ব্লগ চরিত মানস...
২১ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:২৩
ওয়ামি'র ব্লগ বাতিল হইলো, আমি উল্লসিত হইলাম অসংখ্য ব্লগারের সাথে...সাধুবাদ-ধন্যবাদ জানাইলাম...ইত্যবসরে ব্রাত্য রাইসু একখান পোস্ট দিলেন ওয়ামি'র ব্লগ বাতিল হওয়া নিয়া প্রশ্ন উত্থাপন কইরা। তার প্রশ্ন সরল, ওয়ামি'র ব্লগ বাতিল যদি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী বা মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা করনের দায়ে হইয়া থাকে তাইলে সেইটা নিয়ম কইরা সকলের জন্যই করা প্রয়োজন...নিয়ম যদি সকলের লেইগা প্রযোজ্য কিম্বা বাস্তবায়িত না হয় তাইলে সেই নিয়ম আর নিয়ম থাকে না...সেইটা হয় অনিয়ম।
ব্রাত্য রাইসু'র মূল কথা ছিলো একব্লগে দুই আইন কেমনে হয় এই প্রসঙ্গে...মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষচারন আর বিরোধীতাকারী, এরা কি সমান জায়েজকৃত বিচার পান? এই প্রশ্নের উত্তরও সরল...না, পান না! কিন্তু তার পরেও আসলে প্রশ্ন থাকে...কথা কওনের অনেক গুলি জায়গা ফাকা হয়। ব্লগের ধোঁয়াটে নীতিমালা মাইনা চললে আসলে কইয়া দেওন যায়...এই ভূমিতে সকল মতাবলম্বীর লেইগাই সমান গুরুত্ব আরোপ করা হইছে, কিন্তু আইনের প্রয়োগে ঝামেলা আছে। আইনের প্রয়োগের চাইতে পরিস্থিতি সামলানোটাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়...আর এই রম প্রক্রিয়ার লেইগাই ব্লগে একটা সংস্কৃতি গইড়া উঠছে...যেই সংস্কৃতি কেবল প্রতিরোধের সংস্কৃতি...যেই সংস্কৃতি অনেকটাই উগ্র জাতীয়তাবাদী...কখনো তা হয় ভূখন্ড-ভাষা ভিত্তিক, কখনো তা হয় ধর্মকেন্দ্রীক।
এই সব জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতি-আচরন নিয়া বিরোধ সকল সমাজেই গইড়া উঠে বা উঠতেছে...ট্রান্স-কালচারাল দুনিয়ায় এই তত্ত্ব খুব অপ্রয়োজনীয় তত্ত্বও না। ব্রাত্য রাইসু যেইরম জাতীয়তাবাদের এইসব ঘেরাটোপের ভিতর থাকতে চান না...প্রশ্নের কলেবর উন্মুক্ত করতে চান, আমি নিজেও জাতীয়তাবাদের এইসব প্রকাশ থেইকা দূরে থাকতে চাই। মুক্তির একটা যুদ্ধ আমার কাছে কেবল একটা সময়ের নাম না...চেতনার নাম! কিন্তু এই চেতনা কি যে কোন পবিত্র গ্রন্থের মতো গাইড বই সূলভ আচরনে পর্যবসিত হয়? আমার মনে হয় না...মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা হইলো তার থেইকা পাওয়া উপলব্ধি, শিক্ষা।
মুক্তিযোদ্ধাগো আবেগ ক্ষোভরে আমি শ্রদ্ধা করি, যেমন শ্রদ্ধা করি তাগো হতাশারেও...আর তাই কোন একজন যদি তাগো ক্ষোভরে কুকুরসূলভ আচরনের লগে তুলনা করবার চায়, তারে আমি প্রতিরোধ করতেও চাই। এইখানে ভূখন্ডভিত্তিক জাতীয়তাবোধ যতোনা কাজ করে তার চাইতে অনেক বেশী কাজ করে এই শ্রদ্ধাবোধের চেতনা...একটা যুদ্ধের চেতনারে আমি উপলব্ধি করি তার প্রত্যাশা দিয়া, কখনোই তার অর্জন দিয়া নয়! সকল মুক্তিযোদ্ধারে নিয়া কথা কওয়া আর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বিভ্রান্ত একজন যোদ্ধারে নিয়া কথা কওয়া কখনোই এক হইতে পারে না। মুক্তিযোদ্ধা শব্দের আর্কাইক ভ্যাল্যু তৈরী হয়...আর তাই সার্বিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা শব্দ নিয়া কোন মতামত দেওনটা স্পর্ধা হয় অনেক সময়...আর সেই মন্তব্য যদি একজন আল বদর পুত্র করে যার রাজনৈতিক সহমর্মীতা আছে ৭১'এর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চেতনার প্রতি, তখন আসলেই প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি আমি। এই প্রতিরোধ ব্যক্তির বিরুদ্ধে না বরং অনেকটাই ব্যক্তিমানসের বিরুদ্ধে...যার মতাদর্শ যতো না মানবসভ্যতার উন্নয়নের পক্ষে তার চাইতে অনেক বেশী মানবিকতার বিরুদ্ধে...
এই অবস্থানের প্রয়োজনে আমি ব্রাত্য রাইসুর অবস্থান আমি অনেক বেশি প্রয়োজনীয় মনে করি...যেরম মনে করি মানস চৌধুরীর চিন্তাভঙ্গী...প্রশ্ন কইরা নিজেরে একস্তর থেইকা আরেক স্তরে নিয়া যাইতে পারে এই চিন্তার প্যাটার্ন। প্রশ্নহীনতা মানুষরে বরং মুক্তির চেতনা থেইকা দূরে সরায়...
এই ব্লগে অনেকরেই দেখি মতের অমিল হইলেই বিরুদ্ধজনরে রাজাকার বা ড়াজাকার অভীধায় অভিহিত করতে কসুর করে না। এইটা হইতে পারে কৌশল...কিন্তু কৌশল হইলেও তা যে কোন ধরনের চিন্তার প্যাটার্নের লেইগা হুমকীস্বরূপ দাঁড়ায়...আর এইরম হুমকী কখনোই ভালো কোন পথের খোঁজ দেখায় না...আজকাল সুশীল গালি দেওনের আরেকটা ফ্যাশন শুরু হইছে, এই গালি যারা দেয় তারা নিশ্চিত সুশীলতা কারে কয় সেইটা জানেন না, এইটা আমি হলফ কইরা কইতে পারি। ব্রাত্য রাইসু-মানস চৌধুরীগো আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি...তাগো জীবনযাপন তাগো তর্ক করনের পদ্ধতির লগে আমি পরিচিত বিধায় জানি এই গালি প্রদানকারীগো অনেকের চাইতেই সমাজের সংস্কার আর নিয়মের তোয়াক্কা না কইরা চলা মানুষ এরা...তাগো প্রশ্ন আমাগোও পথ দেখাইতে পারে চিন্তার অবগুন্ঠনমুক্ত করনের প্রক্রিয়ায়...
জামায়াতে ইসলামী বা অন্যান্য মৌলবাদী ধর্মভিত্তিক স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির বিরোধীতা করতে গিয়া যখন আমরা মানস চৌঃ কিম্বা ব্রাত্য রাইসুরে নিয়া রসিকতা করি...তাতে আমরা আরো জটিলতায় আক্রান্ত হই। প্রশ্নহীনতারে নিজেগো আদর্শ হিসাবে নেওনের ধান্দা করি...এই অবস্থা আর ধর্মীয় মৌলবাদের পার্থক্য কি কেউ নিরূপন করবার পারবেন?
লেখক বলেছেন: প্রশ্নরে আমরা কেরম নিতে পারি তার উপর নির্ভর করে এই লেবেলিং...
সাগর নীল বলেছেন:
আমরা যে যে আদর্শই বিশ্বাস করিনা কেন, সবারি মনে রাখা উচিত দল বা ব্যক্তিগত আদর্শের চেয়ে দেশই বড়। আমাদের দেশে আমরা সবাই ক্ষমতায় যেতে চাই আর ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাট করতে চাই। এইখান থেকেই আমাদের অসহিস্নু কালচারের উদ্ভব।একারনেই আমরা অন্য কোন মত সহ্য করতে পারিনা। চেতনা টেতনা বুঝিনা যারা সৎ আর যাদের দারা দেশের ভাল হবে তাদেরকে সমর্থন করা উচিত। আর অন্যের মত প্রকাশের সাধিনতাকেও সম্মান করা উচিত এবং গুরুত্ত দেয়া উচিত। আর মুক্তিযোদ্ধা মানেই ফেরেশতা এই কন্সেপ্ট থেকেও বের হ্য়ে আসা উচিত। চিন্তা করে দেখুন আজকে দুর্নিতির দায়ে যারা জেলে আছে তাদের মধ্যে কয় জন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারি আর কয়জন রাজাকার? আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধা আর রাজাকাররা একটি সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধা নয়। যখন যারাই দেশের জন্য কাজ করবে তারাই মুক্তিযুদ্ধা আর যখন যারাই দেশের ক্ষতি করবে তারাই রাজাকার।
লেখক বলেছেন: সততার সংজ্ঞা দ্যান তাইলে বুঝতাম আপনে কি কইলেন...
সাগর নীল বলেছেন:
যারা দুর্নীতি করেনা তারাই সৎ । দুর্নীতিবাজরাই দেশের বারোটা বাজাইয়া যাইতাছে তাই তারাই বর্তমানে রাজাকার।
লেখক বলেছেন: দুর্নীতির সংজ্ঞাটা কন তাইলে...
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
এই পোস্টে আমার যৎকিঞ্চিত মতামত আছে , সময়াভাবে এখন বলা যাচ্ছে না , রাতে বলার আশা রাখি ।
ধুসর গোধূলি বলেছেন:
কমরেড, এইখানে কিন্তু সবাই সবারে মুখ চিনা চিনে না। যেমনে চিনে তা হইলো ঠিক এইখানকার প্রকাশিত রূপে। প্রতিক্রিয়া গুলোও হয় এই পরিচিতির সাপেক্ষেই। এজন্যে মনেহয় না কাউরে একপেষে দায়ী করোন যায়।
লেখক বলেছেন: এই কথাটা ঠিক ধরছেন...আসলেই এইখানকার প্রকাশিত রূপেই চিনন যায় সবাইরে...কিন্তু প্রতিক্রিয়াগুলি অনেক বেশী সিদ্ধান্ত টাননের মতোন হইয়া যায়। মানস চৌধুরীরে কেউ রাজাকার বা সুশীল কইলে ব্যাপারটা অনেক ডেলিবারেট লাগে...
জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর বিরোধীতা করলেই কেউ সুশীল হইতে পারে না। ব্লগের লেখালেখিতে অনেক গালাগালি করনের দক্ষতা থাকলেই কেউ অশুশীল হইয়া যায় না। এইরম সিদ্ধান্তগুলি যেই কারনে চোখে লাগে।
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
আমারও কিছু বক্তব্য আছে । সেই বক্তব্যগুলো নিয়ে আলোচনায় যুক্ত হতে চাই ।
-----------
আপনি বলেছেন :
ব্লগের ধোঁয়াটে নীতিমালা মাইনা চললে আসলে কইয়া দেওন যায়...এই ভূমিতে সকল মতাবলম্বীর লেইগাই সমান গুরুত্ব আরোপ করা হইছে, কিন্তু আইনের প্রয়োগে ঝামেলা আছে। আইনের প্রয়োগের চাইতে পরিস্থিতি সামলানোটাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়...আর এই রম প্রক্রিয়ার লেইগাই ব্লগে একটা সংস্কৃতি গইড়া উঠছে...যেই সংস্কৃতি কেবল প্রতিরোধের সংস্কৃতি...যেই সংস্কৃতি অনেকটাই উগ্র জাতীয়তাবাদী...কখনো তা হয় ভূখন্ড-ভাষা ভিত্তিক, কখনো তা হয় ধর্মকেন্দ্রীক।
আমি মনে করি :
আইনের প্রয়োগের চাইতে পরিস্থিতি সামলানোটা যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়েই উঠে, সেটার দায়ভার নিতে হবে সেই পরিস্থিতি যারা ক্রিয়েট করেন তাদেরকেই ।
আইন যদি থাকে , তাহলে সেটার প্রয়োগও থাকতে হবে , সেই প্রয়োগটা সময়মতো না করার দায়দায়িত্ব প্রয়োগকারীদের । তারা যদি তাদের কাজটুকু সঠিক সময়ে এবং সৎভাবে না করে থাকেন , তাহলে প্রতিরোধের সংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারে , নিয়মতান্ত্রিক প্রতিরোধের এই পথ কখনো কখনো নিয়মের বাইরেও গড়াতে পারে ।
এর উগ্রতার দায়ভার ব্লগের অনেকেই একক ভাবে উগ্রদেরকেই দিয়ে থাকেন , যার সাথে আমি একমত নই । আমি মনে করি সমস্যাকারীদেরকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি , সমস্যার উদ্ভব নিয়েও চিন্তা করা দরকার ।
সেই চিন্তাটা আমি তাদের মাঝে প্রত্যাশানুযায়ী পাই না , যাদেরকে সুশীল গালি দেয়া হয় । সমস্যার এই এককেন্দ্রিক বিশ্লেষনে তাদের প্রয়াসে আমার দ্বিমত আছে । তাদের বুদ্ধি ও বিচারের উপর মিনিমাম আস্থা আছে বলেই তাদের সাথে এই বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশে আমার অসুবিধা নেই ।
আপনি নিশ্চিত হয়েছেন ( সেই নিশ্চিতটা কিভাবে হলেন সেটা বুঝতে পারলাম না ) যে যারা সুশীল গালি দেয় তারা সুশীলের অর্থ জানে না ।
তর্কের খাতিরে এটা যদি মেনেও নেই , তাহলে বুঝতে হবে তারা নিজেদের মতো একটা অর্থ করে নিয়েছেন এবং এই অর্থটা কোন সম্মানজনক অর্থ নয় । তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার জন্যই সুশীল শব্দটা উনারা ব্যবহার করেন বলে আমার মনে হয়েছে ।
এর কার্যকারন বিশ্লেষনেও প্রশ্ন তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি ।
( চলবে )
লেখক বলেছেন: আপনের মনে করাটারে শ্রদ্ধা কইরাই কইতে পারি সমস্যার উদ্ভবে অন্যকোন শক্তির ইন্ধন থাকলেই যে সমস্যাটা জায়েজ হইয়া যায় ব্যাপারটা এইরম না। তয় আমারও মনে হয় সমস্যার উদ্ভবে ইন্ধন দেওয়া অংশরেও অভিযুক্ত করনের নীতিমালা থাকনটা প্রয়োজন।
গালিবাজীর বিরুদ্ধে গেলেই কাউরে সুশীল কওনটা যাগো রেওয়াজ তারা সুশীলতারে চিনে না...ব্লগে যারা গালি দিয়া ভাসাইয়া ফেলে তারা ব্যক্তিজীবনে সামনা সামনি কতোটা সুশীল সেইটা দেখনের অভিজ্ঞতা থেইকাই আসলে নিশ্চিত হইছি বস। সুশীলতা শব্দটা আসছে হায়ারার্কি থেইকা, প্রতিনিধিত্বশীলতা থেইকা...সুশীলরা সমাজের যেইকোন সমস্যাতে আপোষরফা বা conform করনরে সমাধান হিসাবে দেখে...তর্কে তাগো আগ্রহ থাকে কম...যেইকারনে সুশীলগো আলোচনায় সঞ্চালকরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ...তারা মীমাংসা খোঁজে...
সেই অর্থেই সুশীলতা সম্পর্কীত জ্ঞান নিয়া প্রশ্ন তুলছি...আমার মনে হয় এই বিষয়ে আলোচনা করলে ভালোই হয়...
বিগব্যাং বলেছেন:
প্রথমেই করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, এভাবে কথা বলআর জন্য, যদিও এভাবে কথা বলতে বাধ্য করা হচ্ছে অনবরত পুটকিতে আঙ্গুল দিয়ে খুচিয়েখুচিয়ে (যেমন গতকাল খুচিয়েছেন জামাত নেতা চৌধুরি মাহমুদ হাসানের পাছা চেটে ঢাবির শিক্ষক হওয়া মিরাজ)...১। (ব্রাত্য রাইসু-মানস চৌধুরীগো আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি)
ভালো কথা...কিন্তু আপনি কিভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যে আর কেও তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে না?
২। (তাগো জীবনযাপন তাগো তর্ক করনের পদ্ধতির লগে আমি পরিচিত বিধায় জানি এই গালি প্রদানকারীগো অনেকের চাইতেই সমাজের সংস্কার আর নিয়মের তোয়াক্কা না কইরা চলা মানুষ এরা)
...গত কদিন বেশ কয়েকবার স্যার মানস চৌধুরী নিজের পোইত্রিক ধরমপরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন...তাই কথাটা বলছি...এদেশে সাধারন হিন্দুগণ হয় আম্লিগ করে না হয় ইন্ডিয়া যায়...ইনদানিং কেও কেও জামাত করে... স্যার মানস চৌধুরী ব্লগে গ্যাঙ্গরভ পদ্দতিতে জামাত না চটিয়ে চলছেন আবার ওদিকে শুনা যায় সল্টলেকে তারা জম্পেশ ফ্লাট ও কিনেছেন...কি দাড়ালো?
গাছেরটাও খেলাম তলাতেও কোনো ঝুট-ঝামেলা থাক্লো না...
আর বুদ্ধুজিবি রয়েচুদ্দিন সাবের কথা কি কব...গত এক দশকে সামান্য আট আনা-চার আনা-র আশায় তিনি কতো লোকের নুনু চেটেছেন, আল্লা পাকের সবগুলো ফেরেস্তাকে সব রুটিন দায়িত্ত ফেলে শুধু এর হিসেব করতে গেলেও ততোক্ষনে কেয়ামতের টাইম হয়ে যাবে...
লেখক বলেছেন: মানস চৌধুরীর ব্যাপারে যেই শুনা কথা শুনাইলেন সেইটা দিয়া কি বুঝাইতে চাইলেন সেইটা বুঝলাম না...মানস চৌধুরী জামাতের দালালী কইরা সল্টলেকে বাড়ি কিনছে কইতে চান?
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
সহমত।
মানস চৌধুরী বলেছেন:
ভাস্কর, ভারি বিপদে আছি। দেয়ালে দেয়ালে গণতন্ত্রের কন্যা হাসিনার নাম যতবার দেখি নিজের নাম দেখি। "গণতন্ত্রের মানসকন্যা"। কী দূরদর্শীই না আমার আম্মাজান ছিলেন! কপাল ভাল সামরিক বাহিনীর মানসপুত্র (মঈন ইউ) লেখার রেয়াজ হয় নাই। তাহলে বিডিআর-এর দুর্ভিক্ষ নাট্যাশালাগুলোতে (স্যরি আমি আসলে ন্যায্যমূল্যের দোকান বোঝাতে চেয়েছি) এই রকম কিছু লেখা থাকত। আপনার/তোর পোস্টে আমার নাম জ্বলজ্বল করছে ... যদিও সেটা আমার নাম না। ব্লগারকুলের আত্মা হিসেবে 'মানস'। আমার কপাল যে ব্লগারদের আত্মা সত্যি সত্যিই আমি না ... এই গাইলাগাইলি তাহলে টেক্সটবুকিশ ভাষায় (তিব্রজী? ... হা হা হা) রূপান্তরিত হ'ত। যা হোক কিন্তু সল্টলেকের বাড়ি না-কেনার প্রমাণ দিই কীভাবে? মানে যদি প্রমাণটা বাড়ি কেনার হতো তাহলে তো দলিল স্ক্যান করে দেয়ার একটা বুদ্ধি আসত। কিন্তু সল্টলেকে বাড়ি কিনি নাই এই প্রমাণ কীভাবে দেয়া যাবে?! সল্টলেকের অদূরে নারায়ণপুর এলাকায় (যেমন বারিধারার অদূরে আশুলিয়া) দেড়কাঠার একটা জমিতে দুই ঘর তৈরি করে আমার পিতামাতা ২০০৩ সাল থেকে থাকছেন। কেন থাকছেন সেই বিষয়ে এখানে কথা বলতে আমি চাই না। কিন্তু সঙ্গত একটা আসরে/আলাপে এই বিষয়ে সাফ সাফ কথা বলতে আমার কোনো সমস্যা নেই।
তবে বিগব্যাং-এর করজোরে ক্ষমা চাইবার ধরনে পুলকিত বোধ করছি। এই মুহূর্তে আমার চোখে পড়েছে অন্তত তিনটা থ্রেড, অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী নিকপালদের যেগুলোর সবগুলোই আমাকে কটাক্ষ কিংবা গালাগালি করবার জন্য। আর সেখানে গিয়ে দুয়েক চামচ উদ্যম দিয়ে আসছেন অগালবাজ চেতনাধারীরা। ফলে কিঞ্চিত
কৌতুক বোধ করার পরিস্থিতি আছে। :-)
লেখক বলেছেন: সাম্প্রদায়িকতার এই ভূমির বদলে যদি আপনের বাপ-মা সল্টলেকে একটা বাড়ি পাইতো তাইলে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুশী হইতাম...সেইটা নারায়নপুর শুইনাও হয়তো নিস্পৃহই থাকলাম।
রাকেশরে মনে আছে আপনের কামালউদ্দিনে শিবিরের লগে ফাইট করা ছেলে? ওর বাড়ির বাংলা ঘরের চৌকাঠ সহ দরজা যখন আওয়ামি নেতা ডাঃ মোজাম্মেল হকের বাড়িতে ঝুললো সেইদিন অর দাদা শহরের দুঁদে উকিল তপন চক্রবর্তীও এই দেশ ছাড়নের সিদ্ধান্ত নিলো শুইনা ব্যথিত হইলেও খুব একটা অবাক হই নাই...
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
পোষ্টের বক্তব্য নিয়া অনেক কথা কওন যায়.....কিন্তুক
বিগব্যাং এর বক্তব্য যেমন: "স্যার মানস চৌধুরী ব্লগে গ্যাঙ্গরভ পদ্দতিতে জামাত না চটিয়ে চলছেন আবার ওদিকে শুনা যায় সল্টলেকে তারা জম্পেশ ফ্লাট ও কিনেছেন...কি দাড়ালো?" একটা আবাল গল্প। এমনে তিনি দাঁড় করাইতে চান তা নিয়া আমার গভীর সন্দেহ আছে। এতে মুক্তিযুদ্ধ আলোকিত হয় কিনা সেইটা নিয়া প্রশ্ন থাকল।
লেখক বলেছেন: পোস্টের বক্তব্য নিয়া কথা কওনটা জরুরী বেশি মনে হয় ভাতিজা...
তয় মুক্তিযুদ্ধ আলোকিত করনের বিগ ব্যাঙীয় চেষ্টাটা আমিও ঠিক ঠাহর কইরা উঠতে পারলাম না...
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
তর্কের খাতিরে এটা যদি মেনেও নেই , তাহলে বুঝতে হবে তারা নিজেদের মতো একটা অর্থ করে নিয়েছেন এবং এই অর্থটা কোন সম্মানজনক অর্থ নয় । তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার জন্যই সুশীল শব্দটা উনারা ব্যবহার করেন বলে আমার মনে হয়েছে ।এর কার্যকারন বিশ্লেষনেও প্রশ্ন তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি ।
আরিফের এই প্রশ্ন নিয়া আমিও আলাপ করতে চাই।
লেখক বলেছেন: আরিফ জেবতিকরেও আলোচনার আহ্বান জানাইতেছি ...
এস্কিমো বলেছেন:
সবিনয়ে দুইটা প্রশ্ন করতে চাই -১) এই ব্লগে অনেকরেই দেখি মতের অমিল হইলেই বিরুদ্ধজনরে রাজাকার বা ড়াজাকার অভীধায় অভিহিত করতে কসুর করে না।
- শুধু মতে অমিলে কারনে করা হয় েএমন একটা উদাহরন দেবেন কি?
২) আজকাল সুশীল গালি দেওনের আরেকটা ফ্যাশন শুরু হইছে, এই গালি যারা দেয় তারা নিশ্চিত সুশীলতা কারে কয় সেইটা জানেন না, এইটা আমি হলফ কইরা কইতে পারি।
- সুশীলের একটা সংজ্ঞা দেবেন কি?
লেখক বলেছেন: ১.
আমার মনে হয় না এইখানে উদাহরন দিতে হইবো কষ্ট কইরা খুঁজলেই পাইয়া যাইবেন অথবা খুঁজতেও হইবো না কষ্ট কইরা...চেষ্টা করলে নিজেও মনে করতে পারবেন...
২.
সুশীলের একটা ছোট সংজ্ঞা না হইলেও বর্ণনা দেওনের চেষ্টা করছি আরিফ জেবতিকের মন্তব্যের জবাবে দেখতে পারেন...
অচেনা বাঙালি বলেছেন:
::::পরিচিত বিধায় জানি এই গালি প্রদানকারীগো অনেকের চাইতেই সমাজের সংস্কার আর নিয়মের তোয়াক্কা না কইরা চলা মানুষ এরা...তাগো প্রশ্ন আমাগোও পথ দেখাইতে পারে চিন্তার অবগুন্ঠনমুক্ত করনের প্রক্রিয়ায়..জামায়াতে ইসলামী বা অন্যান্য মৌলবাদী ধর্মভিত্তিক স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির বিরোধীতা করতে গিয়া যখন আমরা মানস চৌঃ কিম্বা ব্রাত্য রাইসুরে নিয়া রসিকতা করি...তাতে আমরা আরো জটিলতায় আক্রান্ত হই। প্রশ্নহীনতারে নিজেগো আদর্শ হিসাবে নেওনের ধান্দা করি...এই অবস্থা আর ধর্মীয় মৌলবাদের পার্থক্য কি কেউ নিরূপন করবার পারবেন?
আপনার পরিচয় আছে। কিন্তু আমাদের মত আম পাব্লিকের তো পরিচয় নাই। আমরা কিভাবে উনাদের সম্পর্কে জানব? উনাদের কার্যকলাপ দেখেই তো উনাদের সম্পর্কে ধারণা হবে।
রাইসু পোস্ট দিল কামরু পুত্র ওয়ামি ব্যান হওয়াতে ফোরামের একজনের অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে বলে। এই ব্যান হওয়া তো এইটাই প্রথম না। এর আগে যুক্তি, পিয়াল সহ অনেকেই ব্যান হয়েছে। এবং সেইটা নিয়া আমরা অনেক চিল্লাচিল্লি করছি আপনিও এই সব প্রতিবাদে ছিলেন। সেই সময় ব্রাত্য রাইসু সাহেবের ভুমিকা কি? কোন খানে পোস্ট দিয়ে বা কমেন্ট করে এই ব্যপারে কোন আলোচনা করেনাই। তার মানে শুধুমাত্র রাজাকার পুত্র ওয়ামি ব্যান হওয়ার পরেই তার মাথায় প্রশ্ন মাথা চাড়া দিয়া উঠলো।
দিনের পর দিন এই ব্লগে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধি কুৎসা ছাগু গ্রুপ বিরতিহীন ভাবে প্রচার করছে। কোন দিন কি এইটার প্রতিবাদ উনাদেরকে করতে দেখা গেছে?
উন/উনারা প্রতিবাদ করেন স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াতে। সারা রাত জেগে কথার প্যাচ, যুক্তির ফাঁদ বানাইতে বানাইতে যুদ্ধে নামেন।
এখন আমাদের যাদের বুদ্ধি কম, তারা যদি এইটারে দেশবিরোধী চক্রকে শক্তিশালী করতে ডেলিবারেটলি দালালী করা বুঝি তাইলে কি খুব বেঠিক বুঝছি?
লোকেন বোস বলেছেন:
আমি মুলত: পাঠক । লগ অফ করে লেখা পড়ি । আপনার লেখাও পড়ছি অনেকদিন । লেখা শুরু করেও থমকে আছি । আপনার পোষ্ট পড়ার পর মন্তব্যের এক জায়গায় এসে আটকে গেলাম.. আপনি সুশীলদের এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে...
"সুশীলরা সমাজের যেইকোন সমস্যাতে আপোষরফা বা conform করনরে সমাধান হিসাবে দেখে...তর্কে তাগো আগ্রহ থাকে কম...যেইকারনে সুশীলগো আলোচনায় সঞ্চালকরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ...তারা মীমাংসা খোঁজে..."
কিন্তু আপনার সংজ্ঞা ব্লগে যাদেরকে সুশীল হিসাবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে তাদের সাথেতো ঠিক মিলছেনা ।
বিশেষ করে মিরাজ এবং মানস চৌধুরীর ব্যাপারে এটি একেবারেই খাপ খায়না । মিরাজের লেখা নিয়মিত পড়ি, তার দেশ ও সমাজ নিয়ে চিন্তা পরিস্কার এবং তার তর্কে আগ্রহ আছে বলেই মনে হয় । কথাও অধিকাংশ ক্ষেত্রে যুক্তি দিয়ে বলতেই মনে হয় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন ।
আর মানস চৌধুরীকে গত কয়েক দিনে পর্যবেক্ষণ করে তাকে তর্কে তাকে বিশেষ আগ্রহী বলেই মনে হচ্ছে ।
এটা কি আপনার সংজ্ঞার দুর্বলতা নাকি তাদের ভুলভাবে ট্যাগিং করা হচ্ছে?
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
প্রথমেই বলে নেয়া ভালো যে আমার আলোচনাটা মূলত: পর্যবেক্ষন ভিত্তিক । " সুশীলরা সমাজের যেইকোন সমস্যাতে আপোষরফা বা conform করনরে সমাধান হিসাবে দেখে..." আপনার বর্ণনায় সুশীলের এইযে সংজ্ঞা আপনি দিয়েছেন তাতে করে আমার মনে হয় না , যারা ব্রাত্য কিংবা মানসকে সুশীল ট্যাগিং করছেন তাদের সুশীলতার সংজ্ঞাটা একেবারেই অজ্ঞাত ।
সম্ভবত : তারা মনে করছেন যে ব্রাত্য এবং সুশীল অভিহিত ব্লগারদের বাকিরা রাজাকারদের সাথে এক ধরনের আপোষকামীতায় যেতে চাইছেন , এবং এই যাওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরী করার জন্য তর্কের নামে সুকৌশলে রাজাকারদেরকে বেনিফিটেড করছেন । তবে যারা সুশীল হিসেবে ব্রাত্য কিংবা মানসকে ট্যাগ করেছেন তারাই হয়তো এটাকে ভালো বলতে পারবেন । সেই দিকে আমি আর যাচ্ছি না ।
আমি ফোকাস করছি সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাত্য এবং মানসের ব্যাপারে সহ ব্লগারদের ক্ষোভের উৎস সন্ধানে ।
তাদের প্রশ্ন তোলার প্রক্রিয়াকে আপনি সন্দেহের চোখে দেখেন না সেটা বুঝতে পারছি । আপনার এই না দেখার অন্যতম প্রভাবক হিসেবে হয়তো এটাও একটা কারন যে -" ব্রাত্য রাইসু-মানস চৌধুরীগো আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি.." ।
দূ:খের বিষয় অধিকাংশ ব্লগারই তাদেরকে চিনেন না । তাদের অবস্থান তাই পাঠ করতে হয় ব্লগে তাদের ইন্টারেকশন থেকে ।
ব্রাত্য রাইসুর কথাতে আসি ।
উনার প্রশ্ন তোলার অধিকার , দায়িত্ব , যৌক্তিকতা সবটুকুই মেনে নিচ্ছি । ফোরামের একজন সদস্য হিসেবে তিনি অবশ্যই জানতে চাইতে পারেন যে কোন নীতিমালায় অপর একজন সদস্যের সদস্যপদ বাতিল করা হলো ।
সমস্যা হলো , উনার কলিগ পিয়ালকে যখন ব্যান করা হয় না জেনে একটি ছবি ব্যবহার করার দায়ে তখন ব্রাত্য এই প্রশ্নটি তুলেছেন বলে স্মরণ করতে পারি না । ( তবে এটা ঠিক যে তিনি কখন প্রশ্ন তুলবেন আর কখন তুলবেন না , এটা নির্ধারন করার কোন অধিকার আমার নেই । )
যখন নীতিমালায় স্পষ্টভাবে একটি ধারার উল্লেখ আছে , তখন এধরনের প্রশ্ন তোলাটাকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখেছেন বলে আমার ধারনা । পিয়ালের ব্যাপারে বা আরো অনেক ব্লগারের ব্যাপারে কিন্তু নীতিমালা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে । তখন প্রশ্ন তোলার অবকাশ আরো জোরালো ছিল কিন্তু ব্রাত্য প্রশ্ন তুলেন নি ।
একজন বুদ্ধিজীবি হিসেবে তর্কের মাধ্যমে নিজেকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উনার এই প্রশ্ন তোলার দেরীটা এক ধরনের সন্দেহের জায়গা তৈরী করেছে বলে আমার পর্যবেক্ষন ।
এবার মানস চৌধুরীর বিষয়টি ।
ব্লগারদের বেশিরভাগেরই আগে থেকে উনাকে চিনে নেয়ার কোন উপায় নেই । তাকে পাঠ করতে হচ্ছে তার স্বল্প সময়ের ব্লগিং থেকে ।
সেক্ষেত্রে ব্রাত্যের পোস্টে উনার কমেন্টটি ব্রাত্য উত্থাপিত প্রশ্নের আলোচনার চেয়ে অন্য ব্লগারদেরকে টিটকিরি মারার ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে বলে সাধারন পাঠক হিসেবে আমার চোখে ধরা পড়েছে ।
উনি দূ:খ/ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যে , ব্লগের "নাসির উদ্দীন হোজ্জা"রা জামাতি নিধনের নামে মৃত সৈনিকের পা কেটে বেড়াচ্ছেন । উনি আরো আফসোস করছেন যে এই ক্ষোভ আসলে গোলাম আযমের বাসার সামনে মূত্র ত্যাগ করে প্রকাশ করলেই বরং বেশি কাজে দিত ।
১৯৮৮ সালে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষনা করার সময় রাস্তা খালি ছিল বলেও উনি জানিয়েছেন আমাদেরকে ।
ব্লগের মাধ্যমে জামাতিদের প্রপাগান্ডাকে এতো ছোট করে দেখার অবকাশ আছে বলে মনে করি না ।
ইন্টারনেট এখন মধ্যবিত্তের ঘরে ঘরে , আর সেখানে " মুজিব আসলে স্বাধীনতা চান নি " , " ৭১ সালে আসলে ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যান নি " , " মুক্তিযুদ্ধ আসলে ভারতের চক্রান্ত " এসব তথ্য ঘরে ঘরে , বিশেষ করে কিশোর প্রজন্মের কাছে পৌছে দেবার জন্য ব্লগ একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার আশংকা করি এবং এই ভুল তথ্য প্রবাহে বাধা দেয়াটাকে নৈতিক দায়িত্ব মনে করি ।
এই কাজে শত শত ব্লগার এই ফোরামে জড়িত এবং তাদেরকে " নাসির উদ্দীন হোজ্জার মৃত সৈনিকের পা কাটায় ব্যস্ত " বলে যদি কেউ চিহ্নিত করেন , তখন তাকে তর্ক উত্থাপনের চাইতে আক্রমন বলেই মনে করাটা স্বাভাবিক ।
যখন তর্ক হয় , তখন যুক্তি দিয়ে সেটাকে নির্মোহ ভাবে বিশ্লেষন করার দরকার , তখন সেখানে যুক্তিই শেষ কথা হওয়া উচিত । কিন্তু যখন সেটা ব্যক্তিগত আক্রমন হয় , তখন প্রতিপক্ষও ব্যক্তিগত আক্রমন করে বসতে পারেন । আর এটাই হয়েছে মানসের ক্ষেত্রে ।
এর পরে আর তর্ক আগায় নি , সেটা হয়ে গেছে ফালতু ব্যক্তি আক্রমনের ময়দান । পারষ্পরিক উপহাসে পরবর্তী অধিকাংশ মন্তব্যই ভরপুর ।
এতোটুকু আলোচনার পরে আমি বলতে চাই যে ব্রাত্যের প্রশ্ন উত্থাপনের সময় , প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য এমন কাউকে বেছে নেয়া মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের পক্ষে যার সফটকর্ণার আছে বলে আপাত সন্দেহের কোন কারন নেই , এসব কারনে মনে হতে পারে যে ওয়ামির ব্যন করার কারনটিকে উনি অযৌক্তিক প্রমানে ব্যস্ত । মানস সেই ব্যন চেয়ে দাবী তোলা ব্যক্তিদের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রমন ছুড়ে দেয়াটাতেও মনে হয় যে উনিও বোধহয় এদেরকে প্রতিপক্ষ ভাবেন ।
উপসংহার :
আমি আপনার সমাপ্তির সাথে একমত যে , "জামায়াতে ইসলামী বা অন্যান্য মৌলবাদী ধর্মভিত্তিক স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির বিরোধীতা করতে গিয়া যখন আমরা মানস চৌঃ কিম্বা ব্রাত্য রাইসুরে নিয়া রসিকতা করি...তাতে আমরা আরো জটিলতায় আক্রান্ত হই। "
একই সাথে ব্রাত্য কিংবা মানস যদি আমাদের মতো আম জনতা ব্লগারদের নিয়া রসিকতা করেন , তাহলে সেই জটিলতা যে আরো বাড়ে , এটা বোধহয় সবারই জানা থাকা ভালো ।
লেখক বলেছেন: সভ্যতার ইতিহাসে একটা কৌশল বহুল ব্যবহৃত বা জনপ্রিয়...শত্রুর শত্রু আমার মিত্র...long term কৌশল হিসাবে এইটা প্রায় অকেজো হইলেও আপতকালের সকল সমস্যায় এর ব্যবহার সবসময়েই হইছে। যার পথ ধইরাই শেখ মুজিব কট্টর মার্কিন পন্থী হইয়াও সোভিয়েত ব্লকে মিশা যান।
স্বাধীনতা পরবর্তীকালেই যুদ্ধাপরাধীগো বিচার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে প্রধান উপজীব্য হইতে পারতো, কিন্তু শেখ মুজিব সরকারের অবহেলা আর জিয়া সরকারের প্রশ্রয়ে যুদ্ধাপরাধীরা এই দেশে পুনর্বাসিত হইছে...যেই কারনে এই মুহুর্তে কেবল ব্লগে না, সারাদেশেই আবার রাজনৈতিক দাবী হিসাবে একটা ভাইটাল পয়েন্টে পরিনত হইছে। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীগো বিচার একটা আপতকালীন সমস্যা'ই...
এই সময়ে কেউ গালিগালাজ না কইরা যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের কথা ভাবলে সে আমার সন্দেহ তালিকায় আসবো সেইটা আমি আসলেই realise করতে পারতেছি না। গালিগালাজের পক্ষের লোক আমি নিজে না...আমি মনে করি না গালিগালাজ কইরা এইরম চেতনাগত কোন আন্দোলনে সফল হওন যায়(যদিও কেউ ক্ষোভের বশবর্তী হইয়া গালি দিলে তার ক্ষোভরে আমি ধর্তব্য মনে করি)...ব্লগ কর্তৃপক্ষ মানলেও রাষ্ট্রতো আর এইরম সৌখিন প্রতিষ্ঠান না...
আপনের বেসিক যুক্তিরে মানতে হইতেছে...কিন্তু কৌশলগত অবস্থানের কারনে আসলেই ভিন্ন অবস্থান নিতে আগ্রহী আমি...
অচেনা বাঙালি বলেছেন:
(বললে মনে হইবে তেল দেয়া। তারপরো যেইটা সত্য না বলে পারছিনা।)
এইখানেই আম পাব্লিক আর বস লোকের মধ্যে তফাৎ। যেইটা আমি বলতে চাইছিলাম ঠিক মত গুছায়া সেইটা লিখতে পারিনাই। জেবতিক বস সেইটাই কি সুন্দর করে বলে দিল।


















জামায়াতে ইসলামী বা অন্যান্য মৌলবাদী ধর্মভিত্তিক স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির বিরোধীতা করতে গিয়া যখন আমরা মানস চৌঃ কিম্বা ব্রাত্য রাইসুরে নিয়া রসিকতা করি...তাতে আমরা আরো জটিলতায় আক্রান্ত হই। প্রশ্নহীনতারে নিজেগো আদর্শ হিসাবে নেওনের ধান্দা করি...এই অবস্থা আর ধর্মীয় মৌলবাদের পার্থক্য কি কেউ নিরূপন করবার পারবেন?
দারুন একটা কথা বলেছেন। ধন্যবাদ
জবাব হলো, একই মুদ্রার এপিট ওপিট