
আমি আর বাবা জমির আগাছা পরিষ্কার করি।বাবা আমায় ধর্মশিক্ষা দেন।তিনি বলেন পৃথিবীর সকল ধর্মই মানুষের বানানো।মানুষের ভয় থেকে ,শৃংখলাবোধ থেকে সৃষ্টি হয়েছে ধর্ম।তোমার উপর কেউ নজরদারী করেনা।কলকাঠি নাড়ার কেউ নেই।তোমার পরকাল বলে কিছু নেই।সব মানুষের বানানো।আমি বাবার সব কথা ফুৎকারে উড়িয়ে দিই।আমি বলি আপনার কোন কথাই আমি মানিনা।(যেহেতু আমি কোন সুবোধ বালক ছিলাম না)বাবা এসে কষিয়ে একটা চপেটাঘাত করেন।আমি ক্ষেত নিড়ানি ফেলে রেখে সোজা প্রার্থণালয়ে চলে যাই।বাবা বলেন আজ তোর ভাত বন্ধ।বেয়াদব।প্রার্থণালয়ে আমি দুই হাত উচু করে কেঁদে কেঁদে ভেঙ্গে পড়ি।আমায় ক্ষমা কর ।তুমি আছো। তুমি আছো।তুমি আছো....
আমাকে এক দরবেশ জিজ্ঞেস করেন তুমি কি পেয়ে গেছো?
আমি দৃঢ়তার সাথে বলি হ্যাঁ-আমি পেযে গেছি।তিনি বলেন পেয়েই যখন গেছো তখন এত শক্ত করে ধরে আছো কেনো?ছেড়ে দাও আবার খুঁজে বের কর।
আমি ছেড়ে দিয়ে আবার খুঁজতে বের হই।প্রভু যিশু আমাকে ত্রিতত্ত্ব বোঝান।আমি হ্যাঁ কিঙবা না কিছুই বলিনা।খুঁজতে থাকি।ভগবান বুদ্ধের শরণ নিই।খুঁজে খুঁজে আমি কীর্তনের আসরে আঠার আলিফ চিৎকারে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি।মুরশিদী গানে রক্তাক্ত হই।বাউল গানের আসরে, বেহালার সুরে খুঁজি।
গভীর রাতে একটি পাখি ডেকে ওঠে।আমি খুঁজতে বেরিয়ে পড়ি।খুঁজতে খুঁজতে আমি হারিয়ে যাই।
বিজ্ঞান গুরুজী আমাকে ধর্মশিক্ষা দেন।অনেকটা বাবার মত।পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে ধর্মের উৎপত্তি।ধর্মের ক্রমবিকাশ বুঝান তিনি।সৃষ্টি রহস্য নিয়ে কথা বলেন।সব কিছুর মূল হল এই বিগব্যাঙ।তার আগে কি ছিল?তিনি বলেন আমার সীমা এ পর্যন্তই।আর কোন প্রশ্ন নয়।অনেকটা আল্লাহর মত।আল্লাহ বলেন সব কিছুই আমি সৃষ্টি করেছি।আমি বলি আপনাকে কে সৃষ্টি করেছে?তিনি বলেন কোন প্রশ্ন নয় । এ পর্যন্তই।
তারপর থেকে আমি কোন প্রশ্ন করিনা।আর খুঁজিনা।আমি যখন আমাকে প্রশ্ন করি তখন বলি ব্যাটা চুপ কর।আর কোন প্রশ্ন নয়।তোর জন্য ঘাটে ঘাটে জল খেয়ে আমার অসুখ হয়ে গেছে।এখন থেকে মনে করবি সবই নিযম ।সিস্টেম।এবার সিস্টেম মেনে চল।প্রেম আর কাম কর।জমি চাষ কর।বীজ ছিটিয়ে দে ।ফসল ফলা।সিস্টেমে একটা স্বাক্ষর দিয়ে জানান দে যে তুইও ছিলি।
তারপর থেকে আমি প্রশ্ন করিনা।সব সিস্টেম।
গাঙ্গে নয়া পানির মতন কিশোরীর শরীর যখন টলমল করে ওঠে,রাতের ঘুমশেষে কিশোর যখন সকালের সোনাঝরা রোদের মত ফোঁটে ওঠে,
আমি ভাবি এদের এখন জোয়ারের সময়।কামুক মানুষ যখন রিরাংসায় মেতে ওঠে তখন বলি এটা নতুন সৃষ্টির প্রয়াস।
বালিকার ক্রমশ নারী হয়ে ওঠা,বালক থেকে যুবক কিংবা ফুল থেকে বীজ;সবই নিয়ম।এভাবেই চলবে।এটাই নিয়ম।
গাছে ফুল ফোঁটে।ফুলের বিভিন্ন রং।রং দেখে কীট পতঙ্গ আকৃষ্ট হয়।পতঙ্গের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে।নিষেক হয়।ফুলে মিষ্টি গন্ধ হয়। এ গন্ধে পতঙ্গ আকৃষ্ট হয়।পরাগায়ন ঘটে ।নিষেক হয়।ফল হয়। বীজ হয়।বীজের বিস্তার হয়।সমুদ্রের উপকূলীয কিছু উদ্ভিদের আবার বুদ্ধি বেশি।গাছেই বীজের অঙ্কুরোদগম হয়। শিকড় গজায়।মাটিতে পড়ার সাথে সাথে শিকড় মাটিতে বিদ্ধ হয়ে পড়ে।পানিতে ভেসে যায়না।এটা প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার প্রয়াস।সিস্টেম।
মাঝে মাঝে প্রশ্ন দানবটি জেগে ওঠে।আমি সিস্টেমের কথা বলে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করি।আমার অসুখের কথা, ক্লান্তির কথা বলে মুখ চেপে ধরি।কোন প্রশ্ন নয়।সে ছটফট করতে থাকে ।জোর করে আমার হাত ছাড়িয়ে আমার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়-ফুলেতে গন্ধ দিল কোন সে নটীর পো ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

