কোন দু'জনের সারাবেলার কথা.........................
মেয়ে :
তুমি কাল আসবে বলেছিলে।
অপেক্ষার সিঁড়িতে বসেছিলাম অনেকক্ষন।
ছেলে :
বলো না।
অফিসের বস্।ভীষন কড়া।
এই কাজ।ওই কাজ। ছাড়ছিলো না তো কিছুতেই।
মেয়ে :
তুমি নিজেকে কি ভাবো বলোতো?তুমি কি ভাবো ,তোমার জন্য
অনন্তকাল অপেক্ষায় থাকবো আমি?
ছেলে :
আমি বললাম তো… ভীষন দুঃখিত।
আমার জন্য তুমি পৃথিবীর জন্ম থেকে
শেষ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকবে।
আদৌ যদি শেষ বলে কিছু থাকে।
মেয়ে :
শেষ থাকবেনা কেনো? সবকিছুর শেষ
থাকে । জীবনের পর মৃত্যু।
সকালের পর বিকাল। ফুল ফুটে ঝরে যাওয়া।
ছেলে :
জানি। ভালোবাসার কোন শেষ নাই ।
যেভাবে আমরা শেষ শব্দটাকে বোঝাই।
আসলে শেষ বলে কিছু ই নাই।সবটাই শুরু।
মেয়ে :
তোমার সব কথা আমি বুঝি না।
আজ বলো কোথায় যাচ্ছি?কোন সে শহর ?
কোন সে নদীর পার?
ছেলে :যাব বলেই তো এলাম। আগের কথাটা আগে বলি।
তারপর বের করা যাবে আজ
আমাদের বেড়াতে যাবার শহর কোনটা হবে ।
যা বলছিলাম-- শেষ বলে কিছু নেই ভালোবাসায়।
দেখোনা মানুষ ভালোবেসে ঘরবাঁধে ।
এরপর সংসারটা বড় হয়,সন্তান-সন্ততি হয়।
ভালোবাসা এভাবে একহাত থেকে
অন্যহাতে চলে যায় ।
মেয়ে :
কি জানি আমি তোমার সব কথা আমি আসলেই বুঝিনা।
ছেলে :
আমিও তো আমার সব কথা নিজেও বুঝিনা।
শুধু বুঝি আমাদের এই যে নিরন্তর ভালোবাসা।
এটা শুধু ফ্লাটের দরজার লকটা
বদলালে, নতুন চাবিটার মতন।
ভাড়া বাড়ী ছেড়ে মানুষ
যখন চলে যায় অন্য বাড়ীতে।
পিছে ফেলে যাওয়া
ঘরে শুরু হয় নতুন মানুষের নতুন জীবন।
হয়তোবা তালা চাবিটাই শুধু বদলায়।
মেয়ে :
এভাবে বলছো কেন?
জানোই তো কথায় কথা বাড়ে।
ছেলে : কথায় গিলগামেশ ও আসে।
মেয়ে :কোন গিলগামেশ ?
ছেলে : গিলগামেশ রাজা।অনেক বড় রাজা।পৃথিবীর প্রথম কবি।
এটা অবশ্য জেনেছি এক কবির কবিতায় ।খুব নিভৃতভচারী একজন।নাম মামুনর রশিদ।
মেয়ে :
কোথায় পাও তুমি তার এত কবিতা ?
ছেলে :
তোমাকে সেই কবির কথা বলবো।
চলো আজ বিদর্ভ নগরীতে যাই।
মেয়ে :
বিদর্ভ নগরী?
ছেলে :হ্যাঁ বিদর্ভ নগরী ।
জীবনানন্দের বিদর্ভ নগরীতে--
ঘাসের উপর বসে থাকবো আমরা.
ঘাসফড়িংরা উড়তে থাকবে।
তুমি হাসবে আর ঘাসফড়িং ধরবার জন্য
ষোড়শী মেয়ের মত উড়তে থাকবে।
বাতাসে উড়বে তোমার চুল।
অন্ধকার নেমে এলে তুমি আমার
বুকের খুব কাছে এসে বসবে।
মেয়ে :
কি যে বলো! অন্ধকার হবে কেনো?
আমরা তো বিকাল থাকতেই চলে আসবো।
ছেলে :
তুমি জানোনা বুঝি?
বিদর্ভ নগরীতে সকাল এর পর দুপুর আসেনা।
একবারে রাত নেমে আসে।
জানতে চাও? কিসের কারন!
মেয়ে :
বলো !বলো!
ছেলে:
বনলতা সেন এর জন্য।তার কালো চুলেই তো দুপুর
না হয়ে সন্ধ্যা নেমে আসে।
মেয়ে :
কি যে বলো তুমি!
ছেলে :
সত্যি।সত্যি বলছি আমি।
বিদর্ভ নগরীতে সকাল আসে এবং রাত !
দুপুরটা ঘুমিয়ে থাকে বনলতা সেনের ঘন কালো চুলের গভীরে।
শেষ কথাঃ
(একথা শুনে ভয় পেয়ে গেলো মেয়েটা।ছেলেটার বুকের খুব কাছে বনহংসী হয়ে লুকালো সে। আর মনে মনে ভাবলো...আজ ই শেষ।আর নয়...প্রতিদিন বিভিন্ন শহর বন্দর ঘোরাঘুরি বন্ধ করতে হবে। এবার ওদের চাই আকাশের নীচে একটা ঘর। পৃথিবীর অনেক মানব মানবীর মত ওদের ও মানুষের জীবন বড় প্রয়োজন)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১০ সকাল ৯:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


