somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলামে মুসলিম-অমুসলিম সম্পর্কঃ একটি অ-কৈফিয়তমূলক আলোচনা পর্ব-২

১৩ ই আগস্ট, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিগত পর্বে আমরা দুইটি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে আলোচনার ইতি টেনে ছিলাম।
এক. ব্যক্তিগত পর্যায়ে একজন অমুসলিমের মৌলিক মানবীয় অধিকারের প্রতি ইসলামের পূর্ণ শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে শুধুমাত্র মানুষ না বলে 'অমুসলিম' অভিধায় অভিহিত করা হচ্ছে?
দুই. মানুষ হিসেবে মুসলিম-অমুসলিমের জীবন ও সম্পদের মূল্য সমান ঘোষনা দেয়া সত্ত্বেও তাঁকে ‘জিম্মী’ নামে অভিহিত করে আলাদাভাবে ‘জিয্‌ইয়া কর’ চাপিয়ে দিয়ে কেন তাঁকে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিকে পরিণত করা হচ্ছে?


আজ প্রথম প্রশ্নটির উত্তর দেয়ার চেষ্টা করলাম। সেই সাথে, ইসলাম অনুমোদিত অমুসলিমদের সাধারণ নাগরিক অধিকার নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

এ প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার আগে আমরা একটু আপাতঃ অপ্রাসঙ্গিকভাবে ‘ইসলাম’(الإسلام) শব্দটির বুৎপত্তি(Etymology) নিয়ে কথা বলি। আরবী ক্রীয়াপদ ‘আস্‌লামা’ হতে ইসলাম শব্দের উৎপত্তি বলে অনেকেই মত দিয়েছেন, যার অর্থ আত্মসমর্পন করা, নিবেদন করা। তার মানে দাঁড়ালো এই যে, আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন করা বা আত্মনিবেদন করার নামই হচ্ছে ইসলাম। এই দৃষ্টিকোন থেকে পৃথিবীতে দুই ধরনের মানুষ থাকা সম্ভব- যিনি আত্মসমর্পন করেছেন আর যিনি করেন নি।

এবার আরেক দিকে লক্ষ্য দেয়া যাক। পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত মানুষের জীবনের কোন একটি দিক বা বিভাগ কিংবা সমস্ত জীবন নিয়ে কাজ করেছে এমন যতগুলো ভাল-মন্দ মতবাদ-মতাদর্শ প্রবর্তিত হয়েছে, তাতে কাজের সুবিধার্থে সুস্পষ্টভাবেই মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ধনী-গরীব, শাসক-শোষিত, মালিক-শ্রমিক, সাদা-কালো, আর্য-অনার্য- এরকম দ্বি-বিভাজনের শত শত উদাহরণ দেয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে ইসলামও ব্যতিক্রম কিছু করে নি, যদিও প্রতি মূহুর্তে এটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, সকল মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একই উৎস জাত। কুরআন তাই বলছে, “হে মানবমন্ডলী! আমি তোমাদের এক নারী ও এক পুরুষ থেকেই সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি...... নিঃসন্দেহে তোমাদের মাঝে সবচেয়ে খোদাভীরু লোকটিই আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়...(৪৯,১৩)”। জন্ম পরিচয় নয়, বর্ণ নয়, অর্থনৈতিক অবস্থা নয়, কেবলমাত্র মানুষের কর্মই তাকে অন্যের চেয়ে আলাদা করছে। আর এই কথারই প্রতিধ্বনি করলেন মুহাম্মাদ(স) তাঁর বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক ভাষনে। “অজ্ঞানতার যুগের সকল বিধিবিধান আজ আমার দুই পদতলে। হে মানুষ! তোমরা সকলেই আদমের সন্তান আর আদম মাটির তৈরী। অতএব শুনে রাখো, মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। আরবের ওপর কোনো অনারবের, অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তেমনি সাদার ওপর কালোর বা কালোর ওপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহ্‌র কাছে বেশি সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী, যে আল্লাহ্‌কে ভালোবাসে।” এ সময়েই (অনেকের মতে) কুরআনের শেষ আয়াত “আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের জীবনবিধান(দ্বীন)কে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহকে সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম” নাযিল হয় আর এভাবে, “ইসলামকে আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবনব্যবস্থা” হিসেবে ঘোষনা দিয়ে মুসলিম-অমুসলিমের চলার পথকে ভিন্ন বলে চুড়ান্ত আখ্যা দেয়া হয়।

(উল্লেখ্য যে, এই বিভাজন রেখা কতটুকু সঠিক কিংবা বাস্তবসম্মত তা ভিন্ন আলোচনার বিষয়। এখানে, আমরা শুধু এই বিভাজনের ভিত্তিতে সামষ্টিক পরিমন্ডলে ইসলাম মুসলিম-অমুসলিম সম্পর্কের যে রূপরেখা প্রনয়ন করেছে তা নিয়ে আলোচনা করছি।)

এবার আসা যাক দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর প্রসঙ্গে। কিন্তু, সে প্রশ্নের সাথে সাথে অবধারিতভাবেই আরেকটি বিষয় চলে আসে- ‘ইসলামী রাষ্ট্র’। কেননা, ‘জিম্মী’, ‘জিয্‌ইয়া’ প্রভৃতি বিষয় কেবলমাত্র দৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, অন্যথায় নয়। সত্যিকার অর্থে ,ইসলামী রাষ্ট্র বলে আদৌ কিছু আছে কীনা কিংবা থাকলেও আধুনিক যুগে তার স্বরূপ কেমনতর হবে, সে সব নিয়ে ব্যাপক তর্ক-বিতর্ক রয়েছে, যা আমাদের এই আলোচনার সাথে অপ্রাসঙ্গিক। আপাততঃ ইসলামী রাষ্ট্র বলতে আমরা এমন একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রকে বুঝব, যার মূলনীতি হচ্ছে কুরআনে বর্ণিত রাষ্ট্র দর্শন ও তার আলোকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মুহাম্মাদের(স) ভূমিকা। আর খোলাফায়ে রাশেদার অনুসৃত নীতি যে রাষ্ট্রের ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যখন সেই রাষ্ট্রের গৃহীত আদর্শ ঐ রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুসৃত ও সমর্থিত বিশ্বাসগত আদর্শ হতে উৎসারিত হয়। ইসলাম সকল মানুষের জন্য এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে চায় যেখানে সকল কিছুর উর্ধ্বে আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করে ইসলামী জীবনব্যবস্থার উপর বিশ্বাস স্থাপনকারী একদল মানুষ একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডে নির্ভেজাল গনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি সরকার নির্বাচিত করবে।

(ইসলামী রাষ্ট্রের উক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহের সমর্থনে কুরআন-সুন্নাহ হতে একাধিক প্রমান হাজির করা যায়- সেদিকে যাচ্ছি না)

তার মানে দাঁড়ালো এই যে, ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা তাঁদেরই আছে, যাঁরা ইসলামী আদর্শের প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল। তাহলে, প্রশ্ন ওঠে, ইসলামী আদর্শের প্রতি যাঁরা আস্থাশীল নন তাঁদের অর্থাৎ অমুসলিমদের জায়গা কোথায়? কী করা হবে তাঁদের নিয়ে? এথনিক ক্লিঞ্জিঙের(Ethnic Cleansing) নামে দলে দলে দেশ থেকে বের করে দেয়া হবে, যেমন ইদি আমিন করেছিলেন উগান্ডায়(১৯৭২), ইসরাঈল করেছে ফিলিস্তীনে(১৯৪৮) কিংবা এই উপমহাদেশে করেছে ভারত-পাকিস্তান(১৯৪৭)? নাকি সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত করে রাষ্ট্রের এক কোনায় নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয়া হবে, যেমন করেছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের স্ট্যালিন কমিউনিজমের বিরোধীদের সাইবেরিয়ায় কিংবা জার্মানির হিটলার অনার্য ইহুদীদের কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পগুলোতে নির্বাসন দিয়ে। আবার আরেকটা বিষয়ও করা যায়। কাগজে-কলমে আইন করে সমান অধিকারের ঘোষনা দিয়ে কার্যতঃ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার না দেয়া, যার চর্চা এখনো পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই করা হচ্ছে।

সমস্যা হচ্ছে, ইসলাম নিজেকে সকল মানুষের জন্য গ্রহনযোগ্য আদর্শ বলে মনে করে। আর মানুষের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে কোনরকমের লুকোচুরির সুযোগ ইসলামে নেই। যেহেতু, অমুসলিমরা ইসলামী রাষ্ট্রের নীতি ও আদর্শের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করেন না সেহেতু, স্বাভাবিকভাবেই এই রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারনী কিছু পদ এবং দায়িত্ব তাঁদের হাতে তুলে দেয়া যায় না। এর বাইরে, তাঁদের সকল প্রকার অধিকারকে ইসলামী রাষ্ট্রে কার্যকরভাবে স্বীকার করে নেয়া হয় এবং বাস্তবে তার চর্চা করা হয়।

এতো গেল, ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে সামষ্টিক পর্যায়ে অমুসলিম সম্প্রদায়ের সম্পর্কের মূল সুত্র। এবার, ইসলাম নির্ধারিত সীমারেখার অভ্যন্তরে এ সম্পর্কের বিস্তারিত রূপরেখা আলোচনার পালা।

এক্ষেত্রে প্রথমেই অমুসলিম নাগরিকদের শ্রেনীবিভাগ জানা থাকা প্রয়োজন। একটি ইসলামী রাষ্ট্রে তিন ধরনের অমুসলিম নাগরিক বসবাস করতে পারেন।
১. রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে ঐ রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডে বসবাসকারী অমুসলিম নাগরিকবৃন্দ যাঁরা আপনাআপনিই(জন্মসূত্রে) এই রাষ্ট্রের নাগরিক।
২. রাষ্ট্র গঠিত হয়ে যাওয়ার পর যুদ্ধ কিংবা শান্তিচুক্তির মাধ্যমে যে সব ভূখন্ড রাষ্ট্রের অন্তর্ভূক্ত হয়, তাতে বসবাসকারী অমুসলিম নাগরিকবৃন্দ।
৩. ভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, পর্যটক, তীর্থযাত্রী, শিক্ষার্থী- প্রভৃতি অস্থায়ী নাগরিক।

প্রথমেই এই তিন শ্রেনীর নাগরিকের সাধারণ অধিকারগুলো দেখে নেয়া যাক।

মানুষ হিসেবে একজন অমুসলিম অন্য মুসলিমের সমান মর্যাদার অধিকারী। তার প্রানের মূল্য মুসলিমের প্রানের মূল্যের সমান। দু’জনেই একই পরিমান নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখে। একজন মুসলিমকে হত্যার শাস্তি আর অমুসলিমকে হত্যার শাস্তি ইসলামে একই। একজন মুসলিম ব্যক্তি আরেক অমুসলিমকে হত্যা করলে রাসুলল্লাহ(স) তাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন এবং বলেন, “যে নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়া হয়েছে, তার রক্তের বদলা নেয়ার দায়িত্ব আমারই”। এ কারনেই উমরের(রা) হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে দুই অমুসলিম ব্যক্তিকে উমরের(রা) সন্তান উবায়দুল্লাহ(রা) হত্যা করলে পরবর্তী খলিফা উসমান(রা) তাঁকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন। আলী(রা) বলেছেন, “আমাদের অধীনস্থ অমুসলিম নাগরিকের রক্ত আমাদের রক্তের মতই এবং তার রক্তপণ আমাদের রক্তপণের মতই”। এবং এই নিরাপত্তা চিরস্থায়ী। যে চুক্তির ভিত্তিতে অমুসলিমরা ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেছেন, তা কোন পরিস্থিতিতেই মুসলিমদের পক্ষ হতে ভঙ্গ করা যাবে না এবং এ নিরাপত্তা দিয়ে যেতে হবে। এমনকি, অন্য রাষ্ট্রে যদি মুসলিমদের উপর গনহত্যাও চালানো হয়, তবুও তার প্রতিশোধ এঁদের উপর নেয়া যাবে না।

আইনের দৃষ্টিতেও মুসলিম-অমুসলিম সমান। তবে, কিছু কিছু ব্যাপারে অমুসলিমদের ছাড় দেয়া হয়েছে। মদ্যপানের ব্যাপারে মুসলিমদের উপরে যে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, তা অমুসলিমের জন্য প্রযোজ্য নয়। একই কারনে, নিজস্ব গন্ডির ভেতরে ব্যাভিচারের শাস্তির ব্যাপারেও অমুসলিমদের ছাড় দেয়া হয়েছে। যেসব বিষয়ে অমুসলিমদের ধর্মীয় আইন রয়েছে(যেমন-পারিবারিক আইন), সে সব বিষয়ে কথা বলার কিছু নেই। আবার, ইসলাম ত্যাগীর(মুরতাদ) ব্যাপারে ইসলামী রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু, যদি কোন অমুসলিম নাগরিকের প্ররোচনায় ঐ মুসলিম ব্যক্তি মুরতাদ হয়ে যায়, তবুও সেই অমুসলিম নাগরিককে আইনের আওতায় আনার সুযোগ নেই। আর পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে তো, অমুসলিমরা তাঁদের ধর্মোৎসারিত নিজস্ব পারিবারিক আইনের আওতাভুক্ত, কোন মতেই মুসলিম পারিবারিক আইনের অধীন নন।

যে কোন পরিস্থিতিতে ধর্মাচরনের ব্যাপারে অমুসলিম নাগরিক পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করেন। যে এলাকায় মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সে এলাকা ছাড়া ইসলামী রাষ্ট্রের যে কোন এলাকায় তাঁরা ধর্মপ্রচার, উপাসনালয় নির্মান সহ সকল ধর্মীয় আচার-আচরন পালন করতে পারবেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে তাঁদের সকল প্রকার ধর্মাচরনের অনুমতি থাকলেও ধর্মপ্রচার ও উপাসনালয় নির্মানের সুযোগ নেই। কিন্তু, তাদের কোন উপাসনালয়, (তা সেটি ইসলামী রাষ্ট্রের যেখানেই অবস্থিত হোক) ইসলামী রাষ্ট্রের কাছ হতে পূর্ণ নিরাপত্তা লাভের দাবীদার।

জীবিকা নির্বাহের জন্য ইসলাম নির্ধারিত যে কোন হালাল উপায় গ্রহনে অধিকার মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলেরই আছে। কিন্তু, নিজস্ব এলাকায় অমুসলিমরা সুদভিত্তিক, মদ্য ব্যবসা(যা ইসলামে নিষিদ্ধ) ইত্যাদি চালাতে পারবে। রাষ্ট্র প্রধান, সেনাপ্রধান, প্রধান বিচারপরিত মত কিছু নীতিনির্ধারনী পদ ব্যতীত রাষ্ট্রের যে কোন পদে যোগ্যতার ভিত্তিতে মুসলিমদের সাথে সাথে অমুসলিমরাও নিয়োগ পাওয়ার অধিকার রাখেন।

শিক্ষালাভের ক্ষেত্রে তাঁরা পূর্ণ অধিকার রাখেন। রাষ্ট্রে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার অধীনেই তাঁরা শিক্ষা গ্রহন করতে পারবেন। কিন্তু, ইসলামের বিধিবিধান সংক্রান্ত বিষয়াদি পড়তে তাঁরা বাধ্য নন। অন্যদিকে, স্ব স্ব ধর্মীয় বিধিবিধান শিক্ষালাভের পূর্ণ অধিকার তাঁদের রয়েছে।

সংক্ষেপে, এই হচ্ছে মোটামুটিভাবে অমুসলিমদের সাধারণ নাগরিক অধিকার যা অন্যান্য মুসলিমদের অধিকারের সাথে তুলনামূলকভাবে প্রায় একই সমান। পরবর্তী পর্বে(আশা করছি, শেষ পর্ব) জিম্মী, জিয্‌ইয়া এবং অন্যান্য ব্যতিক্রমী বিষয় নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হবে।

ইসলামে মুসলিম-অমুসলিম সম্পর্কঃ একটি অ-কৈফিয়তমূলক আলোচনা পর্ব-১
১৩টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×