আমার প্রিয় পোস্ট

১৪২৯ হিজরীর হজ্ব উপলক্ষ্যে আরাফার ময়দানে প্রদত্ত খোতবার অনুবাদ (চতুর্থ পর্ব)

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:২০

শেয়ারঃ
0 0 1

মুসলিম উম্মাহ্,
মানুষের ‘নিরাপত্তার চাহিদা’ খাদ্য ও বস্ত্রের চাহিদার উপর প্রণিধানযোগ্য। কারণ নিরাপত্তা যদি বিঘ্নিত হয় তাহলে খাদ্যে কোন রুচি থাকে না, ঘুমের চাহিদা থাকে না, সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব হয় না। এ কারণে ইব্রাহীম খলিল (আঃ) তার দোয়ার মধ্যে খাদ্যের জন্য দোয়া করার আগে নিরাপত্তার জন্য দোয়া করেছেন। তিনি বলেন, “হে আমার প্রতিপালক, এই শহরকে আপনি নিরাপদ এলাকায় পরিণত করেন এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ্‌র প্রতি ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে তাদেরকে ফল-ফলাদি দিয়ে জীবিকা দিন।”[সূরা বাকার ২:১২৬] আল্লাহ্ তাআলা তার দোয়ায় সাড়া দিয়ে বলেন, “আর যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ।”[সূরা আলে ইমরান ৩:৯৭] তিনি আরো দোয়া করেন, “হে আমার প্রতিপালক, আমি আমার বংশধরদের কতক সদস্যকে আপনার পবিত্র গৃহের নিকটে এক চাষাবাদহীন উপত্যকায় বসবাসের জন্য রেখে যাচ্ছি।”[সূরা ইব্রাহীম ১৪:৩৭] আল্লাহ্ তাআলা তার দোয়ায় সাড়া দেন এবং এ শহরকে সভ্যতা-সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু বানান, মুসলমানদের মিলনভূমিতে পরিণত করেন। “এবং যখন আমি কাবাগৃহকে মানবজাতির জন্য মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদস্থল বানালাম।”[সূরা বাকারা ২:১২৫] নিরাপত্তা ও ঈমানের মাধ্যমে মানুষ ঐক্যমতে পৌঁছতে পারে, জীবনের শোভা বিকশিত হয়, উম্মাহ্‌র ঐক্য সংঘটিত হয়, ন্যায় বিস্তার লাভ করে, ঈমানের নিদর্শনগুলো জীবন্ত হয়ে উঠে, জীবন-জীবিকা সহজলভ্য হয়। নিরাপত্তা হচ্ছে সবচেয়ে বড় সুখ। যে ব্যক্তি তার আবাসস্থলে নিরাপত্তা অনুভব করে এবং শারীরিকভাবে সে সুস্থ আর দিনানিপাত করার মত খাদ্য তার কাছে থাকে পৃথিবীর সকল সুখ যেন তার ঘরেই আছে।

নিরাপত্তার এই নেয়ামত অর্জনের জন্য কতগুলো উপায় গ্রহণ করতে হবে। সর্বপ্রধান উপায় হল- ব্যক্তির বিশ্বাসকে সংশোধন করা। শিরক থেকে ঈমানকে পুতঃ পবিত্র করা এবং আমলকে সুন্দর করা। “তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ্ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসনকর্তৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের ধর্মকে বুলন্দ করবেন, যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং ভয়-ভীতির পরিবর্তে তাদেরকে শান্তি দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না।”[সূরা নূর ২৪:৫৫] নিরাপত্তা অর্জনের আরেকটি উপায় হচ্ছে- শাসকবর্গের আনুগত্য করা এবং একমত পোষণ করা। “হে ঈমানদারেরা, তোমরা আল্লাহ্র আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের নির্দেশকর্তাদের। আর যদি কোন বিষয়ে তোমরা মত বিরোধ কর তাহলে সে বিষয়ের ফয়সালা আল্লাহ্ ও রাসূলের কাছ থেকে গ্রহণ কর; যদি তোমরা আল্লাহ্‌র প্রতি ও শেষদিবসের প্রতি ঈমানদার হয়ে থাক। এটাই কল্যাণকর এবং উত্তম নিষ্পত্তি।” [সূরা নিসা ৪:৫৯] এছাড়া নিরাপত্তা অর্জনের আরেকটি উপায় হল নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। নেয়ামতের শুকরিয়া করলে নেয়ামত স্থায়ী হয়, নিরাপত্তা অটুট থাকে। নিরাপত্তা অর্জনের আরেকটি উপায় হল- অপরাধী ও পাপাচারীকে দমন করার জন্য আল্লাহ্‌র তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফৌজদারী দন্ডবিধিগুলোর বাস্তবায়ন করা। যারা মানুষের রক্ত নিয়ে, ইজ্জত আব্রু নিয়ে হোলি খেলায় মেতে উঠে এদেরকে প্রতিরোধ কল্পে আল্লাহ্ তাআলা বিভিন্ন মাপের দন্ড, কিসাস (হত্যার বদলে হত্যা) এবং শাস্তিমূলক বিভিন্ন আইন নাযিল করেছেন। যেন এসব অপরাধীদেরকে দমন করা যায়। যাদের অন্তরে ঈমানী চেতনা অত্যন্ত ক্ষীণ। যার ফলে ওয়াজ-নসিহত, ভীতির উদ্রেককারী বক্তৃতা তাদেরকে অপরাধ থেকে বিরত রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। নিরাপত্তা অর্জনের আরেকটি উপায় হল - সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা। কারণ সৎকাজের আদেশ দান ও অসৎকাজের নিষেধ অপরাধের মাত্রাকে সীমিত রাখে, মানুষের চরিত্রকে সুরক্ষা করে, ইজ্জত-আব্রুর হেফাযত করে। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এই উম্মতের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। বরং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা এই উম্মতের অন্যতম আখলাক। “তোমরাই সর্বোত্তম জাতি তোমাদেরকে মানুষের কল্যাণে বের করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দিবে, অসৎ কাজে থেকে নিষেধ করবে।”[সূরা আলে ইমরান ৩:১১০] সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের মাধ্যমে এই উম্মত পৃথিবীতে কর্তৃত্ব লাভ করবে। “তাদেরকে যদি আমি জমিনের ক্ষমতা দেই তাহলে তারা নামাজ কায়েম করে, যাকাত দেয়, সৎকাজের আদেশ করে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে। আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহ্‌র ইখতিয়ারে।”[সূরা হজ্ব ২২:৪১]
নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এর ফলাফল অত্যন্ত খারাপ। আল্লাহ্ মাপ করুক যদি কোথাও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় তাহলে সেখানের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। কেউ কারো কথা শুনে না। নিরপরাধ মানুষের রক্ত নিয়ে হোলি খেলা চলে, নারীদের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়, শিশুদেরকে হত্যা করা হয়, ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নেয়া হয়। নিরাপত্তা না থাকলে সেখানে জুলুম-অত্যাচার বেপরোয়া বেড়ে যায়, ন্যায়বিচার থাকে না, অজ্ঞতা-মূর্খতা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে, শান্তির পরিবর্তে সবর্ত্র ভয়ভীতি বিরাজ করে, সচ্ছলতার পরিবর্তে অভাব-অনটন দেখা দেয়। আল্লাহ্ আমাদেরকে ও আপনাদেরকে এমন দুরবস্থা থেকে হেফাযত করুন।

ও মুসলিম উম্মাহ্, ও মুমিন ভায়েরা,
এ কারণে নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য আমাদের ধর্মে জোর তাকিদ দেয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী সকল কিছু থেকে কঠোর নিষেধ করা হয়েছে। “নিশ্চয় আল্লাহ্ তাআলা দুষ্কৃতিকারীদের কর্মকে পূর্ণ হতে দেন না।”[সূরা ইউনুছ ১০:৮১] জেনে রাখুন, ইসলামের দৃষ্টিতে নিরাপত্তার অর্থটা এতটা সংকীর্ণ নয়। যে অর্থটা সচরাচর আমরা বুঝে থাকি। বরঞ্চ আমাদের ধর্মে নিরাপত্তার তাৎপর্যটা অনেক ব্যাপক। ইসলামে নিরাপত্তা মানে- মানবসমাজের দ্বীন ও দুনিয়ার যাবতীয় প্রয়োজনের নিরাপত্তা সাধন। চাই সে প্রয়োজন হোক দৈহিক অথবা আত্মিক। সে প্রয়োজন হোক কোন ব্যক্তির অথবা কোন জনগোষ্ঠীর। সে প্রয়োজন হোক শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের অথবা মুসলিম-অমুসলিম সকলের।

ইসলাম যে যে ক্ষেত্রে নিরাপত্তার কথা বলে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ব্যক্তির বিশ্বাসের নিরাপত্তা। ব্যক্তির সুমহান ইসলামী বিশ্বাসকে (আকীদা) রক্ষা করা। ইসলামী বিশ্বাসের পরিপন্থী সকল বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারনা থেকে একে আলগিয়ে রাখা। যেন সেসব কুফরী বিশ্বাস ব্যক্তির বিশ্বাসকে পাল্টে দিতে অথবা ত্রুটিযুক্ত করতে না পারে। আর তা করতে হবে এককভাবে আল্লাহ্‌কে উপাস্য হিসেবে গ্রহণের দাওয়াত দেয়ার মাধ্যমে এবং ইসলামী শরীয়ার পরিপন্থী সবকিছু বর্জনের আহ্বান করার মাধ্যমে। এছাড়া ইসলাম যে বিষয়ের নিরাপত্তার কথা বলে তা হলো- আত্মার নিরাপত্তা। ইসলাম ব্যক্তির আত্মাকে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমে এবং উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা দূর করার মাধ্যমে। বাস্তবে তা সম্ভব হবে এক আল্লাহ্‌র উপাসনা করা, তাঁর বিধানে সন্তুষ্ট থাকা এবং তাঁর দেয়া অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমে। আল্লাহ্ তাআলা বলেন, “যারা বিশ্বাস স্থাপন করে (আল্লাহ্‌র একত্ববাদে) এবং তাদের অন্তর আল্লাহ্‌র যিকিরে (স্মরণে) প্রশান্তি লাভ করে। জেনে রাখ; আল্লাহ্‌র যিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।”[সূরা রাদ ১৩:২৮] নবী করিম (সাঃ) বলেন, “হে বেলাল, নামাজের মাধ্যমে আমাদেরকে প্রশান্তি দাও।”[মুসনাদে আহমাদ ২৩১৩৭নং] মুমিন তো সদা আল্লাহ্র অভিমুখে ছুটে যাচ্ছে। আল্লাহ্‌র প্রতি ভয় ও তাঁর উপর আশা তার এ যাত্রা পথে গতির সঞ্চার করে। সে তো বিশ্বাস করে “নিশ্চয় আল্লাহ্ মুহসিনদের (সৎকর্মশীলদের) আমল বিনষ্ট করেন না।” আল্লাহ্‌র প্রতি তার পূর্ণ একীন আছে। তিনি তার আমলের প্রতিদান তার জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন। কিয়ামতের দিন তাকে তার প্রাপ্য প্রদান করবেন। এছাড়াও ইসলাম যে নিরাপত্তার কথা বলে তাহলো- চারিত্রিক নিরাপত্তা। সমাজকে সৎচরিত্র ও উত্তম আদর্শের শিক্ষা দিতে হবে। পুতঃপবিত্রতা, লজ্জা-শরমের তরবিয়ত দিতে হবে। যাবতীয় দুঃশ্চরিত্র থেকে দূরে রাখতে হবে। এছাড়া ইসলামে নিরাপত্তা বলতে পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তাকে অর্ন্তভুক্ত করে। আর তা অর্জন করা সম্ভব হবে সৎভাবে ও শরীয়তস্বীকৃত পন্থায় সাব্যস্ত হওয়া সম্পর্কগুলোকে মজবুত করার মাধ্যমে। পরিবার ও সমাজের সদস্যদেরকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার মাধ্যমে। “তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, প্রত্যেককে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।”[আদাবুল মুফরাদ, আলবানী: সহীহ] সাথে সাথে পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, মেহমান ও প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করা, ইয়াতীম-মিসকীনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং সামাজিক কাজে পারস্পারিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে। মুসলিম উম্মাহ্‌, এছাড়া ইসলামে নিরাপত্তা বলতে রাজনৈতিক নিরাপত্তাকেও বুঝায়। ইসলামের দৃষ্টিতে রাজনৈতিক নিরাপত্তার অর্থ হল- মুসলিম উম্মাহ্‌র ঐক্য নিশ্চিত করা, তাদের কন্ঠস্বরকে একতাবদ্ধ রাখা। যে বা যারা উম্মাহর ঐক্য বিনষ্ট করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে বাধার প্রাচীর গড়ে তোলা। বিশেষতঃ যখন রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটে তখন উম্মাহ্‌র উচিত তার শাসকবর্গের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একক শক্তি গড়ে তোলা, যেন উম্মাহ্‌ তার শত্রুর চক্রান্ত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। আর মুসলিম শাসকবর্গের উচিত শত্রুর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্ক থাকা, চৌকষ ও সূক্ষ্ম দৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া এবং দূরদৃষ্টি দিয়ে যে কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া। কারণ আজ উম্মাহ্ শত্রুর লক্ষ্যবস্তু। উম্মাহ্‌র শত্রুরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে কতগুলো মতভেদ তৈরী করে উম্মাহ্‌কে দোষারোপ করতে চায়। যেন তারা উম্মাহ্‌র আভ্যন্তরীণ বিষয়ে সহজে নাক গলাতে পারে। সুতরাং শত্রুর ষড়যন্ত্র থেকে সাবধান। সাবধান! এছাড়া ইসলামে নিরাপত্তা বলতে অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে শামিল করে। একটি সুদৃঢ়, মজবুত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ইসলাম কতগুলো সুমহান নীতিমালা প্রদান করেছে। সেসব নীতিমালা সুদ ও জুলুম থেকে পুতঃপবিত্র। ইসলামী অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল- এটি সম্পূর্ণরূপে ইসলামী আইনের (শরীয়ার) উপর প্রতিষ্ঠিত। চাই তা আদর্শিক ধ্যান-ধারণার (আকীদা) ক্ষেত্রে অথবা বিধি-নিষেধ আইনের ক্ষেত্রে। ইসলামী শরীয়া ব্যক্তি মালিকানার স্বীকৃতি দিয়েছে। ব্যক্তিকে সীমাবদ্ধ কিছু স্বাধীনতা দিয়েছে। ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ করেছে এবং বিশেষ কিছু ব্যক্তিবর্গের ভরণ-পোষণ দেয়া ব্যক্তির উপর অবধারিত করে দিয়েছে। ইসলামী শরীয়া ব্যক্তিকে ভাল কাজে সহযোগিতা করতে উদ্বুদ্ধ করে। যেসব ব্যবসায়িক লেন-দেন সুদভিত্তিক, প্রতারণানির্ভর, জুয়াসংশ্লিষ্ট অথবা যে লেনদেনের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করা হয় সেসব লেনদেনকে ইসলাম হারাম ঘোষণা করেছে। পণ্যের দোষ লুকিয়ে লেনদেন করাকে ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। যে লেনেদেনের বিনিময়কৃত পণ্য অথবা বিনিময় মূল্য অথবা বিনিময়ের সময়কাল অজ্ঞাত ইসলাম সেসব লেনদেনকেও হারাম বলেছে। কোন পণ্যের মালিক হওয়ার আগে তা অন্যের কাছে বিক্রয় করে দেয়া ইসলামে বৈধ নয়। অনুরূপভাবে বিক্রেতা যে সামগ্রী ক্রেতার কাছে সমর্পণ করতে সক্ষম নয় এ ধরনের লেনদেনও হারাম। এসব বিধিনিষেধ শুধুমাত্র সমাজকে রক্ষা করার জন্য। যেন সমাজের এক শ্রেণী অপর শ্রেণীকে খেয়ে ফেলতে না পারে। বর্তমানে আমরা যে অর্থনৈতিক ধসের কথা শুনছি তা একমাত্র ইসলামী শরীয়াকে লঙ্গন করার কারণে। নিশ্চয় আল্লাহ্ তাআলা সুদকে হারাম করেছেন এবং তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, “তিনি সুদকে নিশ্চিহ্ন করবেন।”[সূরা বাকারা ২:২৭৬] ইসলামী শরীয়ার স্বতঃসিদ্ধ কথা আল্লাহ্ তাআলা সুদকে নিশ্চহ্ন করবেন, সুদকে ধ্বংস করবেন। এমন কিছু মানুষ আছে তাদেরকে আপনি যদি বলেন- ‘সুদ হারাম’, ‘সুদী কারবার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্তঃরায়’ তারা গোলমাল লাগিয়ে দিবে এবং একথাকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করবে। আর এ ব্যক্তিগুলোই আজ তাদের দুচোখ দিয়ে অর্থনৈতিক ধস নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করছে। বড় বড় কোম্পানী ও ব্যাংকগুলোতে আজ যে দেউলিয়াপনা দেখা দিয়েছে তা একমাত্র আল্লাহ্‌র আইনকে লঙ্ঘন করার কারণে। মুসলিম উম্মাহর উচিত আল্লাহ্‌র আইনের দিকে ফিরে আসা। আল্লাহ্‌র বিধানের ভিত্তিতে তাদের অর্থব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করা। যেন তাদের ধর্ম, তাদের সম্পদ ও তাদের অর্থনীতি নিরাপদে থাকে। নিঃসন্দেহে আজ উম্মাহ্র শক্তিশালী অর্থব্যবস্থা ও সফল বিনিয়োগের বড় প্রয়োজন। এজন্য মুসলিম দেশগুলোর মাঝে পারস্পারিক সহযোগিতা গড়ে উঠা প্রয়োজন। যেন মুসলিম উম্মাহ্‌র অর্থনীতি শক্তিশালী হয় এবং বিধর্মীরা আমাদেরকে মূল্যায়ন করতে বাধ্য হয়। এ অর্থ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে শরীয়ার মৌলনীতির ভিত্তিতে। যা প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায়, দয়া ও অনুগ্রহের ভিত্তিতে।



মুসলিম উম্মাহ্,
ইসলামে নিরাপত্তার আরো একটি দিক রয়েছে। তাহল চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান-ধারনার নিরাপত্তা। মানুষের জানমালের চেয়ে তার বিবেক-বুদ্ধির গুরুত্ব কম নয়। একদল চোর যেমন মানুষের ধন-সম্পদ চুরি করে বেড়ায় ঠিক তেমনি বড় বড় চোরেরা মানুষের বিবেক চুরি করে। ইসলাম মুসলমানদের চিন্তাচেতনা ও ধ্যানধারনাকে হেফাযত করার দায়িত্ব নিয়েছে। ইসলাম অতিরঞ্জন ও শিথিলতা থেকে বারণ করেছে। তেমনি পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন, বিয়োজন থেকেও নিষেধ করেছে। বরং ইসলাম ভারসাম্য রক্ষার মহানবাণী নিয়ে আগমন করেছে। “আমরা তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী উম্মত বানিয়েছি।”[সূরা বাকারা ২:১৪৩] ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে তাদের সমাজ নিরাপদে থাকবে এবং সমাজের সদস্যরা পারস্পারিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কল্যাণের কাজে এগিয়ে যাবে। নিরাপত্তার আরেকটি সেক্টর হল মিডিয়া। নতুন নতুন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া আবিষ্কার হওয়ার মাধ্যমে আজকের বিশ্বে মিডিয়ার ক্ষেত্রে যে বিশাল বিপ্লব সংঘটিত হচ্ছে এগুলো উম্মাহর পিঠে এক একটি নতুন বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। এগুলোর অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেতে হলে ইসলামী বিধি-বিধানকে আরো ঘনিষ্টভাবে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। কারণ এগুলো হচ্ছে উম্মুক্ত প্রচার মাধ্যম। এগুলোর মাধ্যমে নানারকম বিভ্রান্ত ধ্যানধারনা ও চিন্তাচেতনা সম্প্রচার করে বিপরীতপ্রান্তের শ্রোতা ও দর্শককে প্রভাবিত করার প্রয়াস চালানো হয়। এ কারণে এসব মিডিয়ায় তুলে ধরা প্রোগ্রামগুলোকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গ্রহণ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে এসব মিডিয়া নিরবে সন্ত্রাসী কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। যাকে অনেকে বলেন “ইলেক্ট্রনিক সন্ত্রাস”। কারণ এ মিডিয়াগুলো ব্যক্তি ও সমাজের সর্বনাশ করে ছাড়ছে। কতগুলো কল্পিত, বানোয়াট ও বিধর্মীদের কাছ থেকে ধারকৃত চরিত্রকে উপস্থাপন করার মাধ্যমে এ মিডিয়া সমাজে সবধরনের অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ছড়িয়ে দিচ্ছে। সেজন্য উম্মাহ্‌র সদস্যদেরকে সঠিক জ্ঞান দিতে হবে, এসব মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করতে হবে এবং এর দ্বারা প্রতারিত হওয়া থেকে সমাজকে বাঁচাতে হবে। মুসলিম বিশ্বের আলেম-ওলামা, দায়ী ইলাল্লাহ্‌, ইসলামী চিন্তাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকদেরকে আমি আহ্বান জানাই- আপনারা এ মিডিয়াগুলোকে সত্য প্রচারে ব্যবহার করুন, বাতিলকে প্রতিহত করুন। এ মিডিয়ার মাধ্যমে জাতিকে সঠিক পথের নির্দশনা দিন।

মুসলিম উম্মাহ্,
ইসলামে নিরাপত্তার আরেকটি দিক হল পরিবেশ। পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা, জনসাধারণের সেবামূলক বিভিন্ন উপকরণগুলোকে রক্ষা করা, পানির উৎসসমূহকে হেফাযত করার উপর ইসলাম অত্যধিক গুরুত্ব দিয়েছে। বদ্ধ পানিতে পেশাব করতে এবং রাস্তায় মল ত্যাগ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা শুধু এ কারণে যেন পরিবেশ দূষিত না হয়। পরিবেশের জন্য হুমকিজনক একটি জীবানু হচ্ছে- পারমানবিক জীবানু। ইসলামের শত্রুরা বিশ্বের কিছু কিছু দূর্বল ও মুসলিম রাষ্ট্রে এই জীবানুটি ব্যবহার করতে কুন্ঠাবোধ করেননি। । যে জীবানু পুরো দেশের নারী জাতিকে বন্ধ্যায় পরিণত করেছে, পেটের বাচ্চাকে বিকলাঙ্গ করে দিয়েছে এবং জল ও স্থলে প্রাণীজগতের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। এ থেকে জানা যায় ইসলাম সার্বজনীন অধিকার রক্ষার্থে এবং সমাজকে যাবতীয় কষ্টদায়ক বস্তু থেকে হেফাযত করতে কত বেশী আগ্রহী। ইসলামে নিরাপত্তার আরেকটি দিক হলো- স্বাস্থ্য। নিরাপদ স্বাস্থ্যের ডাক দিয়েছে ইসলাম। কোন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে ঐ রোগসৃষ্টিকারী যাবতীয় উপসর্গ থেকে বেঁচে থাকার পরামর্শ দিয়েছে ইসলাম। যেমন সংক্রামক রোগের উপসর্গ থেকে বেঁচে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। “তুমি কুষ্ঠরোগী থেকে পলায়ন কর, যেমনি পলায়ন কর সিংহ দেখলে।”[আস সুনানুল কুবরা, ১৯৭০] সুস্থ মানুষকে সংক্রামকরোগের এরিয়ায় প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এ সবকিছু ব্যক্তির স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য। এমনকি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নেয়ার উপরও গুরুত্বারোপ করেছে ইসলাম। “আল্লাহ্ তাআলা এমন কোন রোগ নাযিল করেননি, যে রোগের ঔষধ নাযিল করেননি।”[বোখারী]

মুসলিম উম্মাহ্,
নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব প্রতিটি ব্যক্তির, প্রতিটি মানুষের। কোন মানুষই এই দায়িত্ব থেকে খালি নয়। মুসলিম সমাজের দায়িত্ব সর্বসাধারণের ব্যবহার্য্য রাস্তাঘাট, মাঠ-ময়দান, খালবিল ও সহায়সম্পত্তি হেফাযত করা। যেন পরিবেশের দূষণ এগুলোর কোন ক্ষতি করতে না পারে অথবা কোন দুষ্কৃতিকারী এগুলোকে নিয়ে কোন দুষ্কর্ম সম্পাদন করতে না পারে। যদি কোন দুষ্কৃতিকারী এমন কোন স্পর্ধা দেখায় তাহলে তার শাস্তি হওয়া উচিত। মুসলিম সমাজের উচিত এ ধরনের সন্ত্রাসীকর্ম ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী থেকে নিজের পবিত্রতা ঘোষণা করা। কারণ ইসলাম এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্ম থেকে সমাজকে হেফাযত করেছে এবং সন্ত্রাসীদের জন্য কঠিন শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে। “যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্যে পার্থিব লাঞ্চনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।”[সূরা মায়েদা ৫:৩৩] মুগীরা বিন শুবা যখন কতিপয় মুশরিকের কাছ থেকে কিছু মাল ছিনিয়ে নেয়ার পর ইসলাম গ্রহণ করে রাসূল (সাঃ) এর কাছে আগমন করলেন তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, “ঠিক আছে তোমার ইসলাম গ্রহণের স্বীকৃতি দিব। কিন্তু তোমার ছিনতাইকৃত মাল আমরা গ্রহণ করব না।” রাসূল (সাঃ) তার মাল গ্রহণ না করে একথা সুস্পষ্ট করে দিলেন যে, ইসলাম সন্ত্রাসী কাজকে সাপোর্ট করে না। হাঙ্গামা, বিশৃঙ্খলা ও আল্লাহ্‌র সীমানা লঙ্ঘন করাকে প্রশ্রয় দেয় না। অতএব ব্যক্তির ইসলামের স্বীকৃতি দেয়া হবে, কিন্তু তার অন্যায় আচরণকে স্বীকৃতি দেয় হবে না। সুতরাং আমাদের উচিত যে কোন ধরনের সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকা। পুরো বিশ্ববাসীর উচিত এ ধরনের সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর বিরোধিতা করা। যারা সীমালংঘনের মাধ্যমে গোটা দেশ ও জাতির মধ্যে ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড চালিয়েছে। এদের অনিষ্ট থেকে আমরা আল্লাহ্ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): হজ্বের খোতবা ১৪২৯হজ্বের খোতবা ২০০৮আরাফার খোতবা ১৪২৯আরাফার খোতবা ২০০৮ ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:২৫
জেমসবন্ড বলেছেন:

সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা। কারণ সৎকাজের আদেশ দান ও অসৎকাজের নিষেধ অপরাধের মাত্রাকে সীমিত রাখে, মানুষের চরিত্রকে সুরক্ষা করে, ইজ্জত-আব্রুর হেফাযত করে। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এই উম্মতের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
২. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:২৫
মুক্তির অন্বেষায় বলেছেন: গুড পোষ্ট। প্লাস।
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:১৭

লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

৩. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:২৮
জেমসবন্ড বলেছেন:

আজকের বিশ্বে মিডিয়ার ক্ষেত্রে যে বিশাল বিপ্লব সংঘটিত হচ্ছে এগুলো উম্মাহর পিঠে এক একটি নতুন বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। এগুলোর অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেতে হলে ইসলামী বিধি-বিধানকে আরো ঘনিষ্টভাবে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। কারণ এগুলো হচ্ছে উম্মুক্ত প্রচার মাধ্যম। এগুলোর মাধ্যমে নানারকম বিভ্রান্ত ধ্যানধারনা ও চিন্তাচেতনা সম্প্রচার করে বিপরীতপ্রান্তের শ্রোতা ও দর্শককে প্রভাবিত করার প্রয়াস চালানো হয়। এ কারণে এসব মিডিয়ায় তুলে ধরা প্রোগ্রামগুলোকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গ্রহণ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে এসব মিডিয়া নিরবে সন্ত্রাসী কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। যাকে অনেকে বলেন “ইলেক্ট্রনিক সন্ত্রাস”। কারণ এ মিডিয়াগুলো ব্যক্তি ও সমাজের সর্বনাশ করে ছাড়ছে। কতগুলো কল্পিত, বানোয়াট ও বিধর্মীদের কাছ থেকে ধারকৃত চরিত্রকে উপস্থাপন করার মাধ্যমে এ মিডিয়া সমাজে সবধরনের অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ছড়িয়ে দিচ্ছে। সেজন্য উম্মাহ্‌র সদস্যদেরকে সঠিক জ্ঞান দিতে হবে, এসব মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করতে হবে এবং এর দ্বারা প্রতারিত হওয়া থেকে সমাজকে বাঁচাতে হবে।
৪. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৩০
জেমসবন্ড বলেছেন:
এছাড়া ইসলামে নিরাপত্তা বলতে অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে শামিল করে। একটি সুদৃঢ়, মজবুত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ইসলাম কতগুলো সুমহান নীতিমালা প্রদান করেছে। সেসব নীতিমালা সুদ ও জুলুম থেকে পুতঃপবিত্র। ইসলামী অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল- এটি সম্পূর্ণরূপে ইসলামী আইনের (শরীয়ার) উপর প্রতিষ্ঠিত। চাই তা আদর্শিক ধ্যান-ধারণার (আকীদা) ক্ষেত্রে অথবা বিধি-নিষেধ আইনের ক্ষেত্রে। ইসলামী শরীয়া ব্যক্তি মালিকানার স্বীকৃতি দিয়েছে। ব্যক্তিকে সীমাবদ্ধ কিছু স্বাধীনতা দিয়েছে। ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ করেছে এবং বিশেষ কিছু ব্যক্তিবর্গের ভরণ-পোষণ দেয়া ব্যক্তির উপর অবধারিত করে দিয়েছে। ইসলামী শরীয়া ব্যক্তিকে ভাল কাজে সহযোগিতা করতে উদ্বুদ্ধ করে। যেসব ব্যবসায়িক লেন-দেন সুদভিত্তিক, প্রতারণানির্ভর, জুয়াসংশ্লিষ্ট অথবা যে লেনদেনের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করা হয় সেসব লেনদেনকে ইসলাম হারাম ঘোষণা করেছে। পণ্যের দোষ লুকিয়ে লেনদেন করাকে ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। যে লেনেদেনের বিনিময়কৃত পণ্য অথবা বিনিময় মূল্য অথবা বিনিময়ের সময়কাল অজ্ঞাত ইসলাম সেসব লেনদেনকেও হারাম বলেছে। কোন পণ্যের মালিক হওয়ার আগে তা অন্যের কাছে বিক্রয় করে দেয়া ইসলামে বৈধ নয়। অনুরূপভাবে বিক্রেতা যে সামগ্রী ক্রেতার কাছে সমর্পণ করতে সক্ষম নয় এ ধরনের লেনদেনও হারাম। এসব বিধিনিষেধ শুধুমাত্র সমাজকে রক্ষা করার জন্য। যেন সমাজের এক শ্রেণী অপর শ্রেণীকে খেয়ে ফেলতে না পারে। বর্তমানে আমরা যে অর্থনৈতিক ধসের কথা শুনছি তা একমাত্র ইসলামী শরীয়াকে লঙ্গন করার কারণে।
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:২২

লেখক বলেছেন: খোতবার এ পর্বের অংশটি ছিল এবারের হজ্বের খোতবার মূল অংশ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৩৬১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই