
বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের পরাজয়েরর পর, সারা জাতি যেভাবে হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছিলেন, তা থেকে বের হয়ে আসতে সরকার নিজেই উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের স্বরাস্ট্রমন্ত্রি থেকে শুরু এটর্নি জেনারেল ঘুরে সর্বশেষ বিনোদন দান করলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রি।

"অনেক লোকজন এখন ৪ বেলা করে খাচ্ছে", "সংগতি বেড়ে যাওয়াতে সরু চালের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে" ইত্যাদি বিনোদনমুলক কথা বার্তা বলে প্রধানমন্ত্রি এখন ভাড়ের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। অতি দুঃখের মধ্যেও মানুষের মুখে হাসির স্মিতরেখা ফুটে উঠাতে, অন্তত সেই হারের কস্ট কিছুক্ষনের জন্যও তো কমেছে? সেটাই কম কিসে। এই না হলে জননেত্রি !
তথাকথিত জননেত্রির আসে পাশে যারা ঘোরাঘুরি করে, তাদের হাড় হাভাতে খাই খাই স্বভাব দেখলে ৪ বেলা তো ভালো, দেশশুদ্ধা গিলে খেলেও যে তাদের তৃপ্তি মিটবে না সে কথা বলাই বাহুল্য। তাই তো আমি মনে করি, ৪ বেলা খাওয়ার কথা বলে খুব বেশি বাড়িয়ে কিছু বলেননি ।

তাছাড়া অনেকের সংগতি যে বেড়েছে, সেটা তো চোখেই দেখা যাচ্ছে। যেমন ধরুন স্বরাস্ট্রমন্ত্রি সাহারা খাতুন। আগে বিটি শাড়ির পড়ে কোন মতে চলতেন। আর এখন জামদানির বাহার।

আবার ধরুণ স্বরাস্ট্র প্রতিমন্ত্রি টুকুর কথা। আগে যেখানে গ্রামের চায়ের দোকানে কোন মতে দুইটা বিস্কুট ভিজিয়ে চা খেতেন, এখন তার ছেলের বিয়েতেই খরচ হয় নবাবি হালের মত।

শিল্পমন্ত্রি দিলিপ বড়ুয়া আগে যেখানে একটু ভালো কাপড়ের পাঞ্জাবি পায়জামা পড়লে বর্তে যেতেন সেখানে তার গায়ে দামি দামি স্যুট প্যান্ট চড়ছে।


সারা জীবন আধা হেটে আধা টেম্পুতে চড়ে বাম পাড়ায় যাতায়ত করা ইনু মেননরা এখন সবচেয়ে দামি গাড়িতে হাওয়া লাগিয়ে যাতায়ত করেন।
তা এই সব দেখে হাসিনার মনে হতেই পারে যে মানুষের সংগতি বেড়েছে। তবে সাধারণ মানুষ যে তাদের মানুষ নয় আওয়ামি লিগার হিসাবে দেখে, সে কথাটি তিনি ভুলে বসে আছেন।

আওয়ামি লিগের পা চাটতে চাটতে জিহবা ক্ষয় করার প্রতিদান পেয়েছেন বর্তমান এটর্নি জেনারেল। নইলে ল পাশ না করেই ওই পদে আসীন হওয়াটা কি যা তা কথা? সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশে তাই তার মুখ দিয়ে ভাড় এর সংলাপ শুনতে পেলো গোটা জাতি। "হাসিনা ও সন্তু লারমা হলো শান্তির জন্য নোবেল পাবার আসল হকদার।"
এই কথা শুনে সাধারণ মানুষ তো ভালো, রামগড়ুরের ছানা পোনারা শুদ্ধ হেসে কুটি কুটি। এই ব্যাটা কি পাগল নাকি মাথা খারাপ? আসলে এটা তার মনের কথা না। ওই যে বললাম। একে তো কোন যোগ্যতা নেই (খালি চামচামি করা ছাড়া), তার উপর কখন কোন সময় কে লেজ ধরে টান দেয়। তাই নেক নজরে থাকার জন্য এই সব কথা বলা আর কি ! নইলে অশান্তির সম্রাজ্ঞি আর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করা ইন্ডিয়ান মদদভুক্ত সন্তুকে নোবেল পুরস্কারে ভুষিত করার কথা কোন পাগলে বলবে? এই কীর্তিকাহিনীর কারণে তার নামখানি মাহবুব এ আলম থেকে বদলে মাহবুব এ হাসিনা করাটাই এখন সময়ের দাবি।

অবশ্য চরম সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রতিভু এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম শত্রু ইন্দিরা শান্তি পুরস্কার হাসিনা পেয়েছেন। এটা আরেক বিনোদন। মুখে ধর্মনিরপেক্ষতা আর কাজে বিজেপি আর আর এস এস এর সমান কুখ্যাত অশান্তি সৃস্টিকারি ইন্দিরার নামে শান্তি পুরস্কার প্রবর্তনই তো এক চরম তামাশা। সেই পুরস্কার পেয়ে হাসিনা কি যে গদগদ!
যাই হোক, জাতির এই অস্থির হতাশ সময়ে এই ধরণের বিনোদনের ব্যাবস্থা করার জন্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ দেয়া যেতেই পারে। অন্য সব কাজে লবডংকা তো কি? এই বিনোদনই বা কম প্রাপ্তি কিসের?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




