আমার প্রিয় পোস্ট

নাই কাজ তো ব্লগিং কর!

একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং আওয়ামীলীগের সেনা আতঙ্ক

১০ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেছেন, তারা জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন এবং তাদের হাতে গ্রেফ্তারী ক্ষমতা প্রদানের সম্পূর্ণ বিরোধী, এবং জরুরী আইনের অধীনে তারা কোনভাবেই জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এর পেছনের তার যুক্তি হলো, গ্রামের মানুষ আর্মিকে ভয় পায়। নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হলে মানুষ ভয়ে ভোট দিতে আসবে না। জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে অন্য কোন নির্বাচনেও তারা কোন ভাবেই অংশগ্রহণ করবে না। সাধারন ভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, আওয়ামীলীগের ভয়টা আসলে কোথায়?

জরুরী আইনের অধীনে সদ্য সম্পন্ন হওয়া সিটি-কর্পোরেশন এবং পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একক বিজয় প্রমান করে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে। জরুরী আইনের অধীনে অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মানুষ ভোট দিয়েছে, যেখানে ভোট প্রদানের হার ছিল প্রায় ৭০%। এই প্রথমবারের মতো কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা এবং অরাজগতা ছাড়া একটি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, এবং বড় দলগুলো তাদের স্বভাবমতো নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ফলাফল বর্জন করার মত সুযোগ পায়নি। নির্বাচনে অসৎ প্রার্থী জয়ী হয়েছে, কিন্তু ৫,০০০ দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকের কেউই নির্বাচনে কোন ধরনের কারচুপি হওয়ার অভিযোগ তোলেনি। সুতরাং বলা যায়, এই নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটি সুষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আন্তরিক ইচ্ছাই প্রকাশ পেয়েছে।

তাহলে এই সরকারের অধীনে একই ভাবে জরুরী আইনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হলে, এবং আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে সেনা মোতায়েন করা হলে এবং তাদের হাতে গ্রেফ্তার করার ক্ষমতা থাকলে আওয়ামীলীগের ভয়টা কিসের? জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে অন্য নির্বাচনেই বা তাদের কিসের আপত্তি? তাহলে কি "নির্বাচনে জয়ী হলে সুষ্ঠ নির্বাচন হয়েছে, আর পরাজিত হলে কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন বর্জন" - এই হীন নীতির প্রয়োগ করার অক্ষমতাই সেনা সদস্য মোতায়েনের পেছনে আওয়ামীলীগের আপত্তির প্রধান কারন?

সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে সিলেটের মতো জায়গায়ও কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা না হওয়া কি জরুরী আইনের প্রয়োজনীয়তাই প্রমান করে না? আওয়ামীলীগ কি আসলেই মনে করে, শুধুমাত্র ঘুষখোর পুলিশ প্রসাশনের মাধ্যমে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব? নাকি সেনা মোতায়েনের ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, এবং সেখানে হেরে গেলে কারচুপির অভিযোগ করে ফলাফল বর্জন করার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আতঙ্কই তাদের মনে প্রবল?

বড় দলগুলো এই ধরনের হীন মানসিকতা পরিহার করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুস্থ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল সহযোগীতায় এগিয়ে আসবে, এবং নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগনের মতামতকে সম্মান জানিয়ে একটি গনতান্ত্রিক সরকার গঠনে সাহায্য করে নাভিশ্বাস উঠে যাওয়া এই জাতীকে আর পিছিয়ে না দিয়ে সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিবে - এটাই তাদের কাছে আমাদের মতো সাধারন মানুষের প্রত্যাশা।

 

 

  • ২ টি মন্তব্য
  • ১০৩ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১০ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৭
comment by: ইউনুস খান বলেছেন: ভালো লিখেছেন।
২. ১০ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৪
comment by: অচেনা আগন্তুক বলেছেন: নাকি সেনা মোতায়েনের ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, এবং সেখানে হেরে গেলে কারচুপির অভিযোগ করে ফলাফল বর্জন করার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আতঙ্কই তাদের মনে প্রবল?.....

ইহাই অতিব সত্য।

খালি মাঠে গোল দিয়া আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলিলেও তাহারাতো এই সত্য টা ভাল করিয়াই জানে... ফাইনাল আর খালী মাঠে হবে না।

তাই পুরানো আতংক। ভাল লিখেছেন।

+

 



 


অনেক কিছুই শুরু করি, শেষ করা হয় না।


মানুষের জন্য কিছু করতে ইচ্ছে করে, করা হয়নি কিছুই।


kapalic [এ্যাট] জিমেইল.কম

আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ২২৭৯৯