somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মঙ্গল শোভাযাত্রা : নববর্ষ উৎসবের অংশ হয়ে উঠার ইতিহাস

১৪ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাঙালির বর্ষবরনের আনন্দ আয়োজনে মিশে আছে মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম। মঙ্গলের জন্য শোভাযাত্রা ঢাকার বৈশাখী উৎসবে দিয়েছে নতুন মাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই শোভাযাত্রায় চারুকলার শিক্ষক শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন স্তরের, বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে।

ছায়ানটের বর্ষবরণ উৎসবের পাশপাশি নববর্ষের উৎসবকে আরো জাকঝমকপূর্ণ করে তুলতে শুরু হয়েছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। শুরু থেকেই এই শোভাযাত্রা জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এই শোভাযাত্রায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিকী শিল্পকর্ম বহন করা হয়। থাকে বাংলা সংস্কৃতির পরিচয়বাহী নানা প্রতীকী উপকরন, রং বেরংয়ের মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিলিপি।

যেভাবে শুরু :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হয়েছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা।[১] সে বছরই লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয় এই আনন্দ শোভাযাত্রা। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক শিক্ষার্থীগন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এই আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে প্রথম বারের মতো। শোভাযাত্রায় থাকে বিশালকায় চারুকর্ম পাপেট, হাতি ও ঘোড়াসহ বিচিত্র সাজসজ্জা। থাকে বাদ্যযন্ত্র ও নৃত্য।[২] পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষ্যে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু থেকেই জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়। তারপরের বছরও চারুকলার সামনে থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। তবে সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী জানা যায়, সে বছর চারুশিল্পী সংসদ নববর্ষের সকালে চারুকলা ইন্সটিটিউট থেকে বর্ণাট্য আনন্দ মিছিল বের করে।[৩] শুরু থেকেই চারুকলার শোভাযাত্রাটির নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল না। নববর্ষ উপলক্ষ্যে আনন্দ শোভাযাত্রার স্বপ্নদ্রষ্টাদের একজন মাহবুব জামাল শামীম এমনটাই বলেছেন। তিনি জানান, তখন এর নাম ছিল বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা। সেই সময়ের সংবাদপত্রের খবর থেকেও এমনটা নিশ্চিত হওয়া যায়। সংবাদপত্র থেকে যতোটা ধারণা পাওয়া যায়, ১৯৯৬ সাল থেকে চারুকলার এই আনন্দ শোভাযাত্রা মঙ্গল শোভাযাত্রা হিসেবে নাম লাভ করে।[৪] তবে বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে আনন্দ শোভাযাত্রা চারুকলায় ১৯৮৯ সালে শুরু হলেও এর ইতিহাস আরো কয়েক বছরের পুরানো। ১৯৮৬ সালে চারুপীঠ নামের একটি প্রতিষ্ঠান যশোরে প্রথমবারের মতো নববর্ষ উপলক্ষ্যে আনন্দ শোভযাত্রার আয়োজন করে। যশোরের সেই শোভাযাত্রায় ছিল পাপেট, বাঘের প্রতিকৃতি, পুরানো বাদ্যসহ আরো অনেক শিল্পকর্ম। শুরুর বছরেই যশোরে সেই শোভাযাত্রা আলোড়ন তৈরি করে। যশোরের সেই শোভাযাত্রার উদ্যোক্তাদের একজন মাহবুব জামাল শামীম মাস্টার্স ডিগ্রি নিতে পরে ঢাকার চারুকলায় চলে আসেন। পরবর্তীতে যশোরের সেই শোভাযাত্রার আদলেই ঢাকার চারুকলা থেকে শুরু হয় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।[৫] নববর্ষ উপলক্ষ্যে বাঙালির সংস্কৃতিতে যোগ হয় নতুন মাত্রা।

মঙ্গল শোভাযাত্রার বিবর্তন :


১৯৮৯ সালে প্রথম আনন্দ শোভাযাত্রায় ছিল পাপেট, ঘোড়া, হাতি। ১৯৯০ এর আনন্দ শোভাযাত্রায়ও নানা ধরনের শিল্পকর্মের প্রতিকৃতি স্থান পায়। ১৯৯১ সালে চারুকলার শোভাযাত্রা জনপ্রিয়তায় নতুন মাত্রা লাভ করে। চারুকলা ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিল্পীদের উদ্যোগে হওয়া সেই শোভাযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর, বিশিষ্ট লেখক, শিল্পিগণ-সহ সাধারণ নাগরিকরা অংশ নেয়। শোভাযাত্রায় স্থান পায় বিশালকায় হাতি, বাঘের প্রতিকৃতির কারুকর্ম। কৃত্রিম ঢাক আর অসংখ্য মুখোশখচিত প্ল্যাকর্ডসহ মিছিলটি নাচে গানে উৎফুল্ল পরিবেশ সৃষ্টি করে। ১৯৯২ সালের আনন্দ শোভাযাত্রার সম্মুখে রং বেরংয়ের পোশাক পরিহিত ছাত্র-ছাত্রীদের কাঁধে ছিল বিরাট আকারের কুমির। বাশ এবং বহু বর্ণের কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল কুমিরটি। ১৯৯৩ সালে ‘১৪০০ সাল উদযাপন কমিটি’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরর চারুকলা ইন্সটিটিউটের সামনে থেকে বর্ণাট্য শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রার আকর্ষণ ছিল বাঘ, হাতি, ময়ুর, ঘোড়া, বিভিন্ন ধরনের মুখোশ। চারুকলার সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় দিয়ে শিশু একাডেমি হয়ে পুনঃরায় চারুকলায় এসে শেষ হয়।


তথ্যসূত্র

১. রমনার বটমূলে জাতীয় উৎসবে, নওয়াজেশ আহমদ, দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ এপ্রিল ২০০৮।
২. পহেলা বৈশাখ উদযাপিত, দৈনিক ইত্তেফাক, ১৬ এপ্রিল ১৯৮৯। পৃ ৭
৩. পহেলা বৈশাখ উদযাপিত, দৈনিক ইত্তেফাক, ১৭ এপ্রিল ১৯৯০। পৃ ২
৪. বাঙালির বর্ষবরণ মিলন মেলায়, দৈনিক আজকের কাগজ, ১৬ এপ্রিল ১৯৯৬। পৃ ২
৫. মাহবুব জামাল শামীম, একান্ত সাক্ষাৎকার, ৩১ মার্চ ২০০৯।


(লেখাটি অসমাপ্ত একখান লেখা। কবে যে শেষ করবো তাও জানি না। তবে আগামি বছর পহেলা বৈশাখ আসার আগেই লেখাটা শেষ করা ইচ্ছা আছে। :P)

############
বাংলা নববর্ষ শুরু হয় সূর্যোদয়ের সাথে সাথে। এখনো সূর্যোদয় হতে বেশ সময় বাকি। তারপরেও সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। আনন্দময় হোক জীবন।
আনন্দধারা বহিছে ভূবনে..............................
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৫৭
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যদি প্রেম দাও, ভালোবাসা দাও

লিখেছেন সঞ্চারিণী, ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৩:৫৭


যে চোখে তোমার চোখ
ভালোবাসা খুঁজে ব্যর্থ মনোরথ,
ফিরিয়ে নাও চোখ; সেই চোখ থেকে,
দেখ- অপেক্ষমান হাজার কাতর চোখ;
চেয়ে আছে তোমার দিকে।
একটু ভালোবাসা, একটু আদর, একটু স্নেহের পরশ
কেমন; বাঁচিয়ে দেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামু লগইনে নতুন সমস্যা

লিখেছেন প্রামানিক, ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:০৩


গতকাল থেকে নতুন সমস্যায় পড়েছি। লগইন থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে লগআউট হয়ে যায় এরপর ওই কম্পিউটারে আর লগইন হয় না। অন্য কম্পিউটারে লগইন করলে লগইন হয় কিন্তু কিছুক্ষণ পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

৬ বছর ৬ মাসে আমার ১৫০ তম পোষ্ট : ক্যামনে পার? (উৎসর্গ: সাদা মনের মানুষ )

লিখেছেন এই আমি রবীন, ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:৪৮



ছবি: গুগল

এইযে একখান পোষ্ট দিলা,
তেষট্টি কমেন্টস রিপ্লাই দিলা
আমার পোষ্টেও লেইখা গেলা
ক্যামনে পার, ক্যামনে পার?

সামুতে যখন বাংলা লিখি
চারটা লিখে তিনটা 'ব্যাক' চাপি
তখন শুধু লিখি আর ভাবি
ক্যামনে পার, তুমি ক্যামনে পার?

সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুরআন মানব রচিত পুস্তক,তার প্রমান

লিখেছেন বিবেক ও সত্য, ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:৫১

কুরান মুহাম্মদের লেখা...
মুহাম্মদ নিজ স্বার্থ উদ্ধারে কুরানের আয়াত ডাউনলোড দিতেন...

এইটা বুঝতে রকেট সায়েন্স জানা লাগে না...
তবে, একটু কমনসেন্স লাগে...

শুধুমাত্র একটি আয়াত ভালোমত পর্যবেক্ষন করলেই বুঝতে পারবেন মুহাম্মদের চালাকি। কোন আয়াতটা?... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর কিছু ব্যতিক্রমধর্মী মসজিদ।

লিখেছেন মাহিরাহি, ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:০২

মসজিদগুলো ব্যতিক্রমধর্মী



মালির মাটি দিয়ে তৈরি মসজিদ।



চিনের মসজিদ।




জার্মানির কলোনে অবস্থিত।



মালেশিয়া



সল্ট মসজিদ, পাকিস্তান



ভুপাল, ভারত



Nusrat-Djahan-Mosque-Copenhagen




Marree Mosque, Australia
১৮৬১... ...বাকিটুকু পড়ুন

×