হেঁটে গিয়েছিলাম আমরা।
মায়ের তখন মধ্যাহ্ণ বেলা।
একটা গলি
দুইটা গলি
অজস্র গলি পথ চোখের সামনে মিলায়।
মায়ের ছাঁয়া লম্বা হতে হতে
গাছের মত দীর্ঘ হয়ে যায়
সেই ছায়া দেখে দেখে
বহুদুর পথ।
নামাজ গড়ের মোড়ে এসে
মা থামেন। দোকানীর সাথে সাধারন কথোপকথন।
প্রয়োজনীয় কেনা কাটা।
মার হাতে রাখি হাত।
কি করে পারো মা...।
কি করে এতটা পথ হাঁটি !
মা বলেন,"এই তো আর দুই মিনিটের পথ।"
ঠনঠনিয়ার মোড় থেকে নামাজ গড়
কে জানে কত দুর পথ!
বাহারী খড়মে পায়ের ফোস্কায় জমে পানি।
হাতে তুলে নিয়ে ছুটতে থাকি মায়ের পিছনে।
মা হামিদা বাগ কত দুর?
সেই সুলতান গন্জ পাড়া? নানি বাড়ি?
আজো পথ হাঁটি।
কত দুর দুর পথ।
হাঁটতেই থাকি.......।
পথ পেড়িয়ে পথ যায়।
খুঁজে ফিরি মায়ের সে হাত।
ভাই এর দেয়া বাহারী খড়ম।
ফোসকা পড়ে না আর পায়ে
তবু পায়ের সেই ক্ষতটা বুকে জমা হয়।
মা আবার কখনো একবার কি
যেতে পারি সেই নামাজ গড়?
মা হাসেন।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মা বলেন,"হাটতে পারি না
আগের মত।"
আমি বলি এবার না হয় আমি তোমার হাত মুঠোয় ধরে থাকবো।
শুধু চলো মা আবার যাই.......
সেই নানী বাড়ি....হামিদা বাগ
সেই বাতাবী লেবুর গাছ!
ঠনঠনিয়ার মোড় থেকে
নামাজ গড় মনে হয় খুব কাছে চলে এসেছে মা।
মা অবাক চোখে তাকান।
স্বপ্নে আমি বহুবার ও পথে হেঁটে গেছি।
আমি যত বড় হয়েছি।
পথ তত ছোট হয়ে গেছে।
অপেক্ষায় থাকি।
একদিন এক সকালে আমরা ঠিকই যাবো
সেই চেনা পথে।
কোন এক সুরভীত সকালের জন্য
তুমি এক আঁচল বকুল নিয়ে অপেক্ষায় থেকো মা।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


