র্পব ১ vew this link
সময়ের হিসাবে উরের দুটি শিলালিপিই সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের সময়কালের। এ দুটি মসজিদের অবস্থান পূর্ব-পশ্চিমে সরল রেখা বরাবর যা ইকলিম মোবারকাবাদের সীমানা ভূক্ত। যাতে সহজেই অনুমান করা যায় সুলতান যুগের প্রথমার্ধেই ঢাকায় বসতির উপস্থিতি ছিল।
তৃতীয় শিলালিপিটির প্রাতিস্থান বর্তমান ঢাকার মিরপুরের শাহ আলী বাগদাদী (রঃ) মাজার-মসজিদের গায়ে। এই শিলালিপিটি থেকে জানা যায় ৮৮৫ হিজরি অর্থাৎ ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দে মহান (খাকান-ই-মুয়াজ্জদ) আমির (অস্পষ্ট) কর্তৃক এটি নির্মিত হয়। সময়কাল ছিল সুলতান ইউসুফ শাহের রাজত্বকাল। লক্ষ্যনীয় বিষয় মাত্র ২০-৩০ বছর পূর্বেও যে এলাকায় জঙ্গল ছিল বলে যে জনশ্র“তি আছে সে এলাকায় প্রায় ৬০০ বছর পূর্বেই মুসলিম বসতি স্থাপিত হয়েছিল।
উপরের তিনটি প্রমান নিঃসন্দেহে প্রাক মোগল যুগ আরো স্পষ্টভাবে বলতে সুলতানী সময়ে আধুনিক ঢাকারই বিভিন্ন স্থানে জনবসতিই শুধু ছিলনা বরং একটি উন্নত সংস্কৃতিও বিকাশ লাভ করেছিল।
এবার আসা যাক ঢাকার নামকরন প্রসংগে। প্রায়শই নাম একটি স্থানের ইতিহাসের উৎসকে নির্দেশ করে। বিশেষত ইতিহাস প্রসিদ্ধ নগরীগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে এটি লক্ষ্যনীয়। এমনই এক প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক নগরী ঢাকা। ইতিহাসের গতিধারায় এর অবস্থান সুস্পষ্ট। ঢাকা নামের উৎপত্তি নিয়ে নানা মুনির নানা মত প্রচলিত আছে। প্রচলিত একটি কিংবদন্তী হলো এ অঞ্চলে এক সময় প্রচুর “ঢাক গাছ” ছিল। এ থেকেই ঢাকা নামের উৎপত্তি হয়েছে। দ্বিতীয় আরেকটি অভিমত হলো ইসলাম খাঁ ঢাকায় রাজধানী স্থাপন করার পর এলাকার কেন্দ্র থেকে ঢাক বাজানোর নির্দেশ দেন। এই ঢাকের শব্দ যত দূর থেকে শোনা যায় ততদূর পর্যন্ত তিনি ঢাকার সীমানা নির্ধারন করেন। এই ঢাক বাজানো থেকেই ঢাকা নামের উৎপত্তি। তৃতীয় কিংবদন্তীর সাথে রাজা বল্লাল সেনের নাম জড়িয়ে আছে। আদিসুর তার এক রাণীকে নির্বাসিত করেছিলেন বুড়িগঙ্গার উত্তরের জঙ্গলে। এখানে বল্লাল সেনের জন্ম। এ সময় দেবী দুর্গা তাকে সকল বিপদ থেকে আগলে রাখেন। পরবর্তীতে বল্লাল সেন ক্ষমতায় গেলে দেবীর একটি মূর্তি এই জঙ্গলে প্রতিষ্ঠা করেন। যেহেতু মূর্তিটি জঙ্গলে ঢাকা বা লুকায়িত ছিল তাই তার নাম হয় ঢাকেশ্বরী। এই দেবীই ঢাকার অধিষ্ঠাত্রী দেবী ঢাকেশ্বরী। অর্থাৎ ঢাকেশ্বরী নাম থেকে ঢাকা নামের উৎপত্তি। তবে এসকল গল্প বা কিংবদন্তীর পক্ষে কোন ঐতিহাসিক দালিল পাওয়া যায় না।
আধুনিক গবেষকগন কিছু তথ্যপ্রমান দিয়ে কয়েকটি অনুকল্প বা মতামত উপস্থাপন করেছেন। বিশেষত ডি.সি. সরকারের মতে কলহন রচিত “রাজতরঙ্গীনী”-তে প্রাপ্ত “ঢাক্কা” শব্দটি থেকেই ঢাকা নামের উৎপত্তি। এই ঢাক্কা শব্দের অর্থ পর্যবেক্ষন ফাড়ি। সম্ভবত বিক্রমপুর বা সোনারগাও এর পর্যবেক্ষনফাড়ি যা “ঢাক্কা” হিসাবে এ অঞ্চলের অবস্থান ছিল তা থেকেই নামটি উদ্ভুত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাকৃত একটি উপভাষার নাম ঢাকা ভাষা। অর্থাৎ ঢাকা ও পাশ্ববর্তী এলাকার মানুষ ঢাকা ভাষায় কথা বলত। হাবিবা খাতুন অবশ্য বলতে চেয়েছেন ঢাকার অদূরে নারায়নগঞ্জের ধাপা গ্রামের দাপেকা দুর্গের কথা। দুর্গটি প্রাচীন ডাবেকা রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। তার মতে প্রাচীন ডাবেকা রাজ্যের নাম থেকে ঢাকা নামের উৎপত্তি হয়েছে।
সুবাদার ইসলাম খান ঢাকার নাম পরিবর্তন করে ১৬১০ এ জাহাঙ্গীরনগর করলেও ঢাকা নামটি জনপ্রিয় থেকে যায়। মির্জা নাথন তার “বাহারিস্থান-ই-গায়েবী” গ্রন্থে কোথাও ঢাকা কোথাও জাহাঙ্গীরনগর অথবা উভযই ব্যবহার করেছেন। মোগল দাপ্তরিক কাজে জাহাঙ্গীরনগরের ব্যবহার হলও প্রশাসনিক গন্ডির বাইরের সাধারন মানুষ ঢাকা নামটিই ব্যবহার করতেন। এমনকি বিদেশি পর্যটক বা ইংরেজ শাসনকালেও রাজ কর্মচারীগন ঢাকা নামটিই ব্যবহার করেছেন।
উপরের আলোচনায় যে কযটি বিষয়ের বা দলিলের অবতারনা করা হয়েছে, তার সবগুলোই ঐতিহাসকভাবে প্রমণিত। সুতরাং এরপরও ঢাকার প্রাচীনতা সম্পর্কে বিভ্রান্তিতে পড়ার অবকাস নেই। বিশেষকরে আমাদের তরুন সমাজের কাছে ঢাকার ঐতিহাসিকতা এই লেখার মাধ্যমে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


