একজন দয়ালু ঈশ্বর
১৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:১৪
খুব ছোট বেলাতেই যখন পাশের বাড়ীর ছেলে মেয়েরা খেলে ক্রিকেট, ক্যারম, রান্নাবাটি অথবা পুতুল পুতুল তখন নীরবেই কেন যেন অন্য এক খেলায় মাতি আমি। হয়তো তাদের মত স্মার্ট নই বলেই। অথবা ... কে জানে কেন? আমি খেলি ঈশ্বর ঈশ্বর!
ভোরে জানালার রেলিং বেয়ে সূর্যের আলো যখন চুঁইয়ে আসতে থাকে তখন তার সাথে সাথে সার বেঁধে আসে লাল পিঁপড়ারা। জানালার ধারে বসে বসে ওদের পথ চলা দেখি। মাঝে মাজে তারা একজন আরেক জনের সাথে হ্যান্ডসেক করে। দুয়েকটা সৌজন্যমূলক কথাবার্তাও বলে বোধ হয়। আমি আরেকটু এগিয়ে যাই। তাদের কথা শুনতে না পেলেও কিছু মিছু একটা কল্পনা করে নেই। যেমন একটা পিঁপড়া হয়তো বলে, “ভাই ওদিকে খাবার কেমন?” এই পিঁপড়াটা উত্তর দেয়, “ভালই তবে মিষ্টি না, একটা শুঁওপোকা।” প্রথম পিঁপড়াটা একটু মন খারাপ করে। তারপরও এগিয়ে যেতে থাকে সে।
আর তখনই আমি হয়ে যাই (অথবা হতে চাই) তাদের ঈশ্বর। এক দৌঁড়ে মায়ের কাছ থেকে চিনির বয়ামটা নিয়ে আসি। আর প্রথম পিঁপড়াটার উপর ছেঁড়ে দেই কয়েক দানা চিনি। কখনো হয়তো পুরো এক চিমটি। এভাবেই লাইনের সব পিঁপড়াকেই চিনি দেই আমি। চিনি দিয়ে পিঁপড়াদের বেহেস্ত বানাই! কখনো হয়তো আমার চিনির ভারে মরবার হাল হয় কোন কোন পিঁপড়ার। তারপরও আমার চিনি দেওয়া থামে না। কি করবো আমি? আমি যে একজন ‘দয়ালু ঈশ্বর!!
তারপর বড় হই। বড় হতেই থাকি (আসলে বয়স বাড়ে)। চিনির ঈশ্বরের ধৃষ্ঠতা আরো বাড়তেই থাকে। সে ঈশ্বর হতে চায়, কাগজের আর কলমের। তার অনুগ্রহ প্রাপ্তরা এখন আর শুধু পিপড়াই নয় মানুষও! কলমের খোঁচায় সাদা কাগজে মানুষ তৈরি করি। মানুষরা খায় দায়, ভালবাসে। চুম্বন আর আলিঙ্গন করে প্রিয়জন দের। কলমের দু’খোঁচায় অথবা কীবোর্ডের কয়েকটা খট খটানিতেই মেয়েটা হয়ে যায় আরো রূপসী, তার পর আরো দয়ালু হই। রূপসীরা হয়ে যায় অপরূপা। ছেলেটার প্রতিও দয়ালু হই। সে সেই অপরূপা রমণীর আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার ঈশ্বরের। আমি খুশি হই তার প্রতি। আমার দয়া বাড়তেই থাকে। তারপর কাহিনী তৈরি করি, তৈরি করি অজস্র মানুষ! আর তাদের জানা অজানা হাজার গল্প। ইট আর পাথর ভাঙ্গার মেশিন এসে জীবিকা কেড়ে নিয়েছিল সে রহিমের মার। সেও তাই পোলাও তুলে দেয় রহিমের মুখে। আমার কাগজ আর কলমের জগতে! সকালে সেভ্ করার সময় আয়নার দিকে তাকিয়ে তৃপ্তির হাসি দেই। আয়নাতেও হাসতে থাকে একজন। একজন ‘দয়ালু ঈশ্বর’!!
তার পর হুঠ করেই কি যেন হয়। আয়নায় উকি দেয় আরো অজস্র মুখ। ঐ সে নসুমিয়া গতকালই যাকে না খাইয়ে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম ন্যায্য মূল্যের’ লাইনে। মনের ভুলেই হয়তো সেই ন্যায্য মূল্যটাও দেওয়া হয়নি তার হাতে। নাকি গল্পের প্রয়োজনে?!! উঁকি দেয় নাম ভুলে যাওয়া আরো অনেক কাগুজে মুখ। দয়ালু ঈশ্বরও যাদের দয়া করেনি কখনো। এমনকি বানিয়ে রাখেনি কোন চিনির বেহেস্ত। চমকে ওঠায় কেঁটে যায় গালের এক পাশ!
বাইরের রাস্তা থেকে একঘেয়ে একটা ছন্দবদ্ধ সুরে কারা যেন কি বলতে থাকে। পঙ্গু আর ভাগ্যাহত মানুষগুলো। কর্কশ আর বিরক্তিকর ধ্বনিতে ঘোষণা করতে থাকে তাদের ‘দয়ালু ঈশ্বর’এর মহিমা। যে কিনা মনের ভুলে অথবা হয়তো অজানা কোন কাহিনীর প্রয়োজনেই অস্বীকার করেছে তাদের প্রতি দয়ালু হতে।
নিজের টেবিলে ফিরে যাই। আর আমার সেই কাগজ-কলমের জগৎ থেকে একটুকরো ছিঁড়ে নিয়ে চেপে ধরি কাঁটা মুখে। একজন ‘দয়ালু ঈশ্বর’এর!!
বাইরের ধ্বনিটা চলতে থাকে। চলতেই থাকে...
প্রলয় হাসান বলেছেন:
ভাই আরেকটা মাস্টার পিস লিখেছেন। আপনি আমার ফেবারিট ব্লগার লিস্টে নাম লেখালেন। কনগ্রেট এবং +++++
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ!!
উৎসাহ দেন বলেই লেখার সাহস করি! ![]()
লেখাটা আপনার যত ভাল লেগেছে আপনার কমেন্টটা আমার তারচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে!
আবার ধন্যবাদ।
মানুষ বলেছেন:
পড়ে আরাম পেলাম। আপনি আসলেই দুর্দান্ত লেখেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
প্রলয় হাসান বলেছেন:
আরে ধুর! কি যে বলেন! বরং আমি লজ্জা পাচ্ছি আপনার প্রাপ্য প্রশংসাটুকু ঠিকভাবে করতে পারিনি বলে! ভাই, এখানে আপনার একটা কমেন্ট আশা করছি। ছ্যাবলার মত লিংক রেখে গেলাম।Click This Link
লেখক বলেছেন: আপনি লিঙ্ক দেবার আগেই আমি ঐ খানে নিজের কমেন্ট লেখায় ব্যস্ত ছিলাম!
সত্যি দারুন উদ্যোগ। ![]()
আকাশচুরি বলেছেন:
অসাধারন
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
আপনার লেখা গুলোও অসাধারণ।
লেখক বলেছেন: আমার ব্লগে স্বাগতম। আপনি আমার দেখা সবচে বিখ্যাত ব্লগার!! ![]()
ধন্যবাদ।
প্রলয় হাসান বলেছেন:
অগানিতিক ভাই, আকাশচুরি ভাইও কিন্তু মাস্টার পিস লিখে। বিশ্বাস না হলে তার যে কোন একটা পোস্ট পড়ে দেখেন।
লেখক বলেছেন: তার সবগুলো লেখা আমি গতকাল পড়েছি! ![]()
সিহাব চৌধুরী বলেছেন:
আমি খেলি ঈশ্বর ঈশ্বর ...
হে (অ) গানিতিক ঈশ্বর ! তোমার কয় বস্তা চিনি আছে? তুমি পৃথিবীর সকল পিপড়াকে চিনিভাগ্য দিতে পারবে?
কাগুজে মানুষগুলোর ঈশ্বর ও তোমার মত গরীব । সবাইকে তিনি দিতে পারেন না ।
শক্তিমান ঈশ্বর সর্বকালের সেরা পূজির দাস ।
লেখায় আটকে গেছি, সারা সন্ধ্যা ও রাত মাথায় ঘুরবে ... আমি খেলি ঈশ্বর ঈশ্বর ......
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
আসলে মাঝে মাঝে এইসব মনে হয়। মাথাটাই গেছে মনে হয় আমার।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
মাঝে মাঝে আসিস আমার ব্লগে। ![]()
ঝুমী বলেছেন:
অ-সা-ধা-র-ণ লেখা। আপনার এই লেখাটা আমার প্রিয় পোস্টে রেখে দিলাম। +
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে!!
লেখক বলেছেন: কি যে বলেন!!
ভালো লেখক হওয়া কি এত সহজ?
এমনিতে 'আব্জাব' লিখি। মাঝে মাঝে একটু ভাব ধরি আরকি।
ভাল লেখক হতে পারবো কিনা জানিনা।
আপনার কমেন্টে উৎসাহ পেলাম।
লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
এমন করে কখনো কি ভেবেছি ? ইমপ্রেসড আমি।
একটা মজার ব্যাপার খেয়াল করলাম , কতদিন ব্লগ লিখছো সেটার কোন সঠিক তথ্য নেই , এই প্রথম এমন দেখলাম
লেখক বলেছেন: তুমি অনেক দিন থেকে লেখ সেটা আমি জানি।
আগে কখনো পাব্লিকলি লেখালেখি করিনি।
এই আকাউন্ট টা বেশ পুরাতন।
তখন সামহ্যারইন এর পেজ তেমন ইউজার ফ্রেন্ডলী ছিলনা বলে আর লেখালেখি হয়নি।
তবে এখন লিখছি এইতো কদিন হল।
আর লিঙ্কটা রাখার জন্য ধন্যবাদ! ![]()
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ! ![]()
লেখক বলেছেন: হুমম্...
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ!!
আর কি বলব? ![]()
লেখক বলেছেন: আপনার কমেন্ট দেখতেই সাত সকালে লগইন করলাম!! ![]()
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ! ![]()
সারিয়া তাসনিম বলেছেন:
এত কম কম লিখে আমাদেরকে বঞ্চিত করা কি ঠিক হচ্ছে ?
ভালো লেখাগুলো পড়তেই তো ব্লগে আসি ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ!
আমি আব্জাব লেখক।
আসবেন মাঝে এদিকে! ![]()
অন্তিম বলেছেন:
ব্লগে এসে এত ভাল ভাল লেখা দেখে নিজে লেখার আর সাহস পাই না।আপনি খুব খুব খুব ভাল লিখেছেন। +++
লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ! ![]()
নিবিড় অভ্র বলেছেন:
চ----------ম---------ৎ---------কা-----------র!!!!!আসলে কি বলব বুঝতে পারছি ন...........
লেখক বলেছেন: যা বলেছেন তার জন্যই অনেক ধন্যবাদ ![]()
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ!
দি ওয়ান বলেছেন:
সুন্দর...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ!
লেখক বলেছেন: বাহ! আমাদের তো অনেক মিল!!
লেখা ভাল লেগেছে শুনে ভাল লাগছে! ![]()
দ্বিধা বলেছেন:
আপনি আসলেই একজন ইশ্বর, যে কিনা গদ্য সৃষ্টি করে !!!...
লেখক বলেছেন: হায় হায়! লজ্জা দিয়েন না!
এইসব আব্জাব লেখা!!
আপনার কমেন্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ! ![]()
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
ব্লগ এর লেখা রাখার জন্যে একটা জাদুঘর দরকার, কি বলেন?


















