থাকতে চাই প্রশ্নমুখর জীবনে…
২৬ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ২:১৮
১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই আমার জন্ম। সদ্য স্বাধীনতা পাওয়া দেশের যেইসব প্রত্যাশিত দুর্যোগ তার মধ্যে উচ্চমধ্যবিত্ত একটা পরিবারের সন্তান হিসাবে আমি নিজেরে প্রিভিলেজ্ড’ই ভাবি আজো। আমার জন্মের আগে বাড়িতে অ্যাম্বুলেন্স আসে মায়রে হাসপাতালে নিয়া যাওনের লেইগা। হাসপাতালের ডাক্তার সাবে রা অপেক্ষা করেন আমার মায়ের লেইগা, নিরাপদ প্রজননের সকল নিয়ম মাইনা আমার ভূমিষ্ঠ হওন এই পৃথিবীতে। তখন এই দেশের মানুষ শুনছি দুর্ভিক্ষের প্রারম্ভিক কবলে, একদিকে পর্যাপ্ত সরবারাহ ছিলো না পণ্যের অন্যদিকে ক্ষমতাসীন মুনাফাখোরগো পরিকল্পিত বাণিজ্যের চাপ, সব ছিলো। আমার বাপের ব্যবসা ছিলো, তিনি যেই পণ্য বানাইতেন সেইটা ঠিক গরীব মানুষের পণ্য না। যাগো টাকা আছে, তারাই কেবল আমার বাপের ফ্যাক্টরিতে বানাইন্যা পণ্যের ভোক্তা হইতে পারতো। যাউগ্গা জন্মদিনের এই দিনে অঙ্কুরের অংশীদাররে নিয়া খুব বেশি কিছু কইতে চাই না…
১৯৭২ সালে জন্মাইন্যা শিশু আমি বর্তমানের মধ্যবয়স্ক ভাস্কর হওনের পথে জীবনের বহুমুখ দেখছি বইলা দাবী করি। ছোটবেলায় ক্লাস মেট ফাহিমরে দেখছি dress as you like প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবো বইলা বাপরে দিয়া সুদূর লন্ডন থেইকা সুপারম্যানের কস্টিউম নিয়া আইতে। আবার মহল্লার বন্ধু গোপালরে মধ্যবয়সে দেখি মিরপুর ১ নম্বরের মোড়ে মানুষের জুতা শিলাই কইরা সুখেই আছে…দুই জনের সাথেই যখন দেখা হয় আমি সময় নিয়া কথা কই, জীবন সম্পর্কে…সেইখানে হয়তো আত্মম্ভরীতা থাকে,লজ্জা থাকে, তুলনামূলকতা থাকে। কিন্তু তারা আমার বন্ধু, আজো, হয়তো বাকীটা জীবনেরই। বন্ধুতা মানে আমি দলবাজী বুঝি না আর…
পুরান ঢাকায় একটা বড় সময় কাটাইছি…আমার নানা-দাদার বাড়ি এখনো সেইখানেই। সপ্তাহের পাঁচটা দিন স্কুল-বাসা-আবাহনী মাঠ আর শনি-রবি নানী বাড়ি এই কইরাই চলছে আমার শৈশব আর কৈশোর। চরিত্রের মধ্যে যেই কারনে একটা pseudo ঢাকাইয়া আচরন শিকড় গাইরা বইসা গ্যাছে। আমি ঢাকাইয়াগো মতোন রূঢ় হই শব্দোচ্চারণে, সহজে ক্ষুব্ধ হই weekend রকবাজী’র লেইগা। যতোটুক দরকার এইরম আচরনে গা ভাসাইতে, তার সবটুক স্বাধীনতা’ই আমার মা প্রোভাইড করছেন আমার বাইড়া উঠনে। কেবল একটা জায়গাতেই আটকাইছেন বন্ধনে…বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী আর স্কুল মাস্টারনী হওনে তার চরিত্রের একটা দিক সারাক্ষণ চাইছেন আমার মধ্যেও সংক্রমিত হোক…আমরা যাতে ছাপার অক্ষরে থাকা গ্রন্থপাঠ করি। তার সুখ ঐটাতেই…কখনো চান নাই আমি এইটা হই ওইটা হই…তার চাওয়া ছিলো আমরা যেনো মানুষ হই…বাড়িতে খাওনের টেবিলে আমরা তর্ক করতাম সামাজিক বিভিন্ন সমকালীনতা লইয়া…যুক্তি করনের অভ্যাস গইড়া উঠুক তিনি চাইছেন সর্বান্তকরণে…
আমার বাপে ছিলেন আওয়ামি লীগের ব্যবসায়ি সমাজের প্রতিনিধি টাইপ। ৭৩’এ দেশে যখন দুর্ভিক্ষ সেইসময়ে শেখ মুজিবের জন্মদিনের কেক বানাইয়া পাঠাইছিলেন তিনি…তার একটা কনফেকশনারী ছিলো, এই কনফেকশনারীর নাম পুরান ঢাকার মানুষ এখনো মনে রাখে…ঐতিহ্যের মতোন। সেই ফ্যান্সি বেকারীর নামে। আমি যখন স্কুলে পড়ি সেই সময়েও আমি বাপের লগে তর্ক করতাম…দুর্ভিক্ষের সময় কেমনে এই অপচয় সে করতে পারছে! আমার বাপের অনেক আধিপত্যকামী নোংরা ব্যাপার থাকলেও বাড়ি’র সাংস্কৃতিক অবস্থানের কারনে এই তর্ক চলতো আমাগো বাড়িতে। বিশ্বিবিদ্যালয়ে আমি যখন বাসদের রাজনীতিতে যোগ দেই তখন তিনি আমারে রাজনীতি না করনের কোন চাপ দিতে পারেন নাই…তখন আমার বাপের ব্যবসা লোকসানের দায় নিয়া প্রায় সমাপ্তির পথে, কিন্তু এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও আমাগো পরিবার থেইকা রাজনীতি বিরোধী কোন মানসিকতা ছিলো না। আমি সিদ্ধান্ত নিছিলাম দলকেন্দ্রীক জীবন যাপন করুম…বিপ্লব হবে আমার জীবন। তাই আমি যখন রাজনৈতিক সংগ্রাম থেইকা সইরা আসি তখন অনেক কমরেড’ই চমকায়। কারন মূলতঃ যেই বিরোধের কারনে একজন সামাজিক মানুষ রাজনীতি থেইকা সইরা আসে, সেই সম্ভাবনা আমার ছিলো না।
পারিবারিক কারনেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শ্রদ্ধাশীল হই। কিন্তু কখনোই তর্কহীন থাকতে পারি না। শেখ মুজিব আর আওয়ামি লীগের সমালোচনা কইরাই আমরা এখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে পারি। তাতে কারো চেতনার বিপর্যয় ঘটে না। আমরা শৈশব থেইকাই শিখি, এই সমাজের যা কিছু ভালো আর যা কিছু খারাপ তার বাইরেও অনেক মতবাদ আছে। আবাহনী মোহামেডান কিম্বা আওয়ামি লীগ-বিএনপি এই চেতনার বাইরেও মানুষের চিন্তার মুক্তি প্রয়োজন।
সক্রিয় রাজনীতি করতে গিয়া আমি একটা বড় ধাক্কা খাইছিলাম। তার পরিণতিতেই আমারে অব্যাহতি পাইতে হইছিলো বাসদের ছাত্র সংগঠন থেইকা। তখন আমি কেন্দ্রীয় কমিটি’র দপ্তর সম্পাদক ছিলাম। আমি প্রয়োজনবাদের বিরুদ্ধে কথা কইছিলাম…প্রয়োজনবাদের বিরুদ্ধে আমি খানিকটা সোচ্চার হইছিলাম…বুর্জোয়া মার্কিন সংস্কৃতির মূল পরিচালিকা শক্তি এই প্রয়োজনবাদের বিরোধীতা কইরা আমি সংগঠন পরিচালনার কথা বলছিলাম। সংগঠন পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন দ্বন্দ্বমূলকতা দিয়া সেইটা বলছিলাম। কিন্তু সংগঠন তার প্রয়োজন থেইকা চোখ সরাইতে পারে নাই। মার্ক্সিয় রাজনীতির এই সমস্যাটা আমি হাইলাইট করছিলাম…মতাদর্শ আর সংগঠনের একটা দ্বন্দ্বমূলকতা নিয়া ভাবতে কইছিলাম পার্টিরে…কিন্তু পার্টির অনেক বিশ্লেষণে আমি আজো একাত্ম হইলেও সংগঠন পরিচালনার মমতাদর্শ নিয়া বিরোধ তৈরী হইলো ভালো মতোই…
কিন্তু আমার জীবনের সবচাইতে কাছের মানুষগুলি ছিলো আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সাংগঠনিক সহযোদ্ধারা। আজো আমি রকিব ভাইয়ের সাথে ব্যক্তিগত অনুভূতিমালা শেয়ার করি। রফিক ভাই এখনো আমার মেন্টর মতোন থাকেন…সেবাদিরে দেইখা আমি নারীমুক্তি’র কথা ভাবতে সাহস পাই…এই মানুষগুলি আমারে মাদকাশক্তি থেইকা ফিরাইয়া জীবনের নতুন দৃষ্টিভঙ্গী ধারণে সহযোগিতা করছিলো। সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি মনোনিবেশ করাইতে পারছিলো আমার বিক্ষিপ্ত অস্তিত্ববাদী মনোভঙ্গী থেইকা।
আমার এই বাইড়া উঠনের কালে আমি শিখছি, প্রতিবাদ না করলে একজন মানুষ আর মানুষ থাকে না। পোষা পশুর সাথে তার কোন পার্থক্য থাকে না। প্রতিবাদ আর সঠিক বিশ্লেষণী ক্ষমতাই পারে একজন মানুষরে শ্রেয়তর করতে। কারন শোষকেরা, স্বৈরতান্ত্রিকেরা ক্ষমতাশালী হইলেও তাগো মনুষ্যত্ব লইয়া সামাজিক প্রশ্নের মালা অনেক দীর্ঘ। যেকোন অ্যাক্টিভিজমে অংশগ্রহণের আগ্রহ আমার অপরিসীম…কিন্তু এক্কেরে প্রশ্নহীনতায় তারে ছাইড়া দেওনটা আমার কাছে মনুষ্যত্বের প্রকাশ মনে হয় না। কার পক্ষে লড়তাছি? কেনো লড়তাছি? কিভাবে লড়তাছি? আমার উদ্দেশ্য কি? আমার লক্ষ্য কি? এইসব আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয় তার ধারাবাহিকতাতেই…এইসব প্রশ্নকরনের মধ্য দিয়াই আমি যুদ্ধের সৈনিক থাকতে চাই। আমার প্রশ্নে যদি কেউ মনোকষ্টে ভুগে তাইলে এইটা তার সমস্যা…জীবনরে যে যুক্তির নিগড়ে বানতে পারে নাই এইটা তার সমস্যা। আবেগের নির্ভরতায় কোন কার্যকরী পরিবর্তন ঘটে না, আমি এই মতাদর্শে বিশ্বাস করি।
আজকে আমার জন্মদিন। ফেইসবুক আর মৌসুমের কল্যাণে এই জন্মদিনের কথা মনে রাখতে আমি বাধ্য হইতেছিলাম। কিন্তু গতো ৩৫ বছরের জন্মদিনগুলিতে আমি কয়টা জন্মদিবসে এইরম মনে রাখছি!? ছোটবেলায় বাড়িতে কেক কাটা হইতো মনে আছে, বন্ধু-বান্ধব আসতো…তারপর বড় হইয়াও শেষ ৯৩ পর্যন্ত রাইত ১২টার সময় বাড়িতে ফিরা টের পাইতা আমার জন্মদিবস আজ! ছোটবোনটা সারপ্রাইজ্ড করতে পারছে আমারে আজীবন…ঐ সারপ্রাইজ্ড হওনের অপেক্ষাতেই কি আমি সব ভুইলা থাকতাম!? কে জানে!
এই প্রথম আমি কিছু লিখতেছি জন্মদিন উপলক্ষ্যে…আমার কাছে এই দিবসের কতোটুকই বা মর্তবা! তাই অনেক বিক্ষিপ্ত হইলাম চিন্তায়…
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): স্মৃতিচারণ, দিনলিপি ;
বিগব্যাং বলেছেন:
শুভ জন্মদিন...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
শুভেচ্ছা
লেখক বলেছেন: আপনারেও শুভেচ্ছা...
মুহিব বলেছেন:
শুভ জন্মদিন ও পড়ে ভাল লাগল। আপনার মত প্রকাশের স্বাধীন চিন্তাধারা বিমোহিত করল।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনারে...
কৌশিক বলেছেন:
আমি প্রয়োজনবাদের বিরুদ্ধে কথা কইছিলাম…প্রয়োজনবাদের বিরুদ্ধে আমি খানিকটা সোচ্চার হইছিলাম - এই প্রয়োজনবাদ বলতে বুর্জোয়া মার্কিন সংস্কৃতির মূল পরিচালিকা শক্তি যে বললেন - সেটা কিভাবে অনিষ্টকর, আর বিরোধিতার ধরণটাই বা কেমন হবে?
লেখক বলেছেন: ধরেন আপনে একটা সংগঠনের বিকাশ চান, আমি যদি সেই সংগঠনের নেতৃত্বে থাকি তাইলে সাথে আরো কিছু লোক পাইবেন...কিন্তু আমি মানুষ হিসাবে খুব একটা সুবিধার না...সংগঠনে মতার্দশিক দৌর্বল্য দেখা দিবো আমার রাখলে, তখন যদি আপনে সংগঠনের বিকাশটারে বড় প্রয়োজন চিহ্নিত কইরা আমারে নেতৃত্ব দ্যান তাইলে সেইটা প্রয়োজনবাদী সিদ্ধান্ত হইয়া যায়না?
হুদাই বলেছেন:
শুভ জন্মদিনপৃথিবীর সকল দিনই যদিও সমান অর্থ বহন করে অনেকের কাছে তবু্ও কি একটা বিশেষ দিন বিশেষ ছায়া ফেলে না? কিছুটা ভাললাগা, একটু ফুরফুর ভাব। হয়তো ফেলে। আগে হয়তো কখনো ভাবেননি। এখন কেউ ভাবাচ্ছে।
ভাল থাকুন, ভাল কাটুক
রাজামশাই বলেছেন:
ওহে শুভ জন্মদিন
লেখাজোকা শামীম বলেছেন:
শুভ জন্মদিন। পারিবারিক কারনেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শ্রদ্ধাশীল হই। কিন্তু কখনোই তর্কহীন থাকতে পারি না। শেখ মুজিব আর আওয়ামি লীগের সমালোচনা কইরাই আমরা এখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে পারি। তাতে কারো চেতনার বিপর্যয় ঘটে না। আমরা শৈশব থেইকাই শিখি, এই সমাজের যা কিছু ভালো আর যা কিছু খারাপ তার বাইরেও অনেক মতবাদ আছে। আবাহনী মোহামেডান কিম্বা আওয়ামি লীগ-বিএনপি এই চেতনার বাইরেও মানুষের চিন্তার মুক্তি প্রয়োজন।
আমরা তর্কহীন শ্রদ্ধায় নত বলেই আমাদের চিন্তার মুক্তি ঘটে না। ধন্যবাদ আপনাকে এই চমৎকার কথাগুলো শেয়ার করার জন্য।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
অলংকারহীন সাদামাটা আত্মবিশ্লেষন।রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রবল ভিন্নতার জন্য পরিচিত কিংবা বন্ধু স্থানীয় কাউকে কি ঘৃণা করা যায়,করাটা কি উচিত?
অনেক পূরণো,বিতর্কিত কিন্তু অসীমাংসিত প্রশ্ন; আপনার মত'টা জানতে চাইছিলাম?
লেখক বলেছেন: রাজনৈতিক মতার্দশ যদি এইরম হয় যে আপনের জীবন যাপনের ধরনটাই পাল্টাইয়া ফেলে, আমার সাথে যদি তার পার্থক্য সূচিত হয় তাইলে তো কিছু সমস্যাতো হয়ই...
আবার যদি মতাদর্শিক ভিন্নতা ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্ব হয় তখনো এই সমস্যা হইতে পারে...
এখন এইটারে ঔচিত্যের শৃঙ্খলে বানতে আমি রাজী না। ঘৃণা করনটা বা না করণটা কোনটারেই না।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।আমিও মোটামুটি একই মতামত ধারণ করার চেষ্টা করি।
ব্রাত্য রাইসু'র কিছু কিছু যুক্তি মাঝে মাঝে আমাকে ধন্ধে ফেলে দেয়।(যদিও উনার সান্টবাজীমূলক পোষ্টগুলি আমার ভালো লাগেনা।)
যেমন,রাজাকার সংক্রান্ত আলোচনায় উনি একবার বলেছিলেন" দেশে জামায়াতী রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে চাও,আমি আছি তোমাদের সংগে;যুদ্ধপরাধের বিচার,আমিও চাই কিন্তু রাজাকার'দের কিংবা তাদের ছেলেমেয়েদের ব্যক্তিগতভাবে আমি ঘৃণা করতে পারবো না।
এই প্রেক্ষিত-এ আপনার মন্তব্য আশা করি।যদিও জানি রাজাকার,যুদ্ধপরাধ এইগুলো খুবই সেনসিটিভ ইস্যু।
লেখক বলেছেন: আমি যেহেতু একরম মতাদর্শের চর্চা করছি একটা দীর্ঘ সময় ধইরা, তাই আমার কোন মৌলবাদী মানুষের বন্ধুত্ব হয় নাই, পরস্পরেই প্রতিরোধ ছিলো। তবুও অমুক মতবাদের কোন মানুষের লগে আমার বন্ধুত্ব সম্ভব নয় বইলা সেইমতো বন্ধু সিলেক্ট করাটারে আমি পছন্দ করি না।
রাজাকারের ছেলে যদি তার বাপের কুকর্মের প্রতি আমার প্রতিরোধকামী দৃষ্টিভঙ্গী মাইনা নিয়া আমার লগে কথা কয় তাইলেতো আমি কোন সমস্যা দেখি না। বন্ধুত্বের বিনিময়ও হয়তো সম্ভব হইতে পারে যদি সে তার বাপের প্রতি আমার যেই অপছন্দ জায়েজ থাকে তারে যৌক্তিকতায় মাইনা নিতে পারে।
রাইসু'র সাথে আমার বিভিন্ন বিষয়েই বিরোধ আছে...কিন্তু তা'ওতো রাইসুর লগে বন্ধুত্ব বলবৎ আছে...
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন:
আপনার সঠিক বিশ্লেষনী ক্ষমতাটাই আমারে মুগ্ধ করে। শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন: আপনেগো মুখে আমার বিশ্লেষণী ক্ষ,তার কথা শুনলেতো ভয় লাগে মাসুম ভাই...
অনার্য তাপস বলেছেন:
শুভ জন্মদিন।আপনার অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। বিশেষ করে আপনার বড় হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটা। আমরা যে জীবন যাপন করি তার অনেকটাই পারিবারিক। কিন্তু অনেক সময় সেটা ধরে রাখতে পারি না। নানান ইজম ভর করে আমাদের মধ্যে। আমরা সরে আসি।
প্রশ্ন করার ক্ষমতা থাকতে হয়। সেটা অর্জন করাটা একটা বিশেষ চর্চার বিষয়। পরিবার থেকেই সেই চর্চাটার সূত্রপাত। আমাদের পরিবারগুলোতে কি সেটা এখনো আছে? প্রশ্নহীন কোন কিছুকে মেনে নিতে না পারাটা বিরাট একটা সাহসের বিষয়। আমাদের তরুণ প্রজন্মের সেটা নেই বোধ হয়। কারণ আমিওতো এই প্রজন্মেরই সন্তান।
মেসবাহ য়াযাদ বলেছেন:
দাদা, ভালো থাইকেন। বিড়ি কম খাইয়েন। আপনেগো মতন মানুষ মেলাদিন বাঁচতে অইবো....শুভ ভূমিষ্ঠ দিবস। সবসময় ভালো থাকার দরকার নাই, বেশীরভাগ সময় ভালো থাকলেই অইবো....
লেখক বলেছেন: আমিতো বিড়ি কমই খাই মনে হয়...
ধন্যবাদ আপনেরে...
অতন্দ্র প্রহরী বলেছেন:
ধন্যবাদ প্রিয় ভাই ভাস্কর। আপনার শুভ জম্মদিন রইল।আসলে মনে হয় এই ব্লগে যদি হতভাগ্য ধরা হয় তাহলে বুঝব সেটা একমাত্র আমিই। কারন দীর্ঘ বয়স পার হয়ে গেল কিন্তু কপালে একবারও জম্মদিবসের পালনে সুযোগ হলো না। বরং ১৮/১৯ বছর ছুই ছুই তখন বুজলাম জম্মদিবস হিসাবে উদযাপন করা হয় কিছূ কিছু মানুষ। আসলে আরব কান্ট্রিতে থাকার কারনে পাশ্চাত্য সাংস্কৃতির সাথে মোটেও মিশার সুযোগ হয় নি। বিশ্বস করবেন কিনা এখনও পর্যন্তু কোন মেয়ের সাথে কথা বলারও সুযোগ হয় নি। অবশ্য পারিবারিক প্রচন্ড ধর্মপারায়ন ছিল বিধায় সে আচল থেকে বেরিয়ে আসতে পারি নি। এখন এর নির্মম পরিমান বুঝতেছি.............
শুভ জম্মদিন...
লেখক বলেছেন: হুমম...আপনারে ধন্যবাদ...
লেখক বলেছেন: আকাশচুরি ভাই জামাল নামে আমারে মনে হয়না বাপ-মায়েও এখন চিনতে পারবো...ভাস্কর নামে ডাকলেই আরাম পাই...
লেখক বলেছেন: তাই মনে হয়...ভালো জিনিষ ধরছেন...
ইউনুস খান বলেছেন:
ফারহান দাউদ বলেছেন: শিরোনামে "মূখর" টা কি "মুখর" হইবো?লেখক বলেছেন: তাই মনে হয়...ভালো জিনিষ ধরছেন...
"জিনিষ" কি "জিনিস" হইবো?
শুভ জন্মদিন। আপনার লেখাগুলো ভাল লাগলো।
ভালো থাকবেন। ভূত দেখার আমন্ত্রন রইলো আমার ব্লগে।

















