আমার বিছানার শিয়রের পাশে একটা বই এর শেলফ।
একটা ফ্লোরল্যাম্প এর নুয়ে থাকা আলো পড়ে একরাশ ফুলের মাঝ থেকে।
এক একটা এক এক রং এর ফুল।
আজকাল আমি সারারাত জেগে থাকি।
প্রিয় বই এর পাতা উল্টাই।ঘুম আসেনা চোখের পাতায়।
ওকে খুব মনে পড়ে।যার জন্য বুকের মাঝে কাঁকড়া বিছার কষ্ট যত!
বিছানায় পড়ে থাকে ল্যাপটপ।একটা বিশ্বজগত ওই জানালাতেই।
জানালার ওপারে আকাশবাড়িতে ওর ঘর।
ওর ঘরের জানালায় কত মেঘ জমা থাকে।ওর ঘরের বেলকনিতে বাহারী সব ক্যাকটাস!
ওর বাগানের ঘাসে অনেকগুলো খরগোস খেলা করে।আমি ওদের কাছে গেলেই ওরা ছুটতে থাকে দূ্র থেকে দূরে।
আমি প্রতিদিন বহুবার ওর ঘরে যাই।ওর ঘরের জানালার পাশে বসে মেঘ দেখি।ক্যাকটাসে পানি দেই।
মেঝেতে ওর বিছানা পাতা।আমি সেখানে বসে থাকি।
ও ওর পড়ার টেবিলে বসে লেখালেখিতে মগ্ন থাকে।
মাঝে মাঝে পিয়ানো বাজায়।রিচির হ্যালো গানটা ওর ও খুব পছন্দ।আমি চুপ বসে ওর পিয়ানো শুনি।
ঝোলানো ব্যাগ থেকে নেইল পলিশ বের করি।মেহেদি পাতা রং বেছে পায়ের নখ সাজাই।
ও আমাকে দেখতে পারেনা।
আমি ছায়ার মত ঘুরে বেড়াই ওর আশেপাশে।ও আমাকে ছুঁতে পারেনা।আমি রোদ হয়ে, ওকে ছুঁয়ে থাকি অনায়াসে।
ওর আকাশ বাড়ির দরজায় ঝুলন্ত উইন্ডচাইম।আমি টুংটাং শব্দমূর্ছণায় ডুবে থাকি।
ও খুব ঘুমবিলাসী। ঘুমিয়ে গেলে আমি ওর ঘুমচোখে স্বপ্ন বিলাই।
ও হাত বাড়িয়ে আমাকে ছুঁতে চায়।ওর হাতে আমি একগোছা সাদা লাইলাক দেই। ও সেই ফুলের সুরভীটুকু সাথে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে!
ও বেড়াতে ভালবাসে খুব।
ওর সাথে এক এক দিন এক এক জায়গায় ঘুরে বেড়াই।
কোনদিন নেপালের পোখারা'র লেকের ধার,
কোনদিন মিশরের পিরামিড।
একবার বেতবুনিয়ায় পাহাড় দেখতেও যাই।
এমনকি কুমিল্লার ময়নামতি!
বেড়াবার সময় আমি সারাক্ষন ওর হাত ধরে রাখি।
এভাবেই আমি ওর পাশাপাশি থাকি।
ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি।
স্বপ্ন দেখি!
স্বপ্ন দেখাই!
(স্বপ্নচারী মানুষদের জন্য।)
ছবির লিংক:
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


