ছোটবেলায় যখন খাওনের টাইমে আমার অস্থিরতা বাইড়া যাইতো...তখন মা ভয় দেখাইতেন হুকোপানা রাক্ষসের...ভয়ঙ্কর চেহারার সেই রাক্ষসের ভয়ে আমি চিমসাইয়া যাওনের পর মা আরামসে আমারে তার কোলে বসাইয়া খাওয়াইতেন...ক্লাস সেভেন পর্যন্ত আমি নাজানা কারনে ভুতের ভয় পাইতাম...সেই ভুতের চেহারাটাও আমার আজো মনে আছে...ছায়া ছায়া শরীরের মধ্যে রক্তবর্ণ চোখ। ভয়ে আমি একা একা খুব বেশিক্ষণ এক ঘরে থাকতে পারতাম না। সময়ের সাথে সাথে আমার ভয়ভীতিগুলি কেমনে যে দ্রবীভূত হইছিলো সেইটা রহস্যের।
প্রথম যেইবার থানা হাজতে ছিলাম তখন ক্লাস সেভেন পাশ দিছি মাত্র...একবন্ধুর সাথে পুলিশ আমারেও ধরলো, ভারতীয় হাই কমিশনের সামনে থেইকা। মুসল্লীরা ভারতে ৯টা মসজিদ ভাঙনের প্রতিবাদে ইটাইতেছিলো ভারতীয় হাই কমিশনে...গণগ্রেফতারের দঙ্গলে আমরাও ধরা। তারপর কোর্ট হাজত, জামিন; একমাস পর বেকসুর খালাস, সে অন্য গল্প। কিন্তু ঐ ঘটনার পর আমার সাহস অনেক খানি বাইড়া গেলো...
ভয় পাইতাম মায়ের অভিমানরে...কিন্তু সেই ভয়ে কখনো কাতর হই নাই। আমার মা অবুঝ ছিলেন না কোন কালেই, তারে যদি যৌক্তিকতা বুঝাইয়া দিলেই সকল দুরন্তপণা জায়েজ হইয়া যাইতো...এইটারে ঠিক ভয় কওন যায় না অতএব, বরং সত্যবাক্য বলনের একটা অভ্যাস তৈরী কইরা দিতে পারছেন তিনি। আমি নিজেরে যেই কারনে অন্য চরিত্র হিসাবে উপস্থাপণের খেলাটায় নিয়া যাইতে পারিনা আজো। যেই কারণে প্রতিকূলতায়ও নিজের অবস্থান পাল্টানের চেষ্টায় রত থাকি নাই কখনো।
ব্লগে একজন রাজাকারের ছবি দেইখা ভয় পাওনের কথা শুইনা আমি আমার শৈশবেই ফিরা গেলাম আবার...মামদো ভুতের গল্পে আমার ভয় ছিলো তখন...হুকোপানা রাক্ষসের অস্তিত্ব কেমনে আসছিলো সেইটা মনে নাই, কিন্তু মায়ের বর্ণনাতেই আমি ভয়ে সিটাইয়া যাইতাম...ঐ ভয়ে আসলে ঘৃণা ছিলো...মনে হইতো ঐ রাক্ষস সকল শুভরে দুমরাইয়া-মুচরাইয়া তার কালিমায় ঢাইকা দিবো আমার চাইরপাশ...আমার সকল স্বাধীনতা কাইড়া নিবো ঐ দৈত্যের দল! আমি এখন আর বিশ্বাস করি না ঐ সবে...ভুত-প্রেত-দৈত্য-দানোতে এখন হাসিই পায়...কিন্তু ঐ ঘৃণা মিশ্রিত ভয় আজো আছে...রাজাকারের ছবি দেখলে কি খুব আনন্দে ভাসনের কথা!?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


