এমন নিরাসক্ত, নিসর্গ তোমার?
কতোবার বৃষ্টি এলে-তুমি অতঃপর, দাঁড়াও আয়নায়
সীমাহীন এক অন্তর্দাহ, অনুতাপী সময়ের মুখোমুখী?
কতোবার পূর্ণচাঁদ, গ্রাস করলে এ শহর গোগ্রাসে
তোমার খুব মনে পড়ে যায়-
এমনই আনন্দ জ্যোছনায়, অন্য এক রাতে-
কতোটা সুন্দর ছিল, অপেক্ষারত, অধীর আরেকজন !
কতোবার শহর জাগলে, পাখীদের কলরবে
খুব ভোরে, তুমি আরো একবার-উন্মণা, স্মৃতিচারী হও...?
কতোবার সিক্ত ঘাসের দিকে তাকালে
তোমার হঠাৎ খুব মনে পড়ে যায়-
হাজারো শিশির তুমি মাড়িয়ে গেছো কতোবার-
শূন্যতায় ছুঁড়ে দিয়ে-ব্যথাতুর
অন্য আরেক মন?
কতোবার শহর কাঁপলে ভূকম্পনে, অতঃপর
ভয়াবহ ধস নামে- তোমারও সুকঠিন
অনড় সত্তায় !
কতোবার ফেটে চৌচির, এ মৃত্তিকার কষ্ট ফাটল ছুঁয়ে ছুঁয়ে
কান্নাভেজা চোখে তোমার খুব মনে পড়ে যায়-
একটি বুকের ব্যালকনি ভেঙে চুঁড়ে -কী প্রবল নিষ্ঠুরতায়
তুমি হেঁটে গেছো এই পথ-
এমন নিশ্চিন্তে, এতোদূর !
কতোবার বৃষ্টি এলে টলে যায়-এমন নিস্পৃহ
পাথর মৌনতা তোমার?
কতোবার শহর ভাসলে বন্যায়-আষাঢ়ের ঢলে-
একটি বিষন্ন চোখ-
তোমার খুব মনে পড়ে যায়....
কী প্রবল দিয়েছিলে ছুঁড়ে, ফিরিয়ে অবহেলায়-
সীমাহীন সুতীব্র ব্যাকুল এক
সখ্যতার বিপরীতে!
কতোবার বৃষ্টি এলে, তুমি অতঃপর অনুভব করো
শহর যাচ্ছে ভিজে, সারারাত, প্রবল অনুতাপে-
কতোবার বৃষ্টি এলে তুমি বুঝে ফেলো-ভালো নেই!
তোমার খুব পরিচিত একজন আজ
এই বৃষ্টিতে ভালো নেই!
কতোবার বৃষ্টি এলে তুমি আরেকবার ভাবতে পারো
কী দারুণ জীবন্ত আছো, আজো অক্ষয়, এ মনের
অমৃত অনুভবে-
কতোবার তোমাকে দেখার সাধ
কষ্টের অক্ষরে গেঁথে ভাসালে শীতলক্ষায়
অতঃপর তোমার কাছে প্রমাণিত হয়-
একজন আজো সেরকম
সমুদ্র সমান ভালোবাসে!
কতোবার বৃষ্টি এলে, তুমি অতঃপর তাকাও জানালায়-
কতোবার ভেঙে চুড়ে নিঃস এ হৃদয়ের মানচিত্র হলে
এ জানালার কাঁচ,
তুমি ফিরে পাও নিমিষেই সেই হারানো অনুভব !
কতোবার তোমার চোখের পাতা ভিজে জবজবে হলে
তুমি অতঃপর দেখতে পাও-
এ শহর কী নিদারুন বেদনায় গেছে ঢেকে !
ধবধবে সাদা, অনাবিল শুভ্র সব
কষ্টের কবিতার শিলাবৃষ্টিতে!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ ভোর ৬:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



