মেয়েদের মন নাকি বিধাতাও বোঝেন না।এই ফাউল টক কে কবে কোন ইতিহাসে লিখে গেছেন আমি দিনরাত নেট ঘাটাঘাটি করেও তার হদিস পাইলাম না।(কারও জানা থাকলে এই অধমরে একটু মনে কইরেন।)
তবে বিউটি পার্লার নামক জীবন্ত ইনষ্টিটিউটগুলো সেই মনের কিনারা ঠিকই উদ্ঘাটন করতে পেরেছে।তারা জানে মেয়েদের রহস্য কোথায় লুক্কায়িত।তাই কয়েকটা ভ্রু উঠাইয়া,হাত পায়ের নখকে নানা সাজে সাজাইয়া,চোখে মুখে সামান্য একটু পলিশ করিয়াই কোটি কোটি টাকা কামাইয়া নিতেছে।
পড়ে দেখুন(মেয়েরা কেন সাজ?তবে সত্যি কিনা সে ভার আপনাদের উপর।) Click This Link
আমরা মেয়েরা ছেলেদের সমানে সমান হইবারজন্যে আজ উঠে পড়ে লেগেছি।সেটাকি যোগ্যতার জোরে নাকি অন্যকিছুর বদলে সেই প্রশ্ন আমি চেয়ার এন নাভলী নামক প্রসাধনীর কাছে রেখে গেলাম।টিভিতে যখন এর এড দেয় আমি একটু ভলিউম বাড়িয়ে দেই । কোন প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে এই সামগ্রীএর ক্যারিশমাটা ঠিক ভালোভাবে অনুধাবন করার জন্যে।হায়রে নারী জাতি বুঝলিনা কত ধানে কতচাল
আমাদের একজন মনীষীর একটি উক্তি আমার মনে বার বার দোল খেয়ে যায়।আমাদের টিভিতে শেভিং ক্রীমের ফেনাও নাকি মেয়েদের হাতের ছোয়া না লাগলে ফেনায়িত হয়না
(এই বিখ্যাত মনীষীও আজ চৌদ্দশিকের বেষ্টনীতে বসে সরকারের অন্ন ধ্বংস করছে।হায়রে বাঙ্গালী গুণীর মান বুঝলিনা
সদ্য পারসোনা নামক একটি পার্লার নিয়ে নাকি কি সব আলোড়ন চলছে?বাঙ্গালীজাতির এও এক নতুম ভেল্কি।মিডিয়ার যে কি শক্তি তা আমরা সবাই জানি।এর মহত্ত বয়ানের তার আগে আমার ব্যক্তিজীবনের দুটি ঘটনা আগে বয়ান করে নেই।
১।কিছুদিন আগে টিভির সামনে বসে এ চ্যানেল থেকে অন্য চ্যানেলে ছুটোছুটি করছিলাম হঠাত স্ক্রীনে লেখা দেখলাম"এই ছবিটির কিছু অংশ বাচ্চাদের অনুপযোগী"।রিমোর্ট থেমে গেল।সোফার উপর গ্লু লাগিয়ে তিন ঘণ্টা ঠায় বসে থাকলাম।কোন কিছু মিস হয়ে যায় সেই ভয়ে চোখের পলক পর্যন্ত ফেললামনা।আমার আশার ঘৃতে ভস্ম ঢেলে ছবি শেষ হয়ে গেল কিন্তু নিষিদ্ধ কোন কিছুতো দূরে থাক অবাক কাণ্ড কেউ কাউকে একটা কিস পর্যন্ত করলনা
২।আরেকবার রব উঠল তসলিমা নাসরীনের কি একটা বই নাকি নিষিদ্ধ হয়েছে।বহুকষ্টে যোগাড় করে ফেললাম বইখানা।রাতে ঘরের লাইট বন্ধ করে হারিকেন জ্বালিয়ে তার চারপাশ বই দিয়ে ঘিরে ফেললাম,যাতে মা বাইরে থেকে টের না পান যে আমি জেগে আছি(এটা ছিল আমার ছোটবেলায় বই পড়ার অন্যতম একটা কৌশল।কত বই যে এভাবে গলঃধকরন করেছি তার ইয়ত্তা নেই)সামান্য একটু পথে যেটুকু আলো আসত তাই দিয়ে সারারাত জেগে বইখানা উদ্ধার করলাম
(পরে হাতে তার "ক" এমনিতেই এসেছিল কিন্তু নিজেই পড়িনাই।কারণ এত নোংরা বই হজম করার মত যথেষ্ট পরিমান হাইদ্রোক্লোরিক এসিড আমার পাকস্থলীতে নাই)
যাক এখন মুল প্রসঙ্গে আসি।আমাদের দেশে এখনও অনেক মেয়ে আছেন যারা হয়ত জানতোইনা পার্লারে গেলে তার দিকে মানুষ একবার ছেড়ে দুইবার ফিরে চাইবে।বর্তমানের এই আলোড়ন তাদের মনের পালে একটু হলেও দক্ষিণা সমীরণের ছোয়া লাগাবে।
আহহারে "স্পা" উহা করলে না জানি কি চমকই আমাকে দেখাইবে।
একটু জানা গল্পই আসুন আবার হজম করি।
এক পাগলের অভ্যাস হল নৌকায় উঠলেই তা ঢুলিয়ে ঢুলিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া
তো আমাদের মিডিয়ার প্রতিনিধিরা সেই নাউ ঢুলানোর কথাটা ভালোভাবেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন এদেশের নারীজাতিকে।
সোমাবরু খাবার না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে তাতে কি?ও আমরা ঠিক ভুলে যাব।পারসোনায় একদিন হিডেন্ ক্যামেরা ছিল,তাতে কি?এও আমরা ভুলে যাব।কিন্তু রুপসজ্জায় "স্পা" নামক এক জিনিষ আছে তা কখনই ভুলবনা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

