১.
অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীলতা যদি ধর্মনিরপেক্ষতা হয় তাইলে তেলাপোকাও একটা পাখি। আমি সাধারনতঃ যুক্তি করনের টাইমে এইরম বলতে পছন্দ করি না কিন্তু এইবার মনে হইলো জোর কইরা চরিত্র চিত্রন আসলে এইসব ফ্যালাশিয়াস যুক্তিরই অবতারণা করে। আগের কালে নাকি অধিকাংশ রাষ্ট্র ছিলো ধর্মভিত্তিক আর মানুষের ধর্মনিরপেক্ষতার দাপটে তারা ধর্মনিরপেক্ষ হইছে। আমাগো আসলে রাষ্ট্রের সংজ্ঞা নিয়া তর্ক করতে হইবো মনে হইতাছে। আমাগো আসলে ধর্মনিরপেক্ষতা না, আলোচনা করতে হইবো জাতি রাষ্ট্র নিয়া। কৌশিকের দেওয়া যুক্তির নির্ভরতায় গেলে দেখি ত্রিভুজ সাহেব ঠিকই বলেন ধর্মনিরপেক্ষতার কারনে ইসলাম আজ পর্যুদস্ত! এরপর তিনি ধর্মনিরপেক্ষতারে একটা ধর্মের মতোন দেখেন। কিন্তু আসলেই কি তা হওয়ার কথা! একজন মানুষ নিরপেক্ষ হইলে আসলে কি হইতে হয়? তারে কোনরম পছন্দ-অপছন্দের বালাই থেইকা মুক্ত হ্ইতে হয়...কিন্তু এইটা কি কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব? যেহেতু মানুষ তার বাইড়া উঠনের টাইমে বিভিন্নরম ঘটনার সাথে দ্বান্দ্বিকতায় যায়, তাই তার অভিজ্ঞতা নির্ভরতায় পছন্দ কিম্বা অপছন্দের একটা তালিকাও তৈরী হয়। কিন্তু তা'ও তো আমরা নিরপেক্ষ ব্যক্তি খুঁজি, সেইটা কিসের প্রেক্ষিতে? সেই প্রেক্ষিত তৈরী হয় যখন সেই ব্যক্তি কোন প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনে থাকেন তখন নিজের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ে তিনি নিরপেক্ষ হ'ন। সেইরমই আমার বক্তব্য ছিলো...ব্যক্তির একটা ধর্মীয় বোধ থাকতেই পারে...তারপরও তিনি অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল...তার মানে এই না যে সে ধর্ম নিরপেক্ষ হইয়া গেলেন, একটা রাষ্ট্র যখন ধর্ম নিরপেক্ষ হয় তখন সেই ধার্মিক ব্যক্তি তার সহনশীলতারে এক্সিকিউট কইরা রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতারে শ্রদ্ধা জানায়। ধর্মের প্রতি সহনশীলতা কখনোই ধর্মনিরপেক্ষতা হয় না, ব্যক্তি সাপেক্ষে নিরপেক্ষতার সাথে অবশ্যই ধর্মহীনতার যোগ আছে...রাষ্ট্র যখন ধর্মনিরপেক্ষতা ধারণ করে, তখন তার মানে এই যে রাষ্ট্রীয় ভাবে সে কোন ধর্মরেই লালন করবো না।
আমি যেই ইন্ডিভিজ্যুয়ালিজমের কথা কইছি সেইটা যে ব্যঙ্গার্থ ছিলো সেইটাও কৌশিক মনে হয় ধরতেই পারেন নাই। আমার লেখাটা ছিলো -
কৌশিক চিন্তার ইতিহাস যদি আপনের মতোন সরল কইরা পাঠ করবার পারতাম তাইলে আসলেই ভালো হইতো...পৃথিবী আর সভ্যতা খালি আজকের এই জায়গায় আইতোনা। মানুষের ইতিহাসে একটাই মতাদর্শ থাকতো - ইন্ডিভিজ্যুয়ালিজম!
আমি কইছিলাম এই ইন্ডিভিজ্যুয়ালিজমে আসলে কোন দ্বান্দ্বিকতা না থাকনে সভ্যতা কিম্বা সমাজ আর আগাইতো না। সেই আদিম কালেই পইরা থাকতো। ইন্ডিভিজ্যুয়ালিজম যা করে, সেইসবই হইতো। কোন পারস্পরিক সহমর্মিতা কিম্বা প্রয়োজনীয়তার বোধই থাকতো না। ইন্ডিভিজ্যুয়ালিজম কখনোই কাঙ্খিত কোন মতবাদিক অবস্থান না। বুর্জোয়াগো কাস্টোমার বাড়ানের তত্ত্বেই এর প্রয়োজনীয়তা নিহিত কেবল।
২.
আওয়ামিগো মধ্যে বিশাল বামপন্থী একটা অংশ খুঁইজা পাইলেন কৌশিক! কম্যুনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ থাকনে কিছু নেতা আন্ডারকাভারে আওয়ামি লীগে ছিলেন...কিন্তু এরা অবশ্যই নীতি নির্ধারক ছিলেন না, এক তাজুদ্দিন আহমেদ ছাড়া। সেইটা মুক্তিযুদ্ধ কিম্বা তৎপরবর্তীকালে আওয়ামি রাজনীতির পদক্ষেপগুলি বিবেচনা করলেই বুঝন যায়। মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ব্লকের সমর্থনের লেইগা যাওনের মানে এইনা যে শেখ মুজিবর রহমান বামপন্থী ছিলেন। তিনি আওয়ামি মুসলিম লীগ আমল থেইকাই ছিলেন মার্কিনপন্থী ব্লকের অনুসারী। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধকালে তার সোভিয়েত ব্লকে যাওনটা মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনেই ছিলো...
আওয়ামি লীগে থাইকা কোন পরিবর্তন সম্ভব না এইটা না বোঝা অথবা বিচ্যূত বাম ডানের চেয়েও দর...এই তত্ত্ব অনুযায়ী সুবিধাবাদী হইছিলেন কিনা এই গবেষণায় যাওনের দরকার হইবো মনে হয়। চীনাপন্থীরা যাই বুঝুক সেইটারে আন্তর্জাতিক আন্ডারস্ট্যান্ডিংএ হঠকারীই ধরা হয়, যেইখানে আন্তরিকতা ছিলো, ভালোবাসা ছিলো, ক্ষোভ ছিলো কিন্তু কোন উদ্দেশ্য আর লক্ষ্য ছিলো না।
মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একদল অবক্ষয়ী মানসিকতার পুঁজিবাদীরাই ক্ষমতায় আসীন হইছিলো...যারা ৭৩-এ অপরিসীম জনপ্রিয়তা নিয়াও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের অহেতুক খেলা খেলছিলো।
৩.
কৌশিকও কৌশলী হয়। সে ধর্মবাদীগো গাইলাইয়াই সব নির্মূল কইরা ফেলবো। কিন্তু গালিতে যে সে আরো কিছু মানুষরে দূরে সরাইয়া দিতেছে, যাগো সে সুশীল হিসাবে ধইরা নেয়। আর শত্রু হিসাবেও পরিগণিত করে। কিন্তু গালি দিতে না পারা এই সব রুচীশীল মধ্যবিত্ত মানুষেরাও যে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে সেইটা সে ভুইলা যায়। কৌশিকের অসুশীলতায় তাগো প্রয়োজনহীনই মনে হয়। তার তত্ত্বমতে যদি ধর্মবাদীগো নির্মূল করতে হয় তাইলে আমার বাড়ি কামরাঙ্গীর চরের মানুষেরা হইবো নেতৃত্ত্ব। কারন কৌশিক আর কি গালি দ্যায়...আমি নিজেও এর চাইতে ইনোভেটিভ গালি দিতে দিতে বড় হইছি পুরান ঢাকার পোলাপাইনগো লগে ডাংগুটি খেলতে খেলতে। তার শেষ যুক্তি আমি মানি, কম ক্ষতিকর শত্রুরে অনেক সময় মিত্র হিসাবেও নেওন যায় একই স্বার্থের ইস্যূতে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিষয়টা আমি এর লেইগাই তুলছিলাম প্রথম তর্কমূলক পোস্টে।।
৪.
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়া ব্লগীং যতোটা প্রয়োজনীয় আর আরামদায়ক একজন ইন্টারনেট সুবিধাভোগী মানুষের কাছে...একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, যে এখন না খাইতে পাইয়া অনাহারে অর্ধাহারে থাকে তার কাছেও ঐটা আর প্রয়োজনীয় থাকে না। এই দেশে এক অবক্ষয়ীকালে ৯ মাসের স্বল্পকালীণ বিদ্রোহে উপনিবেশবাদ হটাইয়া দেশীয় পুঁজিবাদ আসছে...কিন্তু পুঁজির মালিকানা গেছে ঐ পুরানা সামন্তপ্রভূগো কাছেই। মানুষের সংস্কৃতিগত উপলব্ধি থেইকা সামন্তীয় অবশেষগুলি এখনো যায় নাই। আর তাই প্রথমে আওয়ামি তারপর বিএনপি, তারপর সরাসরি জামায়াতি পৃষ্ঠপোষকতায় যেইসব ক্ষমতাশালী রাজাকার পুনর্বাসিত হইছে তারা এখনো পুরানামতেই কদমবুসি পায় গরীব মানুষের কাছ থেইকা। আর ধর্মভিত্তিকতা থাকবোই যখন আপনে মানুষরে ক্রমাগত শোষণ আর বঞ্চনার গ্যাড়াকলে ফালাইবেন। তাই বইলা ঐ মানুষগুলিরে গাইল দেওনের সোজাসাপ্টা অধিকার আপনের নাই। ধান্দাবাজগো দ্যান...যারা ঐ বাস্তবতার লেইগা দায়ী তাগো দ্যান! ঐটাতো করবেন না...পোলারাইজেশন ছুইটা যাওনের ভয়ে...
৫.
ঘৃণার প্রকাশ যদি হয় চোদনা আর পুটকি মারার গালিতে তাইলে নব প্রজন্ম ৭১'এ যাইবো না ইতিহাস জানতে। যাইবো বাজারে সহজলভ্য রসময় গুপ্তের চটিতে...ঐখানে এইরম ঘৃণার প্রকাশ আরো ভালোমতো হয়।
৬.
এইটা সরাসরিই কৌশিকরে উদ্দেশ্য কইরা লেখা, কারো বুঝতে অসুবিধা হইলে দায়িত্ব আমার না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


