(১)

বড় করে দেখুন
বাংলাদেশের প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধিক্য হচ্ছে শিক্ষাখাতে সরকারের ব্যর্থতার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমান। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা দেশের মূল স্রোতের জনগণের পরিচয় বহন করে না। ধনী হোক আর গরীবই হোক কেউই ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শখ করে পড়তে যায় না। আসন সংকট, সেশন জট, ছাত্র রাজনীতির মৃত্যুকূপ থেকে বাঁচতেই মূলত প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকতে হয় শিক্ষার্থীদের। সরকারের ব্যর্থতা নগ্ন হতে হতে এখন কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে আইনের মারপ্যাঁচে ফেলে আমার বিনামূল্যে/স্বল্পমূল্যে শিক্ষা প্রাপ্তির অধিকার নিয়ে মশকরা শুরু হয়েছে। পোস্টারে পড়ে থাকা সাইকেলটি আমার দারিদ্রতার পরিচয়। উপর থেকে নেমে আসা শ্বাপদের পা আমার শিক্ষা প্রাপ্তির অধিকারের প্রতি আগ্রাসনের প্রতীক। যে আগ্রাসন চিৎ করে শুইয়ে রেখেছে আমাকে, আমার সাইকেলকে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রেখেছে আমার শিক্ষাকে। ক্ষত বিক্ষত করছে আমার নাগরিকত্বকে। আমি এর প্রতিবাদ করছি।
(২)

বড় করে দেখুন
আমরা বাপেক্স নামের একটি শব্দ জানি। এ শব্দ তথা প্রতিষ্ঠান আমাদের অহংকার। বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে বাপেক্সের সফলতা রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেয়ার মতো। সীমিত সম্পদে ও স্বল্প বরাদ্ধে কোন রকমের দুর্ঘটনা ছাড়া এরাই পেরেছে বাংলাদেশে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে সফল হতে। অথচ কোন এক অদৃশ্য ইশারায় প্রতিনিয়ত এ প্রতিষ্ঠানের বাজেট সংকুচিত করে অপরাপর সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো ধ্বজভঙ্গ করার মিশনে আছে সরকার। এমনকি প্রতিষ্ঠানের এক্সপার্টদেরকে বিদেশে পাচার করার কাজটিও সরকারের নীতি নির্ধারকরা সরাসরি দেখভাল করে। বর্তমানে বাংলাদেশে সমুদ্রের তলদেশ থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোন প্রয়োজন নেই। বরং স্থলভাগে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সঠিক উত্তোলনরীতি মেনে এবং নিয়মিত স্থল অনুসন্ধান চালিয়ে গেলেই আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার অনেকটা নিশ্চিত করা সম্ভব। ভোলায় কয়েকটি গ্রামের মানুষ টিউবয়েলের পাইপ ব্যবহার করে মারাত্বক ঝুঁকি নিয়ে জ্বালানী হিসেবে গ্যাস ব্যবহার করে যাচ্ছে। অথচ ভোলায় একটি গ্যাসনির্ভর বিদ্যুত প্রকল্প ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে কয়েক বছর ধরে। আমার দেশে প্রচুর প্রাকৃতিক গ্যাস আছে। এ গ্যাস আমি ব্যবহার করতে না পারলে আমার সন্তান ব্যবহার করবে। কিন্তু বিদেশে পাচার হতে দিবো না।
(৩)

বড় করে দেখুন
বিদেশী কম্পানির কাছে গ্যাস বিক্রি করতে গিয়ে সরকার আমার কয়েকটি অধিকার লঙ্ঘন করেছে সুস্পষ্টভাবে। প্রথমত খনিজ সম্পদের মালিকানার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমি বিশেষ ক্ষমতার বলে বলীয়ান। এটাকে কাগুজে অধিকার বানিয়ে ছেড়েছে সরকার। আমার কোন ধরনের মতামত না নিয়েই সরকার গ্যাস বিক্রির (বলা ভালো পাচারের) সব আয়োজন সম্পন্ন করে ফেলেছে। এসব আয়োজনের আগে পরের তথ্য জানার অধিকারও আমার আছে। কিন্তু সে অধিকারও কৌশলগতভাবে উপেক্ষিত হয়েছে সরকারের কাছে। অথচ এরা আমাদের বেতনভুক্ত কর্মচারী! এসব কর্মচারীদের অপকর্মের প্রতিবাদ করায় একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে ‘টোকাই’ বলে অপমান করার চেষ্টা করেছে সরকারের নেতা এমপি মন্ত্রীরা।
(৪)

বড় করে দেখুন
সরকার গ্যাস বিক্রি কেন করছে সেটা আমরা জানি। গণতন্ত্র এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির মারপ্যাঁচে পড়ে অনুন্নত বিশ্বের দেশ হিসেবে শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি, চালাক চতুর কূটনৈতিক তৎপরতার অভাবে বিদেশীদের গোলামী করতে গিয়ে এসব সম্পদ বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। অথচ এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিজেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দেশপ্রেমিক বলে দাবি করেছেন। এ দেশের দেশপ্রেমিকের তালিকায় ক্ষমতার কাছাকাছি ব্যক্তিদের অবস্থান অতশীকাঁচ দিয়েও খুঁজে বের করার উপায় নেই। একজন প্রধানমন্ত্রী নিজেকে সবচেয়ে বড় দেশপ্রেমিক দাবি করার বিষয়টি প্রতিনিয়তি শাসকগোষ্ঠী প্রদর্শিত নির্মম কৌতুকের একটি জমজমাট পর্ব ছাড়া আর কিছুই নয়।
(৫)

বড় করে দেখুন
সরকারের মন্ত্রীসভার একজন সদস্য সর্বজন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আনু মুহম্মদকে টোকাই বলে সম্বোধন করেছেন। অথচ ওই গোলামও কোন না কোন শিক্ষকের কাছে পড়ে পরীক্ষায় পাস করেছিলো। আজ অন্তত বলতে পারে, আমি একজন ‘চিখখিত মন্ত্রী’! দালালী আর গোলামী করতে করতে একজন শিক্ষকের প্রাপ্য সম্মান দিতেও ভুলে যায় এসব চামচিকারা। অপরদিকে আমরাই এদেরকে ভোট দিয়ে মসনদে পাঠাই। নিজেদের পশ্চাতদেশ নিজেরা মেরে দিয়ে যে প্রচুর আনন্দ পাওয়া যায়, তার প্রমান আমরা নিজেরাই। পাঁচ বছর পর পর এ অদল বদল উপহাস সংস্কৃতির পিঠে লাত্থি মারি।
(৬)

বড় করে দেখুন
যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, আমারা একটি সংলাপ শুনতে বাধ্য। তা হলো “দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে”। যাচ্ছেতো বটেই! নইলে এ পঁচা কপালের ধ্বংসস্তুপে ভেসে থেকেও টোকাইয়ের মুখে হাসি আসে কোত্থেকে? সম্পদের অপব্যবহার, অবহেলা এবং অপরাজনৈতিক ব্যবহারই আমাদেরকে এ ধরনের ‘উন্নয়নের জোয়ার’ এর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা অপ্রতুল সুখে থাকতে বাধ্য হচ্ছি।
শেষ হলো আমার পোস্টার এবং এর ভেতরের আগুন পাখি। সবাই ভালো থাকবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১২ রাত ১:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



