somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিশুর খাদ্য ও পুষ্টি

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিশুর স্বাস্থ্য সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে মা-বাবার উপর। কিন্তু শিশুকে ভালভাবে খাওয়ানো বেশিরভাগ মায়ের কাছে একটা সমস্যা। কারন খিদে পেলে শিশুরা বলতে পারে না। খাওয়াটা তার জন্য যথেষ্ট হয়েছে কিনা, তার তৃপ্তি হল কিনা সেটা শিশু সরাসরি বোঝাতে পারেনা। তাই অনেক সময় বিশেষ করে নতুন মায়েদের জন্য শিশুকে ভালভাবে খাওয়ানো একটা সমস্যা। আমাদের দেশের মায়েদের এ বিষয়ে শিক্ষা দেবার কোন বিধিবদ্ধ নিয়ম নেই। শুধু মা-দাদিদের অভিজ্ঞতালব্ধ পরামর্শ একমাত্র সম্বল। অথচ তাদের পরামর্শ অনেক ক্ষেত্রেই কুসংস্কার ও অবৈজ্ঞানিক ধ্যানধারণায় পরিপূর্ণ। সেইজন্য অনেক সময় এসব পরামর্শে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই হয় বেশি। উল্লেখ্য যে নানাবিধ অশিক্ষা, কুশিক্ষা ও কুসংস্কার আমদের দেশে শিশু মৃত্যুর উচ্চহার ও শিশুদের ব্যাপক অপুষ্টির প্রধানতম কারন।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে অনেক শিশুকে মায়ের প্রথম দুধ কোলস্ট্রাম দেয়া হয় না। এটা একটা কুসংস্কার ও অজ্ঞতা। অথচ মায়ের প্রথম দুধ (যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় শালদুধ) শিশুদের জন্য অত্যান্ত প্রয়োজনীয়। এতে রয়েছে নানাধরনের মারাত্মক রোগ প্রতিরোধক উপাদান। জন্ম থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর জন্য মায়ের দুধই যথেষ্ট। এ বয়সে শিশুর যে পরিমাণ পুষ্টির প্রয়োজন মায়ের দুধে তা সব রয়েছে। শিশুর বয়স ছয় মাসের বেশি হলে তার পুষ্টি চাহিদা বেড়ে যায়। তখন শুধু মায়ের দুধে পুষ্টি চাহিদা মেটেনা। তাই মায়ের দুধের সাথে পরিপূরক বা আলগা খাবার দেয়ার প্রয়োজন হয়। শিশুকে পরিপূরক খাবার ভালভাবে খাওয়াতে হলে, শিশুকে বোঝা প্রয়োজন। শিশুর মনমানসিকতা, দৈহিক ক্ষমতা, পাকস্থলীর আকার, শিশুর পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি সম্বন্ধে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন এসবের সাথে শিশুর খাওয়াদাওয়া সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো শিশুকে খাওয়ানের পূর্বে আদর করে উৎফুল্ল করে তুলতে হবে। খাবারটা শিশুর সামনে তৈরি করলে অনেক সময় খাবার প্রতি শিশুর আগ্রহ বাড়ে। খাবার তৈরি হতে হতে থাকলে শিশু মানসিকভাবে খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে ও ধীরে ধীরে খাওয়ার জন্য এগিয়ে আসে। খাওয়ার সময় শিশুর সাথে অনবরত কথা বলতে হবে। বিভিন্ন ধরনের আদর সূচক কথা শিশুকে খাওয়ার দিকে মনযোগী করে। শিশুকে খাওয়ানোর সময় মায়েদের খেয়াল করতে হবে শিশুর পাকস্থলীর আকারের প্রতি, যেন জোর করে শিশুকে অতিরিক্ত না খাওয়ানো হয়। অতিরিক্ত খাওয়ালে পুরো খাবারটাই বমি করে ফেলে দিবে। তাই পরিমাণ ঠিক রেখে শিশুকে বারবার খাওয়াতে হবে।


নিম্নে পরিপূরক খাবারের কয়েকটা গুনাগুণ আলোচনা করা হল-
১। শিশুর পরিপূরক খাবার হওয়া উচিত সুষম। অর্থাৎ শিশুর চাহিদা অনুসারে আমিষ, খাদ্যশক্তি, ভিটামিন, মিনারেল যথেষ্ট পরিমাণে খাওয়া উচিত।
২। পরিপূরক খাবার হতে হবে পুষ্টি ঘন। কারন শিশুর পাকস্থলী থাকে ছোট। তাই স্বল্প পরিমাণে খাবার যেন শিশুর পুষ্টি চাহিদা মেটে সেদিকে নজর রাখতে হবে।
৩। শিশুর পরিপূরক খাবার হওয়া উচিত নরম। শক্ত ও শুকনো খাবার শিশুরা খেতে পারে না।
৪। শিশুর খাবার হওয়া উচিত যেকোনো ধরনের মসলা-বিহীন এবং একটু মিষ্টিস্বাদযুক্ত।
৫। সবসময় শিশুর পরিপূরক খাওয়া উচিত তাজা। একবেলার রান্না খাবার অন্য বেলা খাওয়ানো উচিত না। বাসি খাবার খেলে শিশুর পেটের অসুখ হতে পারে।

“১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট জাতিসংঘে্র শিশু তহবিলের সহযোগিতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বয়সের শিশুদের জন্য কয়েকটি পরিপূরক খাবারের ফরমুলা তৈরি করেন। নিম্নে সেসব খাদ্যের বর্ণনা দেয়া হলঃ

১। ৬ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুদেরকে মায়ের দুধের সাথে পরিপূরক খাবার হিসাবে খাওয়াতে হবেঃ
নরম ভাতঃ ৩/৪ ছটাক চাউলের
রুটি দুধে ভিজিয়েঃ টেবিল চামচে প্রায় ২১/২ চামচ
ভাত নরম করে খিচুড়িঃ ২ চায়ের চামচ
আলু চটকিয়েঃ ছোট একটা
শাকপাতা ও অন্যান্য সবজি ভাতের সাথেঃ ১ ছটাক
কলা/ছোট একটা ডিম(সামর্থ্য থাকলে): ১ টা

২। ১-৩ বছর বয়সের বাচ্চাদের খাদ্য তালিকাঃ
ভাত, পিঠা, মুড়ি, চিড়াঃ ১৩/৪ ছটাক চাউলের
রুটি, বিস্কিটঃ ১ ছটাক আটার
ডালঃ (মাঝে মাঝে ডাল ও চালের খিচুড়ি, হাতের ১ থেকে ১১/২ মুষ্টি) নিরামিষ বা ভাজি (সাক,আলু, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, তেল ইত্যাদি)ঃ ১ ছটাক শাঁক, ১/২ ছটাক সবজি, ১ ছটাক আলু, গাজর, ২ চা চামচ তেল
মাছ মাংসের তরকারিঃ ১/৪ ছটাক সবজি, ৩/৪ ছটাক মুলা, ১/২ ছটাক মাছ বা মাংস,
২ চা চামচ দুধ-ভাত, পায়েসঃ ২ ছটাক
দুধ, দুধ-রুটি, সুজি রান্নাঃ ১/২ ছটাক চিনি বা গুড়
যে কোন ফলঃ একটা

৩। ৪-৬ বছর বয়সের বাচ্চাদের খাদ্য তালিকাঃ
ভাত, পিঠা, সুজি, মুড়ি, চিড়াঃ ২১/২ ছটাক চাউলের রুটি,
বিস্কিট, সুজিঃ ১ ছটাক গমের
ডালঃ ৩/৪ ছটাক (মাঝে মাঝে ডাল ও চালের খিচুড়ি)
নিরামিষ বা ভাজিঃ ১ ছটাক শাঁক, ৩/৪ ছটাক সবজি, ১ ছটাক আলু, গাজর;২ চা চামচ তেল
মাছ মাংসের তরকারিঃ ১/২ ছটাক সবজি, ১ ছটাক আলু, ১/২ ছটাক মাছ বা মাংস,
২ চা চামচ দুধ-ভাত, পায়েসঃ ২ ছটাক
দুধ, দুধ-রুটি, সুজি রান্নাঃ ১/২ ছটাক চিনি বা গুড়
যে কোন ফলঃ একটা
৪। ৭-৯ বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের দৈনিক খাদ্য তালিকাঃ



৫। ১০-১৮ বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের দৈনিক খাদ্য তালিকাঃ



তথ্যসূত্রঃ মা ও শিশুর পুষ্টি- ডঃ মুহম্মদ কবিরউল্ল্যা

বিদ্রঃ
১। রেফারেন্স বা তথ্যসুত্রবিহীন কোন লেখা পড়ে আপনার শিশুর স্বাস্থ্য ঝুকিতে ফেলবেন না।
২। ধৈর্য ধরে লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×