somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আর কত? এবার ধুতির কোছাটি একটু ঢিলে করুন দাদারা...

০৪ ঠা জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভারতের নামি দামি পত্রিকাতে ( হিন্দু, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ইত্যাদি) বাংলাদেশের যে খবরটি বেশ আলোড়ন তুলেছে, সেটা হলো এই ভর বর্ষায় ইলিশ মাছের দুস্প্রাপ্যতা। বিশেষ করে জামাই ষষ্ঠিতে কলকাতার বাজারে ইলিশের দেখা না পেয়ে শশুড় শাশুড়িকুলের মুখভার। পত্রিকাগুলি কোন রাখঢাক না করেই সিধে বলে দিয়েছে, ইলিশ না পেলে বাংলাদেশকে দুষুন।

বাংলাদেশে যে ইলিশের ধুম পড়েছে এমন কিন্তু নয়। অবাধে জাটকা নিধনের ফলে, গত জোট সরকারের আমলের প্রথম দিকেই উল্টো নাকি পঃ বঙ্গ থেকে ইলিশ আমদানি করতে হচ্ছিল। তৎকালিন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রি মিলনের ঐকান্তিক প্রচেস্টায়, এই জাটকা নিধন বন্ধ হয়েছিল।(উনি চাঁদপুরের লোক বলেই হয়তো সম্ভব হয়েছিল)। তাতে অন্তত ইলিশ আমদানি করার মত বিড়ম্বনাটি পোহাতে হচ্ছে না।

বাংলাদেশের বাজারে ইলিশের প্রাপ্যতা মোটামুটি হলেও, দাম কিন্তু সাধারণের নাগালের মধ্যে নেই। হয়তো সাধারণ মধ্যবিত্তরের খাবার পাতে কালে ভদ্রে উঠছে। ৩০০-৪০০ টাকায় একটা ইলিশ কেনার সামর্থ্য অন্তত বৃহত্তর জনগোষ্ঠির জন্য খুব সহজ নয়।

প্রবাসি বাংলাদেশিরা একসময় ইলিশ কিনতে প্রচুর উৎসাহি হলেও, প্রতি পাউন্ড $৭ ডলার হিসেবে ( এক কেজির একটা ইলিশের দাম পড়ে প্রায় ১৬ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা ১১০০ টাকা) ইলিশ কিনতে এখন তেমন উৎসাহি হচ্ছেন না।

অর্থাৎ ঘরে বাইরে ইলিশ দাম বাংলাদেশিদের সাধ্যের খুব নাগালের মধ্যে নেই। এর মধ্যে আবার কলকাতার মানুষের রসনায় ব্যাঘাত ঘটাতে, সে দোষও বাংলাদেশের মানুষের ঘাড়ে চাপছে। পত্র পত্রিকায় তো বটেই, ঘর বয়ে এসে ভারতের মাছ আমদানিকারকরা, সরকারকে দু কথা শোনাতে ছাড়েননি। আর তার সাথে আমাদের মাছ রফতানিকারক সমিতির প্রধানও গলা মেলানোতে মনে হচ্ছে ঘরের শত্রু বিভীষন এখন এই সেক্টরেও সক্রিয়। আমদানিকারকরাই যে রপ্তানি মুল্য নির্ধারন করেন, সেটা বাংলাদেশের মৎস রপ্তানিকারক সমিতির প্রধান অজয় কুমার দাসের মুখেই প্রথম শুনলাম। আবার আগ বাড়িয়ে বাচাল বানিজ্যমন্ত্রি ফারুকের দপ্তরেও নাকি ভারতীয় আব্দারবাণিটি পৌছে দেবার কাজ করেছে সমিতি।

বিস্তারিত শুনুন এখানে
Click This Link

কলকাতার মানুষদের "মিতব্যায়িতা" কিংবা হাড়কিপ্টামির কথা এখন কিংবদন্তিতুল্য। সর্বক্ষেত্রে তারা চান বামুনের গরু, খাবে কম দুধ দেবে বেশি। তবে যুগের সাথে, বাস্তবের সাথে তাল মিলিয়ে চলা হয়তো ওই স্বভাবের কারণেই তাদের পক্ষ্যে সম্ভব হচ্ছে না। তাই অকারণে বাংলাদেশকে দোষ দিয়ে তারা নিজের দোষটুকু ঢাকতে চাইছেন।

ভারতীয় আমদানিকারকরা বলছেন, যেখানে $২ দিয়ে তারা বার্মার ইলিশ আমদানি করতে পারেন, সেখানে বাংলাদেশের ইলিশ $৬ দিয়ে পোষায় না। তারা দাবি করেন, সেই মুল্য কমিয়ে সাড়ে তিন থেকে চার ডলার করার জন্য।

তারা বিলক্ষন ভুলে গেছেন যে, স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় বাংলাদেশের মাছের সাথে বার্মার ইলিশের তুলনাই হতে পারে না। তাই জিনিস ভালো চাইবেন আর দাম দিতে চাইবেন না, সেটা কি করে হতে পারে? আর জামাই ষষ্ঠির দিন বার্মার ইলিশ দিয়ে জামাই আপ্যায়ন করার মত ঝুকি নিতে চাইলে নিতে পারেন। আর এর বিকল্প একটাই হতে পারে। কেপ্পন স্বভাবটি পাল্টে ফেলুন। সব জায়গায় বামুনের গরু খুজলে নিরাশ হতে পারেন।

বাংলাদেশের সাথে ভারতের যে সম্পর্ক, সেটাও এমন শক্ত ভিত্তির উপর দাড়িয়ে নেই, যে দেশের সাধারণ মানুষ কিংবা প্রবাসি বাংলাদেশিদের মুখের আহার কেড়ে নিয়ে কলকাতার মানুষকে খাওয়াতে হবে। সিডরে আক্রান্ত দুস্থ বাংলাদেশিদের চাল নিয়ে চালিয়াতি করে, আপনাদের রাস্ট্রদুত কিন্তু ঐ একই রকম উক্তি করেছিল। তাই নিজেদের কথাই গিলে খাবার সময় এসেছে এখন।

বর্তমানে আওয়ামী লিগ সরকারের মন্ত্রিদের ভারত চাটুকারিতা দেখে অবশ্য ভারতীয়দের এহেন অন্যায্য আব্দার করার দুঃসাহস গজানো বিচিত্র কিছু না। তবে একটা জিনিস মনে রাখলে ভালো করবেন। বাংলাদেশের মানুষ আঃ লিগকে ভোট দিয়েছে বটে, কিন্তু যা ইচ্ছা তাই করার লাইসেন্স দেয়নি।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:৫৮
৩০টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×