somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রুটিন করুন, সময়কে নিয়ন্ত্রণে রাখুন, সবই আসবে আপনার নিয়ন্ত্রণে

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চিন্তা করুন এমন একটা ব্যাংক যেখান থেকে প্রতিদিন সকালে আপনাকে ৮৬,১৮৪ টাকা দেয়া হয়। টাকাটা থেকে আপনি ইচ্ছেমতো খরচ করতে পারবেন। কিন্তু শর্ত হলো যা খরচ করতে পারবেন না, দিনশেষে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। এরকম হলে আপনি কী করতেন? নিশ্চয়ই পুরো টাকাটা কাজে লাগানোর জন্যে উঠে পড়ে লাগতেন। কিন্তু সময়কে নিয়ে কি আপনি এভাবে ভাবেন? অথচ সময়ই কিন্তু আপনার এই সম্পদ। কারণ একটি দিনে আপনার থাকে মোট ৮৬,১৮৪ সেকেন্ড যা আজকে চলে গেলে আর কোনোদিনই ফিরে পাবেন না আপনি।
ছাত্র-ছাত্রীদের সময় মোটামুটি ৪ ধরনের কাজ করে কাটে:
১. জরুরি (দরজা খোলা, ফোন ধরা বা কোনো অনিবার্য বাধাবিঘ্ন)
২. গুরুত্বপূর্ণ (ক্লাসের আগে পড়া, নোট তৈরি করা, পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতি, নিয়মিত ব্যায়াম, মেডিটেশন)
৩. জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ (পরীক্ষার পড়া, বাড়ির কাজ, প্রাকটিক্যাল বা কোনো এসাইনমেন্টের কাজ)
৪. জরুরি না, গুরুত্বপূর্ণও না (যেমন, টিভি দেখা, কম্পিউটার গেম খেলা, মোবাইলে কথা বলা, আড্ডা দেয়া, বেড়ানো বা অসময়ে অতিরিক্ত ঘুম)
একজন সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীর বেশিরভাগ সময় কাটে ৩ এবং ৪ নম্বর কাজে। কিন্তু একজন অনন্য ছাত্র হিসেবে আপনাকে সবচেয়ে বেশি সময় দিতে হবে ২ এবং ৩ নম্বর কাজে। ১ নম্বর কাজগুলো যাতে খুব বেশি সময় নিয়ে না নেয় সে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে এবং ৪ নম্বর কাজগুলো থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করতে হবে।
এবার চলুন দেখা যাক রুটিন কীভাবে করবেন আপনি?
১. পরীক্ষা, এসাইনমেন্ট ও রিপোর্ট তৈরি
রুটিন করার প্রথম ধাপ হচ্ছে আপনার পরীক্ষার শিডিউল, এসাইনমেন্ট, রিপোর্ট ইত্যাদির লিস্টটা আপনার পড়ার টেবিলের সামনে এমন এক জায়গায় সেঁটে রাখা যেন ঢুকলেই চোখে পড়ে। আরেক সেট রাখবেন আপনার সঙ্গেই। বইয়ের ব্যাগে বা মানিব্যাগে বা ভ্যানিটি ব্যাগে।
২. সাপ্তাহিক সূচি তৈরি
বাঁধা-ধরা যে কাজগুলো প্রতি সপ্তাহে আপনাকে করতে হয় তা ঐ সূচিতে লিখে অনেকগুলো ফটোকপি করা। কেন? কারণ প্রতি সপ্তাহেই আমরা এর একটি করে কপি ব্যবহার করবো।
৩. দৈনিক রুটিন
সাপ্তাহিক এই রুটিনকে এবার দৈনিক রুটিনে রূপান্তরিত করতে হবে। কারণ তাহলেই আপনার সারাদিনকে আপনি রুটিনের আওতায় আনতে পারবেন। নিচে দৈনিক রুটিনের একটি নমুনা দেয়া হলো। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে করতে হবে এই দৈনিক রুটিন।
তারিখ: ---------
শনিবার
সকাল ৫:৩০ - ৬:০০ মিনিট ঘুম থেকে ওঠা এবং ফ্রেশ হওয়া
সকাল ৬:০০- ৬:৩০ মিনিট ব্যায়াম
সকাল ৬:৩০- ৭:০০ মিনিট মেডিটেশন
সকাল ৭:০০- ৭:১৫ মিনিট নাস্তা খাওয়া
সকাল ৭:১৫- ৭:৩০ মিনিট কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতি
সকাল ৭:৩০- ৮:০০ মিনিট কলেজে যাত্রা
সকাল ৮:০০- ১:০০ মিনিট কলেজ
দুপুর ১:০০- ৩:০০ মিনিট বাসায় ফেরা, খাওয়া, গোসল, বিশ্রাম
বিকেল ৩:০০- ৫:০০ মিনিট একাউন্টিং পড়তে যাওয়া
বিকেল ৫:০০- ৭:০০ মিনিট বাসায় এসে ফ্রেশ হওয়া, নাস্তা খাওয়া, টিভি দেখা, পরিবারের সাথে সময় কাটানো
সন্ধ্যা ৭:০০- ১১:০০ মিনিট পড়া
রাত ১১:০০- ১১:৩০ মিনিট মেডিটেশন
রাত ১১:৩০- ৫:৩০ মিনিট ঘুম
রুটিনের ক্ষেত্রে মনে রাখুন :
বাস্তববাদী হোন। রুটিন করার ক্ষেত্রে এমন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করবেন না যা আপনি বাস্তবভিত্তিকভাবে অনুসরণ করতে পারবেন না। প্রথমদিকে বিষয়টি বুঝতে একটু সময় লাগতে পারে। কিন্তু কয়েকদিন চেষ্টা করলেই এটি আপনি আয়ত্ত করতে পারবেন এবং অনুভব করবেন শৃঙ্খলার আনন্দকে।
দিনের শুরুটা করুন পরিকল্পিতভাবে। তাহলে সারাদিনই বজায় রাখতে পারবেন সুন্দর কর্মছন্দ।
লক্ষ্য করুন দিন-রাতের কোন সময়ে আপনি বেশি মনোযোগী ও সক্রিয়। রুটিনের কঠিন, অপছন্দনীয় এবং একঘেয়ে বিষয়গুলোকে সেভাবে সাজান।
রুটিনে একই ধরনের বিষয় পর পর না রেখে বিষয়ের বৈচিত্র্য রাখুন। এতে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হবে।
আপনি কত ঘণ্টা পড়লেন সেটা মূখ্য নয়, বরাদ্দকৃত সময়ে আপনি কতটা পড়লেন রুটিন পর্যালোচনায় এটাই গুরুত্বপূর্ণ।
রুটিন অনুসরণে কখনো ছেদ পড়লেও হতাশ হবেন না। পরের ঘণ্টাগুলোর জন্যে ফিরে আসুন রুটিনে। কারণ রুটিনের ৮০% অনুসরণ করতে পারলেও গড়পড়তা ছাত্র-ছাত্রীদের আপনি চেয়ে এগিয়ে আছেন।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×