somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধু , এপারে ওপারে , পথের পারাপারে !

০৭ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যদি বিদায় নিতে হয় বন্ধুদের পিছনে ফেলে
যদি একটা মাত্র সন্ধ্যা বিকেল পাই সবাই মিলে
খুনসুঁটি আর দুষ্টুমিতে বুকের ব্যথা ভুলিয়ে দিও
বন্ধু তোমার হাসির রঙে এই অভাগায় তুলিয়ে দিও
তোমার চোখের শেষের দেখায় ইমন রাগে ভাসতে দিও
অনেক প্রহর কেঁদেছি গো, একটু এবার হাসতে দিও !

কি খবর দোস্ত ? ঝাকানাকা আছো তো ? জোশ চলছে তো সব? আমি আছি এখনো এই পারেই। তয় টিকিট বুকিং দেওয়া হয়েছে । দুই পারের বন্ধুদের মেল বন্ধন !

এই পার থেকে ঐপারে নাকি কিছু নেওয়া নিষেধ । কাস্টমে সিস্টেম করিতেছি , যদি কিছু করা যায় । ব্যটা ফেরেস্তা গুলা ঘুষ খায় না । মুশকিল !

এই পারের বন্ধুরা বড় ঝামেলা করিতেছে গো !

আর বলিও না ডার্লিংস । বলে এখনি যেতে দেবে না । একজন তো বলেই বসলো ,৮০ বছরের আগে আমার " নো যাওয়া যাওয়ি " । কি চিপায় ফালাইলো , কও দিনি!

যাকগে ,কাজের কথায় আসি ।

শুভাশিষ , ঐ পারে খাওয়া দাওয়ার কি রকম অবস্থা রে? আমি তো আবার বাইরের খাবার খাইতে পারি না । তোর মনে আছে ? টিফিন টাইমে আমার টিফিন খেয়ে ফেলা ছিলো তোর একমাত্র কাজ। অন্য কারোটা খাইলে নাকি পেট ভরে না । জান রে , এইবার তোরে রেঁধে বেড়ে খাওয়াতে পারবো । আমি খুব ভালো রান্না শিখেছি । আমি কিন্তু তোর উপর খুব রেগে আছি । এই রকম না বলে কেউ আত্মহত্যা করে ? অবশ্য , যারা করে , তারা বোধ হয় বলে না ।কি নিয়ে আসবো দোস্ত , বেনসন , মার্লবোরো ? উঁহু , আমি এখনো সিগারেটের ধোয়া সহ্য করতে পারি না ।

উৎস , কি রে বিটলা ? এখনো হুর পরীদের গাড়ি চালানো শিখাচ্ছিস ? উ লা লা লা ! জানিস , আমি এখন একটা সাদা রঙের গাড়ি চালাই । এয়ারপোর্ট রোডে মাঝ রাতে টান দিতে ইচ্ছা করে । বাপে দেয় না । ঃ( তোর কথা জানে তো ! আমি এখনো তোর মত ভালো গাড়ি চালাতে পারি না । দেখ না , তুই সেই কবে এত জোরে গাড়ি টান দিলি , সোজা ঐপারে পৌঁছায় গেলি । আমি এখনো আমার আল্টিমেট ডেস্টিনেশনে পৌঁছাতে পারছি না । উতু ,ঐ পারে তেলের লিটার কত রে? আর হুরদের মধ্যে মিশরীয়ান আছে তো? আমি কিন্তু তোর সাথে বসে কোক খেয়ে মাতলামি করবো , সেই ইস্কুলের মত, আর বেলি ড্যন্স দেখবো । ইন ফ্যাক্ট , রেডি থাক , তুই আমারে বেলি ড্যন্স দেখাবি ।

আদনান , তুই তো বড় আজব পোলা রে । আমার প্রেমে পড়লি , বললি না কেন? কি সব স্ট্যাপ্লার দিয়ে পেজ আটকায় ডায়রীতে লিখা,১০ বছরের আগে খুলবি না ! তুই জানতি না ? কথা দিলে আমি কোন দিন কথার বরখেলাপ করি না । আমি সত্যি সত্যি ১০ বছর পরেই ডায়রীর পাতাটা খুলেছি । বদমাইশ! আগে বললে আমরা ১ টাকার আমড়া , ১ টাকার আচার আর ১ টাকার ঝালমুড়ি দিয়ে ডেটিং করতে পারতাম গো ! তুই বেঈমান ,আমার সাথে ডেটিং না করে মরে গেলি কেন? আমার তিন টাকার ডেটিং কি হবে গো! তুই হুর পরীদের সাথে যা করার করে নে । আমি আসার পরে আমার তিন টাকার ডেটিং কিন্তু চাই ই চাই । বাই দা ওয়ে , বড় হয়ে ৩০০০ টাকার ডেটিং করে দেখেছি । ভাল্লাগে নাই । মানুষ বড় হয়ে গেলে আর ভালোবাসে না। সব বসে বসে অংক করে । ঃ( আদু , আদনান , আদুন - আমি কিন্তু আসিতেছি !

হাসান , খাইসি তোরে । তুই গেলি কনে? আমার মিউজিক সিস্টেম ঠিক করতে পারি না ।কেউ কিছু বুঝে টুঝে না । আমারে তো বোঝেই না । শুন , চাঁদনী রাত আছে ঐপারে? নৌকার ছাদে বসে গিটার বাজাস এখনো ? এই গিটারটা শেখাই হলো না।নচিকেতার মত কাঁধে গিটার ফেলে হাটবো তুই আর আমি , ঠিক আছে ? তোর জন্য রাজস্রী খুঁজবো । ঃ) পারলে একটা নিয়ে আসতাম সাথে । দেখি কি হয় !

আদুন ,তুই তো সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবলি।আমি সাঁতার শেখা শুরু করেছি । দুই দিন হইলো মাত্র , মোটামুটি ভাসতে পারি । তবে, পুলসেরাত কি সাঁতার দেওয়া যায় ? নাকি হাঁটতে হয়? ট্রাপিজ শেখা শুরু করবো ? উতু আর হাসান রে বল । ঝাক্কাস পোলা ।মনে হয় একটা কিছু সিস্টেম করে ফেলবে । ঃ) দেখা গেলো , একখান হেলিকপ্টার বানায় রওনা দিসে আমারে তোলার জন্য । হি হি হি ।

শুভাষ , তোর মনে আছে , তুই আমাকে তোর পাশে বসতে বলতি । "আমার সমস্যা গুলো তুই পাশে বসলে চলে যাবে না ।কিন্তু আমার কষ্ট গুলো আমি ভুলে যাবো ।" বিশ্বাস কর,তুই মরার পরে আমি অনেক চেষ্টা করেও তোর চিতা ঠেকাতে পারিনি ।ওরা আমাকে ছাইটাও দেয়নি ।আমি কি করে তোর পাশে বসবো? এইবার তোকে কাছে পেলে আর ছাড়বো না । পাশেই থাকবো দোস্ত ।

ঐ ,তোরা রোমেল রে পাইলে একটা ডলা দিস তো ! বদের হাড্ডি ! আমার বাড়ির ডিজাইন না করেই ভেগে গেলো । আহা রে আমার সাদা বাড়ি ! তোদের বলছিলাম? বলি নাই ? আচ্ছা ,শুন ,দেখ তো ,ঐ পাশে পাওয়া যাবে কিনা । পরকালে রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা কারা করে ?

এই রকম হবে বাড়িটা । সমুদ্রের পারে উঁচু একটা টিলা । সমুদ্রের নীল যেখানে শেষ হয়েছে রুপোলী সাদা বালিতে সেটাই আর একটু এগিয়ে এসে ভীষন সবুজ হয়ে টিলার গা বেয়ে উঠে গেছে চূড়া অবধি । বাড়িটা সম্পূর্ণই সাদা । দোতলা । উপরে নিচে মিলে এফোড় ওফোড় বড় বড় জানালা ।লোনা হাওয়া হু হু করে ঢুকে পড়ে ডাকাতের মত । পাহাড়ের গা বেয়ে ঘুরে ঘুরে পেঁচানো রাস্তাটা যেখানে শেষ হলো , সেটা বাড়ির সামনের লন। ঘাসের গালিচা পেরিয়ে প্রথমে কাঠের পাটাতন । তিন সিঁড়ি উঠে আমাদের বসার চেয়ার গুলো পেরিয়ে উঠে যেতে হয় বারান্দায় । মাঝামাঝি দরজা। চৌকাঠ পেরুলেই লিভিং রুম । পা ডুবানো কার্পেট আর কুশনের ছড়াছড়ি । এই খানটাতে আমরা আড্ডা দেব। লিভিং রুমের ঐ পাশে রান্নাঘর । এক পাশে গেস্ট রুমের দেয়ালের সাথে ডাইনিং টেবিল । মাঝে মাঝে লাগে । নইলে আমরা বাইরের বারান্দায় খেতেই পছন্দ করি । রান্নাঘরের ঐ পাশে পিছন বারান্দা , বামে গেস্ট রুম,ডানে স্টাডি বাদ দিলে বারান্দার জানালা দিয়ে খোলা সমুদ্র দেখা যায় । প্রকৃতি আর মানুষের পাগলামি । লিভিং রুম এর সিড়ি বেয়ে দোতলায় সব কটাই বেড রুম। সব বন্ধু আর বান্ধবীর জন্য অবারিত দ্বার ।

রোমেল অবশ্য আরো কিছু যোগ করে দিতো । বেডরুম ভরা হাজবেন্ড আর লিভিং রুম ভরা বাচ্চা থাকতে হবে । তার প্রস্তাব ছিলো ১২ টা বাচ্চা। আমি ১১টায় সম্মতি দিয়েছিলাম । মানে ,১২টা নিলে লোকে খারাপ বলবে না? রোমেলটা আসলেই একটা বদমাশ । নিজের বউটাকে পর্যন্ত রেখে চলে গেল! সত্যি সত্যি ডিভাইন আর্কিটেক্ট হওয়ার জন্য?

অফিসে যাব।তোরা ভালো থাক । আমার জন্য হ্যান্ডসাম ,র‌্যালফ ফাইন্স এর মতন দেখতে ডেট খুঁইজা রাখ। আমি ভালো আছি ।খুব ভালো আছি । তোদের সাথে দেখা হবে , এইটা চিন্তা করেই মজায় আছি । অপেক্ষা কর , জানে মান, জানে তামান্না , দুস্তরা ।আমি কামিং ছুন !
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৯
৫১টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×