আজকাল তেমন ভাল নেই রিয়াদ।এটাকে ঠিক ভাল নেইও বলা চলেনা।একটা মানসিক টানাপোড়েন বলা যেতে পারে। প্রথম যৌবনে সে মেয়েদের খুব একটা কাছাকাছি যেতে পারেনি ।সে দেখতে হালকা পাতলা গড়নের,গায়ের রঙ কালো।সুদর্শন না হলেও তার ভেতরে একটা বোধ কাজ করতো যে শরীররের গঠন কিংবা গায়ের রঙ মানুষের বাহ্যিক অবয়ব ছাড়া কিছু নয়।এইসব ব্যাপারে তার দর্শন নীতিগত ভাবে ঠিকই ছিলো ।আর এসব কারণেই হোক কিংবা ভিন্ন কোন কারণে মেয়েদের সাথে খুব একটা মেলামেশার সুযোগ তার হয়ে উঠেনি।একটা জীবনে বলা চলে বিয়ে পূর্ব প্রেম ছাড়াই চলে যাচ্ছিল।কিন্ত্ত কয়েক বছর আগে হঠাৎ করে ইরার সাথে পরিচয়।কথা হতে থাকে ,হতে থাকে ভাব বিনিময়।এভাবে একটা সময় তারা বুঝতে পারে তারা পরষ্পরের প্রতি দূর্বল।একদিন রিয়াদ সাহস করে ইরাকে কথাটা বলেই ফেলে।
-আচ্ছা আমরা জীবনটা কি একই ছাদের নিচে কাটাতে পারিনা?
সেদিন ইরা মুখ তুলে কোন কথা বলতে পারেনি। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর ইরা যখন দেখে একটা উত্তরের জন্য রিয়াদ অপেক্ষা করে আছে তখন
-আসলে ব্যাপারটা রিয়াদ -আমি এভাবে ভেবে দেখিনি।আমাকে একটু সময় দাও ভেবে দেখি।
তারপর তারা একটা ছাদের নিচে বসবাস করতে আরম্ভ করে।এই নতুন জীবনটা রিয়াদ নতুন করেই যেন উপভোগ করতে শুরু করে।কেমন একটা ভাল লাগা তাকে পেয়ে বসে।দুজন মানুষ 'দুজন দুজনার'।ভালই তো !ভাবতেই রিয়াদের ভাল লাগায় যেন জীবন পূর্ণ হয়ে উঠে।আগের সেই উড়নচন্ডী চলা,বলা কোনটাই তার অবশিষ্ট নেই যেন।না। সে অনেকটা শান্ত এবং ভারী হয়ে উঠে।রিয়াদ বারবার ভাবে জীবনটা ভালোইতো!একে অপরের জন্য অপেক্ষা।প্রতিক্ষা।একেকদিন রিয়াদের বাসায় ফিরতে দেরি হলে সে দেখে বাড়ির বাইরে অন্ধকারে শিমুল গাছটায় ধরে ইরা অপেক্ষা করে আছে।রিয়াদ দৃশ্যত রাগ করে ।কিন্ত্ত ভেতরে ভেতরে বারবার বলে জীবনটা ভালোইতো!আস্ত একটা মানুষ তার জন্য অপেক্ষা করে থাকে।নিজের প্রতি বিশ্বাসটা তার আরো বেড়ে যেতে থাকে।
একদিন সকালে ইরা মৃদু লাজুক হেসে কার্টেনটা টেনে নিয়ে নিজেকে কিছুটা আড়াল করে খবরটা বলে।প্রথমে রিয়াদ কেমন একটা অস্স্তিতে পড়ে যায়।কি বলবে ভেবে পায় না।কিছু বলতে গিয়েও রিয়াদের মুখের কথাগুলো অনভিজ্ঞতায় ভেঙে যেতে থাকে।শেষে তাকে কাছে এনে টেনে বিছানাটার উপর বসিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।চোখের ভাষাটা পড়তে চেষ্টা করে।কেমন যেন! একটা লাজুক,একটা মিষ্টি ভাব।রিয়াদ ইরাকে এমন রূপে কোনদিন দেখেনি।সে কিছু বলতে পারেনা।অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে থাকে।একজন নতুন মানুষ আসবে তাদের জীবনে ।ভাবতেই কেমন যেন লাগে তার।সে দেখে একটা শিশু তার সামনে হাঁটছে,খেলছে,উঠে দাঁড়াচ্ছে আবার পড়ে যাচ্ছে।সে ভাবে সুন্দরতো !জীবনটা সুন্দরতো!
এভাবেই চলছিল।ডাক্তারের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ,যত্ন আত্তিতে কোন কমতি নেই।একদিন রিয়াদের নতুন একটা বোধ জাগ্রত হয়।ইরা কেমন যেন আগের মত নেই।অনেকটা স্বতন্ত্র।ইরা'কে আগের সাথে মিলাতে গিয়েও ঠিক যেন মিল পায় না।ইরা কি বদলে যাচ্ছে ?সে ভাবে।রিয়াদ অস্থিরতায় ভোগে।ইরার কাছে এসে বারবার তাকায়।না সে ইরাইতো।কিন্ত্ত কি যেন ঘটে গেল।কোথায় যেন ইরা'কে পেয়েও পায় না।অসহায় বোধটা মাঝে মাঝে তাকে পীড়া দিতে থাকে।সে ভাবে ইরা'কে ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করলে কেমন হয়?যেই ভাবা সেই ।ইরার সামনে গিয়ে তার মুখ দেখে রিয়াদ বুঝতে পারে ইরা অনেক মেচিউরড।তার কাছে এ প্রশ্নটা অনেক বেশি ছেলে মানুষি মনে হবে।কথাটা তার বলা হয় না।
কিছুদিন হল রিয়াদ একটি সুন্দর ফুটফুটে কন্যা সন্তানের বাবা হলো।শিশিটুর মুখ দেখে রিয়াদ যেন হাতে একটা স্বর্গ পেল।এমন সুন্দর একটা শিশু! কেমন সুন্দর একটা শিশু!এ শিশুটি তার!পাড়ার ভাবি কিংবা যাদের সাখে তার খেয়ালি চলে তারা তাকে টিপ্পনি কাটে।বলে প্রথম সন্তান মেয়ে হলে ভালো ।সে ঘরে লক্ষী নিয়ে আসে।রিয়াদ ভাবে এখন তার পরিচয় সে একটি শিশুর পিতা!এ পরিচয়টিই যেন অনেক বড়।অনেক বেশি দাবির।যৌক্তিক।সে ভাবে জীবনটা সুন্দরতো!
কিন্ত্ত ভেতরে ভেতরে রিয়াদ কেমন একটা পীড়া অনুভব করে।এটা ঠিক বুঝানো যায় না।বুঝা যায় না।তবুও পীড়াটা সে অনুভব করে।রিয়াদ তার মেয়েকে কোলে নিয়ে তার চোখে চোখ রাখে।ছোট কোমল মুখের দিকে তাকিয়ে হৃদয়টা যেন কেমন গলে যেতে থাকে।সে একটা আঙুল বাড়িয়ে দেয়।মেয়েটা আঙুলটাকে হাতে মুঠো করে ধরে থাকে।রিয়াদ ছাড়াতে পারেনা।মনে হয় ছাড়ালেই মেয়েটা অনেক ব্যথা পাবে ।কেঁদে উঠবে ।কেমন শক্ত করে ধরে আছে!
কিন্ত্ত মেয়েটিকে যখন ইরা কোলে দেখে তখনের রূপটাি যেন অনেক ভিন্ন্।রিয়াদ তাকিয়ে দেখে।মা মেয়েতে চোখে চোখে খেলা চলে।কি সব কথা হয় যেন।সে বন্ধনটা অনেক বেশি আত্বিক।সেখানে রিয়াদ যেন তৃতীয় পক্ষের কেউ।
উৎসর্গঃএকজন মানুষ যার কারণে আমাকে এমন করে ভাবতে ইচ্ছে করছিলো।সে মানুষটি একটি ধাঁধাঁ।আচ্ছা ধাঁধা বানান কোনটি ঠিক?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


