somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারীত্ব আর পুরুষত্ব নিয়া কিছু নিজস্ব ভাবনা (প্রেরণাদাতা শোমচৌ)

২৭ শে এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এঙ্গেলসের একটা কথা স্মরণ করি প্রথমেই, মানবসভ্যতার ইতিহাস, উৎপাদন আর পুণরুৎপাদনের ইতিহাস...তয় আমি সভ্যতার বিবর্তন বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক কিম্বা জ্ঞান জাহিরের নমুনা পোস্ট করতে বসি নাই...আর তাই অনেক কিছুই স্কিপ হইবো এই বক্তব্যে।

সমাজ ব্যবস্থায় মাতৃতান্ত্রিকতা ছিলো একটাইমে সেইটা সমাজ তত্ত্ববিদেরা কন প্রায়শঃ'ই, যদিও এই মাতৃতান্ত্রিকতার ধরণ নিশ্চয়ই আমাগো আইডিয়াল মাতৃতান্ত্রিকতার লগে মিলবো না। মানুষ একসময় কৃষির মাধ্যমে উৎপাদন শিখলো, তারা আগুণ জ্বালাইলো,তারা চাকা বানাইলো, তারা বেদুঈন-যাযাবর থেইকা একজায়গায় থিতু হইলো। পুণরুৎপাদনও এইরম ধারাবাহিকতায় তাগো গোত্র জীবনে একটা পরিকল্পণামাফিক আসলো...পুরুষের শারিরীক আচরণের কারণেই তার কিছু নিজস্ব প্রবণতার রিয়েলাইজেশন হইতে শুরু করলো স্বাভাবিক ভাবেই, আর নারীও তার শরীর নিয়া সচেতন হইলো...আমার কথা অনেক স্টেটমেন্টের মতো লাগনের কথা, কিন্তু এই থিতু হওনের সময়টাতেই ধর্মগুলিরও উত্থান! যেই কারণে ধর্মে পুরুষ অনেক শক্তিশালী চিত্রের মধ্য দিয়াই আসে...নারী থাকে অনেক কোমল।

মাতৃতান্ত্রিকতা কেমনে নিভৃতে পুরুষতান্ত্রিকতায় কনভার্ট করলো সেইটা নিয়া অনেক মত আছে, সবচেয়ে জনপ্রিয়টা হইলো, নারীর প্রজনন কালীন সময়ের নিস্ক্রীয়তার সুযোগে পুরুষ উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ দখল করে। আর তার শারিরীক আচরণের বহিঃপ্রকাশতো আছেই...পুরুষ দখল করবোই, পুরুষ দুর্দম, সে সব ভাইঙ্গা-চাইঙ্গা একাকার কইরা দিতে জানে, শক্তির মূর্তপ্রতীক হইলো পুরুষ! আর নারী! তার যেহেতু একটা বড় সময় যায় মোলায়েম কোমল, তার হাটা চলা হয় ধীর-স্থির-বেদনাদায়ক, তাই সে ঘরে থাকবো! নারী মানেই কমনীয়তা, এইটাই পরে নির্ভরতায় গ্যাছে, যেই কারণে নারী তার নিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনেই ভালোবাসে সবাইরে।

পুরুষত্ব খালি যৌনতাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না আর...এই আচরণ প্রয়োগ হয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই, কালের প্রবহমানতায় এইরম হয় যে...একজন নারীও পুরুষতান্ত্রিক হইয়া উঠে অনেক সময়। সমাজের বড় অংশ নিয়া কথা বললে বলা যায়, অধিকাংশ নারীই এই সমাজে তার বিচার-বিশ্লেষণের ব্যাসিক হিসাবে পুরুষতান্ত্রিকতারেই নেয়। যেইটুক পার্থক্য আসে তা আসে শরীরের ভিন্ন চেতনার কারণে। কালের প্রবহমানতায় পুরুষই মূলতঃ সম্পদের সাথে ঘনিষ্ঠ হইছে, আর তাই সে অভিভাবক হইছে, তয় সে আর বর্বর যুগের দখলদার থাকে নাই খালি, অনেক পুরুষের মধ্যে আসছে সহনশীলতা(?), ভ্রাতৃত্বসূলভ মনোভঙ্গী(?)।

এই যে আরিল কইলো নারী ব্লগারগো লগে ভালো ব্যবহার দরকার, এইখানেও পুরুষতন্ত্র আছে। সে নিজেরে গার্জিয়ান ভাবছে একজন পুরুষ হিসাবে। নিজেরে বা পুরুষরেই পরিবেশ তৈরীর নিয়ামক ভাবতেছে সে...কালের প্রবহমানতায় এই রিয়েলাইজেশন হয়তো এখন আর নতুন নাই। এইটা অনেক [গাঢ়]মডার্ন[/গাঢ়] চিন্তা। তয় এইটা আসছে কিন্তু দীর্ঘ সময়ের চর্চার ধারবাহিকতায়ই। নারী আসলে নারীত্বরে চিনছে পুরুষের চোখেই। পুরুষত্বই হইছে মানদন্ড! যেই কারণে একজন পুরুষ ধর্ষণ করনের সকল যোগ্যতা নিয়াও যখন ধর্ষণ করে না, তখন সেইটা হয় আধুনিক সুশীল পুরুষ।

আমাগো ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনের টাইমে আমরা একটা জিনিষ বুঝছিলাম, যে [গাঢ়]প্রত্যেক পুরুষই একেকজন সম্ভাবনাময় ধর্ষক থাকে চিন্তার ক্ষেত্রে[/গাঢ়]। শরীর এইখানে এইরম রাজনীতির অবকাশ তৈরী কইরা দেয়। শোহেইল ভাই নারীত্ব আর পুরুষত্বের লুকালুকির কথা কইছেন...কিন্তু তিনি আসলে প্রচলিত ধারণাটারেই নিয়ম হিসাবে ধইরা নিছেন। প্রচলিত ধারণাটাতো পুরুষের তৈরী! তাইলে এইটারে ধ্রূব ধইরা নিলে তো পুরুষত্বই প্রবল হইয়া উঠে। তয় এই অবকাশ তৈরী হয়, তিনি এই ধারণার বিচ্ছুরণ ঘটাইতে পারেন, কারণ রাগ ইমন নিজেই পুরুষের মতো কইরাই তৈরী এনজিও ঘরানার নারীমুক্তি কিম্বা নারীর ক্ষমতায়ণ নিয়া বক্তব্য দেওনে। রাগ ইমনের কাছেও নারী আসে আধুনিক যুগের মতো কইরাই। এই নারী পুরুষের নির্ভরতায় বাঁচে আসলে...সে পুরুষের তৈরী করা সিস্টেমেই একটু বাড়তি স্বাধীনতা, একটু ক্ষমতায়ণ নিয়া ঘোরাফেরা করে! আর ভয়ে থাকে ধর্ষিত হওনের!

শরীরের রাজনীতিরে আসলে অস্বীকার করনের কোন জো নাই। নারী আর পুরুষের দুইজনের শারিরীক বুঝাবুঝির ব্যাপারটা কখনোই এক না। একজন পুরুষ কখনোই নারীর ধর্ষিত হওনটারে হৃদয় দিয়া বুঝতে পারবো না। নারী কিসে হ্যারাস্ড হয়, এইটাও একজন পুরুষের পক্ষে বুঝনটা সহজ না, প্রকারভেদে অসম্ভব!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ১০:৫৫
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×