দেশের বেশীরভাগ মানুষ যখন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের তাগীদ অনুভব করছে...আরো খোলাশা কইরা কইলে কওন যায় যখন দেশের বেশীর ভাগ মানুষ যখন ঔপনিবেশিক শোষণমূলক শাসন থেইকা মুক্তির আস্বাদ পাইতে চাইছে...তখন একদল সুবিধাভোগী ধর্মরে ব্যবহার কইরা আত্মপরিচয়রে অস্বীকার করছে...দালালীর কৌশল হিসাবে যারা নিজের শেকড় থেইকা বিচ্যূত হইয়া পরগাছা হইতে দ্বিধা করে না...তারা কি মনুষ্যজাতির প্রতিনিধি হইবার পারে!? আমি কোনই সম্ভাবনা দেখি না...
মুক্তিযুদ্ধে যারা সম্মুখ সমরে গেছে, যারা সমর্থন জাগ্রত রাখছে অন্তরে, যারা প্রাণ ভয় বিসর্জন দিয়া সহযোগিতা করছে প্রতিরোধের শক্তিরে, তারা সকলেই একটা বিন্দুতে এক হয়। এই সব মানুষেরা কোন না কোন ভাবে সমষ্টির কথা ভাবছে...তারা নিজের ভাষার কথা ভাবছে, সংস্কৃতির কথা ভাবছে, রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ভাবছে। বিপরীতে যারা বিরোধীতা করছে তারা সকলেও একটা বিন্দুতে এক...তারা সকলেই ব্যক্তিকেন্দ্রীক...তারা দালালীর নিরীখে ব্যক্তিক সুবিধাভোগের কথা মাথায় নিয়া বদর হইছে...দালালরা এককাট্টা হইতে পারে কিন্তু সেইটারে সংগঠিত সামষ্টিকের আচরন কওন যায় না কখনোই...শ্রেণী বিভাজনের সকল ইতিহাসেই দেখা যায় শাসকেরা সবসময় ব্যক্তিক সুবিধাভোগী (সেইটা তাগো এককাট্টা আন্দোলনেও) শোষিতেরা সবসময় সমষ্টি...
ওয়ামি যখন মুক্তিযুদ্ধের অবমাননাকর পোস্ট দিয়া ব্যান খাইলো, তার অব্যবহিত পর না হইলেও কিছুকাল পর দেখি কিছু পুরানা চিন্হিত দেশদ্রোহীতামূলক, স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী ব্লগার সংগঠিত হওনের ছদ্মাবরণে প্রতিবাদ শুরু করলো, আর প্রতিবাদের কৌশল হিসাবে তারা কওনের চেষ্টা করলো ওয়ামি মুক্তিযোদ্ধাগো কুত্তা কয় নাই, সে কেবল একজন কবির লিখিত কবিতার লাইন ব্যবহার করছে যেইখানে কুত্তার রূপক ব্যবহার করা হইছে...কিন্তু গালিবাজেরা তারে আসলেই গালি দিছে...এই গালিবাজেরাই আসলে অনাসৃষ্টি...
আমি আমার এর আগের পোস্টেই এই ইঙ্গিত দিছি...ওয়ামির সমর্থক এইসব স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী ব্লগারগো এই কৌশলটা আমি ধরতে পারছি আগেই...ওয়ামি এই উদ্দেশ্যেই তার পোস্টে মুক্তিযোদ্ধাগো নিয়া কুত্তা রূপক ব্যবহার করছিলো...যাতে গালিবাজেরা সক্রিয় হয়...আর গালিবাজেরা সক্রিয় হইলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ বিভ্রান্ত হওনের অবকাশ থাকে...কর্তৃপক্ষ বিভ্রান্ত হইলে ওয়ামি'র বাপের মুক্তির চেতনা বিরোধী আদর্শ এই ব্লগে কোনরম প্রতিরোধ ছাড়া চলবো...কিন্তু ইতিহাস তো কখনো তার নিয়মের বাইরে চলে না। ওয়ামির মতো সুবিধাভোগীরা কোনদিন সংগঠিত হইতে পারে না। তারা সমষ্টির কথা ভাবে না...অতএব ভুল পদক্ষেপ অবশ্যম্ভাবী...
নোটিশবোর্ডের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের পর যখন এই প্রথম টানা পঞ্চাশোর্ধ্ব ভালো লাগা রেটিং পাইলো, তখন সেইখানে ভালো না লাগা দলের সুবিধাভোগীরা হাজির হইলেও তাগো যে সেইরম পাত্তা থাকলো না, এইখান থেইকা স্পষ্ট বুঝন যায় যে তারা অসংগঠিত...কারন সমষ্টির চেতনায় তাগো আস্থা নাই...তারা চাপাইয়া দেওয়া, মনগড়া আদর্শের পক্ষের লোক যারা আবার সুবিধাভোগী...শোষিতের আর্তনাদ তাগো কানে পৌছায় না কখনো...তারা কোন এক অজানা পরকালে ব্যক্তিক সুখ স্বাচ্ছন্দের লোভে মশগুল...
সবশেষে কই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সামষ্টিক কৌশল ছিলো বইলাই ব্লগ কর্তৃপক্ষ এইরম একটা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হইছে তাগো ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন নামক বিভ্রান্তি থাকনের পরেও...এইরম সামষ্টিক প্রতিবাদ-প্রতিরোধই সকল মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনরে সফল কইরা তুলতে পারে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

