somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঐতিহাসিক সিমলা চুক্তিঃ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করেছিল

৩০ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৩:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রায়শই লক্ষ্য করছি, সংসদ নির্বাচন আসন্ন হলেই, বেশ কিছু পুরানো ইস্যু নিয়ে মাঠ গরম করা হয়। এর মধ্যে একটি হলো যুদ্ধাপরাধী এবং ওদের সহযোগি এদেশিয় রাজাকারদের বিচার।

১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে "সূক্ষ্ম" কারচুপির অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে, এবং ক্ষমতাসীন সরকারকে শান্তিতে না থাকতে দেবার অংগীকার করে। যেহেতু জামাতের হাতে গোণা সাংসদের সমর্থনের কারণে বি এন পি সে সময় ক্ষমতাসীন হয়, সেহেতু যুদ্ধাপরাধি ইস্যুকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নৈরাজ্যের সৃস্টি করে। তারা নেপথ্যে থেকে জন্ম দেয় ঘাতক-দালাল-নির্মুল-কমিটি নামে একটি সংগঠন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যাবহ্রত হন, শহিদ জননী জাহানারা ইমাম। এতে কাজ হয়। জামাতিরা সুর সুর করে আওয়ামী লীগের ছাতার নীচে চলে আসে। এভাবেই ১৯৯৬ সালে প্রায় ২১ বছর পর ক্ষমতা ফিরে পায় আঃলিঃ। সাথে সাথে ঘাদানিকের কার্যক্রম ভোজবাজির মত মিলিয়ে যায়।

যেহেতু এক কুমিরের ছানা বার বার দেখিয়ে জনগণকে ধোকা দেয়া সম্ভব নয়, তাই ঘাদানিকের আদলে তৈরি করা হয়েছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম। এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে আসলে আওয়ামী লিগের বি টিম। এই ফোরামের পোড়োরা সাংসদ থাকার সময়, এই ইস্যু নিয়ে টু শব্দটি করেননি। আর এখন দেশ বিদেশে গিয়ে, বাংলাদেশ বিরোধি বঙ্গভুমিওয়ালাদের বগলে নিয়ে আওয়ামী চেতনা ফেরি করে বেড়াচ্ছে।

আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ সন্ত্রাসের মুল পরিকল্পনাকারি ছিল, মদ্যপ নারী লোলুপ পাক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া আর সিন্ধুর কসাই নামে কুখ্যাত জুলফিকার আলি ভুট্টো। এর পরিকল্পনা বাস্তবে রুপ দিয়েছিল, তৎকালিন পঃ পাকিস্থানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আর রাজাকাররা এদের পথ প্রদর্শক এবং সহযোগি হিসেবে ওই সব পাপে লিপ্ত ছিল। তাই যুদ্ধাপরাধী বলতে কেন শুধু জামাতের রাজাকারগুলিকে পাদপ্রদিপের আলোয় আনা হচ্ছে, সেটি বুঝতে হলে সিমলা চুক্তি সমন্ধে জানা জরুরি। আর ঘাদানিক আর সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উদ্দ্যেশ্য নিয়ে আগেই তো বললাম।

সংবাদ পত্র কিংবা অন্তর্জালের সুবাদে ১৯৭১ সালে ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষনের ছবিটি দেখেননি এমন বাংলাদেশি পাওয়া অসম্ভব বলেই বিশ্বাস করি। কিন্তু সেখানে কি দেখি? পাক জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পন করছেন, ভারতীয় জেনারেল আরোরার কাছে। তার ধারে কাছে, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিনিধি কেউ নেই। মুক্তিযোদ্ধা হায়দার ছিলেন, অতিথির মত। বাংলাদেশের পক্ষ্যেও কেউ কোন চুক্তি সাক্ষর করেননি। আমাদের ৩০ লক্ষ ভাইয়ের রক্ত আর কয়েক লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের মুল্যে কেনা স্বাধীনতা এভাবেই ছিনতাই করা হয়েছিল।

যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত এই ৯০,০০০ পাকিস্থানি হানাদার এভাবেই ভারতের আশ্রয় পেয়ে, দায়মুক্ত হয় ইতিহাসের জঘন্যতম পাপের বোঝা থেকে। তবে ভারত ঠিকই নিজ স্বার্থ ষোলকলা পুর্ন করে নেই। এই ৯০০০০ পাপিষ্ঠকে মুক্তি বিনিময়ে তারা বিরোধপুর্ণ কাশ্মির অঞ্চলের একটি সীমানা নির্ধারন করে নেয়।

আমাদের অনেকের বয়সে এবং জ্ঞানে তরুণ বলে, ইতিহাসের এই অধ্যায়টিকে এড়িয়ে গেছি, কিংবা ভুলে গেছি। অথচ ১৯৭১ সালে সেই নির্মমতা এবং পৈশাচিকতার যে চিহ্ন আজো বর্তমান, তাতে ইয়াহিয়া, ভুট্টো, নিয়াজি, রাও ফরমান সহ ঐ ৯০,০০০ ঘাতকদের বিচারে দাবি করতেই হবে। সাথে রাজাকারগুলিরও। অথচ আমাদের অনেকের চোখেই "বিশেষ বন্ধু" ভারত, ওই জানোয়ারগুলিকে মুক্ত করে দিয়ে আমাদেরকে চরম অসম্মান করেছে। সাথে চিরতরে রুদ্ধ করেছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।
১৯টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×