ছবিটি সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালির চর এলাকায় তোলা।
নতুন একটি ফটোগ্রাফির বই পেয়েছি পড়ার জন্য। লেখক সূচিপত্রের পরপরই বিখ্যাত কয়েকজন ফটোগ্রাফারের কোটেশন দিয়েছেন। বিষয়টি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। এতে করে একদিকে ওই ফটোগ্রাফারদের প্রতি যেমন সম্মান দেখানো হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের সঙ্গে পাঠকের একটি সুক্ষ্ণ সম্পর্কও তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। আর কিছু না হোক নামগুলো তো পাঠক পড়ছেন। হয়তো পরে কোথাও এ নামগুলো দেখলে মনে হতে পারে নামটি কোথায় যেনো দেখেছিলাম...
যা হোক, বিষয়টি মনে ধরেছে বলে ব্লগের কন্ধুদের সঙ্গে, বিশেষ করে যারা ফটোগ্রাফিতে আগ্রহী তাদের জন্য বাংলায় অনুবাদ করে দিলাম।
বইটির নাম মেকিং পিকচার্স, লেখক জুলিয়ান ক্যালডার।
ইনডিয়ান ফটোগ্রাফার রঘুবীর সিং খুব ভালো একটি কথা বলেছেন ফটোগ্রাফির বিগিনার এবং হতাশ ফটোগ্রাফারদের জন্য। তিনি যে কথাটি বলেছেন তার বাংলা এরকম -
ফটোগ্রাফি অনেকটা খনি এলাকায় সোনা খোঁজার মতো। বার বার আপনি খুঁজতে থাকবেন এবং কখনো হয়তো ছোট এক টুকরা পেতে পারেন।
পোরট্রেইট ফটোগ্রাফি নিয়ে যারা মাথা ঘামাচ্ছেন তাদের অনেকের আইডল কানাডিয়ান ফটোগ্রাফার ইউসুফ কার্শ। এই ভদ্রলোক মাত্র একটি বাক্যেই পোরট্রেইট ফটোগ্রাফির মূল বিষয়টি তুলে এনেছেন। তার বক্তব্যটি এ রকম -
আমি যা জানি তা হলো, প্রতিটি পুরুষ বা নারীর মধ্যেই লুকানো একটি সত্যি (চরিত্রিক বৈশিষ্ট) থাকে। একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে আমার কাজ হলো যদি সম্ভব হয় তাহলে (ফটোর মাধ্যমে) সেই সত্যিটা খুজে বের করে আনা।
এনসেল অ্যাডামস ছিলেন ফটোগ্রাফি অন্তপ্রাণ। এক একটি ফটোর পেছনে তিনি অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। চিন্তা করেছেন একই সাবজেক্টের জন্য সম্ভাব্য অসংখ্য ফ্রেম। হিসেব করে দেখেছেন আলোর প্রকৃতি ও পরিমাণ। বোঝার চেষ্টা করেছেন সেই আলো ফিল্মে এবং স্নাইডে কেমন প্রভাব ফেলবে। ফলে যে ছবি সাদা চোখে আমাদের কাছে আটপৌরে বলে মনে হয় তাই এনসেল অ্যাডমসের হাতে হয়ে ওঠে আর্টিস্টিক। সেই এনসেল বলেছেন -
ফটো আসলে তোলা হয় না, (ভালো) ফটো তৈরি করা হয়।
স্টৃট ফটোগ্রাফি এবং ডিসাইসিভ মোমেন্ট বললে যার নাম অনায়াসে চলে আসে তিনি হলেন হেনরি কার্টিয়ের ব্রেসো। তিনি যে কথা বলেছেন তাতে মনে হতে পারে স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্তের ফটো তোলার কৌশল এ ফরাশী ভদ্রলোক আপনাকে হাতে কলমে শিখিয়ে দিচ্ছেন। যেমনটা তিনি আগেই বলেছেন যে, প্রতিটি ঘটনারই একটি ডিসাইসিভ মোমেন্ট আছে, তেমনি এর পরপরই তিনি বলছেন -
(সম্ভাব্য) ফটো সম্পর্কে ভাবুন শাটার ক্লিক করার আগে এবং পরে। কখনোই ক্লিক করার সময় নয়। গোপন সূত্রটি হলো - আপনি সময় নিন। দ্রুত কাজটি করে ফেলতে যাবেন না। সময় দিন, সাবজেক্ট যেন অবশ্যই আপনাকে ভুলে যায়। (এইটুকু পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করে) এবার ঝটপট ছবিটি তুলে ফেলুন।
কোনো এক সময় ফাটাফাটি সব অ্যাসাইনমেন্ট করেছেন আর ওই ছবিতে তা দিয়ে সারাটা জীবন কাটানো সম্ভব। কারণ কি? না, আগের ফটোর জন্যই লোকজন আপনাকে মনে রাখবে। হাত জোড় করে এমন চিন্তা থেকে আপনাকে ফিরে আসতে বলছেন ডেভিড বেইলি -
আপনার সর্বশেষ ফটোগ্রাফির সেট যতোটা ভালো, সেটাই ঠিক করে দেবে আপনি কতো ভালো ফটোগ্রাফার।
শেষ কোটেশন ক্যামেরার প্রতি আতিরিক্ত মায়া দেখান যারা তাদের জন্য। এ শ্রেণীকে বড় আঘাত দিয়েছেন ডন ম্যাককালিন। তিনি বলেছেন -
আমি একটা টুথব্রাশকে যেভাবে ব্যবহার করি, সেভাবেই ব্যবহার করি ক্যামেরাকে। এটা কেবল আমার কাজটি করে দেয়।
যারা ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন, কোটেশনগুলো তাদের জন্য
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১৭টি মন্তব্য ১১টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড
খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

দেখে শূন্য চাকত

কেমন করে সাজাও তুমি?
কলমের সাথে- খাতার প্রেম,
মাটির সাথে মৃত্যুর লাশ,
ঘাসের গায়ে ঘাসফড়িংর কাশ।
শেষ বিকালে ভাবনার সাথে
চিন্তার হয় রে অবকাশ-
সবিই যেনো শূন্যে প্রেমে আশ
হাত গুটানো-জীবনের নাশ;
বাস্তবতার হয় নির্দয় স্বার্থপর
সময়ের শুধুই... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন
সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....
ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।
ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন
দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।