আর একটু পরেই নতুন বছরে (ইং) পদার্পণ করতে চলেছি। সকল লেখক, ব্লগ কর্তৃপক্ষ এবং অতিথিদের জন্য হার্দিক শুভেচ্ছা থাকলো। সকলের সমস্ত কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন সফল হোক---এই কামনা জানিয়ে আমার তৃতীয় গল্প 'ছবি' ।
পাঁচজন তরুণ শিল্পীর আঁকা ছবির প্রথম প্রদর্শনীর উদ্বোধন করতে আসছে সাম্প্রতিক কালের অন্যতম খ্যাতনামা এবং বিতর্কিত শিল্পী অশেষ ভট্টাচার্য স্বয়ং। গত কয়েকদিন ধরে এই প্রদর্শনীর প্রচারও হয়েছে বেশ। অশেষ ভট্টাচার্যের মাপের শিল্পীর প্রতিটি মিনিটের দাম যারা জানে বিশেষ করে তারা বিস্মিত এবং ঈর্ষান্বিত যে হবেই সেটা খুবই স্বাভাবিক।
অশেষ রীতিমতো অবাক হয়েছিল এই তরুণ শিল্পীদের একজন যখন মল্লিকার চিঠি নিয়ে তার কাছে হাজির হয়েছিল। মল্লিকা চিঠিতে লিখেছিল, 'আমার কথা কি তোমার মনে আছে? তোমার প্রথম মডেল, যাকে তুমি মল্লিকা নামটা দিয়েছিলে। বলেছিলে.....থাক সে সব কথা। কয়েকটা ছেলেমেয়ে বেশ ভালো ছবি আঁকে। অন্তত আমি যতটুকু বুঝি তাতে মনে হয় তুমি ওদের প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলে তোমার সম্মান হানি হবে না। আমি ওদের কথা দিয়েছি, তুমি ওদের ফিরিয়ে দিও না।'
বহু খোঁজাখুঁজি করেও এমন একটা সময়ে মল্লিকার হদিশ পায়নি যখন তাকে ভীষণ প্রয়োজন ছিল অশেষের। যে কয়েকটা ছবির দৌলতে অশেষ খ্যাতির সিঁড়িতে পা রাখার সুযোগ পেয়েছিল সেই ছবিগুলোর মডেল ছিল মল্লিকা। তার মধ্যে কয়েকটা ন্যুড-স্টাডি ছিল। মল্লিকা জানতো ন্যুড-স্টাডিতে শিল্পীকে কিভাবে সাহায্য করতে হয়। যে মডেলের ভেতরে শিল্পচেতনা থাকে সে একজন শিল্পীকে অনেকটাই এগিয়ে দিতে পারে। মল্লিকা সেই জাতের মডেল। অশেষ তাই ওদের অনুরোধ ফেরাতে পারেনি।
বেশ কয়েকটা অসাধারণ ছবি দেখে বিস্মিত হলো অশেষ। খুব মন দিয়ে একটা ছবি দেখতে দেখতে একেবারে মুখোমুখি হয়ে গেল মল্লিকার। বয়স বেড়েছে। কিন্তু অনেক কিছুই যেন রয়ে গেছে শরীরে ও মুখে। কিছুটা চোখের দৃষ্টিতেও। বিশেষ করে হাসিটা। মল্লিকা বললো, 'এটা যে এঁকেছে তার নাম ছবি। আমার মেয়ে। ওই যে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছে।'
অশেষ মেয়েটিকে দেখতে দেখতে বললো, 'ওর ভবিষ্যত বেশ ভালো। নাম করবে একদিন।' মল্লিকা বললো, 'জানি, নাম তো করতেই হবে!' বিস্মিত অশেষ প্রশ্ন করলো, 'কেন?' মল্লিকা বললো, 'ওর রক্তের মধ্যেই যে শিল্প রয়েছে, কত বড় শিল্পীর মেয়ে ও জানো?'
অশেষ মল্লিকার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো, 'তুমি কাকে বিয়ে করেছো যাকে আমি চিনি না!' মল্লিকা অদ্ভুত হেসে জবাব দিল, 'প্রতিভার জন্ম দিতে কাউকে বিয়ে করতেই হবে এমন কোনো নিয়ম আছে নাকি? ওর জন্ম একটা গভীর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে, আলো আঁধারি স্টুডিওতে। তোমার কি কিছুই মনে নেই?' অশেষ আমূল চমকে ফিরে তাকালো ছবি'র দিকে। ছবি তখন তার নিষ্পাপ হাসিতে প্রদর্শনীর সমস্ত ছবির ওপর এক অদ্ভুত রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে অশেষের মনে হচ্ছিল!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



