তখন ছোট ছিলাম। বাসায় টিভি তো দূর; ক্যাসেট প্লেয়ারই ছিল না। একটা দুই ব্যান্ডের রেডিওই সম্বল।
সকাল বেলা স্কুলে যাবার সময় দেখতাম রেডিও তে বাবা ৭টার খবর শুনছেন।
দুপুরে স্কুল হতে ফিরলে ঐটা আবার আমার সম্পত্তি। বিজ্ঞাপণ তরঙ্গ, অনুরোধের আসর আরো কি কি যেন!
সন্ধ্যায় আবার বাবার হাতে। বিবিসি-ভয়েস অফ আমেরিকা।
এর পর আস্তে আস্তে বাসায় ক্যাসেট প্লেয়ার এলো। এলো টিভি- প্রথমে সাদা কালো পরে রঙিন।
সেই পথ ধরে কম্পিউটার। কোথায় হারিয়ে গেলো সেই সব রেডিওর দিন।
মাঝে মাঝে নষ্টালজিক হয়ে ভাবতাম।
এর মধ্যেই একদিন শুনলাম এফএফ রেডিওর কথা। জানতে পারলাম তরুণ সমাজের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এটি।
তখনো NOKIA1100 সেট ব্যবহার করি, তার উপর সারাক্ষন কানে হেডফোন লাগিয়ে রাখাটা আমার একেবারে অসহ্য বলে এফএম এর প্রোগাম শোনার সৌভাগ্য হলো না। কিন্তু, ভালই লাগছিল। যাক, পুরনো জিনিস তো ফিরে এলো।
সুযোগটা পেলাম গত বছর। অফিসে জয়েন করার পর প্রথম চার মাস আমাকে শুধু সাইটে সাইটে দৌড়াতে হয়েছে। অফিসের গাড়ি করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একবার এখানে, আরেকবার ওখানে- মহা বিরক্তিকর!
এর মধ্যেই আবিষ্কার করলাম ড্রাইভারের এফএম শোনার নেশা। এদিকে আমি কিছু মনে করি কীনা এই ভয়ে আমি গাড়িতে উঠলেই বন্ধ আবার নেমে গেলেই চালু!
দু'তিনদিন পর অভয় দিয়ে বললাম যে, সে চাইলে শুনতে পারে। আসলে, আমারও ঐ দিল্লীকা লাড্ডু খেতে মন চাইছিল। কী এমন প্রোগ্রাম হয়- ছেলে পেলে সব পাগল! শোনা যাক।
দুই তিনদিন পর বুঝে গেলাম-এইটা কী চিজ!
"ডিয়ার লিস্নারস্"- শুনলেই আমার মাথা গরম।
এদিকে নিজে থেকেই অনুমতি দিয়ে ফেলায় ড্রাইভারকে তো আবার বন্ধ ক্রে দিতেও বলতে পারি না!
বাঙলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের চিটাগাঙের ভাষার উপর মহাখেপা। তাঁরা বলেন, আমরা বাঙলা ভাষার দফারফা করে দিয়েছি। এ অভিযোগ আমরা কখনো নতমুখে আবার কখনো হাসিমুখেই মেনে নিই। কিন্তু, বাঙলাদেশের এফএম এর আরজে (RJ-Radio Jokey) দের ভাষা শুনে আমার মনে হলো আমরা অনেক ভালো। আর যাই হোক নিজেদের স্বকীয়তা বিসর্জন দিই নি।
অবশ্য, একটা ভালোদিক না বললেই নয়। নতুন নতুন বাঙলা গান সহজেই শোনা যেত তখন।
কিন্তু, "ডিয়ার লিস্নারস্, নাও আপণাদেড় ষোণাবো অমুক শিল্পীর একটা ফাটাফাটি সং, সো লেটস্ এনজয়!"- গানের শুরুতে এই বাক্য শুনলেই মন তেতো হয়ে যেত। এখানে নিজস্বতা কোথায়?
কিভাবে যে সে ক'মাস পার করেছিলাম! দুঃস্বপ্নের মত। রাতে বোধ হয় এজন্যই ভালো ঘুম হোত না।
তারপর একদিন। আমি ডেস্কে বদলি হয়ে এলাম।
আহ! এখন আর এফএম শুনতে হয় না। আমি নিজের পিসিতে বসে পছন্দমত গান শুনি। দরকার মত ডাউনলোড করি। অনেক সুখে আছি। রাতে ভালো ঘুম হয়। (এত ঘুমাই যে, মাঝে মাঝেই অফিসে দেরী হয়ে যায়!)
যাইহোক এফএফএর ভাল-মন্দ নিয়ে অনেক ক্যাঁচাল হয়েছে। আমি আর বাড়াতে চাই না।
যারা এফএম এ আসক্ত তাদের প্রতি আমার কোন রাগ-খেদ কিংবা বিতৃষ্ণা নেই। কেউ মানতে পারুক আর নাই পারুক পরিবর্তন আসবেই। দেখার বিষয় হলো যে, এই পরিবর্তনটুকু আমাদের কতটা উপকারে আসছে।
এফএম নিয়ে সম্প্রতি লেখা একটা পোষ্ট
এছাড়া ও , ২০০৬ এর ডিসেম্বরে ব্লগার একরামুল হক শামীম ৭ পর্বের একটা তথ্যবহুল সিরিজ লিখেছিলেন।
প্রথমটার লিঙ্ক দিলাম ।
মন ভাল করতে বেশী বেশি গান শুনুন। ভালো থাকুন সবাই।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


