অধুনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে মানুষ সোচ্চার হয়েছেন । বিচার কবে হবে কি হবে না , সেইটা পরের ব্যাপার -মানুষ যে নতুন করে সচেতন হচ্ছে , জামাত শিবির রাজাকারদের তত্ত্ব তালাশ করছে , মামলা করার চেষ্টা হচ্ছে - এ সবই শুভ লক্ষণ ।
একটা দেশের ইতিহাস , সংস্কৃতি মুছে দিতে পারলে তাকে দাস , চাকর বানিয়ে চুষে খাওয়াটা সহজ হয়ে যায় । আমেরিকা রাশিয়াকে ভাঙার জন্য বহুদিন পর্যন্ত এই চটকদার জীবনের বিজ্ঞাপন চালিয়েছে । কমিউনিজম মানে দোজখ আর আমেরিকান ক্যাপিটালিজম হলো বেহেস্ত , এই রকম প্রোপাগান্ডা চলেছে । ভারত ও পিছিয়ে নেই । বাংলাদেশের বাজার থেকে আকাশ , সবটাই দখল করা শেষ । আরেক দিকে চীন । সস্তা জিনিস বানিয়ে বাংলাদেশের বাজার দখল করে নিয়েছে । এখন বাংলাদেশের বাজারে গেলে বুঝতে পারি না আমি কি বাংলাদেশে আছি নাকি ভারত , চীন বা পাশ্চাত্যের কোন দেশে !!
প্রতিবার আমরা যখন একটি বিদেশী পণ্য কিনি , বাংলাদেশের কোন না কোন কৃষক , কারিগর , ব্যবসায়ী , শ্রমিক মার খায় । দেশের টাকা বিদেশে চলে যায় । আর তখন আমরা কি করি ? একজন পাকিস্তানী কিংবা রাজাকারের সন্তানকে গালি দিয়ে ভাবি , " উফ , আমার চেয়ে বড় দেশ প্রেমিক আর কয়জন আছে ? "
ঠিক এই জায়গাটাতেই আমার ভয় । আমরা আজকাল অনেক বেশি সুবিধা এবং ভোগবাদী হয়ে উঠেছি । কাউকে গালি দিয়েই দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি , অর্থনীতি - সংস্কৃতি ও সমাজের প্রতি আমার যা দায় বা দায়িত্ব - তা পালন করা হয়ে যাচ্ছে , ভেবে নিচ্ছি ।
আর তাতে ফল কি হচ্ছে ?
ইবনে সিনা হাস্পাতাল, ইসলামী ব্যাংক , চেনা অচেনা প্রাইভেট ইউনি জাতীয় ব্যবসা গুলো বহাল তবিয়তে যুদ্ধাপরাধীদের টাকা , পয়সা , ক্ষমতা , প্রভাব , রাজনৈতিক প্রতিপত্তি ইত্যাদিকে আরো শক্ত করে চলেছে । আমরাই করছি । যতবার , ইবনে সিনার ২৫% কমের লোভে ওদের হাসপাতাল ব্যবহার করছি ততবার ।
বিদেশী জিনিস কিনে দেশকে আরো গরীব করছি । কে এফ সি তে খেয়ে এসে , লেভিস এর জিন্স এর উপর ফতুয়া চাপিয়ে ল্যাপ্টপ খুলে সবাইকে গালি দিচ্ছি আর ভাবছি , " আমার দেশকে আমি রক্ষা করছি। আমিও মুক্তিযুদ্ধ করছি ।"
বাইরে মুক্তিযোদ্ধা কড়া নাড়ছে ভিক্ষার আশায় ।
কে কত বড় ক্ষতি করেছে , কাকে কতটুকু ঘৃণা করবো , সেইটা আমার কাছে কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া মনে হয় না ।
ঘৃণা থাকবেই , বিচারের প্রক্রিয়াও চালু রাখা জরুরী ।
আমি যেটা বলতে চাইছি , অত্যন্ত সচেতন ভাবে নিজের দেশের অর্থনীতি , সংস্কৃতি , স্বার্থ এসব রক্ষা না করলে এই "পাকি কিংবা রাজাকার সন্তান বর্জন" করে আসলে আমরা বাংলাদেশের জন্য কিছুই করতে পারবো না।
পুরা ব্যাপারটাই তখন আই ওয়াশ হয়ে যাবে । একটি চটকদার বিজ্ঞাপন ছাড়া দেশের কোন উপকারেই আসবে না ।
আপনি কি বেশি দাম দিয়ে দেশী পিঁয়াজ কেনেন?
আপনি কি বউকে দেশী শাড়ি কিনে দেন ?
আপনি কি দেশী শ্যাম্পু , সাবান, খাবার কেনেন ?
প্রেমিকাকে নিয়ে দেশী কোন রেস্টুরেন্টে বসেন ?
আপনি কি সব সময় দেশী কাপড় পরেন ?
আপনি কি দেশী ওষুধ খান?
আপনি কি ঘরে ভারতীয় চ্যানেল গুলা বন্ধ করে দেশী চ্যানেল দেখেন ?
আপনি কি আপনার ব্যবসায় একটু বেশি দাম দিয়ে হলেও দেশীয় কাঁচামাল, দ্রব্য ইত্যাদি ব্যবহার করেন ?
বাজারে গিয়ে কেনার সময় বাংলাদেশী খাবার , ফল , জ্যাম জেলী , আচার , যন্ত্রপাতি কেনেন ?
একটু চিন্তা করে দেখেন ।
পাকি বন্ধু বর্জন করতে চান , খুশি হইলাম । রাজাকারদের সামাজিক ভাবে এক ঘরে করতে পারলে আরো খুশি হবো ।
পাশাপাশি যদি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্কুল, পণ্য বর্জন করতেন , বেশি খুশি হইতাম। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চীন, ভারত এর কাছে বাংলাদেশের টাকা পাচার না করে একটু বেশী দাম দিয়ে হলেও যদি বাংলাদেশী খারাপ জিনিস্টা কিনতেন , আরো খুশি হইতাম।
এইটা নিয়া একটা পোস্ট দিতেন , আরো খুশি হইতাম । নাইলে , ঘর পোড়া আমার কাছে এইটা একটা বিজ্ঞাপন ছাড়া কিছুই হয় না ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



