১৫.০৯.২০০৬
চট্টগ্রাম
প্রিয়...
তোমার ভালো থাকা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। সত্যি ঘামাই না। তুমি রাগলে রাগতে পারো। করার কিছুই নেই। গতকালও অনেকগুলো কবরের সাথে উষ্ঠা খেয়ে হাঁটুর চামড়া বিসর্জন দিয়েছি। এখন মহামানবদের হলুদ মগজে মলম বানাই। পারিও খুব! তবে অবশ্যই তোমার মতো না। প্রতিদিন কতো কবর তোমাদের দাবিকৃত মাটিতে বুক উঁচু করে শুয়ে পড়ে। এ শুয়ে পড়াতে কোন আবেদন নেই, সুখ নেই, ঘাম ঝরানোর তাগিদ নেই এমনকি যৌনতারও গন্ধ নেই। মরতে মরতে কতো আগামী এভাবে অতীত হয়ে যাচ্ছে। আমি কিছুই করতে পারি না। পারি কেবল প্রতিদিন একটি করে চিঠি লিখতে।
সকালে খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। বিষম বৃষ্টিতে মানুষগুলো ঘরবন্দী, আমিতো পকেটের স্বাস্থ্য বাড়াতে নিত্য বেরুই পতিতাবৃত্তিতে। কি চাহিদা! জীবনের কি ক্ষুধা! মনে হয় তোমার মতো বিশালতাকেও খেয়ে ফেলবে। তার হা..... দেখলেই ভয়ে ঢুকে পড়তে ইচ্ছে হয়। অথচ আজকে এক ক্ষুধার জন্ম হওয়ার আগেই মরে যেতে দেখে আমার ভীষন বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হয়েছিলো। এখনও অতিতৃপ্তিতে বেঁচে আছি এবং আগামীকালের বেঁচে থাকার ছক আঁকছি। তুমিই ভেবে দেখো... তোমার এই প্রেমিক কতো পাষান! এক নবজাতকের নির্মম মৃত্যুতেও সে লজ্জায় মরে যেতে পারেনি।
জন্ম নিলো সে, মানুষের মতোই লেগেছিলো, কিন্তু পড়েছিলো কুকুর বা কুকুরের মতো। আমি গুনে দেখেছি, আমার মতোই জোড়ায় জোড়ায় হাত, পা, চোখ, কাঁন, ঠোট। তার পুরুষাঙ্গটিও আমি দেখেছি। আমি নিশ্চিত সে মানুষ। অথচ প্রচন্ড বৃষ্টির মাঝে মানুষটি অনৃভূতিহীন চামড়ায় বৃষ্টি বিলাস করছে, আহা! খুবই করছে। আমায় বহনকৃত ত্রি-চক্রজান থামলো, সাথে অনেক কিছুই থামলো... এই ধরো চক্ষু ইন্দ্রিয় বাদে বাঁকি পঞ্চ ইন্দ্রিয়ই থেমে মানে থমকে গিয়েছিলো। ভীষন লেগেছিলো, ভীষন। ইসস আমি যদি শুয়ে থাকা মানুষটির আড়ালে কুকুর বা কুকুরের মতো হতে পারতাম!
তুমি বিশ্বাস করবে না, সত্যি তুমি বিশ্বাস করবে না... অনেক মানুষ ছিলো, অনেক। কতো আঠালো, রসালো বাক্যের দ্যুতিতে মানুষটির চেহারা ভীষন ফর্সা হতে লাগলো। বৃষ্টির অত্যাচার তার চেহারাকে বিকৃত করে চললো অনবরত। সে কিন্তু শুয়ে আছে। খুবই বড় বনের মানুষগো... কিছুই বলছে না! বৃষ্টিকে তার মাদল বাজাতে দিচ্ছে নির্মম খুশিতে। অথচ আমরা বা আমাদের মতোই অনেক মানুষ তাকে ঘিরে। আমরা কিন্তু অনেক কথাই বলেছি। "কোন মাগী এই পোলা বিঁয়াইছে"// এই পোলার বাবার জানি কতো পোলা আছে?// মরে গেছে বেঁচে গেছে// পোলাটার ভাগ্য ভালো যে মরচে, নইলে বাবার পরিচয় কি দিতো??............ আসলেই কি দিতো।
তুমি কি বলো, ভালো করেছে না মরে গিয়ে?
চিঠি পড়ে উত্তরটা "ভালো করেছে" দিও।
তোমার প্রতি খেয়াল রেখো। আরো নির্মম হতে স্বচেষ্ট হইও।
ইতি
তোমার নিলয়খন্ড
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



