জনপদের প্রাচীনত্ব তাকে বিশেষায়িত করে। বিশেষত প্রাচীন ইতিহাস ঐ জনপদকে করে আরো বেশি ঐতিহ্যমন্ডিত। এ দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাচীন মিরপুরের শেকঁড় খুঁজতে চাওয়ার একটি স্বতন্ত্র বাসনা থাকা খুবই স্বাভাবিক। প্রাচীন বাংলার ইতিহাস খুঁজে ঢাকা শহরের ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া গেলেও তার মধ্যে মিরপুরঅবস্থান খুব বেশি পাওয়া যায় না। সত্যিকার অর্থে ইতিহাস পাতায় মিরপুরনাম বিশেষায়িত করা নেই। এ কারণেই বোধহয় প্রথিতযশা ঐতিহাসিকগণ মিরপুরকে প্রাধান্য দিয়ে এর ঐতিহাসিকতা নিরূপণ করার প্রয়াস পাননি। যাইহোক আমার চেষ্টা থাকবে প্রাসঙ্গিকভাবে কয়েকটি এলাকার ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক উপাত্তের পদ্ধতিগত ও তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে মিরপুরের ইতিহাস এর অজানা অধ্যায়কে ব্লগারদের সামনে নিয়ে আসা। আমার এ ভাবনাকে বেগবান করার ক্ষেত্রে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ স্যারের সিংহভাগ অবদান। কিন্তু উপাত্তের অপ্রতুলতা এবং অভিজ্ঞতার অভাব আমার মত শিক্ষানবিসের জন্য একটি বড় হতাশার জায়গা তৈরি করেছিল। এসময় একই বিভাগের আরেকজন শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক স্যারের একটি লেখা ‘প্রাচীন ঢাকা: ইতিহাস না ভাবনা’ আমাকে আলোড়িত করে। তাই বর্তমান লেখাটি বিশেষভাবে তাঁর গবেষণার ফলাফল দ্বারা প্রভাবিত। এ লেখার বিস্তৃতিকাল হবে সম্ভাব্য প্রাচীনকাল থেকে ১৯৫০ এর দশক পর্যন্ত। তবে আমি অপেক্ষাকৃত নতুন থেকে ক্রমান্বয়ে পেছনের দিকের ইতিহাসের উপাদানের দিকে নজর দেয়ার চেষ্টা করব।
প্রাচ্যের রহস্যনগরী ঢাকার ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মধ্যযুগ বিশেষজ্ঞগণ বিশেষত ড. শাহনাওয়াজ ও এ.বি.এম হোসেনের মত গুণিজনরা একে নিদেনপক্ষে ৭০০-৮০০ বছর পুরনো বলেছেন। তবে পর্যাপ্ত গবেষণা একে আরো পূর্বেও টেনে নিয়ে যেতে পারে। ঢাকা নগরীর এই সু-প্রাচীন ইতিহাসে মিরপুরের অবস্থান কোথায়? এ প্রশ্ন থেকেই যায়। মিরপুরকোন প্রাচীন ইতিহাস ছিল কি-না এর কোন লিখিত প্রমাণ নেই। প্রাচীনকালে যদিও বা বসতি বিকাশ হয়ে থাকে তবে তা আজ থেকে কয়েক’শ বছর পূর্বে অবলোকন, পর্যবেক্ষণ বা পুনরুদ্ধার করা যতটা সহজ ছিল বর্তমানে তা প্রায় অসম্ভব বলে প্রতীয়মান হবে। সুতরাং এই উপাত্তগত শূন্যতায় মিরপুরপ্রাচীন ইতিহাস পুনর্গঠন করা হবে অনেকটা অনুমান নির্ভর। তবে প্রতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হচ্ছে Settlement Archaeology, যার মাধ্যমে একদিকে যেমন একটি প্রত্নস্থলকে তার পারিপার্শ্বিক পানির উৎস, উদ্ভিদ ও প্রাণিজ সম্পদের সাথে সম্পর্কিত করে সেই প্রত্নস্থলের মানুষের জীবন জীবিকাকে পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সহায়তা করে অন্যদিকে একটি বিশাল ভূখণ্ডে একসময়ে বিকশিত সকল প্রত্নস্থলকে একত্রে বিবেচনায় নিয়ে একটির সাথে আরেকটির নিবিড় সম্পর্কের ইতিবৃত্ত রচনায় সহায়তা করে। মিরপুরের প্রাচীন ইতিহাস জানার জন্য প্রত্নতত্ত্বের এই শাখা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এক্ষেত্রে বৃহত্তর ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ভূমিরুপসহ বিভিন্ন বিষয়ের একটি আন্তঃসম্পর্কীয় আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে, একই সাথে অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত আমাদের পথ দেখাতে পারে।
Survey of Pakistan ১৯৫২ সালে প্রকাশিত ঢাকার একটি মানচিত্রে (দানী; ২০০৯: মানচিত্র-৫) মিরপুরের অবস্থ্ান চিহ্নিত করা না গেলেও বর্তমান মিরপুর রোডটিকে নির্দেশ করা যায়। সম্ভবত এটি একটি উপরাস্তা ছিল। সুতরাং তৎকালীন সময়ে বর্তমান মিরপুরে বসতির অবস্থান ছিল কিন্তু এটি তৎকালীন রাজধানীর অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এছাড়া বৃহত্তর মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষত গাবতলী, বাগবাড়ি, হরিরামপুর আমিন বাজার প্রভৃতি স্থানে প্রচুর পরিমাণ উপনিবেশকালের স্থাপনার চিহ্ন পাওয়া যায়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় ঢাকাকে প্রাদেশিক রাজধানী করা হয়। এসময়কারও ঢাকার কোন মানচিত্রে মিরপুরের অবস্থান দেখানো হয়েছে বলে জানা যায় না।
প্রায় দেড়শ বছর পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যাবে, ১৭৬৫ সালের ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি মানচিত্রে সাভারের অবস্থান দেখানো হয়েছে (দানী; ২০০৯: মানচিত্র-১)। এখানেই প্রথম মিরপুরের অবস্থান সম্পর্কিত একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অন্যদিকে প্রদত্ত মানচিত্রটিতে খেয়াল করলে দেখা যাবে বিরুলিয়া এবং জহুরাবাদ এর অবস্থান নির্দিষ্ট করা আছে। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে মিরপুরহরিরামপুর এলাকার পেছনে একটি জহুরাবাদের অস্তিত্ব লক্ষ্যণীয় এবং তার পাশে তুরাগ নদীর বাঁধ এবং নদীর অন্যপারে বিরুলিয়া গ্রাম। অর্থাৎ এখানে ইতিহাস উৎসুক মনের একটি চিন্তার খোরাক রয়েছে।
এতো গেল কাগুজে দলিলে মিরপুরের অবস্থানকে নির্দিষ্ট করার প্রয়াস। মিরপুরপুরাতাত্ত্বিক উপাত্ত আমাদের কি সাক্ষ্য দেয়? ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত স্থাপত্যের প্রাচুর্যের কথা আমরা পুর্বেই বলেছি। বিশেষত বর্তমান পল্লবী (বৃহত্তর মীরপুর) জামে মসজিদ এবং মিরপুরের ফকিরবড়ি মসজিদ এ প্রসঙ্গে গুরুত্বের দাবি রাখে। দুটি মসজিদের ক্ষেত্রেই নির্মাণকাল সঠিক জানা যায় না। তবে ড. হাসান (হাসান:২০০১) মনে করেন দুটি’ই বিংশ শতকের প্রথমার্ধে তৈরি। মুসলমান বসতি থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত যেহেতু মসজিদ সেহেতু বলা যায় তৎকালীন সময়ে মুসলমানদের আবাস ভালভাবেই ছিল। অন্যদিকে হরিরামপুরে অবস্থিত সিদ্ধান্ত হাই স্কুল সাক্ষ্য দেয় এখানে সম্ভ্রান্ত হিন্দু কমিউনিটির অবস্থান ছিল। বিদ্যালয়ের পরিপার্শ্বের বিভিন্ন বাসস্থানের আদি মালিকানা এর পক্ষে কথা বলে।
মোগল শাসনামলে নির্মিত তেমন কোন স্থাপনার চিহ্ন মীরপুরে এখনো চিহ্নিত করা যায়নি। তবে ড. করিম মনে করেন সম্ভবত মীরপুর একটি ব্যবসা কেন্দ্র ছিল ফলে এটি ব্যবসায়ীদের আবাসস্থল হিসেবে গড়ে উঠেছিল এবং এটি ছিল রাজধানীর সম্প্রসারিত অংশ (করিম:২০০৩)। ড. করিমের এ ভাবনা অনেকাংশেই সঠিক হবার সম্ভবনা রয়েছে। কেননা মিরপুরের ভৌগলিক অবস্থান (তুরাগ নদীর তীর ঘেঁষে মিরপুরের অবস্থান) তাঁর পক্ষে কথা বলে। প্রাক মোগল আমলের স্থাপনার মধ্যে মিরপুর ১নং এ অবস্থিত হযরত শাহ আলীর (রঃ) দরগা একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ‘আসুদগান-ই-ঢাকা’ গ্রন্থে হাকিম হাবীবুর রহমান বলেন শাহ আলী (রঃ) বাগদাদ থেকে ইসলাম প্রচারে ঢাকায় আসেন। তাঁর বিবরণ অনুযায়ী জনৈক মসলন্দ খানের জমিতে দরগাহটি নির্মিত (মামুন:১৯৯৪)। দরগাহর গায়ে প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে জানা যায় ৮৮৫ হিজরী মোতাবেক ১৪৮০ সালে মহান আমির খাকান ই মোয়াজ্জাদ মালিক কতৃক মসজিদটি স্থাপিত হয়। মানব বসতি না থাকলে এই দুর্গম এলাকায় শাহ আলী (রঃ) এর ইসলাম প্রচারে এখানে আসার প্রশ্নই উঠে না।
মিরপুর ও তার বিভিন্ন এলাকার নামকরণ এবং এর ভূমিরুপ আমাদের এর প্রাচীনত্ত অন্বেষনে দিক নির্দেশনা দিতে পারে। মিরপুরের ভূমিরুপ প্লাইস্টোসিন উঁচু ভূমির একটি ধারা এবং মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা এবং সেনপাড়া পর্বতা থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্বে বর্তমান কাঁঠালবাগান পর্যন্ত প্লাইটোসিন যুগের সমতল ভূমির চিহ্ন বহন করছে (হক:২০১০)। ঢাকার প্রচীন উঁচুভূমি বলতে বুঝায় মীরপুর চিড়িয়াখানার উঁচু ভূমি ও সেনপাড়া পর্বতা থেকে পূর্ব-দক্ষিণে কাঁঠালবাগান পর্যন্ত উঁচু ভূমি, লালমাটিয়ার উঁচু ভূমি এবং লালবাগ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত উঁচু থেকে ক্রমশ ঢালু নিম্নভূমি অঞ্চল। ঢাকার এই বৈচিত্র্যময় ভূমি কাঠামোই ঢাকার অতীত ইতিহাসকে বৈচিত্র্যময়তা প্রদান করেছিল। বিচিত্র এই ভূমিরূপ সম্ভবত গুপ্ত পূর্ববর্তী সময় থেকেই মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করে আসছিল (হক:২০১০), যেখানে সম্ভবত মিরপুরেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ছিল।
‘মীর’ শব্দটি একটি উপাধি যা সুলতানী ও মোগল উভয় সময়ই বিভিন্ন প্রশাসনিক বা দাপ্তরিক নামের সঙ্গে ব্যাবহার হতো (শাহনাওয়াজ:২০০৪)। আবার শব্দের শেষে পুর বা পুরা যুক্ত করে নাম মুসলিম আমলে উৎপত্তির সাক্ষ্য বহন করে (করিম:২০০৩)। সুতরাং মিরপুর নামকরণটি কোনসময়ের তা নিয়ে বিতর্ক থেকে যায়। ‘কাজীপাড়া’ নামটি মুসলমান শাসনামলের বলে মনে হয়, তবে সময়কাল সংক্রান্ত কোন সিদ্ধান্তে আমরা পৌছাতে পারি না। সেক্ষেত্রে গাবতলীর কোটবাড়ি, দিয়াবাড়ি, দড়িয়াঘাট, পাইকপাড়া, সেনপাড়া পর্বতা প্রভৃতি নামগুলির বিশ্লেষণ গুরুত্বের দাবি রাখে। ‘কোটবাড়ি’ কোনভাবেই মুসলিম যুগের শব্দ বা প্রশাসনিক একক নয়। ‘কোটবাড়ি’ নামটি প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। অতীতে দুর্গকে কোট/গড় (ক্ষুদ্র দুর্গ বিশেষ) বলা হতো (হক:২০১০)। এদেশে ছোট বড় নদীর গতিপথে অসংখ্য কোটবাড়ি বা কোন স্থানের নামের সঙ্গে কোট/গড় নাম যোগ করে স্থান নাম পাওয়া যায়, যেমন মহাস্থানগড় দুর্গনগরী এদের মধ্যে অন্যতম। ঢাকা মহানগর এলাকায় যে তিনটি এমন ক্ষুদ্র দুর্গের অস্তিত্বের কথা জানা যায়, তাদের মধ্যে মিরপুর ও গাবতলী বাসস্ট্যাণ্ড-এর মাঝামাঝি এক জায়গায় কোটবাড়ি এবং এর পাশে দিয়াবাড়ি, দরিয়াঘাট নামগুলো পাওয়া যায়। এই নামগুলো সম্ভবত প্রাচীন এবং তা সুলতানী পূর্বযুগের বলে ধারণা করা যায়। কারণ সুলতানী যুগ থেকে ধরে বর্তমান পর্যন্ত কখনো এখানে কোটবাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অবকাঠামো গড়ে উঠেছিল বলে কোন ঐতিহাসিক দলিল থেকে জানা যায় না।
কোটবড়ি বর্তমানে গাবতলীর পর্বতা সিনেমা হলের ঠিক পিছনে তুরাগ নদীর তীরে অবস্থিত। তুরাগ নদীর প্রবাহধারা বর্তমানে একটি খালের মত দেখালেও আদতে এটি ছিল একটি বিশাল নদী। সাভারের বিরুলিয়া ছিল এর উত্তর তীর এবং মিরপুরউঁচু ভূমি ছিল এর দক্ষিণ তীর। সম্ভবত এই বিশালতার কারণেই এখানকার স্থান নাম হয়েছে দিয়াবাড়ি এবং দরিয়াঘাট। ড. হকও একই মত পোষণ করেন। তুরাগ নদীর উপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ রাখার লক্ষ্যে এবং এই নদী পথে গমনাগমনকারী নৌযানগুলো থেকে খাজনা আদায় ও নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়ে এই স্থানটির (কোটবাড়ির অবস্থান) উপযোগিতা অনস্বীকার্য। অতীতে নদীপথসমূহে অবস্থিত কোটগুলো ছিল একেবারে নদীর পাড়ে, আকৃতি ছিল অনেকটা আয়তাকার। কেবলমাত্র নদীর দিক ছাড়া বাকী তিন দিকে পার্শ্ববর্তী এলাকার মাটি কেটে উঁচু করা হতো। নিম্নভূমি এলাকার কাঁচা সড়কের মত এর দেয়াল উচুঁ করা হতো, আর মাটি কাটার কারণে তিন দিক দিয়েই থাকত পরিখার মতো। ফলে কোটের চারিদিকেই ছিল পানির প্রবাহ। মীরপুর কোটবাড়ি এলাকার চারপাশে ছিল গভীর পরিখা যা ৮০-র দশকেও দৃশ্যমান ছিল (হক:২০১০)। কোটবাড়ি এলাকার সামান্য পূর্বদিকে একটি জায়গার নাম ‘পাইকপাড়া’। ‘পাইক’ শব্দের অর্থ হচ্ছে সৈন্য, বিশেষত হিন্দু সৈন্যবাহিনীকে ‘পাইক বাহিনী’ বলা হতো। সুলতান ইলিয়াস শাহ সর্বপ্রথম এ বাহিনীর ব্যবহার করেন (শাহনাওয়াজ:২০০৪)। এবং ‘পাড়া’ শব্দের অর্থ হচ্ছে লম্বাটে মহল্লা। প্রাচীনকাল থেকেই সৈন্যদের পাইক বলে অভিহিত করা হতো এমনকি সুলতানী ও মোগল যুগে সৈন্যদের পাইক বলে অভিহিত করা হতো। সুতরাং পাইকপাড়ার পাইক কোন সময়ের নির্ণয় করা কঠিন। মিরপুর শাহ আলী (রঃ) একজন সুফি ছিলেন। কোন তথ্যপ্রমাণে তিনি সৈন্যবাহিনী রেখেছিলেন বলে জানা নেই (হক:২০১০)। বাংলার সুলতানগণ ঢাকার এই অংশ ব্যবহার করেছিলেন কিংবা মোগল শাসকগণ ঢাকার এই অংশে কোন সামরিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেছিলেন বলেও প্রমাণ পাওয়া যায় না। ফলে পাইকপাড়া নামটি সম্ভবত প্রাচীন এবং যেহেতু কোটবাড়ির ঠিক সন্নিকটেই পাইকপাড়ার অবস্থান এ দুইয়ের সাথে সম্পর্কিত হওয়াটই স্বাভাবিক। প্রাচীন হলেও আবার কোন যুগের? মৌর্য, গুপ্ত নাকি পাল বা সেন সেই প্রশ্নও উঠে। পাইকপাড়ার পাশেই রয়েছে সেনপাড়া পর্বতা। এই সেন যদি সেনবংশীদের সেন হয় তবে ধরে নিতে হবে যে এই পাইকপাড়া অন্তত সেন যুগের। কিন্তু ড. হক দেখিয়েছন এ সেনপাড়া পর্বতা এবং পাইকপাড়া সেন শাসনামলের নয় (হক:২০১০)। উপরন্তু তিনি যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করে বলেছেন যে সম্ভবত এখানে গুপ্তপূর্ববর্তী সময়কাল থেকেই এই এলাকার বৈচিত্রময় ভূমিরুপের কারণে এখানে মনুষ্য বসতি থাকার প্রবল সম্ভনা রয়েছে যা খ্রিষ্টীয় ৫ম শতকের সমসাময়িক হতে পারে।
উপরের তথ্য-উপাত্ত নিশ্চিতভাবেই প্রমান করে মিরপুরঅবস্থান এবং এ এলাকার বসতি বিন্যাস কোনভাবেই সাম্প্রতিক কালের নয়। উপরন্তু পরবর্তী গবেষনা একে আরো প্রাচীন বলে অভিহিত করার একটি প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্যসুত্র :
Dani, Ahmed Hasan. 2009 (rept); Dhaka: A Record of its changing fortunes. Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka.
Dani, Ahmed Hasan. 1957; Bibliography of the Muslim Inscriptions of Bengal. Asiatic Society of Pakistan, Dacca.
মামুন, মুনতাসির। ১৯৯৪; ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী। বাংলা একাডেমী, ঢাকা।
করিম, ড. আব্দুল। ২০০৩ (পুনঃ মুদ্রন); মোগল রাজধানী ঢাকা। বাংলা একাডেমী, ঢাকা।
হাসান, ড. সৈয়দ মাহমুদুল। ২০০১; বাংলাদেশের মুসলিম পুরাকীর্তি।মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা।
শাহনাওয়াজ, এ কে এম। ২০০৪; বাংলার সংস্কৃতি বাংলার সভ্যতা। দিব্য প্রকাশ, ঢাকা।
শাহনাওয়াজ, এ কে এম। ২০০৮; সা¤প্রতিক প্রতœগবেষনায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনর্গঠনের সম্ভাবনা। বাংলা একাডেমী, ঢাকা।
হক, অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল। ২০১০; প্রাচীন ঢাকা: ইতিহাস না ভাবনা, ঠিকানা, বর্ষ ৯, সংখ্যা ৯। সাহিত্য বিকাশ আন্দোলন, নারায়নগঞ্জ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



