আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে। মানুষই সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে একজন মানুষ তার কৃতকর্মের বিচার সে নিজেই করতে পারে। কিন্তু তারপরও মানুষ তার বিবেক বুদ্ধি হারিয়ে বিপথগামী হয়ে যায়। আর এই বিপথগামী মানুষদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে যুগে যুগে আল্লাহ অনেক দূত পাঠিয়েছেন। ইসলামের পরিভাষায় এই দূতকে বলা হয় নবী-রাসুল।
এই দূতগণ মানুষের কাছে গিয়ে ধর্মের বাণী প্রচার করতেন, মানুষকে সত্যের পথে ,শান্তির পথে আসতে আহ্বান করতেন। আর এটা করতে গিয়ে তারা বিভিন্নভাবে বিপথগামীদের দ্বারা লাঞ্চিত হতেন। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন, হযরত মুহম্মদ (সাঃ) নিজ মাতৃভূমি ছেড়েছেন, শারিরিকভাবে প্রহৃত হয়েছেন। অনেক অত্যাচার,নিপীড়ন সহ্য করে তারা শান্তির দাওয়াত দিতেন মানুষের কাছে।
যাইহোক, ইসলাম সম্পর্কে আপনারা নিশ্চয়ই অনেক অনেক বেশি জানেন।
আমার লেখার বিষয় হলো আপনি ইসলাম সম্পর্ক কতটা জানেন,মানেন এবং কতটা জানেন না,মানেন না। আর না জেনে থাকলে আপনি কতটা অজ্ঞভাবে ইসলামের ধর্ম কর্ম করেন এবং বিশেষ কাউকে বা বিশেষ গোষ্ঠীকে অনুসরণ বা সমর্থন করেন।
বাংলাদেশের মানুষ অতি ধর্মপরায়ণ – এটা বললে হয়তবা বেশী বলা হবে। তবে বাংলদেশের মানুষের ধর্ম জ্ঞান সীমিত হলে ও তারা অন্যান্য অনেকের চেয়ে আল্লাহ ভীরু। আল্লাহ ভীরু এই জন্য বলছি তারা যে কোন পাপ কার্য করার আগে এইটা চিন্তা করে –কেউ না দেখলেও আল্লাহ তো দেখছে। এর ফলে ওই মানুষটা আর পাপকার্য করতে পারে না। আর পাপ করলেও সে অনুশোচনায় এতই দগ্ধ হয় যে,ওই পাপ থেকে রক্ষা পাবার জন্য সে বিভিন্ন জায়গায় মানত করে। কেউবা পীরের দরবারে,কেউবা মওলানা গোচের কাউকে বাড়ীতে নিয়ে এসে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ায়, মওলানার হাতে কিছু বকশিস তুলে দেয়। এই আমরা বাঙ্গালী জাতি।
তবে আমদের দেশের মানুষের ধর্ম জ্ঞান সীমিত হওয়ায় তারা প্রতারিত হয় একশ্রেণীর মওলানা এবং কতিপয় ভণ্ড পীরের কাছে।
আমি আমার লেখার বিষয়বস্তুতে ফিরে যাই। বাংলাদেশের সহজ সরল মানুষকে কিভাবে একটি গোষ্ঠী ইসলামের নামে প্রতারিত করছে সেটাই বলব আমি। এই গোষ্ঠীটির একটি হল জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামী এই গোষ্ঠীটি ইসলাম থেকে সম্পূর্ণ বের হয়ে এসে জামায়াতে ইসলামী নামক একটি আলাদা ধর্ম বানিয়েছে।
আসুন এবার ইসলাম ধর্ম ও জামায়াতে ইসলাম নামক ধর্মের সম্পর্কে
কিছু আলোপাত করা যাক।
ক) জামায়াতে ইসলামী নামক এই ধর্মের প্রবর্তক হাজার বছরের
সর্বশ্রেষ্ঠ কুলাঙ্গার মওদুদী,গোলাম আযম, নিজামী,মুজাহিদ,সাঈদী সহ আরো অনেকেই।
আর পবিত্র ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মানব জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান, বিশ্ব
মাবতার কান্ডারী হযরত মুহম্মদ (সাঃ)।
খ) জামায়াতে ইসলামী নামক এই ধর্মে মওদুদী,গোলাম আযম, নিজামী,মুজাহিদ,সাঈদীদের মত কুলাঙ্গাররা মুখে যাহা বলেছেন বা বলবেন তা হলো আল হাদিস।
আর পবিত্র ইসলাম ধর্মে মানব জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান, বিশ্ব
মাবতার কান্ডারী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) এর মুখের বাণী হলো আল হাদিস।
গ) জামায়াতে ইসলামী নামক এই ধর্মে মওদুদী,গোলাম আযম, নিজামী,মুজাহিদ,সাঈদীদের মত কুলাঙ্গাররা বই পুস্তকে যাহা লিখেছেন বা লিখবেন তা হলো তা তাদের ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ তথা সংবিধান।
আর পবিত্র ইসলাম ধর্মে মহান আল্লাহ পাকের নিকট থেকে বিভিন্ন সময়ে পাওয়া বানীর সংকলন হলো ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ।
ঘ) যে দেশের আলো বাতাসে, যে দেশের খেয়ে পড়ে আমি আপনি বড় হয়েছি, সেই দেশের বিরোধীতা করা – এ যেন নিজের জন্মদাতা বাবা-মা কে অস্বীকার করা।
পবিত্র ইসলাম ধর্মে এধরণের জগন্যতম অপরাধের কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে।
পক্ষান্তরে,জামায়াতে ইসলামী নামক এই ধর্মে এটা অনুমোদন করে। এবং এর কোন শাস্তির বিধান নেই।
ঙ) যে মা আমাকে আপনাকে দশ মাস দশ দিন গর্ভে লালন করেছে , যে মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহন করেছি, যে মায়ের বুকের স্তন্য পান করে আজ আমি আপনি এত বড় হয়েছি, যে বোন ভাইয়ের অসুখে সারারাত জেগে আমার আপনার সেবা করেছে, সেই মা-বোন কে যারা হানাদারদের হাতে তুলে দিয়েছে, একবার ভাবুন তারা কতটা জগন্য পাপ কাজ করেছে। আপনার বিবেক কে আপনি একবার জিজ্ঞেস করুন- সে যতই আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করুন না কেন , তাকে কি আল্লাহ মাফ করতে পারে?????? কখনই না। আল্লাহ তা পারেন না। আর আল্লাহ যদি মাফ করে দেয়- তাহলে আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি আল্লাহ যেন আমায় জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে পাঠায়।
পবিত্র ইসলাম ধর্মে এ ধরনের অপরাধের কি শাস্তি হবে – তা খুব সহজেই একজন বিবেকবান মানুষ অনুমান করতে পারেন।
পক্ষান্তরে,জামায়াতে ইসলামী নামক এই ধর্মে এটা কোন অপরাধই না । এবং এর কোন শাস্তির বিধান নেই।
চ) পৃথিবীর এমন কোন ধর্ম গ্রন্থ নেই বা এমন কোন ঋষি (নবী-রাসুল) ছিলেন না যিনি বলে গেছেন যে ‘দাড়ি পাল্লা ’ মার্কায় ভোট দিলে আপনি বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলে ও এটা সত্যি ওই দাড়ি পাল্লা মার্কায় ভোট দিলে নাকি বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবেন। জামায়াত ইসলাম নামক ধর্মের মর্ম বাণী।
ছ) ধর্মের মর্ম বাণী হলো শান্তি । ইসলাম ধর্মে বলা আছে – যেখানে শান্তি নেই তো সেখানে ইসলাম নেই। আপনি বিশেষ কাউকে পছন্দ করেন না বা আপনার ধর্মে কেউ দীক্ষিত নয় – এই জন্য কি আপনি তার জিহ্বা কেটে নিবেন ? হাত কেটে নিবেন ? হাত-পায়ের রগ কেটে তাকে মেরে ফেলবেন ?
হযরত মুহম্মদ (সাঃ) কে যে ভাবে অত্যাচার ,নিপীড়ন করা হয়েছে তবু ও তিনি আল্লাহকে বলেন নাই যে আল্লাহ ওদের মেরে ফেলে দাও। বরঙ আল্লাহকে তিনি বলেছেন ওরাই যদি মারা যায় তাহলে আমি কাদের কাছে ধর্ম প্রচার করব।
জামায়াতে ইসলামে এর স্পস্ট বিধান রয়েছে- ওদেরকে হাত-পায়ের রগ কেটে পানির ট্যাংকির ভিতরে অথবা ম্যানহোলের ভিতর লুকিয়ে রাখো।
জ) মিথ্যা কথা বলা মহাপাপ। একথা ইসলাম ধর্মে বলা আছে। মিথ্যা কথা বলা মুনাফিকের লক্ষণ। আর মুনাফিক সম্পর্কে পবিত্র ইসলাম ধর্মের গ্রন্থে বলা আছে- মুনাফিকের স্থান জাহান্নামের নিম্ন স্তরে।
আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি-এ কথা টি যখন বদমাশ নিজামির মুখে শুনি তখন মরে যেতে ইচ্ছে করে। কে না জানে তাদের কুকীর্তির কথা।
নারী নেতৃত্ব নাকি নাজাহেজ। সেই তারা আবার নারী নেতৃত্বেই ক্ষমতায় এল,আর কি বলল ? বলল যে হযরত মুহম্মদ (সাঃ) নাকি হোদায়বিয়ার সন্ধি করেছিল,সেজন্যে তারা সন্ধি করেছে। সম্প্রতি তাদের একজন কে নবী (সাঃ) এর সাথে তুলনা করা হয়েছে।
এছাড়া আপনারা যারা নিয়মিত পত্রিকায় চোখ রাখেন তারা অবশ্যই জানেন যে তারা কেমন মিথ্যাচার করে এবং করছে।
আপনি যাহা চাইবেন,তাহাই ধর্মের দোহাই দিয়ে আপনি সেগুলো অবলীলায় বলতে পারবেন।হোক সেটা মিথ্যা বা বানোয়াট। শুধু আপনাকে জামায়াত নামক এই ধর্মটি গ্রহণ করতে হবে। ধর্ম কর্ম করেন আর না করেন আপনাকে চাপাতি, চাকু এগুলো চালানো জানতে হবে। ওহ না জানলেও সমস্যা নেই, ওদের বিশেষ বাহিনী আছে তারা আপনাকে সব শিখিয়ে দিবে।
এখন আপনি নিজেই আপনার বিবেককে প্রশ্ন করুন – আপনি কোন ধর্ম পালন করবেন ? ইসলাম না জামায়াতে ইসলাম ? জামায়াতে ইসলামী গ্রহণ করলে বা দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে আপনি কিন্তু বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবেন !!! এখন আপনি সিন্ধান্ত নিবেন আপনি কি করবেন ???
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ১:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




