( মা আর ছেলে রাতের বেলা হারিকেন জ্বালিয়ে কথা বলছে)
: মা, তুমি কি শুনেছো ঐ শুয়েরের বাচ্চারা তোমার কপিক্ষেত মাড়াচ্ছে?
: বাবারে রাত অনেক হলো, এবার ঘুমা।
: কাল ওঠোন পর্যন্ত চলে এসেছিলো, শুনেছি ঘরেও নাকি ঢুকবে!
: তোর বাবা বলেছে এ বছর আর শাড়ি কিনে দিতে পারবে না। যে শাড়িটা দিয়ে তুই ঘুড়ি
বানিয়েছিস, ওটা আমাকে দিয়ে দিস।
: শুয়োরগুলো তোমাকে গালি দেয়, মেজো জ্যাঠার পিঠে লাত্থি মারে, আবার আমার দিকে
তাকিয়ে ভেংচি কাটে!
: ওরে খোকা তিনটা শাড়ির দুইটাই ছিড়ে গেছে, বেইজ্জত হতে আর দেরী নেই। তোর
ঘুড়িটা কোথায় রাখছস?
( খোকার বাবা এসে ঘরে ঢুকবে )
: বাবা শুয়োরগুলো এখন দল বেঁধে চলে, সুন্দর একটা সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়েছে।
: আজ দুই কেজি চাল ৭৬ টাকায় কিনেছি।
: ওরা এখন গলায় ফুলের মালা পরে! ওদের নাকি জয় হয়েছে ! তোমাদেরকে দেশ থেকে
তাড়িয়ে দেবে!
: তুই কাল থেকে আর রাতে পড়িস না, কেরোসিনের দাম চড়া। আসলে রাত হলো ঘুমের
জন্য নিয়ামত স্বরূপ, হারিকেনটা নিভিয়ে দেয়।
: ঐ দেখ বাবা তোমার শহীদ ভাইয়ের রক্তমাখা লুঙ্গিটা এখনও স্বাক্ষ্য দেয়।
: আমার গ্রাস্ট্রিকের ব্যাথা বেড়ে গেছে, তাকের উপর থেকে বড়িগুলো দে।
: আচ্ছা বাবা, দাদার রেখে যাওয়া গাদা বন্দুকে কি অমানুষ মারা যাবে?
: তোর মা ঘুমিয়ে গেছে, তুই ঘুমোবি না?
: আমার মাটির ব্যাংকে যে ক'টা টাকা আছে, তাতে কি একটা অমানুষ মারার বন্দুক কেনা
যাবে?
: ফজরের পর মিয়াবাড়িতে কামলা যেতে হবে, আমি ঘুমোতে গেলাম।
( বাবা-মা ঘুমিয়ে যাবার পর আছাড় মেরে মাটির ব্যাংক ভেঙ্গে বসে বসে টাকা গুনতে থাকে খোকা)
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



