somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুসমাচার

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঈশ্বরের ধারণা আমাকে কে দিয়েছিল আমার মনে নাই, মনে হয় আশপাশটা দেখেই পেয়েছি। কিন্তু ধারণা পুরোপুরি যে দেয়া হয় নি এটা নিশ্চিত। কারণ ঈশ্বরের ধারণা পুরোপুরি দেয়া যায় না। ঈশ্বরের ধারণা পুরোপুরি লাভ করতে হলে মনে হয় ঈশ্বর হয়ে উঠতে হবে। বাহুল্য দোষে দুষ্ট না করে এই পোস্টের মূল কথাটা বলেই ফেলি। পৌত্তলিকতা কি জিনিস আমি পুরোপুরি বুঝি না। অনেকে বলে থাকেন পৌত্তলিক ধর্ম উদার। এই ধরণের অনুসিদ্ধান্তেও আমি আসতে পারি নি। আধা খেঁচরা ঈশ্বরের ধারণাতে সমর্পণের প্রশ্নই ছিল না, ছিলো রোমান্টিক ঈশ্বর। এর মধ্যে হঠাৎ শুনি ঈশ্বরের প্রত্যাদেশ নিয়ে ফেরেশতারা আসেন এই মাটির মানুষের কাছে। তার নাম গ্যাব্রিয়েল বা জিব্রাইল। একই জিব্রাইল একই ঈশ্বর তবু এই মর্ত্যের মানুষের কাছে সেই বাণী হয় বিকৃত। একেশ্বরবাদ পৌত্তলিকতার উদারতাকে বিনাশ করে মানুষকে আরো কঠিন দার্শনিক সমস্যার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। চার চারটা আসমানী কিতাব বনাম বস্তুবাদী বিজ্ঞান, এই দ্বন্দ্ব চলছে অনেক দিন ধরেই।

আমার সমস্যা এখন কিছু কম। বাইবেল পড়তে শুরু করেছিলাম, প্রসংগ ব্যাতিরেকে কয়েকটি পারা এখানে উদ্ধৃত করছি, অনেক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে আমার মধ্যে।

লুক ৯:৫৭-৬২
যীশু তার আশে পাশে অনেক জনতার ভিড় লক্ষ্য করে তাদেরকে বললেন তার সাথে সাগরের আরেক পারে যেতে। তখন এক জন আলেম ব্যক্তি তার কাছে এসে বললেন, "প্রভু আপনি যেখানেই যাবেন, আমি আপনাকে অনুসরণ করব।"
উত্তরে যীশু বললেন, "শেয়ালেরও গর্ত আছে, পাখীদেরও বাসা আছে, কিন্তু আদম সন্তানের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই"।
আরেকজন অনুসারী এসে বললেন, "প্রভু, আমাকে আমার পিতার দাফনের কাজ শেষ করে আসতে দিন। " কিন্তু যীশু তাকে বললেন, "তুমি আমাকে অনুসরণ কর আর মৃতরাই তাদের মৃতদের দাফন করুক।"

===================
বাইবেল জুড়ে আদম সন্তান বলতে যীশুকেই বোঝানো হয়েছে। যীশু জানতেন তাকে যেতে হবে জেরুজালেমের দিকে, আর সেখানেই তার জন্য নির্ধারিত আছে, ক্রুশ যা তাকে বহন করতে হবে, তার লুকানোর কোন জায়গা নেই। আবার তিনি পুনরুত্থিত হবেন, তার বিশ্রামের অবকাশ পর্যন্ত নেই।

আবার মৃত বলতে বোঝানো হচ্ছে, যারা বিশ্বাস আনে নি তাদেরকে। তাদের নিয়ে চিন্তা না করতে বলা হচ্ছে, কখনোই দশ অধ্যাদেশের পঞ্চমটি যেখানে পিতামাতাকে শ্রদ্ধা করতে বলা হয়েছে সেটার ব্যত্যয় ঘটেনি। কারণ যীশু আরেক জায়গায় বলছেন, "আমি তো পিতার বিরুদ্ধে পুত্রকে, ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাইকে...দাঁড় করিয়ে দেবো।" এখানে বিশ্বাসী আর অবিশ্বাসীরা দুই পক্ষ।

আমি খুব অবাক হয়েছি প্রথম জায়গাটাতে, আসলেই মানুষের কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই। কোন কিছুকে আপনার করে বলার মত নেই, এক "আমি" ছাড়া, আবার সাধারণ মানুষ এই আমিকেও ঠিক মত অনুধাবন করতে পারে না।

মথি ৫:৩৫-৩৭

তোমরা মাথার চুলেরও দিব্যি দিও না, কারণ তার কোনটিকে সাদা বা কালো করার ক্ষমতাও তোমার নেই, আক্ষরিকভাবেই তোমার 'হ্যা' যেন 'হ্যা' হয় আর তোমার 'না' যেন 'না' হয়, এর বাইরের যা কিছু সব শয়তানের কাছে থেকে আসে।"

==================
এখানে স্পষ্টতই কসম খেতে না করা হচ্ছে, আর সেই সাথে বিশ্বাসের কথা বলা হচ্ছে।

আমার কাছে মনে হচ্ছে, এখানে দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়াকে নিবারণ করার একটা চেষ্টা চালানো হয়েছে।

মার্ক ১২: ২৭-৪০

যীশু বলছেন, লেখা আছে মুসাকে আল্লাহ বলেছেন, ' আমি তো ইব্রাহিমের ঈশ্বর, ইসহাকের ঈশ্বর, ইয়াকুবের ঈশ্বর।' কিন্তু তিনি তো জীবিতদের ঈশ্বর, মৃতদের ঈশ্বর নন
===================
এটা মূলত যুক্তিবাদীদের ফ্যালাসী দূর করতেই যীশু ব্যবহার করছেন, যুক্তিবাদীরা বলে, এই পৃথিবীতে যদি কোন নারীর দুই স্বামী থাকেন তবে, পরকালে তিনি কোন স্বামীর স্ত্রী হবেন। যীশু তাই বলছেন, "মৃতদের বিয়ে দেয়া হয় না"

আমার কাছে অবশ্য এই পারাটা এ পর্যন্ত বাইবেলে প্রাপ্ত সবচেয়ে প্রিয়। আসলে জীবিত মানুষেরই ঈশ্বর প্রয়োজন, মৃতের নয়। কারণ মৃত ব্যক্তি সত্যটা জেনে যাবে ততদিনে। আর যীশু আর তার উম্মতদের এই প্রয়াসটাও জীবিত মানুষের জন্যই। সত্য-মিথ্যা-সন্দেহ সব এ কালেই। পরকাল কি কে জানে?

যোহন ১৫:২৬


নিশ্চয়ই সাহায্যকারী আসবেন, পবিত্র আত্মা, যা ঈশ্বরের কাছ থেকে পাঠানো হবে এবং তিনি সত্যকে প্রকাশ করবেন। তিনি ঈশ্বরের কাছ থেকে আসবেন এবং আমার কথাও বলবেন
===========
ইসলামিক বিদ্যৎসমাজ মনে করে এখানে সাহায্যকারী বলতে মুহম্মদ(সঃ) কে বোঝানো হয়েছে।

এই হল সুসমাচার সংক্রান্ত কয়েকটি কথা।

বাইবেল পড়ুন
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ১২:৪৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×