বাতিওয়ালা! ওর নাম দিয়েছি আমি।
আমার অদ্ভুত এক খেয়ালী স্বভাব।
সন্ধ্যা প্রার্থনা শেষে
সন্ধ্যার রং যখন খুব গাঢ় হতে থাকে
আমি হাঁটতে বের হই।
এক পা দু পা করে অজস্র পায়ে হাঁটা পথ।
ছোট্ট নিঝুম পাড়াগায়ের মতন বাড়িগুলোন।
দুর থেকে ভেসে আসা গাড়ির শব্দ।
পথের দু'পাড়ে নুয়ে থাকা গাছেরা।
অন্ধকার ঘন হয়ে এলে
বাতিওয়ালা সামনে চলে যায়।
আমি সেই ছায়া দেখে দেখে হাঁটি।
আকাশ এর দিকে তাকাই।
সন্ধ্যাতারার দিকে চেয়ে থাকি অনিমেষ।
একটা বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াই।
জানালার পর্দার ওপাশে ছোট্ট একটা মেয়ের ছায়া খেলা করে।
দু'বেনী বাঁধা স্বপ্নের মেয়ে ছুটে বেড়ায় এ ঘর ও ঘর।
মেয়েটা পিয়ানোতে সুর তোলে ।
তিন বছরের রিচার্ড হফমেনের মত রং দেখে কিনা জানিনা!
ও সুর তোলে । সেই অদ্ভুত সুর ভেসে আসে।
বাতিওয়ালা নীরবে হাসে।
আমি ওর হাসিটুকু দেখে ফেলি।
মানুষের ছায়া হাসলে কি মানুষ দেখতে পারে?
বাতিওয়ালা!
যার উপস্থিতি মানে হলো বাতাবী লেবুর ঘ্রাণ।
যার সাথে পথ হাঁটা সুরময় অজস্র প্রহর।
যার কথা ভেবে ভেবে একেকটা সুরভিত দিন।
যেই বাতিওয়ালা আমাকে জোনাকীর আলোতে নাকচাবি খুঁজে দিয়েছিলো গভীর অন্ধকারে।
যার জন্য ক্যলেন্ডারের পাতায় জমে বর্ণময় মার্কার সময়!
সেই বাতিওয়ালা!
তাকে ফেলে ঘরে ফিরে আসার সময় পা দু'টো ধরে আসে।
চেনা পৃথিবীর সবখানে সব চেনা রং।
তবু সব কেমন নীথর মনে হয়!
শুধু সেই বাতিওয়ালার হাসিটুকু জমে থাকে বাতাসে!
সুরেলা গানের মতন।
দখিনা হাওয়ার মতন।
বাড়ীর বাইরে ঝুলানো উইন্ডচাইমের মতন।
সেই বাতিওয়ালা আমার নিজেরই অচেনা ছায়া হয়ে থাকে কি এক অচীন অভ্যাসে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

