১.
টেবিলে রাখা দু’মগ কফি ঠান্ডা হয়ে এতক্ষনে স্বর্গে চলে গেছে। সময় গড়িয়েছে প্রায় ৪ ঘন্টা। এখনও কোন সুরাহা হয়নি। হিমা কিন্তু খুবই সিরিয়াস। যদিও তিলক টেবিলের উপর হাতের ভাঁজে মুখ গুঁজে রেখেছে। হিমার কথাগুলোর জবাব মাথা না ওঠিয়েই নাড়িয়ে নাড়িয়ে দেয় তিলক। মাথার দোলানিতে খুঁটির উপর থেকে টেবিল প্রায় এক ইঞ্চি সরে গেছে। অনেক প্রশ্ন হিমার। সব প্রশ্নের জবাব দেয় না তিলক। আসলে জবাব দিতে সে বাধ্যও নয়। কিন্তু প্রশ্নগুলোর জবাব পাওয়া হিমার জন্য জরুরী। যদিও তিলক সে প্রয়োজনের উপর নূন্যতম শ্রদ্ধাও দেখাচ্ছে না। অথচ এই একটা হিসাবের জের আজ বের করতে হবেই।
জীবন থেকে তিরিশ টা পালক ঝরিয়ে একত্রিশে পা দিয়ে কেন বিয়ের জন্য এতো আকুলতা হিমার মাঝে এলো ? এ নিয়ে অবশ্য হিমাও তেমন একটা ভাবে না। শুধু ভাবে, প্রতারিত হয়ে পুরুষকে অমানুষ ভেবে বিয়ে থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলো। কিন্তু আজ যখন মানুষের সন্ধান পাওয়া গেল, তখন বিয়ে করতে কোন দোষই নেই। তাইতো হিমা এখন সন্ধান পাওয়া মানুষের পেছনে অমানুষিক হীণমন্যতা নিয়ে লেগে আছে। অথচ হিমার এ লেগে থাকাটা অবশ্যই শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য।
এভাবে আর বসে থাকতে রাজি নয় তিলক। একপ্রকার উত্তেজিত হয়েই উঠে গেছে। বিয়ে, বিয়ে, বিয়ে !! সবার মুখে শুধু একই কথা। বিয়ে করে কি হবে? সর্বোচ্চ মরে যেতে পারবো। এর বাইরে কিছু হবে? আমাকে আসে পিতৃত্ব শেখাতে! কিসের পিতৃত্ব? পিতৃত্ব বলে কিছুই নেই যা আছে তা কর্তৃত্ব। এতোই যদি পিতৃত্ববোধ লালন করতাম, তবে আরো আগেই বিয়ে করে দশ বারটা ছেলেপুলের বাবা হয়ে যেতাম।
জাগতিক যা কিছুর সাথে অ-সুখ জড়িয়ে আছে , তার সবটুকুর সাথেই সুষম সখ্যতা তিলক হাসানের। পা গুটিয়ে হাঁটুর উপর কপাল রেখে চেয়াল শক্ত করে সেই পা জড়িয়েই বসে বসে বিরহ অথবা পঁচে যাওয়া পুরোনো সুখস্মৃতিতে ডুবে গিয়ে বাস্তব থেকে দূরে থাকার মাঝে কি অমন শিহরণ জাগানিয়া সুখ আছে তিলকই তা ভাল বুঝে। দিনে গোটা তিন প্যাক সিগারেটকে পরকালের পথ দেখিয়ে কোন সুখে সুখী হওয়া যায় তার গা ঘেঁষা ধারণাও কারো নেই।
তিলক এখন কফি হাউজ থেকে বেরিয়ে রাস্তায়। বাসায় যেতে আরও ৩০ মিনিট সময় লাগবে। কারণ উনি হেটে হেটেই যাবেন। শহরের এই অংশে এসে শহরটা খুব উচ্চ কন্ঠের হয়ে যায়। বেশ ব্যস্ততা অন্য অংশের তুলনায়। মানুষের গিনগিনি এখানে সপ্তমাসী গর্ভের মতোই বিশেষ দৃশ্যমান। পার্কের বেড়া ঘেষা একটি ফুটপাত ধরে খুবই ধীরে অথচ সটান হয়ে হেটে চলছে তিলক। চল্লিশ বছর বয়সী শরীরটাকে ঢেকে রাখা পরনের ব্লেজার, প্যান্ট, জুতা এমনকি চশমার ফ্রেমও কালো। শুধু শার্টটা সাদা। মাথার চুলও অবিশ্বাস্য রকমের কালো। গায়ের রং ইর্ষনীয় ফর্সা। মোটা কালো গোঁফ গুলো মোটেও বেমানান নয়। সবই ঠিক আছে। কিন্তু নিজ জীবন নিয়ে যে ধরনের চর্চা, তা নিতান্তই অহেতুক এবং অবাঞ্চিত।
মাথার ভিতর এখন যত অতীতের দৌড়াদৌড়ি। সংসারে বাবার কর্তৃত্ব, নিজের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাওয়া, বোনগুলোর অল্প বয়সে অযোগ্য পাত্রের হাতে বিয়ে হওয়া, বড় বোনের মৃত্যু এ রকম আরও অনেক কিছুই এখন তার শরীর থেকে ঘাম ঝরাচ্ছে। আর একটু আগে যোগ হলো হিমাকে কষ্ট দেয়ার কষ্ট। হিমার চাওয়াটা মোটেও অযৌক্তিক নয়। কিন্তু তিলক ভেবেই পাচ্ছে না, ভালোবাসার মানুষ হিমাকে কি করে নরকের লাকড়ি বানাবে? হিমাকে তো সে যথেষ্ট ভালোবাসে, যতটা না হিমা ভাবে। হিমা চায় তিলককে বিয়ে করতে, প্রাণপনে চায়। কিন্তু...
হিমা এখন আয়নার সামনে বসে। তিলকের সাথে যখন বুঝাপড়া হয়নি তখন নিজের সাথে বুঝাপড়া সেরে ফেলা জরুরী হয়ে গেছে। হিমা তার বর্তমান সময়টাকে কোন বিশেষনেই বিশেষায়িত করতে পারছে না। এ সময় তার কি করা উচিৎ, তা নিয়ে আরেকবার ভাবা দরকার। মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করে ব্যর্থ চিন্তাসময় কাটিয়ে চোখ খুলে আয়নার হিমাকে একটু দেখে নিলো। একটু খানি দেখতে গিয়ে চোখ আটকে গেল। নিজের চেহারার দিকে তাকিয়ে নিজেকেই খুব মায়া করতে ইচ্ছে হলো হিমার। দু’চোখে তার প্রশান্তসম ক্লান্তি। সেই ‘চর্যাপদ’ থেকে আজকের ‘হিমু’ এতো দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়েও কোন পথিক এতো ক্লান্ত হয় না, যতটা ক্লান্তি হিমার দু’চোখে। ব্যর্থতার মাত্র চার-ছ’ ঘন্টা পথ এতো ক্লান্তিময়!
ঠিক এ সময় হিমার মাঝে যে ঝড় বয়ে যাচ্ছে, তা সত্যিই অনাহুত। অনর্থক ভাবাবেগে মগ্ন হয়ে হিমা এখন অহেতুক দু:খবিলাস করছে। ভালোইতো ছিলো কুমারী জীবন, কেন এখন সে রতœ বিসর্জন দেয়ার এতো দায় পড়ে গেছে? সে উত্তর অবশ্যই হিমার কাছে আছে। তাই হয়তো আয়নায় নিজ অশ্র“ বিসর্জনের দৃশ্য দেখছে খুব মনযোগ দিয়ে। অশ্র“ দেখে অবাক হওয়াটা হিমার চেহারায় ফুটে ওঠেনি মোটেও। যে বরফ অশ্র“ এতো দু:সহ অতীত পেরিয়েও গলে যাওয়ার সময় হয়নি, আজ কি এমন বিশেষ হারিয়ে গলে পড়ছে হুহু করে? গলে পড়তে গিয়ে পুরো দেহ মনে হারানোর শিহরণ জাগিয়ে পাথর অস্তিত্বকে কাঁপিয়ে তুলল নিপুন দক্ষতায়! আজ কোনভাবেই দু:খকে এড়িয়ে যাওয়া গেল না। হিমার অসম্ভব সহ্যশক্তি এখন মেঝেতে লুটোপুটি খাচ্ছে। পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি শরীরটাকে যৎসম্ভব সংকুচিত করে সমস্ত না পাওয়ার বেদনাকে অশ্র“ বানিয়ে সে মেঝেতেই একই সাথে গড়াগড়ি। বড্ড অসময়ে জীবনের প্রতি জন্ম নেয়া চাহিদার এমন অপমৃত্যু হিমা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না। অথচ গতরাতেও আয়নার সামনে বসে নিজেকে একবার বৌ সাজিয়েছিলো। মনস্থির করেছিলো ফুলশয্যায় বেলি ফুলের সমাহার ঘটাবে বেশি, কারণ তাতে খুব প্রেম এবং ঘ্রাণ।
তিলকও এইমূহুর্তে ঠিক অংকটা মেলাতে পারছে না। কিন্তু তার করার কিছুই নেই। জীবন নিয়ে তার যে অভিজ্ঞতা, তাতে করে বিয়ে করাটা হবে মাতৃঘাতী সিদ্ধান্ত। সে বংশানুক্রমে শুরু হওয়া পিতৃতান্ত্রিক পারিবারিক ব্যবস্থার বলি হয়ে তিলকদের বংশে অনেক স্ত্রী এবং সন্তান জীবনকে তেতো বলেই চিনে। দাদীর মুখে শোনা পূর্ব পুরুষদের অত্যাচার, মা’র মুখে শোনা, বাবারটাতো নিজ চোখে দেখা। বাবার সাথেও তিলকের বোঝাপড়ার শেষ নেই। বড়বোনের মৃত্যু, ছোট দু’বোনের অল্প বয়সে অপাত্রে বিয়ে দেয়া সহ অনেক কিছু। তিলকের প্রতি তার বাবার যত অনাচার, তা নিয়ে বড় ধরনের আক্ষেপ নেই। কিন্তু বড় বোনের মৃত্যুটাকে কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছে না তিলক। তিলকের ধারনা, বংশের এই ধারা তিলককেও পেয়ে বসবে। আর যদি তাই হয়, তবেতো তার সন্তানদের জন্য পৃথিবীটা নরক হয়ে যাবে। হিমার প্রতি তিলকের ভালোলাগা এবং ভালোবাসা উভয়ই আছে। কিন্তু কিভাবে তার বীজ বুনে তিলক? কোনভাবেই হিমার জীবনকে কাঁটা সাদৃশ্য করা যাবে না।
তিলক এতক্ষণে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামীকাল ভোরেই গ্রামে যাবে । আঠারো বছর পর হঠাৎই গ্রামের যাবার সিদ্ধান্তটা নিলো তিলক। হুট করে নিলেও সিদ্ধান্তটার দরকার ছিলো। সেই শৈশব আর কৈশোরের মিশেলে গ্রামের স্মৃতিতে দগ্ধ হতে হতে এবার সেই গ্রামেই যাবে। বিষয়টি একটু হলেও এত্তজনা সৃষ্টি করেছে।
২.
হায় কৃষ্ণমহুরী! কি অবস্থা তার। সেই প্রশস্ততা কোথায় হারালো? পুরোটাই যে রাস্তায় খেয়ে নিলো। নাহ্, গ্রাম শব্দটিকেই অভিধান থেকে মুছে দেয়া উচিৎ। গ্রাম বলে এখন আর কিছুই নেই। স্কুলের পাশ থেকে শুরু হওয়া খালটা যেখানে গিয়ে প্রথম বাঁক নিয়েছিলো সেখানেই তিলকদের বাড়ি। কিন্তু সেখানেই দেখছি খালের সমাপ্তি! রাস্তার মোড়টাও নেই। তিলক কিছুটা বিচলিত হলো। বাড়ি কি সে খুজে পাবে না? মোবাইলটা কেঁপে ওঠাতে বুজতে পারলো কেউ ফোন করেছে। স্ক্রীনে দেখলো ‘হিমা’। হ্যাঁ, তিলকতো এমনই আশা করেছিলো। সবুজের মাঝে অবস্থান নিয়ে অবুঝ ভালোবাসার সাথে কথোপকথন অবশ্যই প্রেমময় হবে। কথা বলতে বলতে কিছুদূর এগিয়ে একটি মোটা কড়ই গাছের সাথে হেলান দিয়ে দাড়ালো। রাস্তার বিপরীত পার্শ্বে দুটি বড় বড় খড়ের চিন (স্তুপ)। তার পাশেই একটি ছোট পুকুর। তিলক যেখানে দাড়িয়ে আছে তার ঠিক ডানহাতের পাশেই কয়েকটি কবর। অবশ্য সাইনবোর্ডটা না থাকলে বুঝার কোন উপায় ছিল না। কবরগুলোতে রিভুজিসহ অন্যান্য আগাছা-পরগাছার সম্মিলন কবরটাকে একটি জঞ্জালে পরিণত করে রেখেছে। তিলক প্রায় আনমনা হয়েই কথার সাথে সাথে কয়েকটি রিভুজি লতা টেনে টেনে ছিড়ে ফেলার চেষ্টা করছে। অনেকগুলো লতা ছিড়েও ফেলছে।
গ্রামে সাধারণত যেমন হয়, অপরিচিত কাউকে কোথাও স্থির দেখলেই গ্রামের লোকজন এক এক করে জমতে থাকে। এখানেও তেমন; গোটা তিন চারেক লোকের কানাঘুঁষা বেশ জমে ওঠেছে। যদিও তিলকের মন এখন ফোনে কথা বলা আর কবরের রিভুজি ছিড়াতেই মশগুল। মাথার ভেতর অবশ্য একধরনের দুশ্চিন্তাও কাজ করতেছে। এখনও একজন স্বজনের দেখাও মিললো না!
ফোনে কথা শেষ করতেই জমে থাকা লোকজন তিলকের দিকে এগিয়ে এলো। তারা কিছু বলার আগেই তিলক জিজ্ঞেস করলো - আচ্ছা, মুন্সীবাড়িটা কোন দিকে। মাঝ বয়সী একলোক বললেন, মুন্সীবাড়ির সামনেইতো দাড়িয়ে আছেন। তিলক ভাবলো, আসলেই কি তাই? তিলকদের বাড়ির দরজা আগে ছিলো পূর্বমূখী, এখন হলো উত্তরমূখী। অনেক পরিবর্তন। বিশ বাইশ বছর বয়সী একটি ছেলে তিলকের এখানে অবস্থানের হেতু জানতে চাইলো এবং মুন্সী বাড়ির কেউ তিলকের আত্মীয় হয় কিনা তাও জানতে চাইলো। তিলকের বাবার পরিচয়টা দেয়াতেই সবার চোখ ছানাবড়ো। এক বৃদ্ধতো বলেই ফেললেন, ‘এই তাহলে সেই কুলাঙ্গার’! বৃদ্ধের সাথে অনেকেই এখানে দাড়িয়ে থাকতে অনীহা প্রকাশ করে চলে গেলো। শুধু অল্পবয়সী ছেলেটাই রয়ে গেল। তিলক তার দিকে এগিয়ে গেলো এবং নিজ পরিবার সম্পর্কে জানতে চাইলো। তারপর একে একে জানতে পারলো, মা-বাবা দুজনই মারা গেছেন। মেজোবোন স্বামীসহ ইটালীতে, ছোট দু’বোনের মধ্যে বড়টা স্বামীসহ সৌদীআরব আর সর্বশেষটাও স্বামীসহ ইতালী। তিলকের ছোটভাই আমেরিকাতে আজ অনেক বছর। বাড়িতে তিলকের এক কাকা থাকে। তাও তিলকদের অনেক সম্পত্তি সে বিক্রি করে দিয়েছে। মাঝে মাঝে কেবল তিলকের মৃত বড়বোনের ছেলে এসে কবর জিয়ারত করে যায়। আর কাউকেই কখনও দেখা যায় না। ছেলেটিকে তিলকের বাবা-মা’র কবর দেখিয়ে দিতে বললে ছেলেটি বলে, ‘এতক্ষণ যে কবরগুলোর রিভুজি লতা ছিড়েছিলেন, ওগুলোই আপনার বাবা-মা আর বড়বোনের কবর। তিলক স্বভাবসূলভ ভাবেই ‘কি!’ বলে চিৎকার করে ওঠলো। তিলকের চোখ মুখ লাল হয়ে এলো। এই বুঝি সে প্রতাপশালী সওদাগরের কবর? যার কিনা এ তল্লাটের প্রায় অর্ধেক মালিকানা ছিলো। কতো লোককে কবরের জায়গা করে দিয়েছেন, কতো লোকের কবর পাকা করে দিয়েছেন, আজ তারই কবর এমন দুরাবস্থায় পড়ে আছে!
ততক্ষণে তিলককে ঘিরে আশেপাশের বাড়ির অনেক অনেক মহিলা দাড়িয়ে আছে। যার মাঝে তিলকের চাচীও আছে। যদিও তিলক চিনতে পারছে না। মহিলাদের কাছে তিলক একটি দা চাইলে তিলকের চাচীই দা এনে দেয়। সেই দা দিয়ে পরো কবর পরিষ্কার করার পর তিলক ক্ষান্ত হলো। পুরো শরীর তার ঘামে ভিজে গেছে। মুখ থেকে ঘামের ফোটাগুলো থুতনি বেয়ে ঝরে পড়ছে। কে জানে, সে ঘামের সাথেই কয়েক ফোটা অশ্র“ মিশে গেল কিনা? ছিড়ে ফেলা রিভুজির স্তুপের উপর বসে পড়ল তিলক। কাঙ্খিত হতাশায় ডুবে আর কান্নাকে দমিয়ে রাখতে পারলো না। ঠিক মনের যেখানে মা-বাবার জন্য করুণা অনুভব করতো, সেখান থেকেই এখন অবিরাম কান্নার জন্ম হয়ে চোখ দিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে।
কিন্তু এবারের ভাবনা ভিন্ন। সমান্তরাল ভাবেই ভেবে চলছে, যার এতো ধন সম্পত্তি, নাম ডাক, সুনাম ছিলো আজ তার কেউই নেই। এমনকি কবরের আগাছা পরিষ্কার করার মতোও কেউ নেই। তবুও আজ এতোদিন পরে এসে অন্তত সেই হারিয়ে যাওয়া সন্তান এসে অবহেলিত কবরটা পরিষ্কার করে দিলো। কিন্তু তিলক, তিলকতো এমন কাউকে এ পৃথিবীতে আনতে পারলো না, যে কিনা এমন করে একদিনের জন্য হলেও কবরের আগাছা পরিষ্কার করতে আসবে। তবে কি এমন কাউকে রেখে যাওয়া খুবই প্রয়োজন নয়? কি আর হবে এভাবে জীবন থেকে পালিয়ে? মরে গেলেতো এভাবেই পড়ে থাকবে হবে, যেভাবে পড়ে আছে আপন বাবা-মা আর বড়বোন। সমস্ত কিছু নিয়েই পড়ে আছেন। অহংকার, দাম্বিকতা, স্বৈরাচারিতা- সব, সব নিয়েই পড়ে থাকতে হবে। তবে কেন নিজের রাগ আর ক্ষোভের জয় দেখার জন্য এভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া?
নাহ্, এবার তবে ঘুরে যেতে হবে, ফিরে যেতে হবে। জীবনের কোলাহলে চলে যেতে হবে।
হ্যাঁ, হিমার কাছেই যাবে তিলক। তার মাতৃত্ব, তার ভালোবাসার সঠিক মর্যাদা দেয়ার সময় এসে গেছে।
হঠাৎ জন্ম নেয়া এই প্রবল পিতৃত্ববোধকে জয়ী করার জন্য ছুটে চললো তিলক। সাথে ছুটে চলছো আগামী আর স্বপ্ন। হ্যাঁ, তিলক এখন গ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে...।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



