আব্দুল্লাহ্ আবু সায়িদ স্যার আমারে অপছন্দ করতে শুরু করলেন...ছোটমেয়ে জয়া আমার বন্ধুবৎ হওনে সাবধান বানী পাইতাম আগের থেইকাই...সাবধান বানী কি আসলে কোন কাজে লাগে!? আমরা তখন চলচ্চিত্র দেখি আর তার দর্শনগত আলোচনা করি...স্ট্রাকচারালিজম-ফাংশনালিজম-সিনিক দর্শনের চলচ্চিত্র ব্যখ্যা নিয়া তুমুল তর্ক চালাই...বন্ধু রঞ্জন রাব্বানী মারফত ফুকো সাহেব ঢোকেন আমাগো আলোচনায়...আমরা ক্ষমতার প্রক্রিয়াকরণ নিয়া মাথা ঘামাই। গদার-ত্রুফো-হেরজ্বগ-ফাসবিন্দার সাহেবগো ব্যবচ্ছেদ করি অনায়াস ত্যাড়ামীতে। টেক্সচ্যুয়ালিটি আর সাবটেক্সটের দ্বন্দ্বমূলক সম্পর্কের দোলাচল নিয়া আমাগো মধ্যে তুমুল মতভেদ চলে...
এইসব আলোচনায় মাহবুব তালুকদার সাহেব আসতে শুরু করেন। তার জ্ঞানের প্রয়োজন আছে...আমরা তারে আর্টের এন্টি ফাংশনাল চরিত্রের গোলকধাঁধার চক্করে ঢুকাই...দর্শনের ফ্যালাসীতে বন্দি করি শিশুসুলভ আচরনে। বাস্তব আর বাস্তবতার সম্পর্কের প্যারাডক্সে পইরা তিনি খাবি খান। এইসব কিছু ছিলো আমাগো প্রতিশোধ পরায়ন মনোবৃত্তির প্রকাশ। কেন্দ্রের এই দ্বিতীয় পর্যায়ে আমি চরম মার্ক্সিস্ট তরুণ বাই সাইকেল থিফ নমস্য চলচ্চিত্র...কিন্তু সেই আমিও তার সামনে গেলে ভালোবাসি এ্যান্তোনিওনি'র ক্লোজ আপ...সবুজের মধ্যে অভিনয়ের বাস্তবতা। দর্শনের জগতে সুযোগ থাকে ডুইবা যাওনের...মাহবুব তালুকদার ডুবেন।
মাহবুব তালুকদার সাহেব জীবনে কিছু ক্লাসিক সাহিত্য পড়ছেন, কিন্তু চরিত্রের দালালী অংশের লেইগা ঐসব সাহিত্যের মর্ম উপলব্ধির কোন প্রয়াস ছিলো না। আর তাই জীবনে তার কোন প্রতিফলন ছিলো না...আমাগো তারুণ্যের প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে তার অবোধ্য বন্ধনগুলি ছুটতে থাকে। তিনি চেষ্টা করতে থাকেন অভিযোজনের...আর শুরু হয় দোটানা'র...তিনি নিজের আইডেন্টিটি হারাইতে থাকেন...তার মতো আরামবিলাসী আমলা'র লেইগা বিষয়টা খুব সুখের না...তিনি ক্ষমতার কেন্দ্র থেইকা বিচ্যূত হইতে থাকেন।
ইতোমধ্যে আমরা পেইন্টিং এ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স শুরু করছি...আর্ট হিস্টোরী পাঠের সবচাইতে সফল কোর্স হিসাবে স্বীকৃতি পাইলো এই আয়োজন। পাঠ দিলেন দেশের সকল চিত্রানুরাগী জ্ঞানী ব্যক্তিরা...এই ওয়ার্কশপ স্যারের নিয়মিত জাভিকের চাইতেও প্রচার পাইতেছিলো ঐসময়টায়। স্যার ঈর্ষান্বিত হইলেন। তার আচরনে বিষয়টা স্পষ্ট'ই ছিলো...কেন্দ্রের নিজস্ব আয়োজন হইলেও আমরা তার প্রকাশ দেখলাম বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক আচরনে। অডিটোরিয়ামে ক্লাস হইতো সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে...কিন্তু আমাগো ক্লাসের দিনে অডিটোরিয়াম ভাড়া দিয়া দেওনের মতো ঘটনাও ঘটতে শুরু করলো। আমরা বড়জোর বিব্রত হওনের অধিকার রাখি...
প্রতিনিয়তঃ বিব্রত হওনের মধ্য দিয়াই আমরা কাজ চালাইতেছিলাম...চলচ্চিত্র চক্রের যারা একটিভিস্ট ভলান্টিয়ার ছিলো তাগো মধ্যে আজকে অনেকেই তাগো কাজ দিয়া প্রতিষ্ঠিত...সেই সময়টায় প্রতিটা সন্ধ্যা মাতাইতো এরা...অমিতাভ রেজা-জাহিদুর রহিম অঞ্জন-রঞ্জন রাব্বানী-অপু রোজারিও-আহমেদি হুসেইন এরা তখন কেন্দ্রের ক্যান্টিনে বেয়াদব প্রতিপন্ন হইতে শুরু করলো কেন্দ্রের নয়া সমন্বয়ক কিবরিয়া'র ভাইয়ের সুশীল ছদ্মাবরণে ফান্টামেন্টালিস্ট কনজার্ভেটিভ প্রশাসনের কাছে। তার সকল অভিযোগ অনুযোগ আসতো আমার কাছে...আমি পরতাম বিপদে...একই আচরনতো আমার কাছে বেপড়োয়া লাগে না!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

