somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের মূর্খ আত্মতৃপ্তি আর চেতনার বিজ্ঞাপন

২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অধুনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে মানুষ সোচ্চার হয়েছেন । বিচার কবে হবে কি হবে না , সেইটা পরের ব্যাপার -মানুষ যে নতুন করে সচেতন হচ্ছে , জামাত শিবির রাজাকারদের তত্ত্ব তালাশ করছে , মামলা করার চেষ্টা হচ্ছে - এ সবই শুভ লক্ষণ ।

একটা দেশের ইতিহাস , সংস্কৃতি মুছে দিতে পারলে তাকে দাস , চাকর বানিয়ে চুষে খাওয়াটা সহজ হয়ে যায় । আমেরিকা রাশিয়াকে ভাঙার জন্য বহুদিন পর্যন্ত এই চটকদার জীবনের বিজ্ঞাপন চালিয়েছে । কমিউনিজম মানে দোজখ আর আমেরিকান ক্যাপিটালিজম হলো বেহেস্ত , এই রকম প্রোপাগান্ডা চলেছে । ভারত ও পিছিয়ে নেই । বাংলাদেশের বাজার থেকে আকাশ , সবটাই দখল করা শেষ । আরেক দিকে চীন । সস্তা জিনিস বানিয়ে বাংলাদেশের বাজার দখল করে নিয়েছে । এখন বাংলাদেশের বাজারে গেলে বুঝতে পারি না আমি কি বাংলাদেশে আছি নাকি ভারত , চীন বা পাশ্চাত্যের কোন দেশে !!

প্রতিবার আমরা যখন একটি বিদেশী পণ্য কিনি , বাংলাদেশের কোন না কোন কৃষক , কারিগর , ব্যবসায়ী , শ্রমিক মার খায় । দেশের টাকা বিদেশে চলে যায় । আর তখন আমরা কি করি ? একজন পাকিস্তানী কিংবা রাজাকারের সন্তানকে গালি দিয়ে ভাবি , " উফ , আমার চেয়ে বড় দেশ প্রেমিক আর কয়জন আছে ? "

ঠিক এই জায়গাটাতেই আমার ভয় । আমরা আজকাল অনেক বেশি সুবিধা এবং ভোগবাদী হয়ে উঠেছি । কাউকে গালি দিয়েই দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি , অর্থনীতি - সংস্কৃতি ও সমাজের প্রতি আমার যা দায় বা দায়িত্ব - তা পালন করা হয়ে যাচ্ছে , ভেবে নিচ্ছি ।

আর তাতে ফল কি হচ্ছে ?

ইবনে সিনা হাস্পাতাল, ইসলামী ব্যাংক , চেনা অচেনা প্রাইভেট ইউনি জাতীয় ব্যবসা গুলো বহাল তবিয়তে যুদ্ধাপরাধীদের টাকা , পয়সা , ক্ষমতা , প্রভাব , রাজনৈতিক প্রতিপত্তি ইত্যাদিকে আরো শক্ত করে চলেছে । আমরাই করছি । যতবার , ইবনে সিনার ২৫% কমের লোভে ওদের হাসপাতাল ব্যবহার করছি ততবার ।

বিদেশী জিনিস কিনে দেশকে আরো গরীব করছি । কে এফ সি তে খেয়ে এসে , লেভিস এর জিন্স এর উপর ফতুয়া চাপিয়ে ল্যাপ্টপ খুলে সবাইকে গালি দিচ্ছি আর ভাবছি , " আমার দেশকে আমি রক্ষা করছি। আমিও মুক্তিযুদ্ধ করছি ।"

বাইরে মুক্তিযোদ্ধা কড়া নাড়ছে ভিক্ষার আশায় ।


কে কত বড় ক্ষতি করেছে , কাকে কতটুকু ঘৃণা করবো , সেইটা আমার কাছে কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া মনে হয় না ।

ঘৃণা থাকবেই , বিচারের প্রক্রিয়াও চালু রাখা জরুরী ।

আমি যেটা বলতে চাইছি , অত্যন্ত সচেতন ভাবে নিজের দেশের অর্থনীতি , সংস্কৃতি , স্বার্থ এসব রক্ষা না করলে এই "পাকি কিংবা রাজাকার সন্তান বর্জন" করে আসলে আমরা বাংলাদেশের জন্য কিছুই করতে পারবো না।

পুরা ব্যাপারটাই তখন আই ওয়াশ হয়ে যাবে । একটি চটকদার বিজ্ঞাপন ছাড়া দেশের কোন উপকারেই আসবে না ।

আপনি কি বেশি দাম দিয়ে দেশী পিঁয়াজ কেনেন?
আপনি কি বউকে দেশী শাড়ি কিনে দেন ?
আপনি কি দেশী শ্যাম্পু , সাবান, খাবার কেনেন ?

প্রেমিকাকে নিয়ে দেশী কোন রেস্টুরেন্টে বসেন ?

আপনি কি সব সময় দেশী কাপড় পরেন ?

আপনি কি দেশী ওষুধ খান?

আপনি কি ঘরে ভারতীয় চ্যানেল গুলা বন্ধ করে দেশী চ্যানেল দেখেন ?

আপনি কি আপনার ব্যবসায় একটু বেশি দাম দিয়ে হলেও দেশীয় কাঁচামাল, দ্রব্য ইত্যাদি ব্যবহার করেন ?

বাজারে গিয়ে কেনার সময় বাংলাদেশী খাবার , ফল , জ্যাম জেলী , আচার , যন্ত্রপাতি কেনেন ?


একটু চিন্তা করে দেখেন ।

পাকি বন্ধু বর্জন করতে চান , খুশি হইলাম । রাজাকারদের সামাজিক ভাবে এক ঘরে করতে পারলে আরো খুশি হবো ।

পাশাপাশি যদি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্কুল, পণ্য বর্জন করতেন , বেশি খুশি হইতাম। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চীন, ভারত এর কাছে বাংলাদেশের টাকা পাচার না করে একটু বেশী দাম দিয়ে হলেও যদি বাংলাদেশী খারাপ জিনিস্টা কিনতেন , আরো খুশি হইতাম।


এইটা নিয়া একটা পোস্ট দিতেন , আরো খুশি হইতাম । নাইলে , ঘর পোড়া আমার কাছে এইটা একটা বিজ্ঞাপন ছাড়া কিছুই হয় না ।
১৫টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×