somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার 'উত্তম কুমার ম্যানিয়া' যেভাবে শুরু

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার একটা বিশ্বাস আছে যে, সব লেখা, সব গান, সব সিনেমা সব বয়েসীদের জন্য নয়। সহজ কথায়, প্রতিটি লেখা, গান বা সিনেমা প্রত্যেকের জীবনে একটা নির্দিষ্ট বয়সে ভাল লাগা নিয়ে আসে। সেজন্যই শৈশবে কমিকস যতটা ভাল লাগে, কিশোর বেলায় ফেলুদা বা তিন গোয়েন্দার কাছে তা কিছুই নয়, আবার তরুণ বয়সে মাসুদ রানা, কুয়াশা সিরিজ ভাল লাগে। তারপর ধীরে ধীরে ভাল লাগে ক্লাসিক সাহিত্য- তখন সুনীল, শীর্ষেন্দু, বঙ্কিম, এমনকি রবীন্দ্র রচনাবলীও ততটা কঠিন মনে হয় না।
একই কথা গানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এসো গান শিখির ফেরদৌসী রহমানের সাথে কন্ঠ মেলাতে মেলাতে এক সময় মনে হয় এর চেয়ে ‘মেলায় যাইরে’ বা ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হল আকাশে’ অর্থাৎ ব্যান্ডের গান অনেক বেশি আকর্ষণীয়। সেসময় ব্যাকস্ট্রিট বয়েজ. বন জোভি বা আয়রন মেইডেনের চিৎকারে আলাদা শিহরণ জাগে। এরপর ভাল লাগে মেলোডি। কিশোর কুমার, লতা মঙ্গেশকর, মান্না দে যেমন ভাল লাগে তেমনি জর্জ মাইকেল, রিচার্ড মার্কস বা ব্রায়ান অ্যাডামসের গানও যথেষ্ট মুগ্ধ করে। রবীন্দ্র সঙ্গীত বা নজরুল গীতি কিংবা মেহেদী হাসান বা জগজিৎ সিংয়ের গজল প্রীতিটা আসে অনেক পরে।
ভিজুয়াল বিনোদনের জগৎটা শুরু মনে হয় কার্টুন ছবি দিয়ে। প্রতিদিন বিকেলে বিটিভি শুরু হওয়ার আগ থেকেই টিভির সামনে বসা। সূচনা সঙ্গীত, তারপর টিভি পর্দায় ঘোষকের অনুষ্ঠান সূচি, কুরআন, বাইবেল, ত্রিপিঠক পাঠ ধৈর্য্য ধরে শোনার পর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত অর্থাৎ কার্টুন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে টিভি নাটক বুঝতে শিখি, ইংরেজী সিরিয়াল যেমন নাইট রাইডার, দ্য এটিম, দ্য ফলগাই, ম্যাগগাইভারের প্রতি নেশা এসে যায়। মুভি অব দ্য উইকে ইংরেজী ছবির সামনে বসি- কাহিনী বোধগম্য হলে দেখি, না হলে খেলতে বের হয়ে যাই। পরিবারের বা প্রতিবেশীদের বড়দের দেখি ভিসিআরে হিন্দি, ভারতীয় বাংলা সিনেমা দেখে। সব সময় একটা আগ্রহ থাকেই ওদিকে। কিন্তু পরীক্ষার পরে ছাড়া ভিসিআরের সামনে বসার অনুমতি মেলে না।
মাঝে মাঝে ছুটির দিনে বাড়ীওয়ালার বড় ছেলে বাসায় ডেকে নিয়ে দেখায় টার্মিনেটর, প্রিডেটর, ইউনিভার্সেল সোলজার কিংবা ডেমোলিশন ম্যানের মত কিছু অদ্ভুত সব ছবি। ভাল লাগে কিন্তু সুযোগ একেবারে সীমিত। যাই হোক, একসময় স্কুল ছেড়ে কলেজে ভর্তি হই। বাসায় একটা পুরনো কম্পিউটার আসে। কিন্তু সে কম্পিউটার আর ক্যালকুলেটরে তেমন পার্থক্য খুঁজে পাই না। ততদিনে বাসার ভিসিআর নষ্ট হয়ে পড়ে আছে ঘরের এক কোণে। আর বাবা যোগ দিয়েছেন তাবলীগ জামাতে। বাড়িতে শব্দ করে টিভি দেখা বা গান শোনা নিষেধ।
তারপর ভর্তি হলাম ভার্সিটিতে। এবার অনেক জেদাজেদির পর একটা মাল্টিমিডিয়া কম্পিউটার। সিডি রম থাকায় এবার আমায় পায় কে। দিনের বেলা অল্প শব্দে ছবি দেখি। আর রাতে দরজা আটকে দিয়ে হেডফোনে। বাড়ির আশে পাশে যত ভিসিডির দোকান আছে সবগুলোতে হামলে পড়লাম। ইংরেজী বা হিন্দি সিনোমর প্রতি এক আশ্চর্য ঝোঁক তৈরি হল। প্রতিদিনই কোন না কোন ছবি দেখা হত। স্কুল জীবন থেকে যে গল্পের বইয়ের নেশা সেটা ধীরে ধীরে কমতে থাকে, বাড়তে থাকে সিনেমার নেশা।
তখনও বাজারে ডিভিডি আসে নি। সিডিতে সিনেমা দেখার সমস্যা ছিল একটাই- একটা ডিস্ক ভাল থাকলে আরেকটা স্ক্র্যাচ ভর্তি। ফলে ছবি অর্ধেক দেখে বাকি অর্ধেক দেখার জন্য সিডি রমের সাথে যুদ্ধ। ব্রেভহার্ট বা ক্যাসিনো টাইপ সিনেমা আবার তিন ডিস্কে। এরপর থেকে সিনেমা ভাড়া নেয়ার সময় ভাল করে খেয়াল করতাম দুইটা ডিস্কই ঠিক আছে কিনা।
পাড়ার ভিডিও দোকান গুলোর ইংরেজী বা হিন্দি সিনেমার ভান্ডার যখন শেষ তখন এক ভিডিও দোকানের বড় ভাই উত্তম কুমারের একটি ছবি 'পথে হল দেরী' ধরিয়ে দিলেন। ছোটবেলা থেকেই উত্তম কুমার নামটা শুনে আসছি, কিন্তু কখনও তাঁর কোন ছবি দেখা হয়নি। একে তো মান্ধাতা আমলের ছবি, তার উপর সাদাকালো। উপায়ান্তর না দেখে ঐটা নিয়েই বাসায় ফিরলাম।
সেদিন থেকে উত্তম কুমার নামের ঐ 'ঠোঁটমোটা' লোকটি যেন আমাকে যাদু করল। অন্য কিছু আর খুঁজি না। শুধু উত্তম কুমারের ছবি। ভিডিও দোকানীকে অনুরোধ করি আরও ছবি নিয়ে আসতে। নিয়মিত ক্রেতা হওয়ায় তিনি আমার কথা রাখতেন। প্রতি সপ্তাহে উত্তম কুমারের নতুন নতুন ছবি নিয়ে আসতেন। আর আমিও মজা করে দেখতাম। আগেই ইন্টারনেট থেকে উত্তম কুমারের সব ছবির তালিকা নামিয়ে প্রিন্ট করে নিয়েছিলাম। এভাবে এক নাগাড়ে প্রায় ৬০ টি ছবি দেখা হল। ততদিনে স্টেডিয়াম মার্কেট, রাইফেলস স্কোয়ার, মেট্রো শপিং মলের কিছু দোকান চেনা জানা হল। যে সব ছবি দেখা হয়নি সেগুলো খুঁজে খুঁজে বের করে দেখতে লাগলাম। বছর দুয়েকের মধ্যে ভিসিডিতে উত্তম কুমারের যত ছবি পাওয়া গেল সব দেখে ফেললাম। (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:১৫
১৬টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×