিতে পারিলো না। অবশেষে রাজামশাইয়ের আদেশে রাজ জ্যোতিষী ব্যাপক গণনা করিয়া বাহির করিলেন, ইহা পাশ্ববর্তী শত্রু দেশের কুচক্রীরা করিয়াছে। তাহারা রাজ দরবারের সুনাম ধূলিস্যাৎ করিবার জন্য কোন প্রকার গন্ধ বোমা মারিয়াছেন।

কিন্তু আসল খবর কেউ জানিলো না। দুদিন ধরিয়া পেটের পীড়ায় ভোগার কারনে রাজা মশাই স্বয়ং ওই দিন ভুল বশত রাজ দরবারে বায়ু ত্যাগ করিয়া ফেলেন। এহেন লজ্জাকর কাজ করিয়া তিনি সকল দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাইতে চাহিয়াছিলেন। অবশেষে সকল দোষ পার্শ্ববতী রাজ্যের ঘাড় চাপাইতে পারিয়া তিনি দরজার আড়ালে আসিয়া খুব একচোট হাসিয়া নিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৪১
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×