ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধের মধ্য দিয়া মানবিকতার মুক্তি ঘটে...
২৩ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৪৮
ধইরা নিলাম মতিউর রহমান নিজামী জীবনে কোন দুর্নীতি করে নাই, বউ-বাচ্চা আর পার্টির পয়সায় এই দেশে রাজনীতি কইরা চলছেন...ধইরা নিলাম বিদ্যমান সমাজ বাস্তবতায় তার আয় ব্যয়ের হিসাব দুর্নীতির আওতায় পরে না...ধইরা নিলাম জামায়াতের সকল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ধর্ম রক্ষার তাগীদে, দালালী বইলা কোন আচরন তাগো অভিধানে নাই...ধইরা নিলাম সালেহী ভালো ছাত্র তাহের স্যাররে খুন করনের কোন পরিকল্পনা ছিলো না তার...ধইরা নিলাম জামায়াতের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি সব তাগো বিরুদ্ধে দাঁড়াইছে ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে...তাইলে কি তার বিরুদ্ধে কোন কথা কওন যায় না!? জামায়াত আর শিবির এই দেশে জায়েজ হইয়া যায়!?
মানুষের ইতিহাস কোনকালেই তার ধর্মের ইতিহাস ছিলো না...তার ইতিহাস নির্মিত হইছে অস্তিত্ত্ব রক্ষার নিমিত্তেই...ধর্মও আসছে তার অংশ হিসাবে, ধর্ম আসছে মানুষের অজ্ঞতার সুযোগে আসা রহস্যময়তা থেইকা। ধর্ম আসছে শোষক শ্রেণীর সুবিধাবাদীতা থেইকা, প্রতারণার অস্ত্র হিসাবে। ইতিহাস বিশ্লেষণ করলেও তা পাওন যায়...আর তাই ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মুহাম্মদেরও তৎকালীন ধর্মভিত্তিক শাসকগো বিরুদ্ধে বক্তব্য ছিলো...বক্তব্যের আবরণ ছিন্ন কইরা বিধ্বংসী যুদ্ধ ছিলো। মুহাম্মদও পূর্বতন ধর্মগুলিরে একভাবে নাকচ করে...যেহেতু হিন্দু আর বৌদ্ধ ধর্ম সেমেটিক এলাকার বাইরের ধর্ম তাই তার ইতিহাসে এই দুইয়ের বিরুদ্ধে কোন বক্তব্য নাই, খেরেস্তান বা ইহুদী ধর্মরে যেমনে নিজের ধর্মে একীভূত করেন সেইরম কোন সক্রিয়তা নাই হিন্দু আর বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপারে...
আমরা বুঝতে পারি মুহাম্মদের ভ্রমণাভিজ্ঞতার ব্যাপ্তি আরবীয় অঞ্চলের বাইরে ছিলো না...হায় দরিদ্র মুখাপেক্ষী আরবেরা বড় নৌকার আবিষ্কার করে নাই ক্যানো সবার আগে! নূহের নৌকার পরিকল্পণা তবে কার ছিলো! মুহাম্মদের সদুদ্দেশ্যের প্রতি আমি প্রায়শঃই মোহিত আবেগ ছড়াই। আরবভূমির যথেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে একজন লোক দাঁড়াইতেছে জাইনাই আমার শ্রদ্ধাবোধ প্যারামিটারের পারদ উদ্র্ধমূখী হয়...কিন্তু ধর্মের কিছু নিজস্ব চরিত্র আছে...সেইমতোন ধর্ম পুরুষতান্ত্রিক হয়...ধর্মের কিছু দূর্বলতা আছে...সেইমতোন ধর্ম পারলৌকিক প্রবনতা পায়...ধর্মের কিছু সুবিধাবাদীত্ব আছে...সেইমতোন ধর্ম আগ্রাসী হয়।
ধর্মের বিশ্বাসধর্মীতার বিরুদ্ধে যূগে যূগে কালে কালে বিচক্ষণ ব্যক্তিরা দাঁড়াইছেন স্বমহিমায়...কিন্তু রহস্য ভাঙলে মানুষের আবেগের কমতি দেখা দ্যায়...রহস্যের প্রতি বিশ্বস্ততায় মানুষের দায়িত্বের পরিধী কমে...নিস্কৃতি ঘটে অনেক ইহজাগতিকতা থেইকা...আর এই কারনে বিজ্ঞানের সকল কথাই কোরআনে থাকনের পরেও(?) প্রশ্নবিদ্ধ ধার্মিকেরাই কেবল বিজ্ঞানের পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ায় অংশ নেন...আল কিন্দী আর আল ফারাবী কিম্বা ইবনে সিনাগো আমরা কেবল মুসলিম নামের ব্যবহারেই আসতে দেখি, তাগো কোরআন সম্পর্কীত প্রশ্নমালা গুলি উহ্য থেকে যায়...বিজ্ঞানের বিস্তৃতি কিম্বা প্রযুক্তির বিকাশ দেখতে হয় নাছারা নাস্তিক ভূমিতে...
ধর্ম আসে তার স্বচরিত্রেই...রাষ্ট্রীয় ভাবে যখন ইবনে খালদুন ভাবেন, তখন তার চিন্তায় সাম্যের রাষ্ট্রীয় চিন্তা আসে...ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের কথা তিনি কন না, তার কথায় প্রতিধ্বনিত হয় ব্যক্তির ধর্ম চিন্তার প্রতিফলন...আর এই কারনে ধর্মভিত্তিক শাসকেরা তারে বন্দীত্ব উপহার দ্যান নিয়তঃ...আমরা খালদুনের মুসলিমত্ব টানি কিন্তু তার ইহজাগতিকতারে উপেক্ষা করতে চাই প্রতিনিয়তঃ...
বাংলাদেশের জন্মলগ্নে এই দেশের মানুষরে মোটা দাঁগেই ধর্মের এই বৈশিষ্ঠ্যের মুখামুখি হইতে হইছে...যারা যুদ্ধ করছে তাগো মাথায় ছিলো মুক্তির স্বপ্ন, সমতার স্বপ্ন, স্বাধীনতার স্বপ্ন...আর যুদ্ধের বিরোধীতা করছে যারা তাগো মাথা জুইড়া ছিলো ধর্মীয় পাগড়ি...হয়তো বা নিজামীরা নির্বোধ ছিলেন...হয়তো বা নিজামী অন্ধ ছিলেন...কিন্তু ধর্মের সুবাস আসলে ঐ পথেই টানে মানুষরে। ধর্ম বিশ্বাসী রাজনীতি মানুষরে এমনেই অন্ধত্ব দ্যায়...তারা আর চোখে দেখে না বিশ্বাসের পর্দা সরাইয়া...ধর্মভিত্তিক মানুষ নিয়া আমার প্রশ্নমালা এতোটা কঠোর নয় যদিও, কিন্তু ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিয়া ইতিহাসে কোথাও কোন ইতিবাচকতা দেখি না...পারলৌকিক লোভ আর লাভের হাতছানি বাদে...
এই দেশে নিজামীরা-সালেহীরা বর্তমানে আমাগো সেই পুরানা অন্ধত্বের রাজনীতির দিকে টানতেছে...যেই রাজনীতি মানুষরে কখনোই প্রশ্ন করনের অধিকার দ্যায় না...যেই রাজনীতি কখনোই জবাবদিহিতার অবকাশ রাখে না...যেই রাজনীতি মানুষরে পশুর মতোন নির্বোধ কইরা রাখনের চেষ্টা করে...যেই রাজনীতি চিরটাকাল শাসক-শোষকের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হইছে...
আসুন নিজামীগো বর্জন করি মানবিকতার মুক্তি লাভের সংগ্রামে!
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাজনীতি ;
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...
হমপগ্র বলেছেন:
এ একরকম আমাদের দুর্ভাগ্যই বটে যে এখানে শিক্ষিত লোক খুব কম, এখানে যারা নিজেদেরকে শিক্ষিত দাবি করেন তারা আসলে রামছাগল গোত্রিয়।কথাটা কষ্ট থেকে বললাম।
লেখক বলেছেন: শিক্ষা বা অশিক্ষার চাইতে আমার ভুল শিক্ষারে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় বেশি...
হমপগ্র বলেছেন:
ধর্ম চিরদিনই শোষণের হাতিয়ার ছিল, এবং থাকবে। যদিও এর উদ্দেশ্য তা কখনই ছিল না। মানুষের ইতিহাস কখনই ধর্মের ইতিহাস হতে পারে না। এটা আমারও বিশ্বাস। খুব কষ্ট পাই যখন শিক্ষিত হয়েও মানুষ ধর্মের সীমানা ছেড়ে বের হতে পারে না। মুক্ত চিন্তা কাকে বলে তা বুঝে না।
এটার থেকে দুর্ভাগ্য একটা জাতির জন্য আর কী হতে পারে।
লেখক বলেছেন: হুমম...
কৌশিক বলেছেন:
একটু নোটঃ এই জায়গায় ইনডিভিডুয়ালের রহস্যময়তা পছন্দিসক বলে ধর্ম পালনেরও কোন বাধা থাকে না, বরঞ্চ ভ্যারাইটি অব রিলিজিয়াস ফেইথ রাষ্ট্রে অংশীদার বোধ করে - যদি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়। ভাল লাগলো আপনার লেখা। তবে লিনিয়ারিটি বিষয়ক ভাবনাটাও এখানে একটু আছে মনে হয়। যেমন একমাত্র মুসলমান ধর্মে কমপ্লিট কোট অব লাইফ নামক স্লোগানে রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠাটা ধর্মপালনের অংশ মনে করে। আরেকটা কারণ তো আপনি বলেছেনই, পারলৌকিক লোভ আর লাভের হাতছানি বাদে..এইটা কেমনে বাদ দেবে এই ক্ষুধার্ত ও দরিদ্র মানুষগুলো? তারা তো এক পা দিয়েই আছে, মরলেই হুরদের সাথে মোলাকাত হলো বলে!
লেখক বলেছেন: সংযোজন হইতে পারে...
লিনিয়ারিটি বিষয়ক বোধতো থাকবোই চিন্তার বর্তমান জায়গাটাতো ঐটাই...দরিদ্র মানুষের মানসিক শক্তি ইতিহাসের বহুত জায়গায়ই টার্নিং পয়েন্ট হইছে...হুরের লোভে পইরা থাকাটা মনে হয় না তাগো চরিত্রের সবচাইতে বড় বৈশিষ্ট্য...
প্রণব আচার্য বলেছেন:
মানুষের ইতিহাস কোনকালেই তার ধর্মের ইতিহাস ছিলো না...তার ইতিহাস নির্মিত হইছে অস্তিত্ত্ব রক্ষার নিমিত্তেই...ধর্মও আসছে তার অংশ হিসাবে, ধর্ম আসছে মানুষের অজ্ঞতার সুযোগে আসা রহস্যময়তা থেইকা। ধর্ম আসছে শোষক শ্রেণীর সুবিধাবাদীতা থেইকা, প্রতারণার অস্ত্র হিসাবে...একমত
লেখক বলেছেন: হুমম...
রাফা বলেছেন:
আমার জানামতে এটি একটি অনন্য পোষ্ট।ধর্ম কখনো কারো উপর কোন কিছু জোড় করে চাপিয়ে দেয় না ।বকধার্মিক কিছু লোক তাদের স্বার্থে ধর্মকে অপব্যাবহার করে আমাদের দেশের সেই প্রধান অপব্যবহারকারি হচ্ছে জামাত শিবির।
লেখক বলেছেন: ধার্মিকেরাই আসলে ধর্মের রূপরেখা তৈরী করে...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...
মাহবুব সুমন বলেছেন:
পইড়া মনে হইলো থিসিস পেপার পড়তাছি আপনের লগে একমত আছি বস।
লেখক বলেছেন: ধরাধরি কি একটু বেশি হইয়া গেছে?
একমত হওনের লেইগা ধন্যবাদ...
লেখক বলেছেন: পিয়ার রিভিউ জিনিসটা কি?
মাইনুল বলেছেন:
গনতন্ত্রে কোন দল কে নিষিদ্ধ করা যায় না। দুনিয়ার সব দেশেই ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি আছে। এমন কি ভারতেও জামাতে ইসলামী আছে। আর ধর্ম যদি মানুষকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে, তাহলে ধর্মভিত্তিক দল গুলিও মানুষের কল্যান করতে পারবে।
লেখক বলেছেন: অনেক বেশী হাইপোথেটিক্যাল হইলো আপনের বক্তব্য...যদি এইটা হয় তো ঐটা হইবো...
তয় যুক্তি করনের একটা ফ্যালাসি আমি ভালো পাই না, ভারতেও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি থাকলেই কি না থাকলেই কি!? আপনে দেশটারে ভারতের মতোন দেখতে চান নাকি? দুনিয়ার সবদেশে যা যা আছে তা তা কি আমরা উদাহরণ হিসাবে নেই!? মনে হয় না...
তয় গণতন্ত্রে কোন দল নিষিদ্ধ করন যায় না টাইপ বক্তব্য দিয়া কি বুঝাইলেন? ইসলামে গণতান্ত্রিক নির্বাচনমূলক ব্যবস্থার স্বীকৃতি আছি কি না সেইটা লয়া কইলে বুঝতে পারতাম...
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
মানবতা নিশ্চিত করে এই বক্তব্যের সাথে দার্শনিক ভাবে উল্টামত। কার মানবতা কোন মানবতা? কৌশলগত নিষ্পত্তির গল্পের সাথেই পরে জাইতে হইব মনে হয়...আমরা আবার প্রগ্রেসীভ কিনা। আমার অনুমান আপনার দার্শনিক জটিলতা আরো গভীরের। তবে আপনার বয়ানই আপনার মতামত হইলে দীর্ঘ তর্ক করণের হাউস রইল।আপনার বক্তব্য এইখানকার প্রগতীবাদীগো মেনিফেষ্টো অনেক আগে থেইকাই। যদিও গল্প এত সরল না বইলাই আমার ধারণা। তর্ক হইব এই অনুমান কইরা প্রিয় পোষ্ট রাখলাম।
লেখক বলেছেন: শরৎ আমি এইখানে মানবতার কথা কিন্তু কই নাই...আমার বিবেচ্য ছিলো মানবিকতা...মানবিকতার লগে গ্রগতিশীলতা(?) নামের আধিপত্যবাদী তত্ত্বটার মনে হয় না তেমন যোগাযোগ আছে...মানবিকতা আর মানবতার বিভাজন চইলা আসে এই আধিপত্যের অপসারনে...তর্কের লেইগা তো আমি চিরদিনই উন্মুখ থাকি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনেরে...
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
আপনার লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়লাম - যতটুকু বুঝেছি আপনি নাস্তিকতার সমর্থক। নাস্তিকতা বিষয়ক আমার নিজস্ব কিছু ভাবনা ধারাবাহীক ভাবে লেখার চেস্টা করছি আমার ব্লগে - যদি সময় করে পড়েন এবং আপনার সুচিন্তিত মতামত দেন তাহলে কৃতজ্ঞ হব। Click This Link আর আপনার "ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিয়া ইতিহাসে কোথাও কোন ইতিবাচকতা দেখি না..." এই কথার সাথে আমি একমত হতে পারছি না বলে দু:খিত। আমি যতটুকু ইতিহাস জানি তাতে তো দেখি মুসলমানরা যখন সামগ্রিক জীবনে ইসলামের সত্যিকার অনুসারী ছিল তখন তারাই ছিল বিশ্বের নেতৃত্বে-শুধুমাত্র সামরিক নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নেতৃত্বও মুসলমানদের হাতেই ছিল - বাগদাদ, কায়রো, গ্রানাডা ছিল বিশ্বের শ্রেস্ঠ বিদ্যা কেন্দ্র। পরে মুসলমানদের মধ্যে যখন বিভিন্ন কুসংস্কার-গোড়ামী-ক্ষমতার দন্দ ভর করে এবং সর্বপরি সত্যিকার ইসলামের অনুসরন বাদ দিয়ে দলাদলীতে লিপ্ত হয় তখনই তাদের পতন হতে শুরু করে। অথচ অন্য ধর্মগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো - তারা যখন ধর্মীয় ভাবে সমাজ ও রাস্ট্র চালাত তখনকার সময়কে তারাই বলে অন্ধকার যুগ। ধর্ম থেকে দুরে সরে গিয়েই তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি করতে হয়েছে। এই বিষয়টা আপনি কিভাবে দেখেন?
লেখক বলেছেন: আর আমি দেখি মুসলমানগো সাম্রাজ্য কেমনে ধ্বংস হয়...কিছু কইলেই গোড়ামীর অযুহাত দেখানোটা মুসলিমগো আজীবনের অভ্যাস...ধর্ম বিষয়টাই গোড়ামীর...অগোড়ামী নিয়া ধর্ম হয় না...
লেখক বলেছেন: রাষ্ট্র যখন নিজ স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার শুরু করছে তখন থেইকাই সমাজ সভ্যতার পতন হইছে...
ঘনাদা বলেছেন:
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন: অসাধারণ
মাইনুলের কথা শুনে হাসি এলো। অন্য সব ইস্যুতে ভারতকে তারা দানবের কাছে নিয়ে যায়।
কিন্তু উদাহরন দেবার বেলায় কি সুন্দর ভারতকে দাঁড় করায়, হায় সেলুকাস!
অনিশ্চিত বলেছেন:
শিরোনামের সাথে একমত।
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
"আর আমি দেখি মুসলমানগো সাম্রাজ্য কেমনে ধ্বংস হয়..." সেটা কিন্তু আমিও দেখি। তবে আমি তাদের উত্থান এবং স্বর্ণযুগও দেখি। ইসলামী সমাজ ব্যাবস্থা বিশ্বকে হাজার বছরেরও বেশী সময় নেতৃত্ব দিয়েছে। সেই অংশটা না দেখে শুধুমাত্র পতনের সময়টা দেখা কি যুক্তি সংগত?
লেখক বলেছেন: ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার আর রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারই ধর্মীয় রাষ্ট্র সমূহের পতনের মূল কারন...ধর্মরে যখনই শ্রেণী স্বার্থরক্ষায় ব্যবহার শুরু হয় তখন থেইকাই ধর্মীয় রাষ্ট্রের পতনোন্মুখ চরিত্রের উন্মোচন...আমার লেখায় মনে হয় আমি তা'ই কইতে চাইছি...যতোদিন ধর্মরে মাথায় রাইখা ব্যক্তি মানুষের উন্নয়নকামী চিন্তা হইছে ততোদিন ধর্ম ছিলো তৎকালীন প্রগতিবাদ...
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
ধর্মের নামে যখন সমাজের ক্ষতি করা হয় তখন সব দায় ধর্মের - ধর্ম বিকৃতিকারীর কোন দায় নেই, আর ধর্ম যখন সমাজ সংস্কারে নেতৃত্ব দেয় তখন তা হয়ে যায় প্রগতিবাদ.. .ধর্মের সেখানে কোন কৃতিত্ব নেই.. কি চমৎকার ব্যাখ্যা। ঘটনা যাই হোক কেস্ট ব্যাটাই চোর-তাই না? এরকম চিন্তা নাহলে কি আধুনিক প্রগতিবাদী হওয়া যয়?
লেখক বলেছেন: ধর্মের ভিত্তিতে যখন সমাজ সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হয় তখন তা প্রগতিবাদই হয়, কারন ধর্মের নিজের সংস্কার করনের কোন পথ সে অনিয়তঃকালের লেইগা খোলা রাখে না...যা পরিবর্তন হয় যূগে যূগে তার পেছনে থাকে শ্রেণী স্বার্থের ঝোক কিম্বা জনগণের আন্দোলন নিয়া ভয়...ধর্ম সমাজের আর যে কোন ব্যক্তিগত বিশ্বাসজাত উপাদান হিসাবেই থাকে...রাজনীতিতে তার ব্যবহার ব্যক্তিরাই করে, আর ব্যক্তির হাতে ধর্মের ম্যানিপ্যূলেশনের ক্ষমতা ধর্মের প্রক্রিয়াতেই দেয়া থাকে...রাজনীতির মতোন একটা সামাজিক প্রপঞ্চে ধর্ম আসলে সেইটার যা হওনের কথা তা'ই হইছে ইতিহাসে...
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন:
মাইনাস
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
প্লাস, ভিনটেজ জা.ভা
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পিয়াল ভাই...
মাহবুব সুমন বলেছেন:
জাভাকে জাঝা ধর্মকে রাস্ট্র ও রাজনীতির সাথে মেশানোর পক্ষে আমি না। পোস্টের হেডিং এর সাথে একমত আবারো।
লেখক বলেছেন: পোস্টের বিষয়ও কিন্তু হেডিংয়ের মতোনই...
ধন্যবাদ আপনেরে...
প্রিয় জামাল ভাস্কর,
আপনাকে সমাজতান্ত্রিক ফোরমা গ্রুপের সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। বর্তমানে এই গ্রুপে ব্লগার নিকোর একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ওপেন বিতর্ক আহবান করা হচ্ছে। আশা করি তাতে আপনার মতটিও জানাবেন। গ্রুপের সদস্যদের উদ্দেশ্যে আহবানটি আপনার এখানে কপি করে দিচ্ছিঃ
প্রিয় সমাজতান্ত্রিক ফোরাম গ্রুপের সদস্য,
আমাদের প্রিয় ব্লগার নিকো "সমাজতন্ত্রের প্রায়োগিকতা" শীর্ষক তার একটি পোস্টে ( Click This Link) একটি আলোচনা উপস্থাপন করেছিলেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশের বাম দলগুলোর বিরোধ নিয়ে চমৎকার একটি সমালোচনা করেছেন। এই আলোচনাটি নিয়ে সমাজতান্ত্রিক ফোরাম গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে একটি ওপেন বিতর্ক হতে পারে বিবেচনা করে পোস্টটিকে স্টিকি করা হয়েছে। এবং মূল আলোচনার সাথে যুক্ত করে তিনটি প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, আপনারা এই বিতর্কে অংশ নিবেন এবং আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামতটি জানাবেন।
প্রশ্ন গুলো নিম্নরূপঃ
১। কেন বাম দলগুলো এত ভাগে বিভক্ত? অন্তত তাদের নেতাদের বক্তৃতা শুনলে খুব বেশী পার্থক্য আছে বলে মনে হয় না।
২। বিপ্লবের স্তর কি হবে? সমাজতান্ত্রিক? জনগণতান্ত্রিক? বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক?
৩। আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও উৎপাদন পদ্ধতি কিরূপ? পুঁজিবাদী? সামন্তীয়? আধা পুঁজিবাদ, আধা সামন্তবাদ? আধা সাম্রাজ্যবাদ আধা সামন্তীয়?
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
তাইলে আমার পাঠে গলদ ছিল বোঝন যায়। কিন্তু মানবিকতার কথাও যদি বলি তাইলেও সেইটা গঠন নির্ভর। আবার বিশ্ব মানবিকতারে ধরণের চেষ্টাও মানুষের আছে।আমার প্রত্যাশা ছিল তর্কে আপনার আপত্তি থাকবো না। কিন্তু আমিই একটু চিপায় পইড়া গেলাম, সামনে পরীক্ষা, কিছু মধুর ফাঁকিবাজির মাশুল গুনতাছি। সুযোগ পাওয়া মাত্র বিস্তারিত লিখব।
লেখক বলেছেন: মানবিকতারে নৈতিকতার মানদন্ডে দেখলে তাতে গঠন বা স্ট্রাকচারাল ব্যাপার স্যাপার টের পাওন যায়, কিন্তু আমি মানবিকতারে দেখতে চাইছি মুক্তির পথ বা অবারিত চিন্তার দুয়ার হিসাবেই দেখতে পাই...মানুষের মানবিক আচরনে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় তার অনুসন্ধিৎসু আর প্রশ্ন করনের প্রবনতা...তারেই আমি মানবিকতা কই...
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
"রাজনীতির মতোন একটা সামাজিক প্রপঞ্চে ধর্ম আসলে সেইটার যা হওনের কথা তা'ই হইছে ইতিহাসে..."আপনার এই বক্তব্য অন্য ধর্মের বেলায় প্রযোজ্য কি না তা বলারমত জ্ঞান আমার নেই - তবে আমি মনেকরি ইসলামের বেলায় এটা প্রযোজ্য নয়। কারণ ইসলামে রাজনৈতিক বিষয়গুলোর ব্যাপরেও সুস্পস্ট নীতিমালা আছে এবং সেই নীতিমালার ভিত্তিতে ইসলামী স্কলারদের জন্য প্রতি যুগের উপযুগী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতাও ইসলামে দেয়া আছে যা ইজমা নামে পরিচিত। এর সাথে এটাও মনে রাখা জরুরী যে ইসলামের প্রাথমিক যুগে রাস্ট্র এবং রাজনীতিও সম্পুর্ন ধর্মীয় বিধানের দ্বারাই পরিচালিত হত এবং সেই রাজনৈতিক ব্যাবস্থাপনার স্থায়ীত্বও ছিল প্রায় হাজার বছর। সুতরাং রাজনীতিতে ইসলাম আসলেই রাস্ট্র ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্থ হয় এটা বলার কোন সুযোগ নেই বরং বলা যেতে পারে ইসলামের বিকৃতি বা অপব্যাবহার হলেই কেবল তা রাস্ট্র ও সমাজের জন্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে। কিন্তু তার জন্য তো ইসলাম দায়ী নয় বরং যারা ইসলামকে বিকৃত করছে তারাই দায়ী।
লেখক বলেছেন: আমি ঠিক এইটাই কইতে চাইছি কাঙ্গাল সাহেব...এই যে ইজমা কিয়াস আর ফিকহ্ শাস্ত্রের কথা উঠে পরিবর্তনশীলতার সাথে...সেই ইজমা কিয়াসের জন্য যেই আলেম সমাজের প্রয়োজন তারে কারা নির্বাচন করে? তাগো কারা নিয়ন্ত্রণ করে? ইতিহাসের পাতা খুললেই দেখবেন শাসক গোষ্ঠী তার শ্রেণী স্বার্থ, তাগো ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করছে অতীতে, এখনো করতেছে...
ধর্মে স্পেসিফিক্যালি কোন মেথডোলজী'র কথা উল্লেখ নাই, বিজ্ঞাননির্ভরতার কোন অবকাশ নাই...হাইপোথিসিসের কোন সুযোগ নাই...কারন একটা জায়গারে ধ্রূব ধইরা তারপর বাকীসবরে তার অধস্তন ভ্যারিয়েবল হিসাবে ধরা হয়...নিরপেক্ষ কোন দৃষ্টিভঙ্গীর অবকাশই থাকে না, যেই কারনে যারা ইন্টারপ্রিটার তার বাইরে থাকা মানুষগো মধ্যে প্রশ্নহীনতা তৈরী হয়...আর এই প্রশ্নহীনতার সুযোগটা নিতে পারে যারা ধর্মের ব্যবহার করে তাগো ক্ষমতাশালী অংশের মধ্যে...
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
"....আলেম সমাজের প্রয়োজন তারে কারা নির্বাচন করে?" এভাবে যদি দেখেন তাহলে তো আমাদের দেশের গনতন্ত্রের ব্যাপারেও একই কথা বলা যায়। গনতন্ত্রে জাতীয় সংসদকে সার্বভৌম ক্ষমতা দেয়া হয়েছে যে কোন আইন পাশ করার জন্য। তাহলে সেই সংসদের জন্য যে সাংসদ দরকার তাদের কারা নির্বাচন করে? কাল-টাকা, পেশী শক্তি, ব্যাক্তি বা পারিবারিক ইমেজ ইত্যাদির মাধ্যমে সাংসদ নির্বাচন করে কি বিশেষ গোস্ঠি তাদের শ্রনী স্বার্থ বা ব্যাক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করছে না? তাহলে কি সংসদীয় গনতন্ত্রই জাতীর অধ:পতনের কারণ? না, সংসদীয় গনতান্ত্রিক ব্যাবস্থা নয় - বরং যারা তার অপব্যাবহার করছে তারাই দ্বায়ী।একই ভাবে ইসলামী রাজনৈতিক ব্যাবস্থা একসময় বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছে - শুধুমাত্র সামরিক নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায় ইসলামী রাস্ট্রগুলোই সেরা ছিল - অল্প কয়েক দিনের জন্যও নয় বরং প্রায় এক হাজার বছর এই নেতৃত্ব প্রতিস্ঠিত ছিল - এবং সেই সময় ইসলামী সমাজ ও রাস্ট্র বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশী ধর্ম পরায়ন ছিল। তার পর যখন ইসলামের অপব্যাবহার শুরু হয়েছে - ধর্মের নামে গোড়ামী দলাদলী শূরু হয়েছে তখনই মুসলিম সমাজের পচন শুরু হয়েছে - ইসলাম বিশ্বব্যাপি তার নেতৃত্ব হারিয়েছে। সুতরাং দোষটা ইসলাম বা ইসলামী রাজনৈতিক ব্যাবস্থার নয় বরং তার অপব্যাবহারকারীর, তার বিকৃতিকারীর।
লেখক বলেছেন: পৃথিবীতে যেই পুঁজিবাদী গণতন্ত্র প্রচলিত আছে সেই প্রথায়ও জনগণ অন্তর্ভূক্ত থাকে...পুঁজির প্ররোচনায় হয়তো জনগণ তার শাসক প্রতিনিধি নির্বাচন করে...এই প্রতিনিধি তারপর তার ক্ষমতার ম্যানিপ্যুলেশনে ঠিক হয় বাকীসব পলিসি। কিন্তু আলেম সমাজ নির্বাচিত হওনের পদ্ধতিটা কি? গণতান্ত্রিক নির্বাচন? নাকি শাসকের ইচ্ছাধীন লোকজন...যারা দায়বদ্ধ ব্যখ্যা দিবো কোরআন হাদীসে না থাকা ধর্মীয় বিধানের!? গণতন্ত্রে শাসকের জবাবদিহিতার সুযোগ আছে...জনগণ দাবী করতে পারে আন্দোলন মারফত...ইতিহাসে ভুড়ি ভুড়ি নজীর আছে শাসকের এই অবনত হওনের...কিন্তু ধর্মীয় বিধানের বিরুদ্ধে আন্দোলন আপনে সমর্থন করেন!?
ইসলামী এই ব্যবস্থা যেই কারনে শাসকরে ক্ষমতা দ্যায় অপব্যবহারের...এই অপব্যবহার হয় জনগণরে অন্ধকারে রাইখাই...কোনরূপ বিতর্কের সুযোগ নাই এই প্রক্রিয়ায়...
ইসলামী সাম্রাজ্য কইতে যদি অটোমানগো বুঝান তাগো জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইসলামিকতা নিয়া কিন্তু ভিন্ন কথা কওন যায়...
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
আপনার মেজর কি নিয়ে? বিশ্বধর্ম তত্ব? ইসলামের ইতিহাস? তুলনামূলক ধর্ম তত্ব? অথবা কোন ধর্ম শাস্ত্রের উপর পি এইচ ডি?নিজের আকাশ কে উদার আকাশ থেকে সরিয়ে গড্ডলিকায় গা ভাসিয়ে শাস্ত্র মর্ম উদ্ধারের প্রচেষ্টা দেখে আদার ব্যাপারীর জাহাজের সময় নিয়ে শিরঃপীড়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
আর ধর্ম শাস্ত্রের ব্যাপারে মজ্জাগত দ্বেষ থাকলে এর বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠার সমূহ কারণ আছে বৈকি।
সুস্থ থাকুন।
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
"..কিন্তু ধর্মীয় বিধানের বিরুদ্ধে আন্দোলন আপনে সমর্থন করেন!?"এইখানে আমি আপনার সাথে দ্বিমত পোষন করছি। আপনি ইসলামকে যদি শুধুমাত্র একটি ধর্ম হিসেবে দেখেন তাহলে এই ধারনা হতেই পারে। কিন্তু আপনি যদি ইসলামকে একটি জীবন বিধান(ইজম) হিসেবে দেখেন তাহলে দেখবেন বাস্তব ধর্মী জীবন বিধান হবার জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান এখানে আছে যার মধ্যে ধর্মও একটি।
আর একটা বিষয়-ইসলামের বিধানগুলি প্রধানত দুই প্রকার - বিশ্বাস এবং ইবাদত কেন্দ্রিক এবং ব্যাবহারিক জীবন কেন্দ্রিক। বিশ্বাস এবং ইবাদত কেন্দ্রিক বিধানগুলো অপরিবর্তনীয় - যেমন আল্লাহ ও পরকালের উপর বিশ্বস, ৫ ওয়াক্ত নামাজ ইত্যাদি। কিন্তু ব্যাবহারিক বিধানগুলির সুধুমাত্র মুলনীতি সুনির্দিস্ট - বাকি সবগুলোই পরিবর্তনীয়। সংসদীয় গনতন্ত্রেরমত ইসলামী রাস্ট্র ব্যাবস্থায়ও নীতিনির্ধারনী ফোরাম আছে - যাকে মজলিসে শুরা বলাহয়। পার্থক্য হচ্ছে জাতীয় সংসদ সার্বভৌম আর ইসলামে সার্বভৌমত্ব শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য - ইসলামী মজলিসে শুরা দেশের জন্য প্রয়োজনীয় সব আইনই তৈরী করতে পারবে শুধুমাত্র সেইগুলি ছাড়া যা কোরআন-সহিহ হিদিসে বর্ণিত মুল নীতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। সুতরাং গনতন্ত্রের মতই ইসলামী সংসদ(বা শুরা) পাস্পরিক আলাপ আলোচনার ভিত্তিতেই যুগউপযুগী আইন প্রনয়ন করতে পারে।
একই ভাবে জীবনের প্রতিটি দিক ও বিভাগের ব্যাপারে ইসলামী নীতিমালা আছে। আবার এ'সব নীতিমালা যারা বাস্তবায়ন করবে তারা যাতে ভাল মানুশ হতে পারে তার জন্য আছে ধর্মীয় বিধান - পরকালীন সাস্তি পুরোস্কারের ব্যাবস্থা। অন্যসব জীবন বিধানে শুধুমাত্র রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক নীতিমালা দেয়া আছে - কিন্তু সেই নীতি যারা বাস্তবায়ন করবে সেই মানুষের নৈতিক-আত্বিক উন্নতি কিভাবে হবে তার কোন ব্যাবস্থা নেই - এখানেই ইসলামী জীবন বিধানের শ্রেস্ঠত্ব। ইসলাম মানুষকে শুধুমাত্র একটি জৈবিক প্রানী হিসেবে বিবেচনা করে না - বরং আত্বিক সত্বা হিসেবে সম্মানিত মনে করে। মানুশের যে বুদ্ধিমত্বা তা অবশ্বই তার উৎসের সন্ধান করবে - এই বিশ্বজগতের শ্রস্ঠা কে? মানুশ কোথা থেকে এসেছে? কেন এসেছে? কোথায় যবে? এই দুনিয়ায় তার কাজ কি? এসব আধাত্বিক প্রশ্নের উত্তর ছাড়া মানুষেরমত বুদ্ধিমান প্রানীর বুদ্ধিমত্বা সন্তুস্ট থাকতে পারে না। আর এগুলোর উত্তর ধর্মীয় বিশ্বাস ছাড়া অন্য কোনভাবে দেয়াও অসম্ভব। এ'জন্যই মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন এমন এক জীবনবিধান দিয়েছেন যা একাধারে ধর্ম এবং বাস্তব জীবন উভয়ের চাহিদা পুরোন করার ক্ষমতা রাখে।
আপনি যে দৃস্টিভঙ্গি নিয়ে কমিউনিজম এবং ক্যাপিটালিজমের উপর পড়াশুনা করেন সেই দৃস্টিভঙ্গি নিয়ে ইসলামের উপর পড়াশুনা করে দেখুন - ইসলামের প্রাথমিক এবং স্বর্ণযুগে সেই সময়ের যুগজিজ্ঞাসার জবাব, সেই সময়ের আর্থ-সামাজিক সমস্যার সমাধান ইসলাম কিভাবে দিয়েছে তা জানুন - দেখবেন সার্বিক বিবেচনায় ইসলামী বিধানগুলিকেই শ্রেস্ঠ মনে হবে।
জীবন বিধান বিষয়টারে আমি যদ্দূর জানি পৃথিবীর কোন জায়গাতেই কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত করা হয় না। পরিবেশ-প্রকৃতি'র ভিন্নতায় জীবন যাপনের ধরণ পাল্টায়...আর তাই ধর্মরে জীবন বিধান বা বাঁইচা থাকনের গাইড বই হিসাবে আমি খুব জুইতের মনে করি না...
নৈতিক উন্নয়ন বিষয়টারে উপর থেইকা চাপাইয়া দেওয়া কোন মানসিক অবস্থা বা আচরন মনে করি না...সমষ্টির স্বার্থে সমষ্টির প্রয়োজনে নৈতিকতা পাল্টায়...আধিবিদ্যক নৈতিকতার সাথে সামাজিক নৈতিকতার এই হইলো পার্থক্য...বৈষম্য টিকাইয়া রাইখা নেতৃত্বের বা পথ নির্দেশকের আলাদা বিধান না দেওনটাই বরং সুযোগ কইরা দ্যায় অনিয়মের...
আপনের কথা শুইনা মনে হইলো আমার ইসলামী বিধান সঙক্রান্ত জ্ঞান শুণ্যের কোঠায় বইলা আপনে ধইরাই নিছেন...


















+