চাঁদ , আমি অথবা কোন ভ্রান্ত রাতের গল্প ।
ল্যাম্পপোস্টে তখন চাঁদটা ঝুলছিল ,
ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর অপেক্ষায় ,
ক্রমবর্ধমান সময়ের আধিক্যে
ঘোর লাগে চোখে,
কুয়াশার আন্তরালে হেলে পরা
এই নগরীকে ভ্রম বলে মনে হয়।
এমন কত মোহময় রাত কেটে গেছে
এই ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে-
মাথায় তখন অজস্র পদ্যের ভিড় ,
শীত ! সেতো দূর গ্রহের কোন অচেনা শব্দ ।
মাথায় জ্বলে উঠা পদ্যের আগুনের উত্তাপ-
হয়তো ছড়িয়ে পরেছিল সারাদেহজুড়ে
তারই সন্ধান পেয়ে দু একজন পথচারী
আমার পাশে বসে দেখছিল আমাকেই ।
এইমাত্র ছাড়া পেয়েছি
অজস্র শিকলের বন্ধনময় -
এক বিশাল লোহার খাঁচার
জেলখানা থেকে ,
এরা তা জানে না ।
হয়তো ভাবছে - এমন শীতের রাতে
এই পাগল লোকটার মাথা থেকে
এইভাবে অনবরত আগুনের শিখা
ছড়িয়ে পরছে কেন চারপাশে ?
এইসব নগরীর পথে ঘাটে ,
ঝিঝি পোকাদের ক্রন্দন শুনতে পাই না আর ,
তারা ভুলে গেছে তাদের প্রেম , ভালোবাসা
অথবা স্নেহের চুম্বন ।
কোন গভীর চাঁদের রাতে -
বাবা আর তার সন্তানদের
শোনায় না কোন রুপকথার গল্প ,
কামনায় বুভুক্ষের চন্দ্রালোকে
কোন প্রেমিক আর তার প্রেয়সীকে
বুকের কাছে টেনে নেয় না আর ।
হয়তো কোন অচেনা পুষ্প
রাত্রির আবলেহনে
সারা রাত ধরে সৌরভ ছড়ায় ।
কোন কবি ছুটে যায় না তার কাছে
ফুসফুসে টেনে নেয়না সৌরভ
লেখেনা কোন কাব্যকথা ।
গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে
কাদেনা আর কোন শিশু
শুধু চেয়ে থাকে ওই ভ্রমচাদটার দিকে ।
নষ্ট সময়ের শেষ স্রোতে
পাপ হয়ে কিছু কবির জন্ম হয় ।
কুহকের অন্তরালে ভ্রান্ত বিশ্বাসে
অন্ত থেকে অনন্তের দিকে
চলে যার যাত্রা ।
******************
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ৯:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




