প্রায়শই লক্ষ্য করছি, সংসদ নির্বাচন আসন্ন হলেই, বেশ কিছু পুরানো ইস্যু নিয়ে মাঠ গরম করা হয়। এর মধ্যে একটি হলো যুদ্ধাপরাধী এবং ওদের সহযোগি এদেশিয় রাজাকারদের বিচার।
১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে "সূক্ষ্ম" কারচুপির অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে, এবং ক্ষমতাসীন সরকারকে শান্তিতে না থাকতে দেবার অংগীকার করে। যেহেতু জামাতের হাতে গোণা সাংসদের সমর্থনের কারণে বি এন পি সে সময় ক্ষমতাসীন হয়, সেহেতু যুদ্ধাপরাধি ইস্যুকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নৈরাজ্যের সৃস্টি করে। তারা নেপথ্যে থেকে জন্ম দেয় ঘাতক-দালাল-নির্মুল-কমিটি নামে একটি সংগঠন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যাবহ্রত হন, শহিদ জননী জাহানারা ইমাম। এতে কাজ হয়। জামাতিরা সুর সুর করে আওয়ামী লীগের ছাতার নীচে চলে আসে। এভাবেই ১৯৯৬ সালে প্রায় ২১ বছর পর ক্ষমতা ফিরে পায় আঃলিঃ। সাথে সাথে ঘাদানিকের কার্যক্রম ভোজবাজির মত মিলিয়ে যায়।
যেহেতু এক কুমিরের ছানা বার বার দেখিয়ে জনগণকে ধোকা দেয়া সম্ভব নয়, তাই ঘাদানিকের আদলে তৈরি করা হয়েছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম। এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে আসলে আওয়ামী লিগের বি টিম। এই ফোরামের পোড়োরা সাংসদ থাকার সময়, এই ইস্যু নিয়ে টু শব্দটি করেননি। আর এখন দেশ বিদেশে গিয়ে, বাংলাদেশ বিরোধি বঙ্গভুমিওয়ালাদের বগলে নিয়ে আওয়ামী চেতনা ফেরি করে বেড়াচ্ছে।
আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ সন্ত্রাসের মুল পরিকল্পনাকারি ছিল, মদ্যপ নারী লোলুপ পাক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া আর সিন্ধুর কসাই নামে কুখ্যাত জুলফিকার আলি ভুট্টো। এর পরিকল্পনা বাস্তবে রুপ দিয়েছিল, তৎকালিন পঃ পাকিস্থানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আর রাজাকাররা এদের পথ প্রদর্শক এবং সহযোগি হিসেবে ওই সব পাপে লিপ্ত ছিল। তাই যুদ্ধাপরাধী বলতে কেন শুধু জামাতের রাজাকারগুলিকে পাদপ্রদিপের আলোয় আনা হচ্ছে, সেটি বুঝতে হলে সিমলা চুক্তি সমন্ধে জানা জরুরি। আর ঘাদানিক আর সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উদ্দ্যেশ্য নিয়ে আগেই তো বললাম।
সংবাদ পত্র কিংবা অন্তর্জালের সুবাদে ১৯৭১ সালে ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষনের ছবিটি দেখেননি এমন বাংলাদেশি পাওয়া অসম্ভব বলেই বিশ্বাস করি। কিন্তু সেখানে কি দেখি? পাক জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পন করছেন, ভারতীয় জেনারেল আরোরার কাছে। তার ধারে কাছে, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিনিধি কেউ নেই। মুক্তিযোদ্ধা হায়দার ছিলেন, অতিথির মত। বাংলাদেশের পক্ষ্যেও কেউ কোন চুক্তি সাক্ষর করেননি। আমাদের ৩০ লক্ষ ভাইয়ের রক্ত আর কয়েক লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের মুল্যে কেনা স্বাধীনতা এভাবেই ছিনতাই করা হয়েছিল।
যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত এই ৯০,০০০ পাকিস্থানি হানাদার এভাবেই ভারতের আশ্রয় পেয়ে, দায়মুক্ত হয় ইতিহাসের জঘন্যতম পাপের বোঝা থেকে। তবে ভারত ঠিকই নিজ স্বার্থ ষোলকলা পুর্ন করে নেই। এই ৯০০০০ পাপিষ্ঠকে মুক্তি বিনিময়ে তারা বিরোধপুর্ণ কাশ্মির অঞ্চলের একটি সীমানা নির্ধারন করে নেয়।
আমাদের অনেকের বয়সে এবং জ্ঞানে তরুণ বলে, ইতিহাসের এই অধ্যায়টিকে এড়িয়ে গেছি, কিংবা ভুলে গেছি। অথচ ১৯৭১ সালে সেই নির্মমতা এবং পৈশাচিকতার যে চিহ্ন আজো বর্তমান, তাতে ইয়াহিয়া, ভুট্টো, নিয়াজি, রাও ফরমান সহ ঐ ৯০,০০০ ঘাতকদের বিচারে দাবি করতেই হবে। সাথে রাজাকারগুলিরও। অথচ আমাদের অনেকের চোখেই "বিশেষ বন্ধু" ভারত, ওই জানোয়ারগুলিকে মুক্ত করে দিয়ে আমাদেরকে চরম অসম্মান করেছে। সাথে চিরতরে রুদ্ধ করেছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



