somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মরুজীবন-২: বারো ('শ!) রকমের মানুষ-১

২০ শে মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাতার সত্যিকার ভাবেই একটা কসমোপলিটান দেশ। এর নির্মানশিল্পের ক্ষেত্রটা এত বিশাল যে অনায়াসে পুরো দেশটার উপর একটা "আন্ডার কন্সট্রাকশন" সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া যায়। আপনি যে এলাকাতেই যান সেখানেই দেখবেন উঠছে নতুন নতুন বাড়ী। এই শিল্পের শ্রমীকের চাহিদা মিটাতেই মূলত সারা পৃথিবী থেকে স্রোতের মত লোক আসছে এদেশে। এছাড়া অন্যান্য সেক্টরতো আছেই।

ভাষাগত ভাবে দেখলে এদেশে মানুষদের তিনভাগে ভাগ করা যায়। কাতারী এবং আফ্রিকা মহাদেশের মানুষদের ভাষা আরবী। উপমহাদেশের সবার সাধারণ ভাষা হচ্ছে হিন্দি। আর ওয়েস্টার্নদের ইংরেজি।

এখানে আসার আগে কাতারের কিছু বড় বড় বিল্ডিংএর ছবি দেখে ভেবেছিলাম এখানকার সবাই বোধ হয় হাইরাইজ বিল্ডিংএ বাস করে। এসে দেখি চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টা। রাজধানী ছাড়া অন্য কোথাও বড় কোন বিল্ডিংই নেই। আর পুরো রাজধানী হচ্ছে বিদেশীদের দখলে। এরা নিজেরা থাকে রাজধানীর বাইরে। এদের বাসভবন হচ্ছে ডুপ্লেক্স ভিলা। আগে এদেরকে সরকার থেকে যেসব বাড়ী বানিয়ে দিত সেগুলো ছিল এক তলা ভবন। এবছর থেকে নতুন যেসব বাড়ী হচ্ছে সেগুলোও সব হচ্ছে ডুপ্লেক্স ভিলা। যেদিকেই তাকাবেন আপনার দৃষ্টি কোন না নির্মানাধীন ভবনের উপর পরবেই!

এদেশে উপস্থিত আফ্রিকানদের বেশীরভাগ হচ্ছে মিশরী। এরা শিক্ষিত এবং কর্মঠ। এখানকার অফিস-আদালতগুলোর উঁচু পদগুলো সব এদের দখলে। ভাষা আরবী এবং শিক্ষিত হওয়ার পুরো সুবিধাটাই এরা পাচ্ছে। কাতারীরা এদের মর্যাদাও দেয় অনেক। সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং ছোটবেলায়ই খুব ভালো ক্বোরআন শিখে। এদের যে কেউ মসজিদে নামাজ পড়ানোর সাজস রাখে। হয়ও তাই। মসজিদে যেসব মুসুল্লি জামায়াতের পরে আসে, তারা যখন জামায়াত পরে তখন সেখানে কোন মিশরী উপস্থিত থাকলে সেই সাধারনত নামাজটা পড়ায়।

নির্মানশিল্পেও এদের উপস্থিতি অনেক। তবে তাদের সবাই ট্রেডসম্যান। লেবার খুব কমই আছে। কন্ট্রাকটারও আছে প্রচুর।এছাড়াও আছে বড় বড় ট্রাক ও ট্রেইলারের ড্রাইভার। এদের আরেকটা গুন হচ্ছে এরা নাম্বার ওয়ান ফটকাবাজ। কথায় এদের সাথে পারা মুশকিল। কথায় কথায় বলবে " ও আল্লাহ্!" মানে "আল্লাহর কসম!"। এরা যদি কোন দেয়ালের ইট গাঁথে, সেটাতে পেরেক ঠুকতে গেলে পুরো দেয়ালটাই পরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বিশাল। তারপরেও এরা কাজ পায় মুখের জোরে। কাতারীদের সাথে দেখা হলে গালে চুমা-টুমা দিয়ে এমন গ্যাস দেয়, কাজ না দিয়ে উপায় কি? অবৈধ ট্যাক্সিও চালায় অনেকে।

আফ্রিকানদের পরে মিশরীদের পরে হচ্ছে সুদানীরা। এরা সাধারনত অফিসে চাকরী করে। অসম্ভব ভদ্র এবং সৎ। কাতারে এদেরকেই সবচেয়ে ভালো মানুষ বলা যায়। এদের পোশাক হচ্ছে কলার ছাড়া বড় সাদা পাঞ্জাবী যার দুই কাফ অসম্ভব ঢোলা। মাথায় পুরোটা গোল করে প্যাঁচানো সাদা পাগরী। এরা আরবীর সাথে ইংরেজীটাও মোটামুটি ভালোই জানে।

ইংরেজী মিশরীরাও জানে তবে সেটা হয় মারাত্মক ইংরেজী। একটা উদাহরন দেই। এখানকার ড্রাইভিং স্কুলগুলো ছাত্রদের ফ্রি ট্রান্সপোর্ট ফ্যাসিলিটি দেয় স্কুলে যাতায়াতের জন্য। আমি একবার স্কুলে ক্লাশ শেষে সাইটে যাওয়ার জন্য এরকম এক বাসের মিশরী ড্রাইভারকে ইংরেজীতে জিজ্ঞেস করছি, মাইজার যায় কোন বাস? সে আমাকে বলে "তিন"। ভাবলাম উপমহাদেশের লোক দেখে বোধ হয় হিন্দিতে বলেছে। তারপরেও কনফার্ম হওয়ার জন্য আবার ইংরেজীতে জিজ্ঞেস করি "থ্রি"? সে না বোধক মাথা নেড়ে আবার বলে "তিন"। ইংরেজি বুঝে নাই ভেবে আমি এবার হাতের তিন আঙ্গুল দেখিয়ে জিজ্ঞেস করি, "থ্রি"? সে এবার ক্ষেপে গিয়ে দুই হাতের দশ আঙ্গুল দেখিয়ে আমাকে বলে "তিন, তিন"! এরপর পাশে বসা আরেক মিশরীকে আরবীতে বলছে, দেখ ইংরেজী বললাম তাও বুঝে না! আর দু'জনে কি হাসি। আমাকেই উল্টা মদন বানিয়ে দিয়েছে। তার ইংরেজি "টেন"-এর উচ্চারন হয়ে গিয়েছে "তিন"। বুঝেন এবার অবস্থা! এই কারনে এদেশে বাঁচতে হলে সবার আগে শিখতে হয় আরবী।

বিদেশীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী লোক নিঃসন্দেহে ভারতীয় উপমহাদেশের। এর মধ্যে আছে ভারতের মালবারী, পাকিস্তানের পাঠান, বাঙ্গালী, নেপালী, এবং শ্রীলঙ্কান। এদের সবার কমন ভাষা হচ্ছে হিন্দি। হিন্দি সিনেমা অপছন্দের কারনে হিন্দি ভাষাটা জানতাম না। প্রথম প্রথম এখানে এসে হিন্দি বুঝিনা বললে উপমহাদেশের লোকেরা রীতিমতো টিটকারী করতো।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×