somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃষ্টিতে

০১ লা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২৫) বৃষ্টিতে

তুমি বলেছিলে একদিন এক বিকালে
নদীর কাছে দেখা করতে আসবে।
আমি সেই সারাটা বিকাল তোমার জন্য
আকাশ নীল শাড়ীটা
আর লাল শালটা পড়ে বসে থাকলাম।

ঠান্ডা লাগছিলো ভীষন।
বৃষ্টি নামবার আগে যে ঠান্ডা বাতাস বয়,
সেই বাতাসে উড়ছিলো চুল,
আর শাড়ীর আচঁল।

নদীর পাশে বসে মানুষের কোলাহল দেখছিলাম।
একপাশে একটা পরিবারের কয়েকটা মানুষ
পানিতে পা ডুবিয়ে কলকল করে কথা বলছিলো।
অন্যদিকে এক বয়সী যুগল
একটা বড় পাথরের উপর বসেছিলো হাত ধরাধরি করে।
পানির মধ্যে কয়েকটা হাঁস মনের আনন্দে
সাঁতার কাটছিলো।

হঠাৎ ফোঁটায় ফোঁটায় বৃষ্টি নামতে শুরু করলো।
নদীর পানির উপর বৃষ্টির পানির ফোঁটা দেখে
আমার দু'চোখে ও পানি ভরে আসছিলো।
তোমার কথা খুব ভাবছিলাম আমি
মনে মনে হাজার বার তোমার নাম
ধরে ডাকছিলাম।

যদি টেলিপ্যাথি হয়।
তুমি আমার ডাক শুনতে পাও।
(তখন যদি আমাদের মুঠো ফোন থাকতো!) তাহলে
এক নিমেষেই পাঠিয়ে দিতাম কথার পায়রাদের।
তুমি তোমার রাজ্যপাট ফেলে
ছুটে আসতে নদীর দিকে।

অহংকারী হাঁসের মত ঘাড়টা বাঁকিয়ে
আমি তোমার হেঁটে আসা দেখতাম।
কিন্তু তোমার দিকে তাকিয়ে খুব উদাসীনতার
ভাব দেখাতাম।
তুমি হাতদু'টো ধরে আমার মৌনতা ভাঙাতে।

টুপটাপ বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে
আমরা নদীর পাশ দিয়ে যাওয়া পথটা ধরে হাঁটতাম।
তুমি রবার্ট ফ্রস্ট এর "The Road not taken"
কবিতা থেকে পড়তে..
TWO roads diverged in a yellow wood,
And sorry I could not travel both
And be one traveler, long I stood
And looked down one as far as I could
To where it bent in the undergrowth

নদীর ঢেউ এর শব্দের সাথে
মিশে যেতো তোমার কবিতার কন্ঠস্বর।
মহাকালের আবর্তে জমা হয়ে থাকতো
আমাদের কথারা।
এক'শো বছর পরের মানুষেরা কেউ হয়তো
নতুন কোন উদ্ভাবিত যন্ত্রে শুনতো
আমাদের কথাদের ।আর ভাবতো
মানষগুলো আমরা কেমন অন্যরকম ছিলাম।

আকাশ টা জোড়ে শব্দ করে উঠলো।
চমকে গেলাম।
কই তুমি আজ এলেনাতো!


পুনঃশ্চ:
(ব্লগে আমার প্রথম কবিতা দিয়েছিলাম নাম "বৃষ্টিতে".....
সেটার নতুন ধারাবাহিকতা এই লেখাটা..যা চলতে থাকবে ততদিন যতদিন বৃষ্টি আসবে কোথাও কোনখানে)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:৩৩
২৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×