somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক বিকালে অটোয়ার পেট্রী আইল্যান্ড এ ...........

০৬ ই জুন, ২০১১ সকাল ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অটোয়ার আবহাওয়া ক'দিন বেশ ভালো। বৃষ্টি পড়ছে না। গরম ও খুব বেশী না। যদিও তাপমাত্রা একটু বাড়লেই সবাই অস্থির হয়ে যায়। তবু গরমকাল খুব ভালো লাগে। চাইলেই ঘর থেকে বের হয়ে যেখানে খুশি বেড়িয়ে পড়া যায়। রাশীক এর পরীক্ষা সামনে। রাইয়ানের ও স্কুল। তাই চাইলেই আমরা বেড়িয়ে পড়তে পারছি না। শনিবার সকালে ওদের বাবা বললো চলো মন্ট্রিয়ল যাই। আসলেই বেশ কয়েকমাস মন্ট্রিয়ল যাওয়া হয়না। অটোয়া থেকে মাত্র দুই ঘন্টার ড্রাইভ। আমার কাছে বাংলাদেশের পর ওই শহরটা অনেক প্রিয়। শহরের মায়া থাকে। মন্ট্রিয়লে গেলে রাস্তা দিয়ে হাঁটলেও অনেক আপন লাগে। বাংলাদেশ ছাড়ার পর এই শহরটায় অনেক বছর। ভালোলাগা আনন্দ। প্রিয় কিছু বন্ধুদের নিয়ে নানান সুখের স্মৃতি। আমাদের সংসার, রাশীকের জন্ম। আরো কত কিছু। এই মন্ট্রিয়লের কথা এলেই আমার মন কেমন হয়ে যায়। নাসিমা সাসকাচুয়ানে যাবার আগে চাইলেই হুট করে চলে যেতাম। এখন অনেকে আছে। মাসুদ ভাই,মামুন ভাই আরো অনেক বন্ধুরা তবু হুট করে যাওয়াটা আর হয়না।
সারাদিন কেমন ঘোরের মাঝে চলে যায়। সকালের শুর আজ প্রিয় শহর, প্রিয় কিছু স্মৃতিচারণ দিয়ে। বিকালে টুকটাক বাজারের জন্য Walmart এ যাবো বলে রওনা হই দুজনে। রাইয়ান তখন কেবল পার্ক থেকে খেলে ফিরেছে। দুই ভাইকে রেখে বের হই। গাড়ির গন্তব্য যেদিকে হবার কথা সেদিকে নয়। ভাবলাম বুঝি একটু ঘুরে যাবে। চুপচাপ গান শুনছি। ফেরদৌস ওয়াহিদ এর......."কি নাম এ ডাকবো তোমায় নীল জোছনা।" ক'দিন ধরে এই গানটার সংক্রমণ হয়েছে। বারবার শুনি।
গাড়ি Orleans পার হয়ে Trim রোডের কাছে যেতেই বুঝি কোথায় যাচ্ছি।
Petrie Island পার্ক এ। দারুণ একটা বীচ আছে ওখানে। মনটা কেমন ভালো হয়ে যায়। ওকে বলি ইহাই ছিলো তোমার মনে? ও হাসে। বলে মন্ট্রিয়ল যাওয়া হলোনা ভাবলাম এখানে ঘুরে যাই। রাশীকের পরীক্ষা না থাকলে আনা যেতো। রাইয়ান ভাই ছাড়া আজকাল কোথাও যেতে চায়না।
গাড়ি থেকে নেমে দুজনে হাঁটতে থাকি। ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করতে করতে ভাবি ভাগ্যিস এটা সাথেই রাখি।


একটা বেঞ্চে একটা বয়সী কাপল্‌ বসেছিলো। ছবি তুলতে ইচ্ছা করলো ওদের। দুর থেকে তাই ছবি তুললাম।

সূর্যটা এত সুন্দর ছিলো। গাছের পাতার ছায়ার খেলা দেখছিলাম। আর হঠাৎ দেখি আমাদের ছায়াও তার সাথে.......ছোটবেলার মত ছায়ার পিছে পিছে আমরাও ঘুরলাম।







একটা গাছের কাছে দাঁড়িয়ে অনেক ছবি তুললাম। অদ্ভুত গাছটা । উপরের দিকে পাতাহীন হয়ে গেছে। একসাথে বেড়ে উঠা পাঁচটা গাছের তিনটা কেঁটে ফেলেছে।



ও হাঁটতে হাঁটতে বললো কি খুশি হয়েছো। বললাম খুব। আসলেই সকালটার মন খারাপ সারাদিন বয়ে বেড়াচ্ছিলাম। আরো কারন ছিলো। ভাইজান আমেরিকাতে এসেছিলো ৩ সপ্তাহের জন্য। আজ সকালে চলে গেলো দেশে। গতবার আমাদের এখানে এসে ঘুরে গেছে। এবার আসতে পারেনি, তাই মনটা খুব খারাপ লাগছিলো। সব মিলিয়ে মনের মেঘ সরছিলো না। ওকে থ্যাঙ্কস জানালাম ।এত্ত সুন্দর একটা জায়গায় আনবার জন্য। সূর্য্যের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট ভুলে গেলাম। পানিতে সূর্য্যের খেলা দেখলাম বসে।








ও বললো ব্লগে লেখা দিচ্ছে তো ? বললাম দিতে তো হবেই। আসলে অদ্ভুত একটা ব্যাপার ।যা কিছু ভালোলাগা সব কিছু জানাতে ইচ্ছা করে ব্লগের প্রিয় মানুষগুলোকেও। আমাদের গল্পে কত জন যে থাকে এই ব্লগের। আমাকে যারা ভালোবাসে। আমার লেখা যারা পছন্দ করে। যাদের লেখা আমি পছন্দ করি।







গতবছর সামারেও এখানে এসেছি। প্রথমবার পিকনিকে এসেছিলাম। অনেকে সাথে ছিলো। আমরা সারাদিন মাছ ধরেছিলাম। বাসায় নিয়ে সেই মাছ ধুয়ে ,কেঁটে আবার রান্না করে খাওয়া। দুজনে গল্প করছি আর হাঁটছি। দুজন চেনা মানুষের সাথে দেখা। দুইভাবী। উনাদের সাথে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষন গল্প করে আবার সামনে হাঁটা। নানান গল্প, এরই ফাঁকে ছবি তোলা।

একটা মজার ছবি দেখে ও ডাকলো। বালুতে কে জেনো নাম লিখে রেখেছে। সারা পৃথিবীতে একই নিয়ম। ভালোবাসার মানুষের নাম লেখে সবাই বালিতে। জানে পানি এসে ভাসিয়ে নেবে ।হয়তো এই যে দুটো নাম এর একসাথে ভেসে যাওয়া এতেও মনে হয় অনেক আনন্দ।
পাশেই লেখা "You r awesome"............




একটা জায়গায় পাথর নেমে গেছে দুরে নদীর ভেতর। ওখানে বসে থাকলা কিছুক্ষন। ছবি তুললাম অনেক। সূর্য্যটা তখন যাই যাই করছে। একবার এখান থেকে ফিরে ডুবে যাওয়া সূর্য্যকে নিয়ে একটা কবিতা লিখেছিলাম,সূর্য্য তোমায় দিলাম মা।




দুর থেকে একটা স্পীডবোট ছুটে আসছিলো। সব কিছু ভালো লাগছিলো। আমাদের এই যে একা হওয়া সময়। বোঝাপড়া। নানান সব গল্প ,সব কিছুতেই সবুজ পাতাদের দোলা।



অনেকগুলো সীগাল বসেছিলো পানিতে। রাইয়ান আসলে ঠিক ওদের পিছনে দৌড় দিতো। আমি আস্তে আস্তে ওদের পাশে গেলাম। ছবি তুললাম। ব্যাগে ওদের দেবার মত কিছুই ছিলোনা। রাইয়ান পাখি দেখলেও খাবার দেবার জন্য অস্থির হয়ে যায়।





ফেরার সময় হয়ে গেলো। আমাদের ছেলেমানুষী বিকালের কাছে জমানো থাকলো অনেক আনন্দ। সূর্য্যটার দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম আবার দেখা হবে। তবে নতুন দিনে। আজকের দিনের বিকালটা..জুন ৪'২০১১ স্মৃতিতে জমা হলো। ছবি আর কথার স্মৃতিতে।







একরাশ ভালোলাগা নিয়ে সন্ধ্যার ডুবে যাওয়া সূর্য্যের দিকে তাকিয়ে বাসায় ফিরলাম। সবার জন্য এক আকাশ শুভেচ্ছা।




সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০১১ সকাল ১১:২৭
৪৩টি মন্তব্য ৩৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×