দেয়ালের যেহেতু কান নাই, তাই দেয়াল হলাম...

বাবা দিবসের ঘ্রাণে খুঁজে পাই ম্রিয়মান মায়েদের...(উৎসর্গ পৃথিবীর তাবৎ মাতৃকূল)

১৬ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:১১

শেয়ার করুন:                   Facebook

প্রায় ছত্রিশ বছর গেলো...আজ পর্যন্ত কোন বাবা দিবসে আমার মনে হয় নাই বাপেরে শুভেচ্ছা জানাই...আজ পর্যন্ত কোনদিন মনে হয় নাই বাবা দিবসে বাপেরে স্মরণ কইরা আবেগ উথলাইয়া পরুক...আজতক কোন বাবা দিবসে ফুল কিনবার বাসনা হয় নাই আমার বা এককলম লিখনের...বাবা দিবস গুলি আমার যেমন যাওনের তেমনই যায়...আমি বিশ্বের তাবৎ মায়েগো প্রতি empathy অনুভব করি। মনে হয় পৃথিবীর পুরুষ বাপেরা যদি আমার বাপের মতোন হয় তাইলে তারা বেশ কষ্টেই আছে নিশ্চিত।

তরকারীতে লবন কম দেওয়া হইলে সেই দিন আমার শিক্ষয়িত্রী মায়ের খাওনের ইচ্ছা থাকতো না আর...ভাত সিদ্ধ বেশি বা কম হইলে মায়ের চোখের সকল বাষ্প জলবৎ নামতো ওষ্ঠ বাইয়া। আমি একবার এক কবিতার লাইন লেখছিলাম মনে পড়ে...

সাদা ভাত আর আমার মায়ের দ্রোহ
একসাথে ফুটে ওঠে জলে...


আমার মায়ের সময় কাটতো আমাগো মাঝেই...ব্যবসাজীবি বাপের বন্ধু বাৎসল্যের দায় মিটাইতে তারে অপেক্ষা করতে হইতো ভয়ে ভয়ে মাঝরাত অব্দি...আমার বাপের জিহ্বার স্বাদে যদি সেইদিন ভিন্নতা আসে!? শৈশব-কৈশোরে কোনদিন তারে দেখি নাই পারিবারিক কোন ক্রাইসিসে কোনরম ভূমিকা রাখতে সংসার সামলানের মতোন তুচ্ছ অ্যাকটিভিটি কেবল নারীগো কাম...পুরুষের উপার্জনই ব্রত...মায়ের শিক্ষয়িত্রি পেশা বিসর্জন দিতে হইছে তাই অকালে, বাপের আভিজাত্যের দায় মিটাইতে...ঘরের বউ চাকরী করলে নাকি তার আঁতে লাগে!

বাড়িতে যতো বই ছিলো সব মায়ের বিশ্ববিদ্যালয় আর কলেজজীবনে কেনা...আমরা একটা বই কিনা দিতে কইলে বাপের চোখ এড়াইয়া জমানো টাকা বাইর করতেন লুকানো জায়গা থেইকা...সারাদিনের ক্লান্ত সময়ের পর সবাইরে খাওয়ানো শেষ হইলে যখন আমার মা জীবনানন্দের কাব্যসংগ্রহ নিয়া বসতে চাইতেন...তখন আমার বাপের তৃষ্ণা পাইতো...জীবন দাসের চাইতে যে মুহাম্মদের জীবনী পড়নটা বেশি প্রয়োজনীয় তার ব্যখ্যা বিস্তৃতিতে যেনো মায়ের চোখ ধুসর পান্ডুলিপির মতোন ভাষা হারাইতো...নিস্পৃহতারে সেইথেকে আমি ভালোবাসিয়াছি...

বাবা দিবস গেলো গতো কাল, বাবা বিষয়ক রচনার সম্ভার দেইখা...পরিপার্শ্বে বাবাদের প্রতি ভালোবাসার বিচ্ছুরণ দেইখা আমার রীতিমতো ঈর্ষা হইতেছিলো...এইসব বাবা'রা কি অন্যরকম!? তারা কি নারী হিসাবে মায়েগো কখনো অবমাননা করে নাই? কে জানে আমার বাপের পুরুষত্ব চর্চার ইতিবৃত্তে যা থাকে তা হয়তো একান্ত তার...পৃথিবীর অন্য বাপেরা কি পুরুষ হয় না মায়েগো সাথে সম্পর্কের ধারণায়? কেবল আমার পুরুষ বাপ নারীত্বরে অধঃস্তন ভাবে হয়তো...নারী সন্তান তার চোখে সকল সময় একমাত্র পুরুষ সন্তানের চাইতে অধম বিনিয়োগ!

সমাজের আর কোথাও এই বৈষম্যের উদ্গীরণ নাই এইরম ভাবতেই মনে হয় বেশী ভালো লাগে...যদিও ভালো লাগার এই অহেতুক প্রবণতারে যুক্তিবোধের জালে এক্কেরেই ফেলতে পারি না...বাবা দিবসে তাই তাবৎ মায়েগো আবারো শ্রদ্ধা জানাই...ভালো থাকুন মায়েরা...

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বাবা ;

 

  • ২৪ টি মন্তব্য
  • ১৯১ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৬ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:১৪
comment by: প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: ভালো থাকুন মায়েরা..
সাথে বাবারাও... :)
১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১০:২৬

লেখক বলেছেন: হুমম...

২. ১৬ ই জুন, ২০০৮ রাত ১:৩৯
comment by: মাইনুল বলেছেন: আঞ্চলিক ভাষা বাদ দিয়া শুদ্ধ ভাষায় লিখুন। আপনার এই আঞ্চলিক ভাষা পড়তে চোখে কস্ট হয়।
১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১০:২৮

লেখক বলেছেন: কি আর করবেন...

৩. ১৬ ই জুন, ২০০৮ রাত ২:০৯
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: মাইনুল গাধারে পড়তে কইসে কেডা?
১৬ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৬

লেখক বলেছেন: হুমম...

৪. ১৬ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:৩৮
comment by: শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: অভিজ্ঞতার পার্থ্ক্য থাকতেই পারে। সত্যি কথা বলতে আমার বাবা মারা যাওয়ার পর এখন অনুভব করি কি নেই আমার।
১৬ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৭

লেখক বলেছেন: বাবা'রা কিছু একটা হয় হয়তো বাবা হিসাবে...আমার বাবার শুণ্যতা ভাবতে অনেকসময় কোন কষ্ট হয় না আমার...

৫. ১৮ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৭
comment by: রাসেল ( ........) বলেছেন: দিবস নিয়া অনেক আপত্তি থাকলেও পুরুষতান্ত্রিক অধঃস্তনতা সব পরিবেশে প্রকাশ্য হয় না। মানে কিছু কিছু পরিবারে নারীর অধঃস্তনতা হয়তো অন্য ভাবে প্রকাশিত হয় তবে সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে দেওয়ার মতো করে পৌরুষ প্রকাশিত হয় না।

বাবারা হয়তো আস্থার ছায়া হয়ে থাকেন। শৈশবের প্রথম সুপার হিরো বাবা হয়তো যৌথ পরিবারে তেমন প্রকাশ্য নয়, পারিবারিক গঠনকাঠামো এবং এর রীতিনীতিতে মনে হয় বিষয়টা বেশী প্রকাশিত হয়।

তবে বাবাদের সার্বজনীন ভাবে দোষারোপ করাও যায় না, এটা সামাজিক রীতি, সমাজে যেই হেনেস্তার উপস্থিতি আছে সেটা অপ্রকাশ্য হলেও নারীকে অধঃস্তন করে রাখে।
১৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:৪৩

লেখক বলেছেন: বাপেরা আস্থার ছায়া হ'ন অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার সুযোগে...বাংলাদেশের সমাজকাঠামোয় না কেবল সারা পৃথিবীর গড়পরতা পারিবারিক সংগঠনের ধারনা গইড়া উঠে পুরুষরে কর্মক্ষেত্রে উপার্জনক্ষম আর নারীরে গৃহকর্তৃর ইমেজে সিগনিফাই কইরা। আর তাই আপাতঃ অর্থে বাপেগো অনেক মেইল শভিনিস্টিক প্রকাশ জায়েজ হইয়া যায়, যার লেইগা মায়েগো প্রতি আমার সহমর্মীতা আরো বেশী জোরালো হয়...

৬. ১৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:৩৯
comment by: মৈথুনানন্দ বলেছেন: it's ok...
১৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:৪৮

লেখক বলেছেন: হুমমম...

৭. ১৯ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৪১
comment by: আমি হনুমান বলেছেন: ভাসকর তোর দাতের ১ টা ছবি পাঠাইস তো

১৯ শে জুন, ২০০৮ সকাল ১১:০০

লেখক বলেছেন: পাঠামুনে...

৮. ১৯ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ২:১৬
comment by: আমি হনুমান বলেছেন: তুইকি এশিয়াতে এখনো ?
১৯ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৬

লেখক বলেছেন: চাকরী ছাড়ছি গতো মার্চে...তুই কই?

৯. ১৯ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ২:১৯
comment by: আমি হনুমান বলেছেন: দাউদ, মইন নামের মাহত্ম বোঝা দায়

এক মইনে আমগো ছাল লইয়া যাইতাছে, আর ১ টায় বিচার বিভাগ খাইয়া থুইয়া গেছে
১০. ১৯ শে জুন, ২০০৮ রাত ৮:৩৪
comment by: জামাল ভাস্কর বলেছেন: হুমম...
১১. ২০ শে জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৬
comment by: সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন: হুমম...
১২. ২২ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৮
comment by: আমি হনুমান বলেছেন: আমি ক্রিয়েটিভ ইনজিন আনলিমিট এ আছি এখন। মতিঝিল এ
২৬ শে জুন, ২০০৮ রাত ৮:১৬

লেখক বলেছেন: এইটা কিয়ের অফিস?

১৩. ২২ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৫
comment by: আরণ্যক যাযাবর বলেছেন:
দেরিতে পড়লাম।
মায়ের জন্যে কষ্ট হয়। সারাটা জীবনে একটুও স্বস্তি পাইলো না জীবনে।
বাঙালি পুরুষগুলান বাবা হিসেবে হয়তো একশতে ষাট পাইলেও, স্বামী হিসেবে ১০০ তে ১০ পাবে।
২৬ শে জুন, ২০০৮ রাত ৮:১৮

লেখক বলেছেন: বাবা হিসাবেও এই দেশের পুরুষেরা যতোটা আধিপত্যকামী হওনের চেষ্টা চালায় সেইটা দেইখা বাবাগো প্রতিও খুব শ্রদ্ধা জাগে না...

তয় আপনের কথার লগে সহমত...

১৪. ২৬ শে জুন, ২০০৮ রাত ৮:২৩
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: লেখাটা ৪র্থবারের মতো পড়লাম।

 



 


স্বপ্ন দেখতে দেখতে কাটাইছি কৈশোর তক, স্বপ্ন ভাঙতে ভাঙতে গ্যাছে তারুণ্য, এখন মধ্যবয়সে আবার শৈশবের স্বপ্ন দেখি!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৭৬৪৯২