somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কংক্রিট এর দানব কিংবা আমার বাতিঘর।

১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


খুব খারাপ সময় যাচ্ছে।
ইলেকশনের জন্য ইউনিভার্সিটি থেকে সেমিস্টার এর দৈর্ঘ্য কমিয়ে দিয়েছে। ছুটির দিনগুলোও
ঘাড় গুজে খাটতে হচ্ছে। আর নির্দয় ও আমার আজন্ম শত্রু শ্রদ্ধেয় ফ্যাকাল্টিদের উৎসাহ ও গতি দেখে মনে হচ্ছে সেমিস্টার শেষ হবার অনেক আগেই সিলেবাস শেষ করে দেবেন।

ম্যাটল্যাবের ইন্সট্রাক্টরের সাথেও প্রতিদিন সিমুলেশনের কাজ করতে গিয়ে একরাশ তিক্ততা নিয়ে ফিরি। এই ব্যাটার বংশ ইতিহাসে মনে হয় গ্রিক আর চাইনিজ মিশেল আছে। এর কথা কেউ বুঝে না। সদ্য আম্রিকা ফেরত এই আলট্রাস্মার্ট ভাইজান তার চারপাশের সবাইকে চারপেয়ের সমান বুদ্ধিবৃত্তির নামানুষ মনে করেন। আর এর চ্যাটাং চ্যাটাং কথা শোনার পর ...আর কোন কাজ করতে উৎসাহ পাই না। :( সকাল ৮টা থেকে ক্লাস করে ...সারা বিকাল আর সন্ধা যখন এই ব্যাটার সাথে কাটিয়ে রাত ৮টা বা ৯টায় বের হই ...নিজেকে আর মানুষ মনে হয় না।

ঘাড়ের উপর সারাদিনের ক্লান্তি জমিয়ে রাখা ভারি ব্যাকপ‌্যাকটা কোনমতে ঝুলিয়ে কামাল আতাতুর্ক রোডের আলোছায়ার নকশাকাটা ফুটপাথ ধরে বনানী বাসস্টান্ডে ফিরি। এই পথটা অসম্ভব বিশ্রি লাগে দিনের বেলায়। রাতের বেলার একটা অন্য রকম মায়া আছে। ঠিক মায়ের চোখে দেখার মত। মায়েরা যেমন চোখের কোন এক অজানা মায়ার ছাকনির জন্য হতশ্রী ছেলেটাকেও রাজপুএ মনে করেন। রাত ঠিক তেমন একটা মায়ার ছাকনি দিয়ে এই কুৎসিত শহরটাকে ঢেকে দেয়। রাতের বেলায় এই শহরটাকে তাই আমার বেশ লাগে। আর বনানী পোস্টঅফিসের উল্টো দিকে একটা নতুন ফুলের দোকান আছে। এই সময়টা ওই দোকান থেকে আমার অসম্ভব প্রিয় দোলন চাপার ভারি ঘ্রাণ ভেসে আসে রাস্তার আরেক পাশেও।

৯টার/সাড়ে ৯টার দিকে বাসগুলো একটু ফাকাই থাকে। কোনমতে একটায় নিজেকে তুলে সিটে এলিয়ে পড়ি। মহাখালি থেকে বিজয়স্মরণীর জ্যামটাও এখন ডালভাত হয়ে গেছে। আশে পাশের অনেককেই দেখি অস্থির হয়ে সরকার, রাজনীতিবিদ, ট্রাফিক পুলিশের চোদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতে। আমি নি-র্বাক থাকি। এই তো স্বাভাবিক। মাঝে মাঝে হটাৎ দু-এক দিন যখন জ্যামটা হালকা থাকে ...তখন মনে হয় সব ঠিক আছে তো?

পান্থপথের প্রিয় নীড়ে যখন ফিরি ...অনেকটাই ঝড়ের পরে নীড়ে ফেরা পাখির মত মনে হয় নিজেকে। আর আমি যে একটা মানুষ ...শাওয়ারের ঠান্ডা পানির ধারাগুলো অবশেষে সেই বোধটা ফিরিয়ে আনে।
বাসায় আমার ঘরের জানালাটা আমার খুব প্রিয়। পড়তে পড়তে বা কাজ করতে করতে যখন খুব ক্লান্ত হয়ে যাই ...এই জানালা আর তার ওপাশের বিশাল আকাশের সাথে ক্লান্তিগুলো শেয়ার করে নেই। মাঝে মাঝে রাতের ভাঙ্গা চাঁদটাও আমাদের সঙ্গি হয়ে যায়। তবে ইদানিং কংক্রিটের দানবটাকে খুব মিস করি। ...খুব। জানালার ওপাশের স্কাই-লাইনের মধ্যে একমাএ এই দানবটাই ছিল চোখে পড়বার মত। সাততলার জানালা বরাবর দৃষ্টিসীমায় ছাইবর্ণের এই দানবটা অনেক টা বাতিঘরের মত ছিল আমার কাছে।

অনেক রাতে ঘুমুতে যাবার আগে যখন জানালার পাশে এসে দাড়াতাম .... সামনের ঘুমন্ত শহররের মাঝে র‌্যাংস টাওয়ার এর কয়েকটা জানালায় জ্বলতে থাকা বাতি দেখে নিঃসঙ্গতা বোধ কিছুটা হলেও দুর হত। আবার শীতের দিনে সকালের ক্লাসে যাবার আগে ...ভোরে বিছানা থেকে আগে কম্বল এর ভেতর থেকে মাথা বের করে জানালা দিয়ে দেখতে চেষ্টা করতাম র‌্যাংস টাওয়ার দেখা যায় কিনা। এর উপর নির্ভর করে চেষ্টা করতাম কুয়াশার ঘনত্ব আন্দাজ করার। একই কাজ করতাম বৃষ্টির জন্যও। আর আকাশে কালো মেঘ করলে এই ছাইবর্ণের দানবটাকে যে কালোমেঘের পটভূমিকায় কি অদ্ভুত লাগত...

এখন জানালা দিয়ে তাকালে মনে হয় কি যেন নেই ...কি যেন নেই....

অনেক কথা হয়ে গেছে এই বিল্ডিং কে নিয়ে। অনেক নাটক আর অনেকগুলো প্রাণের করুণ পরিনতিও হয়ে গেছে এখানে। তার পরও এই কংক্রিটের দানবটার জন্য আলাদা করে রাখা আমার ভালবাসাটুকু জানালা খুললেই এখনও টের পাই। ইটকাঠের এই শহরটাতেও কিছু ইটকাঠের কাঠামো কেমন করে যেন জীবণের প্রিয় অংশ হয়ে যায়।


ছবিটি ফ্লিকারের সুদিপ্তের একাউন্ট থেকে ধার করা।
Click This Link



সামান্য বিষয় নিয়ে আমার আরো একটা আজাইরা প্যাচাল এর জন্য স্যরি। :)
৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×