somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গাধা থেকে ঘোড়া (আব্‌জাব)

১৯ শে এপ্রিল, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার জন্মের পর ছেলে হয়েছি বলে সবাই যখন খুশি। আমার দাদী সম্পর্কিয় একজন অবাক হয়ে আমার কানের দিকে তাকিয়ে বললেন, "আরে! এর কান দুটো এত বড় কেন? এই ছেলেতো গাঁধা হবে!" আমার বাবা চাচারা সেকথা আমলেই নেয়নি। শুধু আমার মার মনটা একটু খচ করে উঠেছিল। কিন্তু আমি যতই বড় হতে লাগলাম ততই সবারই মন খচ্‌ খচ্‌ করতে লাগলো। কারণ সবাই দেখে, আরে! এইটাতো গাধা! আমিও সেই দাদীর কাথা সঠিক প্রমান করার জন্যেই কিনা দিনে দিনে গাধা হয়ে উঠতে লাগলাম। যত বড় হই, তত বড় গাধা হই। আমার বাবাতো গাঁধা মানুষ করার জন্য উঠে পড়ে লাগলেন। কিন্তু এলাকায় কোন উপযুক্ত মাস্টার খুজে পওয়া গেলনা। সবাই গরু পিটিয়ে মানুষ করতে ওস্তাদ কিন্তু গাধা? না! গাধা নিয়ে কেউ রিস্ক নিবেনা। গাধাতো মানুষ হয়ই না বরং মানুষ করতে গেলে নাকি মাঝে মাঝে কামড়িয়েও দেয়। আমি অবশ্য কাউকে কখনো কামড়াই নি। কারন আমি ছিলাম (এই কিছুদিন আগেও) একটু গরু টাইপের গাধা। আমার মা অবশ্য একটা সমাধান বের করলেন। গাধাতো কেউ নিবে না তাই আমি যাতে অন্তত গরু হয়ে যাই তাই আমাকে গরু বলে ডাকতে শুরু করলেন। 'এই গরু এইটা কি করলি।', ' দেখত, গরুটা কি করে।', ' ভাবি আমার গরুটা নিয়ে কিযে করি' - এসব হচ্ছে আমার মায়ের কথার নমুনা! তো আমি গরু সেজে গরু মানুষ করার এক স্কুলে ভর্তি হয়ে গেলাম। সেই আমার পড়াশোনার শুরু। গরুর স্কুলে গাধা হয়ে পড়ি। তাই টেনেটুনে কোন রকমে পাশ করি। এভাবেই চল্‌তে লাগলো। তবে আমার ভাগ্য ভালই বলতে হয়। শেষমেস কিভাবে যেন বুয়েট নামের এক গাধার খোয়াড়ে ভর্তি হয়ে গেলাম। এখানেও অবশ্য এরা গাধা মানুষ করতে পারে না। তবে কিভাবে কিভাবে যেন ইঞ্জিনিয়ার (ইন্‌জানোয়ার) বানিয়ে ফেলে! নাই মামার চেয়ে কানা মামা নাকি ভাল। তাই আমার পিতৃমাতৃকূল মোটামুটি সন্তুষ্ট হয়ে রইলেন। আর আমি এখানে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার চেস্টা করতে লাগলাম।
এখানে এসেও পুরদমে গাধামি করে যাচ্ছি। সবচেয়ে বড় গাধামি গুলো করি টিউশনি করতে গিয়ে আর মেয়েদের সামনে পরে গেলে। আর দুইটাই যদি এক সাথে ঘটে তাহলেতো কথাই নেই। একে বারে সোনায় সোহাগা! তবে ইদানিং বুদ্ধিশুদ্ধির কিছুটা উন্নতি হয়েছে মনে হয়। গাধা থেকে প্রায় ঘোড়ার ক্লাসে উঠেছি। আগে গাধামি করে বুঝতে পারতাম না যে কি করলাম। পরে কেউ বললে বুঝতাম। এখন ঘোড়ামি করার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বুঝতে পারি। এতে বরং খারাপই হয়েছে। আগে লজ্জা পেতে হত না। এখন লজ্জায় জিভ্‌ কাটা ছাড়া উপায় থাকে না।
গাধামির একটা উদাহরণ দেই। গ্রাম থেকে সদ্য এসেছি তার উপর গাধা। দুরু দুরু বুকে গেছি টিউশনি করাতে। গিয়ে দেখি ছাত্রী! ভর্তি পরীক্ষার্থি। মনে মনে দুয়া ইউনুস পড়ছি বার বার। কোন রকমে চার পাঁচ দিন পার করেছি। ছাত্রীর ভাব ভঙ্গি সুবিধার মনে হচ্ছে না। এর মধ্যে এক দিন ছাত্রী জিজ্ঞেস করে, "ভাইয়া আপনার আফেয়ার আছে?" । সত্যি কথাই বলি। আমি হচ্ছি ক্ষ্যাত গাধা। আফেয়ার শব্দটা কয়েবার শুনেছি খবরে। ফরেন আফেয়ার বলে তারা একে। আমি অবাক হয়ে বলি, "কেন, আমি কি মন্ত্রী সচিব নাকি আমার কেন আফেয়ার থাকবে? ", ছাত্রী কিছুক্ষন চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকলো। তারপরে বুঝিয়ে বলল ব্যপারটা। এসব শুনে আমি লজ্জায় মুখ লাল করে বললাম, "ওহ্‌ এই ব্যপার আমিতো জানতাম একে বলে লাইন করা।" 'লাইন' শব্দটা শুনে ছাত্রীর মনে আমার সম্পর্কে সঠিক ধারনা পৌছাতে আর কোন সমস্যা হলনা। পর দিনই অর্ধ মাসের বেতন দিয়ে বিদায়। আমি কিছুই বুঝলাম না,কি হল। তবে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। ছাত্রী সুবিধার ছিলনা। ঘটনা শুনে যখন হলের বন্ধুরা যখন সব বুঝিয়ে বলল তখন বুঝলাম যে আমি তখনো গরু টাইপের গাধাই রয়ে গেছি।
ঘোড়ামির ঘটনাটা ছোট। পরে এক টিউশনিতে গেছি প্রথম দিন ইন্টারভিউ চলছে। সামনে আঙ্কেল আর আমার হবু ছাত্র। এর মধ্যে ছাত্রের ছোট ভাই এসে বড় করে একটা সালাম দিল। আমি বললাম, কি বাবু তোমার নাম কি? নাম ইয়াসীন। আমি যে বেশ স্মার্ট তা বুঝানোর জন্য বললাম, "বাহ বেশ সুন্দর নামতো! " আঙ্কেলকে বললাম, "বুঝলেন আঙ্কেল ছোট বেলায় আমাকে যে রিক্সাওয়ালা মাস চুক্তিতে স্কুলে নিয়ে যেত তার নাম ছিল ইয়াসীন।" কিন্তু আমিতো এখন আর গাধা নই তাই ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই বুঝলাম ঘোড়ামিটা কোথায় করেছি। যাই হোক টিউশনিটা শেষমেস আমার হয়ে গেল।
আব্‌জাব অনেক হল। এখন বিদায়।
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×