somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতের সাংস্কতিক আগ্রাসন,আমাদের দেশ বা ভাষাপ্রেমের ভন্ডামী এবং জনমানসিকতা...

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নিজের ঘর থেকেই আগে শুরু করি...
আমার আট বছর বয়সি গ্রাম্য ছোটো খালাত ভাই,যে কিনা শুদ্ধ করে বাঙ্গলা বলতে পারেনা,তার মুখে যখন “কাল মিলুঙ্গি” জাতিয় হিন্দি মিক্সচার ভাষা শুনি,আমার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে।অনেক আধুনিক মা-বাবা হয়ত তাদের বাচ্চাদের মুখে এমন কথা শুনে পুলকিত হন,গর্বিত হন...
আমি এও জ়ানি আমাদের অনেক বাসায় মা-বোনদের একমাত্র বিনোদন হিন্দি চ্যানেলের বাস্তবতাহীন রঙ্গিন সিরিয়াল।অনেক মহিলা আছেন,সব কাজ বাদ রেখে সারাদিন হিন্দি চ্যানেল নিয়ে পড়ে থাকা...আমাদের উঠতি তরুন-তরুনিরা বলিউডের ছবি নিয়ে অজ্ঞান...
এসব আসলে বাস্তবতা...করুন বাস্তবতা।
করুন বাস্তবতা বলেই ঠিক ৬০ বছর আগে ভাষার জন্য জীবন দেয়া কতগুলো তরুন প্রানের প্রিয় মায়ের ভাষার দেশে শিশুরা ডরেমন নামের নিদোর্ষ কা্র্টুনের আড়ালে নিরব ঘাতক হিসেবে হিন্দির প্রকট উপ্সথিতি,মা-বোনদের হিন্দি চ্যানেল আর তরুন-তরুনিরা বলিউডের ছবি নিয়ে পড়ে থাকা,এসব দেখতে হচ্ছে।
এমন কোন দেশ আছে যে দেশের সন্তান-রা মায়ের ভাষা বাংলার জন্য জীবন দিয়েছে?অথচ,আমরা এতটাই অকৃতজ্ঞ জাতি,যে আমরা সব ভুলে গিয়ে প্রতিদিন,প্রতিনিয়ত ভাষা শহিদ্-দের অপমান করে যাচ্ছি।
তবে কি আমরা কি আমাদের বিবেকবোধটুকুও হারিয়ে ফেলেছি?

...হয়ত,তা না হলে এমন কেন হবে?এমন ত কথা ছিলনা...

ঠিক ৪০ বছর আগে যে দেশপ্রেমি বাঙ্গালি যোদ্ধা নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিল,৩০ লাখ শহিদ আর ১০ লাখ মায়ের সম্ভ্রম এর বিনিময়ে দেশের জন্য স্বাধীনতা এনেছিল,সবুজ-লালের একটা নতুন পতাকা এনে দিয়েছিল,সে দেশের আজ কি হাল?গনত্রন্ত্র কোথায়,সাব্র্ভৌমত্ব কোথায়??আমার বোন ফেলানি গুলি খেয়ে কাটাতারে ঝুলে মরে,ভাই হাবিবুর নি্র্যাতিত হয়,ভারত নামের “বন্ধু”র শক্ত লাঠির আঘাতে...
আর আমরা বিড়ালের মত মিউ মিউ করে প্রতিবাদ করি...
হায়রে প্রিয় স্বদেশ!!

আমরা কি ৩০ লাখ শহিদ আর ১০ লাখ মা কে অপমান করছিনা??আমার মুক্তিযদ্ধা বাবাকে অপমান করছিনা?
আমার চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে...রাগে,ক্ষোভে এই মুহুরতে আমার দু’চোখ দিয়ে জল নামছে...
বাবা,আমার স্বপ্নবান মুক্তিযুদ্ধা বাবা,আমাকে ক্ষমা করো...



আমি যে এলাকায় থাকি,তার ঠিক পাশেই একটা পিকনিক স্পট আছে।প্রায়-ই ঢাকা থেকে বড় বড় প্রতিশ্ঠান ১০০-১৫০ গাড়ি করে পিকনিক করতে আসে।এই মুহু্র্তে যখন লেখাটা লিখছি,তখন পিকনিক এর লোকেশন থেকে শিলা কি জওয়ানি গানটা বাজছে...সারাদিন অনেক গানের সাথে হিন্দি গানের ছিল ব্যাপক বাজনা...এমনটা সব পিকনিক বহরেই হচ্ছে।
বিজয়ের মাসে, ভাষার মাসে নানা ছল-ছুতোয় হিন্দি গানের নামে অশ্লীল জলসা বসে বাক্তিগত,করপোরেট কিংবা রাষ্ট্রীয় উ্যদোগে।
তবে কি আমাদের বিনোদন মানেই হিন্দি গান,মুভি?আমাদের বাংলাগান কি হারিয়ে গেছে??
উত্তর-টা না হলেও, সত্যিটা হল, আমরা সর্বগ্রাসি ভারতীয় সংস্কতির শিকার।আমরা প্রতিদিন এক্টু এক্টু করে নিজ ভাষা-সংস্কতি ভুলে মাতালের মত হিন্দির নেশায় ডুবে যাচ্ছি...
অথচ,এর পরিনাম কি ভয়াবহ,তা আমরা এক্টুও অনুধাবন করতে পারছিনা...
মায়ের ভাষার জন্য জীবন দেয়া এদেশে আজ থেকে ঠিক দুই প্রজন্ম পরে বাংলা ভাষা হয়ত হারিয়ে যাবে,হিন্দির উৎপীড়নে কিংবা জীবিকার প্রয়োজনে ইংরেজির আয়ত্তকরনে।তারপরও যদি টিকে থাকে তা হয়ে থাকবে অচ্ছুত,অপাংতেয়।
আমরা মুখে দেশপ্রেমের কথা বলি,শহিদ-দের জন্য মায়াকান্না দেখাই,ভাষা শহিদ-দের নিয়ে আবেগের ফোয়ারা ছুতাই...তবে আমরা কি জানি,আমরা আসলে এক-একটা ভন্ড...
স্বাধীনতা,বিজয় দিবস বা ভাষা দিবস এখন আলু-পতল এর মত একটা মাত্র দিবস পালনের ব্যাপার হয়ে যাচ্ছে।
মুখে ভালবাসার কথা বলে আমরা প্রতিনিয়ত দেশ বা ভাষাপ্রেমের নামে ভন্ডামী করে যাচ্ছি...
বাসার ড্্রয়িং রুম থেকে থেকে করপোরেট দুনিয়া,সব খানেই এই ভন্ডামি চলছে...
জনমানসিকতার এই ভন্ডামিপ্রবনতা দূর করতে হবে।তা না হলে প্রক্ৃতি যে প্রতিশোধ নেবে,তার দায়ভার আমরা কেউ এড়াতে পারব না।
আমাদের,সচেতন তরুন্-দেরই জেগে উঠতে হবে,আমরাই পারি,দেখিয়ে দিতে চাই আর একবার সারা বিশ্বকে...
জাগো বাহে,কোন্ঠে সবাই...??
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:০৬
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×