আমার জন্মের পর ছেলে হয়েছি বলে সবাই যখন খুশি। আমার দাদী সম্পর্কিয় একজন অবাক হয়ে আমার কানের দিকে তাকিয়ে বললেন, "আরে! এর কান দুটো এত বড় কেন? এই ছেলেতো গাঁধা হবে!" আমার বাবা চাচারা সেকথা আমলেই নেয়নি। শুধু আমার মার মনটা একটু খচ করে উঠেছিল। কিন্তু আমি যতই বড় হতে লাগলাম ততই সবারই মন খচ্ খচ্ করতে লাগলো। কারণ সবাই দেখে, আরে! এইটাতো গাধা! আমিও সেই দাদীর কাথা সঠিক প্রমান করার জন্যেই কিনা দিনে দিনে গাধা হয়ে উঠতে লাগলাম। যত বড় হই, তত বড় গাধা হই। আমার বাবাতো গাঁধা মানুষ করার জন্য উঠে পড়ে লাগলেন। কিন্তু এলাকায় কোন উপযুক্ত মাস্টার খুজে পওয়া গেলনা। সবাই গরু পিটিয়ে মানুষ করতে ওস্তাদ কিন্তু গাধা? না! গাধা নিয়ে কেউ রিস্ক নিবেনা। গাধাতো মানুষ হয়ই না বরং মানুষ করতে গেলে নাকি মাঝে মাঝে কামড়িয়েও দেয়। আমি অবশ্য কাউকে কখনো কামড়াই নি। কারন আমি ছিলাম (এই কিছুদিন আগেও) একটু গরু টাইপের গাধা। আমার মা অবশ্য একটা সমাধান বের করলেন। গাধাতো কেউ নিবে না তাই আমি যাতে অন্তত গরু হয়ে যাই তাই আমাকে গরু বলে ডাকতে শুরু করলেন। 'এই গরু এইটা কি করলি।', ' দেখত, গরুটা কি করে।', ' ভাবি আমার গরুটা নিয়ে কিযে করি' - এসব হচ্ছে আমার মায়ের কথার নমুনা! তো আমি গরু সেজে গরু মানুষ করার এক স্কুলে ভর্তি হয়ে গেলাম। সেই আমার পড়াশোনার শুরু। গরুর স্কুলে গাধা হয়ে পড়ি। তাই টেনেটুনে কোন রকমে পাশ করি। এভাবেই চল্তে লাগলো। তবে আমার ভাগ্য ভালই বলতে হয়। শেষমেস কিভাবে যেন বুয়েট নামের এক গাধার খোয়াড়ে ভর্তি হয়ে গেলাম। এখানেও অবশ্য এরা গাধা মানুষ করতে পারে না। তবে কিভাবে কিভাবে যেন ইঞ্জিনিয়ার (ইন্জানোয়ার) বানিয়ে ফেলে! নাই মামার চেয়ে কানা মামা নাকি ভাল। তাই আমার পিতৃমাতৃকূল মোটামুটি সন্তুষ্ট হয়ে রইলেন। আর আমি এখানে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার চেস্টা করতে লাগলাম।
এখানে এসেও পুরদমে গাধামি করে যাচ্ছি। সবচেয়ে বড় গাধামি গুলো করি টিউশনি করতে গিয়ে আর মেয়েদের সামনে পরে গেলে। আর দুইটাই যদি এক সাথে ঘটে তাহলেতো কথাই নেই। একে বারে সোনায় সোহাগা! তবে ইদানিং বুদ্ধিশুদ্ধির কিছুটা উন্নতি হয়েছে মনে হয়। গাধা থেকে প্রায় ঘোড়ার ক্লাসে উঠেছি। আগে গাধামি করে বুঝতে পারতাম না যে কি করলাম। পরে কেউ বললে বুঝতাম। এখন ঘোড়ামি করার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বুঝতে পারি। এতে বরং খারাপই হয়েছে। আগে লজ্জা পেতে হত না। এখন লজ্জায় জিভ্ কাটা ছাড়া উপায় থাকে না।
গাধামির একটা উদাহরণ দেই। গ্রাম থেকে সদ্য এসেছি তার উপর গাধা। দুরু দুরু বুকে গেছি টিউশনি করাতে। গিয়ে দেখি ছাত্রী! ভর্তি পরীক্ষার্থি। মনে মনে দুয়া ইউনুস পড়ছি বার বার। কোন রকমে চার পাঁচ দিন পার করেছি। ছাত্রীর ভাব ভঙ্গি সুবিধার মনে হচ্ছে না। এর মধ্যে এক দিন ছাত্রী জিজ্ঞেস করে, "ভাইয়া আপনার আফেয়ার আছে?" । সত্যি কথাই বলি। আমি হচ্ছি ক্ষ্যাত গাধা। আফেয়ার শব্দটা কয়েবার শুনেছি খবরে। ফরেন আফেয়ার বলে তারা একে। আমি অবাক হয়ে বলি, "কেন, আমি কি মন্ত্রী সচিব নাকি আমার কেন আফেয়ার থাকবে? ", ছাত্রী কিছুক্ষন চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকলো। তারপরে বুঝিয়ে বলল ব্যপারটা। এসব শুনে আমি লজ্জায় মুখ লাল করে বললাম, "ওহ্ এই ব্যপার আমিতো জানতাম একে বলে লাইন করা।" 'লাইন' শব্দটা শুনে ছাত্রীর মনে আমার সম্পর্কে সঠিক ধারনা পৌছাতে আর কোন সমস্যা হলনা। পর দিনই অর্ধ মাসের বেতন দিয়ে বিদায়। আমি কিছুই বুঝলাম না,কি হল। তবে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। ছাত্রী সুবিধার ছিলনা। ঘটনা শুনে যখন হলের বন্ধুরা যখন সব বুঝিয়ে বলল তখন বুঝলাম যে আমি তখনো গরু টাইপের গাধাই রয়ে গেছি।
ঘোড়ামির ঘটনাটা ছোট। পরে এক টিউশনিতে গেছি প্রথম দিন ইন্টারভিউ চলছে। সামনে আঙ্কেল আর আমার হবু ছাত্র। এর মধ্যে ছাত্রের ছোট ভাই এসে বড় করে একটা সালাম দিল। আমি বললাম, কি বাবু তোমার নাম কি? নাম ইয়াসীন। আমি যে বেশ স্মার্ট তা বুঝানোর জন্য বললাম, "বাহ বেশ সুন্দর নামতো! " আঙ্কেলকে বললাম, "বুঝলেন আঙ্কেল ছোট বেলায় আমাকে যে রিক্সাওয়ালা মাস চুক্তিতে স্কুলে নিয়ে যেত তার নাম ছিল ইয়াসীন।" কিন্তু আমিতো এখন আর গাধা নই তাই ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই বুঝলাম ঘোড়ামিটা কোথায় করেছি। যাই হোক টিউশনিটা শেষমেস আমার হয়ে গেল।
আব্জাব অনেক হল। এখন বিদায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

